পিয়ালী ত্রিপাঠী


পি য়া লী  ত্রি পা ঠী 


আর্থার কোনান ডয়েল : ক্রাইম ফিকশনের সম্রাট 

শার্লক হোমস - এর নাম মাথায় এলেই যাঁর নাম আমাদের মনে পড়ে তিনি শার্লক হোমস -এর স্রষ্টা স্যার আর্থার ইগনেটিয়াস কোনান ডয়েল । তিনি  স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে ১৮৫৯ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর বাবা ছিলেন চার্লস ডয়েল এবং মা ছিলেন মেরি । ১৮৬৪ সালে ডয়েলের বাবা চার্লসের অতিরিক্ত মদ্যপানের আসক্তির জন্য পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের থেকে আলাদা হয়ে যান এবং ১৮৯৩ সালে তাঁর বাবা মারা যান । ১৮৮৫ সালে তিনি Louisa কে বিয়ে করেন কিন্তু যক্ষ্মারোগে Louisa মারা যান । তাঁর মৃত্যুর পরে ১৯০৭ সালে তিনি বিয়ে করেন Jean Elizabeth Leckie - কে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত , তিনিও বিয়ের দশ বছর পরে মারা যান । প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষ মিলিয়ে তাঁর পাঁচটি ছেলেমেয়ে ছিল । 
১৮৮১ সালে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ব্যাচেলর অফ মেডিসিন এবং মাস্টার অফ সার্জারি ডিগ্রি লাভ করেন । পরবর্তীকালে , ১৮৮৫ সালে তিনি ডক্টর অফ মেডিসিন ডিগ্রি অর্জন করেন । ভেষজ ব্যবসায় গা-ছাড়া ভাবের কারণে তার হাতে থাকত বিস্তর অবসর এবং সেইসময় তিনি সুবিখ্যাত শার্লক হোম্‌স সিরিজের গল্পগুলি লিখতে শুরু করেন। ডয়েল হোমসকে নিয়ে চারটি উপন্যাস ও ছাপান্নটি ছোটগল্প লিখেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি লেখেন ' A Study in Scarlet' যা ১৮৮৬ সালের বিটন’স ক্রিসমাস অ্যানুয়াল নামক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ডয়েল বলেছিলেন যে হোমসের চরিত্রটির অনুপ্রেরণা হলেন ডা. জোসেফ বেল, যাঁর অধীনে এডিনবার্গ রয়্যাল ইনফার্মারিতে করণিক হিসেবে ডয়েল কাজ করতেন। ১৮৯২ সালে বেলকে লেখা একটি চিঠিতে ডয়েল লিখেছিলেন 
" It is most certainly to you that I owe Sherlock Holmes …"
এরপরে ১৮৯০ সালে লিপিনকোট’স মান্থলি ম্যাগাজিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ' The Sign of the Four ' । ১৮৯১ সালে দ্য স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিনে প্রথম ছোটোগল্পের সিরিজটি প্রকাশিত হওয়ার পরই শার্লক হোমস চরিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯২৭ সাল পর্যন্ত হোমসকে নিয়ে একগুচ্ছ ছোটগল্পের সিরিজ ও আরও দুটি ধারাবাহিক উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এই হোমস্ চরিত্রটির উপর একঘেঁয়েমিজনিত বিরক্তির কারণে ডয়েল যখন ' The Final Problem ' -এ হোম্‌স-কে মেরে ফেলেন, তখন জনতার দাবির মুখে হোমস চরিত্রটিকে অলৌকিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি বাধ্য হন। ডয়েলের মৃত্যুর পরে তাঁর প্রথম উপন্যাস 'The Mystery of Cloomber' এবং অসম্পূর্ণ 'Narrative of John Smith' প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে । ১৮৮৮ সাল থেকে ১৯০৬ সালের মধ্যে ডয়েল সাতটি ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখেন যা সমালোচকদের মতে তাঁর লেখা শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ।  ১৯১২ সালে তাঁর লেখা সেরা সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস 'The Lost World' প্রকাশিত হয় । 

এ.সি. স্মিথের ছদ্মনামে তিনি পোর্টসমাউথ অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল ক্লাবের গোলকিপার হিসেবে ফুটবল খেলেছিলেন। এছাড়া ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯০৭ সালের মধ্যে তিনি প্রথম শ্রেণীর ১০টি ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছিলেন । শুধু তাই নয় , তিনি বক্সার চ্যাম্পিয়নশিপের রেফারী হিসেবেও আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন । এমনকি ১৯১০ সালে বেকন গল্ফ ক্লাবের ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন।তিনি আইস স্কেটিং করতেও খুব ভালোবাসতেন।
১৯২৫ সালে তাঁর রচিত উপন্যাস অবলম্বনে The Lost World নামক একটি চলচ্চিত্র রূপোলী পর্দায় মুক্তি পায়। সৌভাগ্যবশত, সিনেমাটি দেখে যেতে পেরেছিলেন তিনি। ডয়েলকে বোয়ের যুদ্ধের সময় দক্ষিণ আফ্রিকান এক মাঠের চিকিৎসাকেন্দ্রে অবদান রাখার জন্য ১৯০২ সালে নাইট উপাধিতে ভূষিত করা হয় । 
১৯৩০ সালের ৭ জুলাই এই কিংবদন্তী লেখক পরলোক গমন করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পূর্বে আর্থার কোনান ডয়েল বলে যান, ‘পাঠকরা ভাববে আমি জীবনে প্রচুর অ্যাডভেঞ্চার করেছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় ও চমৎকার অ্যাডভেঞ্চারটি এখন আমার জন্য অপেক্ষা করছে।’

-----

Comments

  1. সন্দীপ কাঞ্জীলাল।
    ধন্যবাদ। ভালো লেখা। অনেক কিছু জানলাম।

    ReplyDelete
  2. খুবই ভালো।
    নতুন কিছু জানলাম।

    ReplyDelete
  3. সুন্দর সাবলীল লেখা। অজানাও কিছু জানলাম। অভিনন্দন জানাই।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ

      Delete
  4. জন্মদিনে বিশেষভাবে স্মরণ করানোর জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ

      Delete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯