শান্তিব্রত বারিক


শা ন্তি ব্র ত  বা রি ক


দৃশ্যপট
                    
জমির আল আঁকড়ে উঠে বসছে ধান
ঝাউপাতার চোখে ঘুম নিরন্তর
আনমনা মাদুরকাঠি ফৌজি পোশাক পরে
পাহাড়ী ঝরনায় উচ্ছল।
লাল কাঁকড়ার স্বপ্নে বাবার মাথা 
ছেলের কোলে সাজানো,
এতো হুটোপাটিতে ক্লান্ত বিছানায় শুয়ে
সন্তানসম্ভবা মা...
লক্ষ লক্ষ চাঁদের কার্নিশ ভেঙে চুরে
আজ হেরিটেজ
শেষ রাতে টেলিফোনটা বাজতে বাজতে
থেমে গিয়েছে কখন..!
শুধু বাড়াবাড়ি করেছে
ধবধবে সাদা বৃষ্টিগুলো....
সাবালক
                  
শৈশবের বদলে শৈশবের দিনগুলো
স্মৃতির বারান্দায় চাই আমি
যাতে উঠোনে দাঁড়িয়েই 
বোঝা যায় সব--
স্কুল পালানো ছেলের অমতে ক্লাস করা
সারা বিকেল পাড়ার ঘরে ঘরে
লুকোচুরি খেলা..
কৌশলী মত নিয়ে ভালো থাকার 
অভ্যেস আমার ছিল না।
এখন সময় অনেক প্রাপ্তবয়স্ক
মানচিত্রের তলায় শরীরী যৌবন
খাঁ খাঁ করছে শুকনো বুকে,
সরকারী চাকরির জন্য হা-পিত্যেশ
চোখ রাঙালেও
সময় এখন অনেক প্রাপ্তবয়স্ক....


টান
                   
চাঁদের পাশে শোবো বলে রাতের বিছানা ছেড়ে এলাম
বিছানার অজান্তে, মশারির আড়ালে।
হঠাৎ এক অস্থির মায়াবী শব্দ ঢুকে পড়লো চোখে
সেই এক রাত কাটিয়েছিলাম চাঁদের সঙ্গে
এই সাত বছর আমার চোখে ঘুম লাগেনি
রাত হলেই শরীর নৌকো হতে চায়
চোখের দৃষ্টি নুইয়ে পড়ে জ্যোৎস্নার দিকে।
অমাবস্যার ফর্সা অন্ধকারেও আমি চোখকে
বোঝাতে পারি না,
শরীরকে গুছিয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করি বারবার।
খোলা আকাশের চাদরে
প্রেমিকা চাঁদের সঙ্গে নিভৃতে রাত্রিযাপন....


কেয়া
 
অনভ্যস্ত সকালে বসে পোয়াচ্ছি শহুরে রোদ
গ্ৰামগঞ্জের খোঁয়াড় ভেঙে পালাচ্ছে শিয়াল
শর-কাশের ওপাশে ঠাণ্ডা ঘুমে তাকিয়ে আছে
তোমারই কেলেঘাই..
শিউলি বিছানো কলতলার দিকে তুমি হেঁটে
যাচ্ছো অর্বাচীন ইতস্তত চুলে,
কারিপাতা গাছের যৌবন হিংসে করে তোমায়।
উঠোনের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা বেলগাছ
তরতরিয়ে নামে তোমার দেমাকী দামী চোখে
অথচ সেই গভীর জলাশয় দেখে ভয় পাই,
তোমার দুর্বলতায় নামতে পারিনি তোমার মধ্যে।
বিকল্প রাস্তায় গিয়েও ফিরেছি রোদের আশায়
ধুলোবালি হয়ে শুয়ে আছি হাঁটা পথে,
একবার পায়ে মাড়িয়ে নিয়ে চলো পাপোষে
তোমাকে ভালোবাসতে চাইছি তোমার সঙ্গে
ডাকনাম এড়িয়ে তোমাকে ডাকছি সর্বনামে....
স্নান
                 
দুপুরের লিপস্টিকরঙা রোদ
তোমার শরীর ছুঁয়ে সাবলীল,
শৈশব লাগা চুল নিয়ে উন্নত বুকে
দাঁড়াও জলের নীচে।
সবুজ শ্যাওলা পদতলে অনেক দিন পর
স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারে,
রজনীগন্ধা দেহের গন্ধ মেখে
দেওয়ালে দেওয়ালে ঠাসা।
উসকো খুসকো মনখারাপের
অপেক্ষায় বিরতি চিহ্নের চানঘর।
ডানাহীন পরীর ভেজা শরীরে
আদর চাইবে তোয়ালে....

------

Comments

  1. ভালো হয়েছে।

    ReplyDelete
  2. Mesmerizing. এমন দুর্দান্ত কবিতা অনেক দিন পড়িনি। It will be unfair to choose any particular. তবু 'দৃশ্যপট' আর 'কেয়া' সবদিক থেকেই masterpiece.

    'আনমনা মাদুরকাঠি ফৌজি পোশাক পরে
    পাহাড়ী ঝরনায় উচ্ছল।'

    'কারিপাতা গাছের যৌবন হিংসে করে তোমায়।'

    'স্কুল পালানো ছেলের অমতে ক্লাস করা
    সারা বিকেল পাড়ার ঘরে ঘরে
    লুকোচুরি খেলা'

    কি দূর্দান্ত সব শব্দচয়ন!
    Deep, Nostalgic and moving.


    ReplyDelete
  3. পড়লাম
    ভালো লাগলো

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি