তড়িৎ ভট্টাচার্য

  ফোটোগ্রাফি- সৈয়দ স্নেহাংশু   


গুচ্ছ কবিতা
 
ত ড়িৎ  ভ ট্টা চা র্য


শুভেচ্ছা 

তােমার জন্মদিনে তােমাকে

আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো ছাড়া 
আর কি করতে পারি বলাে 


আর যাই দি তা শেষ হয়ে যাবে
কিংবা ফুরিয়ে যাবে

একমাত্র শুভেচ্ছা থাকবে চিরকাল, 
তােমার সঙ্গে তােমার পাশে পাশে 
তােমাকে ঘিরে থাকবে
রক্ষা করবে সব বিপদ থেকে 
তাই শুভেচ্ছা জানাই আন্তরিক।

জন্ম দিনে কিছু জিনিস দিলে
সবাই খুশী হয় কিছু পেলে 
চোখে দেখা যায় কে কি দিল
সবাই উপভােগ করে,

শুভেচ্ছা চোখে দেখা যায় না
অন্তরে উপলব্ধি করা যায়
আসে একান্ত ভালােবাসা থেকে
জুঁই ফুলের সুবাস আর রজনীগন্ধার স্পর্শ নিয়ে

তাই তােমাকে দিলাম, অন্তরে গ্রহণ করাে
আর তারই সুবাসে
ভরে থাক তােমার হৃদয়

তুমি সুখে থাকো ভাল থাকো, আর সবাইকে ভালবাসাে

এই একান্ত ইচ্ছা তােমার জন্মদিনে।



প্রতীক্ষা


তুমি চলে গেলে
ঘরটা ফাকা হয়ে গেল
পড়ে রইল তােমার গায়ের গন্ধ
আর তােমার হাসি

আর আমি রইলাম তােমার পাশাপাশি। 
চোখটা বন্ধ করে অনেকক্ষণ ছিলাম 
তুমি ছিলে সেই বন্ধ চোখের ভেতরে,
তােমার ঝলমলে রূপের বহরে।
তুমি হাসছাে, তুমি কথা বলছাে
আবার কপট রাগ দেখাচ্ছাে।
কথা বলার সময় তােমার সঙ্গে
তখন কি আর হিসেব থাকে।
হয়তাে কিছু বলে ফেলেছি তাই রাগ 
আসলে ওটা অনুরাগ।
চোখ খুলে তােমার সাথে
কাটিয়েছি অনেক সময়
চোখ বন্ধ করেও কাটালাম বাকিটা।
আবার কবে আসবে কে জানে
এত অল্প সময় কি আর মন মানে।
একা আমার জীবনে তুমি অন্ধকারের আলো

আমার মন, আমার সময় কাটে ভালাে, 
তাই বসে থাকি তােমার প্রতীক্ষায়।



পিছুটান 

১.

আমরা সবাই বাউল 
আমাদের এই মনের জগতে 
বেড়াই ঘুরে বিশ্বজুড়ে 
আপন নেশাতে।

২.

চলতে চলতে যখন পিছন ফিরে তাকাই 
তখন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই 
আজকের আমি আর সেদিনের আমি কি এক! বিশ্বাস করতে কিছুতেই মন চায় না।



আদিম সাম্যবাদী

আমি অনেক কথাই বলতে চাই 
কিন্তু বলতে পারি না

তােমরা আমার মুখ চেপে ধরো 
বলতে দাও না।
সব কথা নাকি বলতে নেই, ওটা অসভ্যতা আমার ভেতরে যে আছে
সে যন্ত্রণায় ছটফট করে। 
কতাে দিন তাকে কষ্ট দেবে তােমরা
আচ্ছা নিজের কথা বলা অসভ্যতা ? 
আর যা চলছে চারপাশে, তা বুঝি খুব সভ্যতা ? খুন, ধর্ষণ, লুঠ, অত্যাচার
সব সব হচ্ছে মুখােশ পরে, 
বাইরের চেহারা কত্তো সুন্দর 
কিছুতেই বােঝা যাবে না
দেখলে পরে।

তবুও আমাকে কথা বলতে দেবে না 
নীরবে নিজের ভেতর গুমরে
যন্ত্রণায় ছটফট করি
আমি যা ভাবি বা আমার ভেতরটা যা 
তা তােমরা জানতে পারলে না।

বা জানতে চাইলে না, জানাতে দিলে না। 
আমার অধিকারে হস্তক্ষেপ করার তুমি কে
আমি সেই আদিম সাম্যবাদী
যে বাঁচার রাস্তা দেখিয়েছিলাে।

  ফোটোগ্রাফি- সৈয়দ স্নেহাংশু   

Comments

Trending Posts

মেদিনীপুরের কৃষিবিজ্ঞানী ড. রামচন্দ্র মণ্ডল স্যারের বর্ণময় জীবনের উত্থান-পতনের রোমহর্ষক কাহিনী /উপপর্ব — ০১ /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১১

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শিবচতুর্দশী /ভাস্করব্রত পতি

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

জঙ্গলমহলের 'জান কহনি' বা ধাঁধা /সূর্যকান্ত মাহাতো