Posts

Showing posts from August, 2021

দূরদেশের লোকগল্প-- মায়ানমার (এশিয়া)/চার পুতুলের গল্প /চিন্ময় দাশ

Image
দূরদেশের লোকগল্প-- মায়ানমার (এশিয়া) চার পুতুলের গল্প  চিন্ময় দাশ    ( ১৮৫৭ সাল। মায়ানমার বা ব্রহ্মদেশের রাজা অমরাপুরা থেকে তুলে এনে, মান্দালয় পাহাড়ের পাদদেশে নতুন করে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। চার দিকে চারটি নদী দিয়ে ঘেরা ছিল রাজধানীটি। তাছাড়াও, অনেক উঁচু পাথরের মজবুত পাঁচিল দিয়েও ঘেরা হয়েছিল তাকে। নতুন শহরকে দেশের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবে গড়েছিলেন রাজা। উল্লেখ করবার মত এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোর মধ্যে ছিল-- রেশম বয়ন, টেপেষ্ট্রি বা কাপড়ের উপর অলংকরণ,  পাথর ও কাঠ খোদাই কাজ, মার্বেল ও ব্রোঞ্জের মূর্তি, মন্দিরের অলঙ্কার এবং সোনার পাতা ও রূপার কাজ, দেশলাই উৎপাদন ইত্যাদি। অমরাপুরা থেকে তুলে আনা হয়েছিল অধিকাংশ শিল্পীকেও । তাদেরই এক কাঠখোদাই শিল্পীর জীবনকথা নিয়ে আমাদের এই গল্প।) মান্দালয় শহরের গা দিয়ে বয়ে চলেছে ইরাবতি নদী। নদীর অন্য পাড়ে বাস করে এক কাঠুরিয়া। কাঠ খোদাই করে নানান পুতুল বানায় মানুষটা। একটি মাত্র যুবক ছেলে তার। মনে খুব আশা-- ছেলে বড় হয়েছে, এবার সেও পুতুল গড়ায় হাত লাগাবে। কিন্তু মানুষ যা চায়, তা কি আর সব সময় সত্যি হয়!  সারাদিন বাটালি আর হাতুড়ি নিয়ে ঠুক-ঠুক করা ছেলে

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। শ্রদ্ধায় স্মৃতিচারণ করলেন স্বনামধন্য বিশিষ্ট লেখক ও শুভানুধ্যায়ীরা।

Image
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। শ্রদ্ধায় স্মৃতিচারণ করলেন স্বনামধন্য বিশিষ্ট লেখক ও শুভানুধ্যায়ীরা চলে গেলেন আমাদের আপনজন। বুদ্ধদেব গুহ(২৯ জুন ১৯৩৬-২৯ আগস্ট ২০২১) লেখার জন্য ছাড়াও নানা কারণে জ্বলদর্চির চিঠি পৌঁছতো তাঁর কাছে। তিনিও লিখতেন চিঠি। প্রায় সব চিঠির উত্তর দিতেন। তাঁরই আঁকা রঙিন লেটার প্যাডে। জ্বলদর্চিতে নিয়মিত লিখতেন। হাজারো কাজ ও লেখার চাপের মধ্যে থেকেও লেখার আমন্ত্রণ ফেরাতেন না। ভালো বাসতেন আমাদের, জ্বলদর্চিকে। সামান্য কিছুদিন আগে, জ্বলদর্চি ১৪২৮ উৎসব সংখ্যার জন্য দিয়েছেন দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। সম্ভবত এটিই তাঁর দেওয়া শেষ সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি প্রতাপ সিংহ। এটি প্রকাশ পাবে ১ সেপ্টেম্বর। জ্বলদর্চি ওয়েবসাইটে। আজ এখানে প্রকাশিত হল তাঁর হাতে লেখা কিছু চিঠি। জ্বলদর্চি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই। তাঁকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন বিশিষ্ট কবি লেখক শুভানুধ্যায়ীরা।  তোমরা অমর অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য  (বিশিষ্ট লেখক, রবীন্দ্র গবেষক)  তাঁর জীবনটা ছিল গল্পে ভরা উপন্যাসে ভরা প্রেমে ভরা প্রকৃতিতে ভরা প্রসন্নতায় ভরা। কোনো গুণ নেই  এমন কোনো কোনো মানুষকে উনি নিজ গুণে ভা

আধুনিক চিত্রশিল্পের ইতিহাস -৫৫/ শ্যামল জানা

Image
আধুনিক চিত্রশিল্পের ইতিহাস -৫৫ শ্যামল জানা সাররিয়েলিজম্-এর উল্লেখযোগ্য চিত্র-প্রদর্শনীগুলি     ১৯৩৮ সালে প্যারিসে ওই অভিনব চিত্র-প্রদর্শনীটি সফল হওয়ার পর, তার পরের দশক অর্থাৎ চল্লিশের দশকে এসেও সাররিয়েলিস্টরা এই অভিনবত্ব বজায় রাখলেন৷ প্যারিস-এর এই প্রদর্শনীটির পরেরটাই হল আমেরিকার নিউ ইয়র্ক-এ ১৯৪২ সালে৷ নাম— “ফার্স্ট পেপারর্স অফ সাররিয়েলিজম্”৷ এ বারেও প্রদর্শনীটির সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আন্দ্রে ব্রেতোঁ ও প্রযুক্তিগত দায়িত্ব দেওয়া হল মার্শেল দুশাম্পকে৷ অবশ্যই অভিনব কিছু করার জন্য৷ সালটা দেখে নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ(১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ – ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫)একেবারে মধ্যগগনে৷ ভয়ঙ্কর আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ভেতরে দিন কাটাচ্ছে মানুষ৷ ওই অবস্থায় এ রকম বিশাল, অভিনব, এবং অত্যন্ত সফল প্রদর্শনী করা প্রায় অসম্ভব বলা যায়৷ সাররিয়েলিস্টরা এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন শুধুমাত্র যোগ্যতা দিয়ে, অভিনবত্ব দিয়ে৷ এত বড় বিশাল মাপের প্রদর্শনী এর আগে আমেরিকাতে হয়নি৷ ম্যানহাটন-এর ৪৫১, ম্যাডিসন অ্যাভিনিউর “হোয়াইট-ল রেইড ম্যানসন” নামের বিখ্যাত বাড়িটির তৃতীয় তলে এই প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হ

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম/প্রসূন কাঞ্জিলাল

Image
প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রসূন কাঞ্জিলাল "আমি চিরতরে দূরে চলে যাব তবু আমারে দেব না ভুলিতে।" না, ভুলতে দেননি তিনি ।  প্রেমে আর বিদ্রোহে, গানে আর কবিতায় তিনি বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির চেতনায় মিশে আছেন কাজি নজরুল ইসলাম।  তবু মাঝে মাঝে কেন জানি মনে হয়, 'কেউ ভোলে না, কেউ ভোলে' !  ''প্রাণ'-এর সঙ্গে নয়নমণি'র সম্মিলনে, 'জাতের নামে বজ্জাতি'র সমূল উৎপাটনে, 'দুস্তর পারাবার' পাড়ি দেবার দুর্বার শপথে নিয়ত পথ দেখান কাজি কবি।  কাজী নজরুল :---- (১৮৯৯-১৯৭৬) বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাজারের খাদেম। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। ১৯০৮ সালে পিতার মৃত্যু হলে নজরুল পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য হাজী পালোয়ানের মাজারের সেবক এবং মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। তিনি গ্রামের মকতব থেকে

শ্রীকৃষ্ণ : মানবাদর্শের সর্বোত্তম প্রতীকী চরিত্র/মুক্তি দাশ

Image
শ্রীকৃষ্ণ : মানবাদর্শের সর্বোত্তম প্রতীকী চরিত্র মুক্তি দাশ হিন্দুধর্মে দেবদেবীর সংখ্যা নেহাৎ নগন্য নয়। দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এবং যে-হারে তা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এরকম আশংকা অমূলক নয় যে, অচিরেই তা ভারতের জনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে না তো! তবু এই অগণিত দেবদেবীর মধ্যে কৃষ্ণই এযাবৎ জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ভগবান বিষ্ণুর নানান অবতারের মধ্যে কৃষ্ণাবতারই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং বহু বিতর্কিত। তেমনি সমাদৃতও। কৃষ্ণের ঘটনাবহুল জীবনালেখ্য, তাঁর কর্মব্রতী সত্ত্বা ও মানবিক-মাহাত্ম্য আমাদের শুধু বিমোহিতই করে না, ভারতের সনাতন জীবনাদর্শে উদ্বুদ্ধও করে। কৃষ্ণজীবনের মূলত তিনটি পর্যায়। এক, ব্রজধামের নন্দদুলাল গোপীবল্লভ ও রাধারমণ রাসবিহারী কৃষ্ণ। দুই, পাপ ও অনাচারের মূর্তপ্রতীক কংসনিধনকারী মথুরাধিপতি কৃষ্ণ। এবং তিন, প্রখর রাজনীতিজ্ঞ ও কূটনীতিবিদ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের নেপথ্য নায়ক দ্বারকাপতি কৃষ্ণ। উদ্দেশ্য ও ঘটনা পরম্পরার নিরিখে এই তিনটি পর্যায় আপাতসম্বন্ধহীন হলেও আদর্শগত বিচারে একে অন্যের সংগে সম্পৃক্ত। এবং সামগ্রিকভাবে তা ভারতের সনাতন ভাবধারা ও জীবনাদর্শের দ্যোতক। কৃষ্ণ চরিত্রে এই সনাতনধর্মের শ

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -৪৮

Image
সম্পাদকীয়, ছোটো বন্ধুরা, জানো তো, টিয়া রঙের পাখি মানেই কিন্তু টিয়া পাখি নয়। ঐ যে দেখনা, সোহম দাদার তোলা ছবির ওই পাখিটাকে আমি ভুল করে যেই না টিয়া বলে ফেলেছি অমনি পাখিটা রাগে গোঁজ হয়ে বসে রইল। আরে ভুল কি আর সাধে হয়েছে? মানসী আন্টির পান্নার গল্প পড়ছিলাম তো! পান্না কে? আরে পান্না তো টিয়া পাখির নাম। সুমনাদিদিও তো ছড়ায় দুটো পাখির কথা বলেছে। ব্রততী আন্টি ছড়ায় ফড়িং, পিঁপড়ে আর টিকটিকি নিয়ে ছড়া লিখেছে। আর রাজীব তন্তুবায় আঙ্কেল ছড়ায় ফড়িং, জোনাকি, পায়রা, কত কিছুর কথা বলেছে, পড়লে জানতে পারবে। পশু পাখিদের কথায় মনে পড়ে গেল, ফুলকুসুমপুর খুব কাছেতে বিংগো, মিঁউ, কুমি,  রাধাগোবিন্দ কত কত বন্ধুরা, তাই না? কিন্তু ফুলকুসুমপুরের বিলম্ব দাদু তো হারিয়ে গেছে। কোথায়?  কে জানে হিল্লি দিল্লী চলে গেছে হয়তো। কিংবা তুলতুলির ঠাম্মির সঙ্গে আমেরিকার সান ডিয়াগো চলে যায় নি তো? তুলতুলি কে? জানতে হলে কল্যাণী আন্টির গল্প পড়তে হবে। তবে সোনালি দিদি  স্বচ্ছ ভারত নিয়ে খুব সুন্দর একটা গল্প লিখেছে। স্বাধীনতা দিবস সবে গেল। এসো আমরা আমাদের দেশ ভারতবর্ষকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি। ঠিক নিজেদের ঘরকে যেমন রাখি। অবশ্য ঘরকে পরি