Posts

Showing posts from October, 2021

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -৫৬ /(উৎসব সংখ্যা ৫)

Image
সম্পাদকীয়, লক্ষ্মীসোনা বন্ধুরা, পুজোর সাজের ছবি মায়ের ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট করেছ তো? নতুন জামা নতুন জুতোর ছবিতে ক'টা করে লাইক পড়েছে? জানিও কিন্তু। ঐ দেখো পিনাক পরামানিকের তোলা ছবিতে দুটো ছোটো বন্ধু পায়ে আলতা পরছে। কেন? আরে ওদের বাড়িতে লক্ষ্মী পুজো যে। তাই তো ওরা সাজছে। দেখছো না উঠোন জুড়ে ওরা কেমন আলপনা দিয়েছে। আচ্ছা তোমরা কেউ জানো ওদের নাম কি? আমি জানি না গো। হবে হয়তো লক্ষ্মী, দুর্গা, জয়া, কিংবা চন্ডী। হাসছো কেন? চন্ডী তো অনেকের নাম হয়। এই দেখনা ধ্রুব আঙ্কেলের গল্পে একটা গ্রামের সকলের নাম চন্ডী দিয়ে, জয়চন্ডী, দেবচন্ডী, হরচন্ডী। তারবেলা! আচ্ছা এমন সুন্দর আলপনা যে গ্রামে দেওয়া হয় তার নাম জান? আমি বাপু জানি না, তাই গ্রামের নাম দিলাম মনোহরপুর। সেটা কোথায়? তা জানতে হলে পড়তে  হবে সহেলী আন্টির গল্প। কি?  কীভাবে যাবে সেখানে? কেন, তথাগত আঙ্কেলের ছড়ার পাখির মতো উড়ে যাব। আর সেখানে আজ মিনুর জন্মদিন তো। কে মিনু? মিনু হল পারমিতা আন্টির গল্পের বার্থডে গার্ল। বার্থডে গার্লের কত বায়না। শুধু কি বার্থডে গার্ল জয়ন্তী ম্যামের গল্পের তিতুরও খুব বায়না। আরে বায়না কি শুধু তোমরা করো? তোমাদের বন্

গুচ্ছ কবিতা /পল্লব গোস্বামী

Image
গুচ্ছ কবিতা  পল্লব গোস্বামী      ১. শিকার  কারা যেন পাড়ার ছেলেগুলিকে ডেকে নিয়ে গেছে আজ,এই অবেলায়।গভীর রাতে ঠিক যেন নিশির ডাক।গুলতি-বাঁটুল হাতে তারা পেরিয়ে গিয়েছে, জলকাদা মাঠ,জলারণ্য  ... বিলের ধারে গজিয়ে উঠেছে  বিচিত্র সব  পাখি ধরার ফাঁদ।প্রাকৃতিক হুইসেল। পোষা পাখি দিয়ে বুনো পাখি ধরে  কারা যেন একটি পাখিখামার বানিয়েছে।ডাকাতিয়া ছায়ার ভেতর সেজে উঠেছে খেজুর পাতার খাঁচামহল।খাঁচার ছায়া পড়ছে শিশুদের গালে।প্রতিটি শিশুর মুখে  প্রাচীন মিশরের মতো অন্ধকার যেমন।  এ কোন পিরামিড দেখি,পাশের গাঁয়ে ?  ঝিলের গায়ে,ছোটো ছোটো দ্বীপে  এ কোন খাদ্যজাল?  ধীরে ধীরে সরাল,সারস শামুকখোল পাখিরা নেমে আসে।আকাশে জ্বলে ওঠে হলুদ হ্যাচারির আলো।সারা জঙ্গল জেগে,পাখিরা শিশু পাহারা দেয়। প্রত্যেকটি পাখির ঠোঁটে  আমি ঠিক শুনতে পাই  এক একটি  শিকারি মানুষের হাসি ... ২. উজ্জ্বলের গ্রাম  উপনিষদ ঝরা বিকেলে আমি উজ্জ্বলের গ্রামে যাই  টটকো নদীর জলে তখন ভাসতে থাকে  পলাশের ভাঙা ডানা  সন্ধ্যা নামে  ব্রহ্ম ও আত্মার মতো কাঁপতে থাকে আমাদের ভাগ্য  বেদমন্ত্র জানিনা; তবু, পৃথিবীর সব দরজা খুলে দেয় বেবাক বাল্মীকি  কিছুক্ষণ, ওই সাঁওতাল

নাস্তিকের ধর্মাধর্ম -- পর্ব-(২৫)/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

Image
নাস্তিকের ধর্মাধর্ম -- পর্ব-২৫ সন্দীপ কাঞ্জিলাল ধর্ম ও দর্শন   St Anselm of Canterbury-র মতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও তার করুণাময় প্রকাশ যে সর্বত্র যুক্তি দিয়ে তা প্রমাণ করা যায়।সত্ত্বাতাত্ত্বিক Ontological বিতর্ক উস্কে দিতে তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থটি Proslogium লেখেন এবং প্রমাণ করেন ঈশ্বর আছেন। তিনি রাজা William II এর সঙ্গে চার্চের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় কোন বিষয়ে চার্চের পোপের কাছে জানাবার অধিকার পাওয়ার বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই কারণে তাকে নির্বাসিত করা হয়। রাজা প্রথম হেনরি তাকে এই দণ্ড থেকে মুক্ত করে ফিরিয়ে আনলে তিনি পুনরায় ঘটা করে পদবী প্রদান অনুষ্ঠান বা অভিষেক উৎসব বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রথম হেনরি এই  Investiture বিরোধী ছিলেন। ১০৯৯ খ্রিঃ তিনি Cur Deus Homo (Why Did God Become Man?) গ্রন্থটি লেখা শেষ করেন এবং এই গ্রন্থের দ্বারা যীশুর পুনরুত্থান ও মানব জাতির মুক্তি প্রভৃতির সারবত্তা প্রমাণ করেন যীশুর মানবতার দিকগুলি উপরে গুরুত্ব দেন। খ্রিঃ ১৭২০ তাকে Doctor Of Church উপাধি দান করা হয়। St Augustine (খ্রিঃ ৩৫৪-৪৩০) এই একই সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তিনি নিওপ্লেটোনিজম এর প্

গল্প।। ঘুঘুর ফাঁদ।। সন্দীপ দত্ত

Image
গল্প।। ঘুঘুর ফাঁদ।। সন্দীপ দত্ত বিশ্বকর্মার কপালে ভাঁজ দেখে ভুরু কোঁচকালেন ত্রিলোচন। "কী ব‍্যাপার বিশু,তোমায় আজ ভারি চিন্তিত দেখছি? রাত্তিরে ঘুম হয়নি বুঝি?" বিশ্বকর্মা সাহস করে ত্রিলোচনের চোখে চোখ রেখে গলার আড়ষ্ট ভাব কাটিয়ে বললেন,"না মহাদেব,ঘুম টুম নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। চিন্তাটা আমার অন‍্য জায়গায়। যদি অভয় দেন তো বলি।" "বলো বিশু,শুনি কী বলতে চাও।" বলে মহাদেব গাঁজার কলকেটা নামিয়ে রেখে আগ্রহ নিয়ে তাকালেন বিশ্বকর্মার দিকে। "নারদ আপনাকে কিছু বলেনি?" "কই,নাতো!" "সরস্বতী,লক্ষ্মী,কার্তিক,গনেশ কেউ না?" "না বিশু,কেউ আমাকে কিচ্ছু বলেনি। কেন,স্বর্গে কোনও বিপদ টিপদ হয়েছে নাকি?" "না মহাদেব, স্বর্গে নয়,বিপদটা মর্ত‍্যে শুরু হয়েছে। এখন এই বিপদ থেকে মর্ত‍্যবাসীকে উদ্ধার করতে একমাত্র আপনিই পারেন। আদিদেবের কাছে তাই ছুটে আসা।" "খোলসা না করলে আমি বুঝব কেমন করে? প্লিজ,খুলে বলো বিশু।" "মর্ত‍্যে এখন করোনার প্রকোপ চলছে আপনি তো জানেন।" "হ‍্যাঁ.তা জানি। ভয়ানক একটা অসুর! অনেক অসুরের সাথেই লড়াই করেছে

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ উপমামৃত/পর্ব-১/সুদর্শন নন্দী

Image
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ উপমামৃত      পর্ব-১ সুদর্শন নন্দী  কথায় বলে ‘উপমা কালিদাসস্য’৷ সাহিত্যজগতের বহুশ্রুত এটি প্রবাদবাক্য। উপমাই কবির ভাষাকে বাঙ্ময় করে তোলে, সঞ্চার করে  ব্যঞ্জনা৷ পাঠকের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে যায় কবির ভাবনা। যা সরাসরি পাঠকের কাছে পৌছতে পারে না, উপমা তা সহজেই পৌছে দিতে পারে বক্তব্যের মূলকেন্দ্রে। সর্বধর্ম সমন্বয়ের কারিগর ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণও উপমা আর উদাহরণ দিতেন কথায় কথায়। তাই বলা হয় “উপমা রামকৃষ্ণস্য”। কালিদাসের  পরে ঠাকুর সেই প্রবাদে স্থান পেয়ে হলেন উপমা রামকৃষ্ণস্য। ঠাকুরের উপমার তুলনা নেই। সব ধর্মগুরু উপমা বা গল্পের মাধ্যমে বাণী প্রচার করলেও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ যেন সকলের মধ্যে বিশেষ।  মধ্যমণি। সাহিত্যিক প্রমথনাথ বিশী বলেছেন, ‘কথামৃতের উপমা, সে এক আশ্চর্য জিনিস। আমি উপমার গদির মালিকের (রবীন্দ্রনাথের) কাছে বছরের পর বছর কাটিয়েছি। উপমার ঐশ্বর্য কাকে বলে জানি,,,,, কিন্তু কথামৃতের উপমা আমাকে চমকে দেয়-এ কী কান্ড তিনি করে গেছেন! আগে জেনেছি, উপমা কালিদাসস্য, পরে বলেছি, উপমা রবীন্দ্রনাথস্য, এখন বলছি, উপমা রামকৃষ্ণস্য’। ঠাকুর ভক্তদের সাথে ভগবানের যে কথা বলতেন তার পরতে পরত