পদ্মপাতায় শিমুল-৩১ /সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়


পদ্মপাতায় শিমুল-৩১

সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়

গারল্যান্ড, টেক্সাস

বাড়িতে সব রকম ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন ওনার মা। সোনার নোয়া, গলার হার, বালা, কানের দুল দিয়ে আশীর্বাদ করলেন পলাশের মা, ও আত্মীয় স্বজনরা। সব নিয়ম কানুন শিমুল আর পলাশের নিকট আত্মীয়দের সামনে ভাল ভাবে সম্পন্ন হয়ে গেল। শাশুড়িমাকে দেখে খুব ভালো লাগল। মনে হচ্ছিল খুব আহ্লাদী হয়ে পড়েছেন আমাকে দেখে।

বেশ রাতে সবাই শুয়ে পড়ল। শিমুল ভদ্রলোকের মাস্টার্স রুমের লাগোয়া হাফ সার্কেল ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। সেখানে রাখা দোলনায় বেডরুম থেকে একটা সোনালি আর লাল নকশা আঁকা গালিচা এনে পেতে বসে পড়ল। পলাশও ওর পাশে এসে বসল।

শিমুল রাতের আকাশের জ্বলন্ত চাঁদকে দেখে বলল আসতে আসতে--- “আজ থেকে আর অন্ধকার নয়... আমরা কখনও লুকিয়ে কোন কাজ করব না। বিশ্বাস হবে আমাদের চাবিকাঠি। যা কিছু হবে সরাসরি দুজনে ফয়সলা করব। তৃতীয় কেউ নাক গলাবে না। আমরা আজ থেকে বাকি জীবন প্রিয়বন্ধু হয়ে কাটাব। সুখে দুঃখে একে অপরকে ছেড়ে যাব না। আমার ওড়ার আকাশে এতদিন সমস্ত ডানা মেলেছিলাম । আজ আমি পেয়েছি আমার ছোটো বাসা, ডানা গুটিয়ে বসতে চাই। কিন্তু আমার আকাশ থাকবে আমার সাথে, রাজি তো?”

-হুম! ভয়ে ভয়ে পলাশ নিজের হাত শিমুলের হাতে রাখল- “প্রমিস করলাম। তুমি আমার সম্বন্ধে কিছু জানো কি না জানি না, তবে আমি তোমার সম্বন্ধে সব শুনেছি। আজ বলতে দ্বিধা নেই যে, আমি বিয়ে করব না ভেবেও শুধু একবার তোমাকে দেখতে গিয়েছিলাম। বটীর আর মায়ের কথায় মোহগ্রস্ত হয়েই বলতে পারো।”

পলাশ এই ফাঁকে বলে নিল তার দুই ছেলের কথা। বলার সময় পলাশের গলা কি কেঁপে গেল? ভাবল শিমুল শুনে যদি রেগে যায়। যদি আবার একটা বিরাট ঝড় আসে? কিন্তু শিমুল শুনে কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

শিমুল কোন অভিযোগে না গিয়ে ছলছল চোখে দৃঢ়তার সঙ্গে বলল –“নো প্রবলেম! ঠিক আছে ।”

“সত্যম ব্রুয়াত, প্রিয়ম ব্রুয়াত!

মা ব্রুয়াত সত্যম অপ্রিয়ম!”

এই বয়সে সন্তান থাকাই তো স্বাভাবিক। যাই হোক, তুমি লুকালে না। ভালো লাগল খুব। যেখানে লুকোচুরি সেখানে জীবনের অমূল্য সম্পদ চুরি হয়ে যায়-সেটাই আমি বিশ্বাস করি। এই অবোধ শিশু দুজন তো আর পেছনের অন্ধকার পথ নয়। ওরা তো উজ্জ্বল আলোয় ভরা সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতীক।”

--না শিমুল। আর অন্ধকার নয়, আলোর পথই হবে আমাদের চলার সুগম পথ।

“জীবন আঁধার হল, সেই ক্ষণে পাইনু সন্ধান
সন্ধ্যার দেউলদীপ চিত্তের মন্দিরে তব দান।
বিচ্ছেদের হোম বহ্নি হতে
পূজা মূর্তি ধরি প্রেম দেখা দিল দুঃখের আলোতে।”

ব্যালকনির পিলারের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাগ্নোলিয়া ফুলের গন্ধ তখন দুজনকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধবার জন্য সুবাস ছড়াতে শুরু করেছে।

“লাভ ইজ দ্য এ্যক্ট অফ ফেইথ এ্যন্ড হুএভার ইজ অফ লিটল ফেইথ অফ লিটল লাভ ” - ভরাট গলায় বলে উঠল পলাশ।

“বিলিভ মী, আমার নিজের কোন দোষ নেই। আমার ওপর শুধু তোমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখো। ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিও। ভেবেছিলাম ভাইঝিও বড় হচ্ছে। কাজেই আমি ঠিক করলাম আর বেশি পড়াশোনা না করে একটা চাকরি করি। একটু স্বাবলম্বী হলেই চলে যাব এদের আস্তানা থেকে দূরে। মানুষ অভ্যেসের দাস। ঠিক নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারব একদিন। কিন্তু ভালোবাসা যেখানে গভীর-সেখানে অন্য কোথাও চলে যাওয়া বা একা একা পথ হাঁটা... এক কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

তাই সবার মাঝে থেকেই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেলাম।

শাশুড়িমা আমার হাত দুটী ধরে বললেন, “ জীবনে সুখী হবে তখনই যখন সব কিছুকে মানিয়ে নিতে পারবে। পলাশের ভাঙা সংসার তোমার হাতে দিয়ে এবার আমি দেশে যাব তোমার দুই দেওরের কাছে। মা হওয়া যে কত জ্বালা- তবে আমি নিশ্চিত তুমি উচ্চশিক্ষিতা। তুমি এমন কাজ করবে না যাতে তোমাদের দুজনের মান সম্মানের হানি হয়। -ওদের মায়ের স্নেহে দেখো। আর তুমি পারবে সে কাজ আমি জানি। সব গোছানো হলে দেশ এ এসো-সবাইকে দেখাবো।”

এরপর উনি আমার সেজমামাশ্বশুরের সাথে দেশে চলে গেলেন। দিয়ে গেলেন একগুচ্ছ দায়িত্ব।

ওনার মুখের হাসি আমার আশীর্বাদ হয়ে রইল।

গারল্যান্ডে আমার চাকুরিস্থল হল টেক্সাস স্টেট-এ । আমার পুরানো অফিস থেকে খুব ভালো ভালো রেকমেন্ডেশন লেটার দিল, যাতে আমাকে নতুন অফিস মিস না করে। বাড়ি থেকে দুই থেকে আড়াই ঘন্টার পথ বলে বাড়ি থেকে কাজ শুরু করলাম।

বাড়ি থেকে কাজ করলেও বড্ড একা হয়ে গেলাম। চারিদিক নিস্তব্দ, “পিন ড্রপ সাইলেন্ট”, যাকে বলে। এতদিন ছিলাম সবার মধ্যে-কাজেই একাকীত্ব তাড়া করে ফিরতে লাগল। অফিসে কাজ করলে নদীর স্রোতের মত কোথা দিয়ে যে সময় পার হয়ে যায়, বোঝা যায় না। আর কি ভালো লাগে জানো? এখানে হিংসা, দ্বন্দ্ব, কাউকে সাহায্য না করা যেন এদের রক্তে নেই।

কলেজে কোর সাবজেক্ট(ইতিহাস, ভূগোল, সাইকোলজি, ফিলোজফি) নেবার সময় দেখেছি- কি দারুন এরা মিলে মিশে সব কাজ করে, সবাইকে সাহায্য করে। স্ক্র্যান্টন পেলে একজন বেরিয়ে গেল-বাইরে থেকে ফিল আপ করে ভেতরে এসে একের পর এক-এর কোলে আসতে লাগল সেই স্ক্রান্টন। অনভ্যস্ত আমি প্রথমে ব্যাপারটা আঁচ করতে পারি নি। পরে পাশে বসা একজন আমাকে বলল, “জাস্ট কপি ইট—দেন ফরোয়ার্ড।” অদ্ভুত না-সত্যি এরা অদ্ভুত। সবার ভালো চায়।

আমেরিকানরা কারো ধার ধারে না... কে ডিভোর্স, কার কত বয়স, বাড়ির কোনো গুপ্ত খবর-সেই বিচারের নিক্তিতে তারা থাকে না... তাই তো এ দেশ এত সমৃদ্ধশালী। তাই তো আমার ভালোবাসার এই দেশ। যে কোনো বিপদে এরা বন্ধুর হাত বাড়ায়-সেখানে বয়স কোনো গন্ডীর মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। ইভেট-কে দেখেছো তো? মাত্র ত্রিশ বছর বয়স। কিন্তু আজও আমার সাথে তার যোগাযোগ আছে। আমাকে “প্রিয় বন্ধু বলে”। একসাথে কাজ করেছি।

যাই হোক, বাড়িকে রিমডেল করা হল... মানে আমার একেবারে পছন্দমত বাড়িতে আমরা দুজনে বাস করতে লাগলাম। সমস্ত পুরানো স্মৃতিগুলো শীট রক আর কংক্রিটে চাপা পড়ে গেল। ঝকঝকিয়ে হেসে উঠল আমাদের ভালোবাসার নীড়- “মাইলস্টোন”।

আমাদের দুই ভগ্ন হৃদয়ের আশা, ভালবাসা আর স্বপ্নের ভিত্তিতে গড়ে উঠল 'অনুরাগিণী'। প্রেমে-বিশ্বাসে, শান্তিতে-ভালোলাগা দিয়ে মজবুত এক ভীত যে ভীতের শিড়দাঁড়া হল শুধু 'মন'। মন-ই তো আগে এগিয়ে আসে, তার ইশারায় আমরা চলি।”

--আমার সাথে দেখা হল কিভাবে? বললে না তো? চিরচর্চিত কৌ্তুকে প্রশ্ন পলাশের।

--অ্যাই! তোমার সাথে আবার দেখা হতে যাবে কেন? তুমি তো আমার প্রিয় বন্ধু হয়ে গেলে হঠাৎ করে। মা আর দিদিয়া তো শিমুল আর পলাশকে বেঁধে দিল। আর ওরা তো এক সাথেই আসে। একই বসন্তে। তাই না?

--আমি আমাদের বিয়ের কথা বলতে চাইছি। পলাশ বলে উঠল।

--বিয়ের হাজারটা মানে হয়। মানুষের সাথে মিশে যখন অন্তরে সানাই বাজে, তখন একটা মানে। আবার ভালবাসা যখন পিছু ধাওয়া করে তখন আর একটা মানে। এখন যদি জিজ্ঞেস করো ভালোবাসা কি? তাহলে এর উত্তর খুঁজতে কোথাও যেতে হবে না। তোমার হৃদয়ের ডিক্সনারীতেই আছে। বলেই ফেলল শিমুল আবার।

তারপর তার মুখে আগের জীবনের সব গল্প শুনতে শুরু করলাম। ধরে নাও সেই ভদ্রলোক 'পলাশ- তুমি'।

আমার কোনদিনই কারুর অতীত কে জাগিয়ে তোলা স্বভাব নয়। কিন্তু সেই ভদ্রলোকের চোখের জল প্রমাণ করে দিল যে, তিনি অনেক মনের কথা বলতে চান। মানুষ ইচ্ছে করে কাঁদে না। কাঁদে কি? কাঁদায় তার অতীতের স্মৃতিগুলো, কাঁদায় তার সবচেয়ে কাছের মানুষ, কাঁদায় তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। সেই চোখের জল আসে একেবারে অন্তরের ভেতর থেকে ফল্গুধারার মতন। অতীতের বিঘ্ন তখন মধুর লাগে।

উত্তর চব্বিশ পরগনার এক মধ্যবর্ত্তী পরিবারে মানুষ হয়েছে সে। দারিদ্র্যতা, অভাব অনটন ছিল তার নিত্য সাথী কিন্তু তার ভালোবাসার মা ছিল। আর আমার ছিল প্রাচুর্য্য কিন্তু ভালোবাসার অভাব আমার সাথী ছিল। এই দুজনের জীবনের পার্থক্য।

দিদি দাদারা থাকলেও মাঝে মাঝে ভাবতাম কিসের একটা অভাব বুকটাকে টনটন করে দেয়। বোঝাতে পারতাম না কাউকেই।

পাঁচ বছর বয়সে পিতৃহারা সেই ভদ্রলোক। সে তার বিধবা মা আর ছোট দুই ভাই-এর সাথে মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছে। যদিও বিবাহের পর বাপের বাড়িতে থাকলেও যে সব অসুবিধার মোকাবিলা করতে হয় তা একমাত্র যার জীবনে ঘটেছে সে ছাড়া আর কেউ বুঝতে বা উপলব্ধি করতে পারবে না। এ এক মস্ত বড় অভিশাপ মেয়েদের জীবনে। বিশেষ করে আগেকার যুগের মেয়েদের ছিল।

সেই মানুষ নিজের অধ্যবসায়ের জোরে আজ এত সম্মানের অধিকারী। সেইজন্য আমি আমার শাশুড়িমাকে আভূমিলুন্ঠিত শ্রদ্ধা জানাই। অন্তরে ঠাকুর মা স্বামীজি, গুরুদেব আর আমার মা বাবার সাথে একই পদ্মে বসিয়েছি। কী কঠিন পরিশ্রম আর উদ্দম, আশায় সন্তানদের মানুষ করেছেন সেই শাশুড়িমা। তাঁর এক এক বিন্দু চোখের জলের দাম আজ হাতে নাতে পেয়েছেন। ছেলেদের কাছে সসম্মানে ছিলেন। যা আজকালকার দিনে দুষ্প্রাপ্য ছবি। এই তাঁর জীবনের কষ্টার্জিত দানের শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার।

“মেয়েদের দূরদর্শিতার তারিফ করতে হয়। কী করে যে আগাম অনুমান করে ফেলে।” আমার এক প্রিয় লেখিকার উক্তি। শাশুমা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। পলাশ বুঝতে পারে না, শিমুল কি বলতে চাইছে।

কখনও কখনও দেখি ট্রেন শব্দ করে চলে যায়। ওরা চুপচাপ যেতে পারে না তোমার আমার জীবনের মতন। লম্বা একটা ট্রেন যেতে সময় লাগে প্রায় মিনিট দশ। এখানে তো যা দেখি সব লম্বা মালভর্তি ট্রেণ। জীবন আর একটু বেশিই হবে। এই ট্রেনের প্রথম কামরা থেকে এখন ক্রমশঃ পেছনের দিকের কামরায় চলে যাচ্ছি আমরা । কখনও ঝুলছি কখনও শক্ত করে ধরতে চাইছি ট্রেণের হাতল। ট্রেন চলে গেলে রেল লাইন ঘর্ষণের ব্যথা নিয়ে পড়ে থাকে। একাই, অথবা সমান্তরালে পাশাপাশি, স্পর্শ করে না কেউ অপরকে। তেমনি সময় চলে গেলে স্মৃতিগুলো কিছুতেই পিছু হটে না...

--এত ভাবো কেন? স্মৃতি ইজ নাথিং বাট এ গুড টিচার। শুধু এর বিল মেটাতে গিয়ে আমরা হিমসিম খেয়ে যাই। আমি তো কিছু ভাবি না। যা হবে দেখা যায়েগা তখন। হিন্দি বলতা, শুনতা কি? শুরু হল হিন্দি বলে পলাশের হাসাবার চেষ্টা।

--“ হাম বোলেগা তো -বোলেগা কী-বোলতা হ্যায়।” বলেই শিমুলও হেসে ফেলে। বিয়ের পরে আমি কমিউট করতাম গারল্যান্ড আর ব্যাটনরুজ। কি অবস্থা তখন বলো? সাথে সর্বক্ষণের ছায়া আমার বড় ভাইঝি।

ইতিমধ্যে ভাইঝিদের বিয়ে, ভাগ্নার বিয়েতে হাজিরা দিলাম। এদেশে থাকলেও এখনও অনেকে কুসংস্কারকে নিয়ে হেঁটে চলেছে। কিন্তু কী জানো... এদেশে এসেও আমাদের বাড়ির লোকেদের মনবৃত্তি বদলায় নি। যেহেতু ডিভোর্স আমি, লক্ষ্য করেছিলাম দধিমঙ্গল এ পাঁচ-সাতজন এয়ো লাগে। একজন কম পড়াতে, আমি থাকলেও আমাকে ঘুম থেকে ওঠায় নি। কাছের একজন সধবাকে ডেকে এনেছিল সেজবৌদি। এক ভাইপো সেটা বুঝতে পেরে তার মা কে বলে, “ পিপি আছে সে কেন হাত লাগাচ্ছে না? এটা কিন্তু ভালো না তোমাদের।”

আমি নিজে থেকেই কোন কিছুতে হাত লাগাইনি। বুঝে গেছিলাম ওদের হাবভাবে যে আমি হাত লাগালে বিয়েটা হয়ত সুখের হবে না।। এদেশে এসেও এরা নিজেদের বদলায় নি। এরা কিন্তু আবার অন্যকে বড় বড় জ্ঞান দেয়।

উপন্যাস-এ তো আর সব সত্যি থাকে না -এটা কিন্তু কল্পনা নয়। মানুষের মনকে নাড়া দেওয়া ছাড়া আর কিছু না। যতই হোক স্বাভাবিক যন্ত্রণাগুলো তো থাকবেই।

“কতদিন, শিমুল?”

“ যতদিন না যন্ত্রণার উৎস শুকোয় ততদিন”।

“প্রকৃত যন্ত্রণার উৎস কী শুকোয় কখনও শিমুল? আমার মনে হয় না কোনওদিন শুকোয় না।”

এরপরেই এলো আরেক বিপর্য্যয়।

এল সেই বিখ্যাত 'ক্যাট্রিনা' হ্যারিকেন। জানো নিশ্চয়-ই উত্তর-দক্ষিণ আমেরিকার সমস্ত নিউ-অর্লিন্স শহর জলের তলায় চলে গিয়েছিল। এইদেশ বলেই আবার সব স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে সে বড় ভয়ংকর সময় ছিল। আমরা সবাই বাড়ির ভ্যান করে এসে উঠলাম আমার পার্মানেন্ট ঠিকানা গারল্যান্ডের “ ম্যাগ্নোলিয়া” এর বাড়িতে । আদর করে অনেক নাম দিয়েছি আমাদের এই বাড়িকে।

সেইসব দিনগুলো মনে পড়লে আজও কেমন যেন শিউড়ে উঠি। তারপর ক্যাট্রিনা চলে যাওয়ার পর আবার আমরা ফিরে গেছিলাম। এবার সেই ভদ্রলোকের অনুরোধে চাকরি ছেড়ে চলে এলাম ।

আমার কাছে প্রথম চাকরি ছিল প্রাণ। অনেক অনেক ভালবাসা ও পুরস্কার পেয়েছি প্রথম চাকুরী করতে করতে। বড় বড় অধিকর্তারা আমার মতন একজন সামান্য সায়েন্টিস্ট এর ঘরে এসে চাকরি না ছাড়তে অনুরোধ করেছিলেন। ভেবেছিলেন আমি বোধহয় বেশী মাইনের জন্য অন্য স্টেট এ চলে যাচ্ছি। কিন্তু সত্যটা জানার পর ওনারা বললেন, “তোমার স্বামীকে এই অফিসে ডাকো, আমরা তাকে চাকরি দেবো।” সবাই শুনে অবাক। যেখানে চাকরির এত হাহাকার সেখানে কি করে বলছেন ওনারা যে, “শিমুল, তোমার হাজবেন্ড কে ডাকো।” এখানে কাজ দেখে মানুষেরা... সবার ভালো নজরে পড়ে গেছিলাম। তাই আমার বড় গর্ব নিজেকে নিয়ে।

এবার যুদ্ধের প্রস্তুতি আবার...


(চলবে)

পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি