স্বপন কুমার দে রচিত 'বনফুলের মালা' /তাপসকুমার দত্ত

স্বপন কুমার দে রচিত 'বনফুলের মালা'

তাপসকুমার দত্ত


স্বপন কুমার দে রচিত "বন ফুলের মালা" কাব্যগ্রন্থটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে জ্বলদর্চি প্রকাশনায়। পনেরটি কবিতায় মোড়া খুব সহজ সরল ভাষায় সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত করেছেন কবি। যেখানে "গাংটিলা"তে কবি প্রেম বিরহ বিচ্ছেদ এর করুণ কাহিনি'র বর্ণনা করেছেন। তুলে ধরেছেন সুরাই আর মুনিয়ার কথা যা বাস্তবের সাথে সমার্থক হয়ে, গ্রাম্য সাদামাটা জীবনের ভাঙ্গা গড়া নদীর স্রোতের বয়ে চলে নিরন্তর। যেখানে রুজিরোজগার এর টানে মাতৃভূমির বন্দনায় বিসর্জিত প্রাণ হাহাকার প্রেয়সীর শুকনো চোখ মন বিষণ্ণতায় ভরিয়ে দেয়।

আবার অন্যদিকে সব প্রতিকূলতা দূরে সরিয়ে "চন্দ্রভাগা"র ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই যা সমাজের মেয়েদের স্বাধীন ভাবে বাঁচার প্রেরণা জাগিয়ে তোলে। কবির কাব্যগ্রন্থে "এক খণ্ড হিমালয়ে" প্রকৃতির অপরূপ শোভা যা অন্তহীন অনন্ত রূপে প্রতিভাত। আবার "সভ্যতার পাপে" কবি ব্যাধি গ্রস্থ সমাজের চোখে তুলে ধরেছেন কন্যা জন্মানো কি অভিশাপ? অন্যদিকে কবি খুব উৎসাহী "পিকনিক"কে ছন্দ দিয়ে মুড়ে ফেলেছেন মজার হুল্লোড়ে। 

মিশে গিয়েছে আঞ্চলিক ভাষায় রবীন্দ্রনাথ যেখানে সমাজের সর্ব স্তরে রবি ঠাকুর সমান ভাবে উজ্জ্বল। অন্য দিকে "ডানায় রঙের মশাল জ্বেলে এসো" কবি "স্বপ্ন পাখি"তে সমাজের বুবুক্ষের হাহাকারে ব্যথিত হয়েছেন। যেখানে নিরাশার অন্ধকারে মোড়া আগামী ভবিষ্যত। আবার "শূন্য ঘরের স্তব্ধতে কানে বাজে" যেখানে "একাকী" একাকিত্ব বোধ নিঃসঙ্গ করে তোলে বারংবার। পয়লা বৈশাখে "যে মেয়েটি রোজ দু' বেলা" তার বছর কাটে মন খারাপের ভিড়ে যেখানে কবি বারংবার মন খারাপের দিকে ধেয়ে গেছেন
মুহূর্তেই ফিরে এসেছেন "বনের পাখির সঙ্গ চায়" "রবি ছবি" ফিরে আসে ঘুরে ফিরে। কখনো বা "বনলতার নীড়ে" শেষ বিকেলের স্মৃতির রোমন্থনে।" ত্যাগ, আদর্শ সততা" একমাত্র পথ, জীবনে যতই কঠিন মোড় আসুক "ভাঙা গড়া" শীর্ষককে সুন্দর রূপে প্রকাশিত। 

"বুক ফাটা আর্তনাদকে বাঁধবার বজ্র আঁটুনি" প্রিয়ার চলে যাওয়া পথের শেষ প্রান্তে থেকে গেছে স্মৃতির আর্তনাদ,আর নরম স্পর্শ কবিকে তা বিষাদময়  করছে "আজ রাতে"এর কবিতায়। মনকে ফেরারী করেছেন কবি 'খোলা হাওয়া'য় 'থাক গ্লানি, দুঃখ' সব সরিয়ে ভালো থাকতে চেয়েছেন।

সবশেষে "বন ফুলের মালা "কাব্যগ্রন্থটি বন্য ফুলের সৌন্দর্য্য এর মতোই প্রস্ফুটিত হতে পেরেছে।

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇
 


Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি