জীর্ণসময় মৃতজিন /গৌতম বাড়ই


জীর্ণসময় মৃতজিন 

গৌতম বাড়ই 


কবি বিহীন এমন জীর্ণ শহর কে চেয়েছে বলো?
সবুজ গাছপালা শুকিয়ে নিবিড় কাঠ
কবি না থাকলে ভাবনাগুলো রাতের প্রজাপতি
মাধুর্য হারিয়ে যায় সূর্য ডোবার মতন
অন্ত্রে ভীষণ পচন এখন
পচন সারা শরীরময়
গলি ঘুপচির মধ্যেও গজিয়ে উঠছে 
স্বাস্থ্যনবীদের ইমারত মেহেরবান 
খেতে খেতে মিথ্যে কথা বলি অহরহ
করি ষড়যন্ত্রের ছক
অন্ত্রে গিয়ে সব মিথ্যে জড়ো হয় 
চোখের ক্রুদ্ধতায় হৃদয় অঙ্গার বর্ণ
যা নই আমি তো তাই ----- ‌‍ক্ষমতা তাই বলে 
আমি যা আমি তো তাই না----- বিকিয়েছি মাথা

প্রেমিকা আর কবি একসাথে হাত ধরাধরি
সৌধের সবুজ গালিচায় বহুদিন দেখিনি
শহরের দুব্বোরাও কেমন ফ্যাকাশে হয়
সবুজঘাসের এ্যানিমিয়া ক্লোরোফিলে 
একটা জাহাজ ভগ্ন রাজপ্রাসাদ হয়ে 
মনুমেন্টের মাথায় বসে 
গুঁড়ো দুধের মতন পলেস্তারা খসাচ্ছিল 
উড়ছিল শহরের বায়ু দূষণ 

নস্টালজিক হই জীর্ণ শহরে 

আমরা মনুমেন্টের নিচে 
ধুলো বালি পায়ে মাখা  ডলা ঘাসে
জিপসি মেয়েদের রোপ- ব্যালেন্সিং দেখতাম 
কলুষিত নদী আজ চোখে চোখে ঘোরে বহু
কবিঋষি অক্ষিগোলকে খুঁজে বেড়ান 
দীর্ঘতমা মুনি 
কবিও তো জীর্ণ শহরের দিশাহারায়
ঊর্দ্ধরেতা হয়েছেন 
প্রেম নেই ! প্রেম নেই ! প্রেম নাই !
প্রেমিকারা কলোনিয়াল ল্যাম্পপোস্টের মতন 
ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন স্থবির এন্টিক 
গর্ভিনীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে ইডেন বাগান 
সুদেষ্ণা এখনও ধারণের পর 
প্রসব করেছে কি তাঁর পাঁচ সন্তান ফের ?

নবীকরণ হল 
সময়ের নবীকরণ পরিমিত আয়োজন শেষে 
রাজর্ষি বলির সাথে কবিও বাণপ্রস্থকে শ্রেয় ভাবলেন 
তবে কবি বিহীন এ জীর্ণ শহরের 
মাধুর্য তো হারিয়ে গেল 
সুদেষ্ণার আঁচলের খুঁটে বলি রাজার পুত্রের 
আকুতির টান
বঙ্গতনয় নবীকরণের পরেও নিজের রক্তাক্ত ক্ষতের 
দাগগুলি ক্রমাগত দেখছিলেন শরীরে
এখানে যে কলুষিত নদী 
তাদের বুকের নৌকোরাও চিল শকুনের মতন ওড়ে 
দুদ্দাড় সব এলোমেলো
আকাশের মেঘলা ক্যানভাসে


যদি সুর হারায় তবে গান গেয়ে কী লাভ
প্রেমআগুনে জল ঢেলে 
প্রেমিকারা ফেরারী হল দেশান্তরে 
কলুষিত নদী কাব্য করার সময় হারিয়েছি 
প্রেমবিহীন শহর জীর্ণ পুরাতন মধ্যযুগের কানাগলি 
রস ছাড়া কিছুই হয়না সাম্প্রতিক বস!
কবিতারাও হারিয়ে গিয়েছে শেষতম কবিকে নিয়ে 
দম্ভের সূচনায় থাকে বিনাশের শেষতম ইঙ্গিত


জীর্ণ শহর নাকচুবিয়ে কাঁদো অন্ধ সরোবরে
পাঁচতারকায় বিবর্ণ হও আশুতোষ সাহিত্যম 
ভালবাসব কাকে ?
এ শহর তো আমার শেষতম ভালোবাসা ছিল
সবুজ গাছপালা শুকিয়ে কাঠ 
সুদেষ্ণার তোবড়ানো গালে এখন বলিরেখা অজস্র
কাঁহাতক আর গোণা যায়

একটা পুরাতন এলবাম ছিল তবুও স্বপ্নে

দীর্ঘতমা ভেসে চলেছেন 
সুদেষ্ণার সন্তানদেরও যৌথ পরিবার ভেঙ্গে পড়েছে
বঙ্গতনয় শাদাপালকের হাঁস 
গায়ের থেকে ক্ষত-বিক্ষত রক্তের দাগ মুছে ফেলছেন
আর মুছে ফেলছেন ---------


জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

Comments

  1. Pritha ChatterjeeJuly 22, 2022 at 3:12 PM

    খুব ভালো লাগল

    ReplyDelete
    Replies
    1. শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ রইলো। 🌹

      Delete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি