গুচ্ছ কবিতা /শুভশ্রী রায়

গুচ্ছ কবিতা
শুভশ্রী রায়


অগ্নিমন্ত্র

অন্যায়স্বস্তিক দেখে
ভয় পেয়ে চুপ করে আছি, এমন ভেবো না,
ভেতরের আগুনকে কখনো বলিনি
"এবারে নেভো না!"
আগুন রেখেছি বাঁচিয়ে, মতবাজারে তাকে
পণ্য বানাই না, তবে পবিত্র আগ্নেয় শপথ;
প্রতিটি রক্তবণিককে পোড়াব একে একে।



অরাজনৈতিক

"রাজনৈতিক কবিতা চলবে না," সম্পাদক
স্পষ্ট বলে দিলেন।
কিন্তু আমি তো ও বিষয়ে কোনো কিছু লিখিনি,
খালি বলেছিলাম, রাজধানী রাক্ষসের কবলে
পড়েছে;
অমনি গর্জন করে বলা হল, "ফাঁসাবেন না!"

জানতাম না, বুঝতাম না,
তলিয়ে ভাবিনি যে
রাক্ষসের গল্প মানেই
মানুষের গন্ধ পাওয়া কোনো হিংস্র জীবের গল্প।
রাক্ষস রাজধানী অবধি পৌঁছে গেছে মানেই
রাজনীতি, অতএব!



আবহ

বাতাস কী শুধুমাত্র বিদ্বেষে আমোদিত হয় আজকাল! চ্যানেলে চ্যানেলে হিংসার উদগীরণ..
ভূমির প্রতি বর্গে নাশকতার তুমুল চাষ,
নদীর স্রোতে কারুর কারুর রক্ত মেশা
তবু সে নাকি অধিকতর পুণ্যতোয়া!

অন্যদের রক্তরস দিয়ে নিজেদের ঘরদোর মুছবেই!
জেদ ধরে বসে আছে কিছু লোক,
পক্ষে তাদের গদী; তারই মধ্যে 
তামাসা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া
সংখ্যা ধরতে আসে পাঁচ বছরে একবার।
গণতন্ত্র কার এত সহজ আহার? 

আরে সে একা নাকি? আমি আপনি আর
আমাদেরই পুরনো বিদ্বেষ, নতুন প্রতিহিংসা
জমাট বেঁধে নির্মিত বিনাশপুরুষ।


 
বিষপুর নাগ

আমার জিভে দংশন করে কে সেই নাগ?
কোন পুর থেকে এসে আমি আর আমার মতো
অনেকের স্বরযন্ত্রে বিষ ঢুকিয়ে দিতে চায়,
কেড়ে নিতে চায় স্পষ্ট কলম?
কে সেই নাগের অধিক নাগ!
কমলা লেবুর সুগন্ধে মিশে থাকে
তারপরে জনতার জীবন ভরে দেয় বিষে।

যত বার সেই নাগ ছোবল মারবে আমাকে
তত বার একটু একটু করে মরবে নিজেই,
আমার ভেতরের ভালোবাসাও যে
তার ভেতরে ঢুকবে তত বার!
হ্যাঁ, একমাত্র ভালোবাসাই সে নাগের বিষ
অকেজো করে দিতে পারে।




শোণিত অস্বস্তি

জীবনদায়িনী নদীতেও অস্বস্তি, 
হিংসায় হিংসা মিশে কবে রচিত বিধানের চোখে
সময়ের হুঙ্কার, নদীর দু' পারে চাপচাপ ভয়
অথচ সভ্যতা অথচ উন্নততর ন্যায়
অথচ প্রগতি নামে কিছু একটা
গড়িয়ে গড়িয়ে আসতে চেয়েছিল
কয়েকশো বছর আগে থেকে ;
ফের যুগ ধীরে ধীরে
সামন্তপথে হাঁটবে বলে জেদে সন্ন্যস্ত!

অনুশাসন আর সংস্কার মাথায় নিয়ে
হাঁটছে পিএইচডি নারী-পুরুষ জিভ-কাটা,
মাথায় কারুর কারুর গোত্রের কলস!
না দেখা প্রবল তরঙ্গ গোষ্ঠীর পর গোষ্ঠীকে
নাশকতায় উদ্বুদ্ধ করে এবং সভ্য মানুষ
জল্লাদ সাজতে কুসুমিত রাজী, যে যার প্রতীক
ধারালো করে তুলে আপাতগেরস্থ জনগোষ্ঠী
হিংসায় দীক্ষা নিতে মরীয়া, তাও ইতিহাসের
পাতায় জ্বলজ্বল করে "ধর্ম মানুষের জন্য";
তলায় গাঢ় লাল ভৎর্সনা। 

পেজে লাইক দিন👇

Comments

Popular posts from this blog

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা

মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যেন্দুবিকাশ কর মহাপাত্র এবং তাঁর 'মাসস্পেকট্রোগ্রাফ' যন্ত্র /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ঋত্বিক ত্রিপাঠী / আত্মহত্যার সপক্ষে

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

আসুন স্বীকার করি: আমরাই খুনী, আমরাই ধর্ষক /ঋত্বিক ত্রিপাঠী

শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজই আদর্শ সমাজ 'কালের যাত্রা' নাটকের শেষ কথা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

অংশুমান কর

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল