তিনটি কবিতা /বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

তিনটি কবিতা
বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়


মন ও হৃদয়

মন ও হৃদয় এক নয় জেনো মিত্র ,
নানান সময়ে  মন নানা রূপে আসে,
মন তটিনীতে কতো না চিন্তা ভাসে,
একক হৃদয়  মহান চির পবিত্র ।।

 চঞ্চল মন নানা পথ ধরে চলে ,
সামনে,পিছনে, উঁচুতে, নিচুতে গতি,
চলমান  মন বোঝে না - কি তার মতি,
স্থির এ হৃদয় থাকে না কো দোলাচলে।

মন ও হৃদয়ে বিস্তর ব্যবধান ,
না ভেবেই মন বুঝে নেয় কতো কথা,
কখনও ক্লান্তি কখনও অজানা ব্যথা,
মনটাকে ভাঙে করে তাকেখান খান ।

মন গড়ে নেয় নানান পরিস্থিতি,
কখনও দুঃখ কখনও রঙিন চিত্র ,
ভিড় করে মনে  আজব কতো চরিত্র,
কখনও ঈর্ষা কখনও আনে  তা প্রীতি ।

হৃদয় কখনও দেখেনা কু পরিবেশ ,
সব কিছুকেই ভালো মনে করে ভাবে,
কারণ জানে সে,  ভালো যে  ভালোই  পাবে,
হৃদয়ের  নাই ঘৃণা ও অসুয়া লেশ ।

স্বার্থ পূরণে মনের চাহিদা মেটে 
পরের জন্য ভাবনা তো তার নাই
আরামের তরে ভোগের পিছনে ছোটে,
সুখ ও আয়েশ  সকল সময়ে চায় ।

হৃদয় সদাই বাহুল্য বর্জিত -
কখনও ঘোরে না সুখের অন্বেষণে ,
সংযত থাকে আপন নিয়ন্ত্রণে ,
সুখের জন্য হয়  না সে লালায়িত ।

মন দুরন্ত  ভাবে চাওয়াটাই আগে,
উদ্দাম গতি ছুটে চলা এক তরী 
সময়টা মেপে চলে নাতো তার ঘড়ি,
প্রক্ষোভ নিয়ে সারা রাত্রি সে জাগে ।

বলোতো মিত্র কি তোমার অভিরুচি ?
মনটা কি চাও ? না কি এ হৃদয়টাকে ?
 আবিলতা ? নাকি ক্ষোভ-হীন তুষ্টতাকে ?
শুদ্ধি হীনতা ? নাকি নির্মল শুচি ?


দুই বুড়োর দাবা খেলা

যাওয়ার কোথাও জায়গা তো নাই তাই দাবার আশ্রয়,
রাজা ও মন্ত্রী হাতি আর  ঘোড়া এসে করে  পরিচয়,
এক এক প্রাণীর এক একটা চাল মনে তো রাখতে হয় ,
দাবাটা খেলতে মগজটা লাগে সকলে এমনই কয় ।

খেলছে দু বুড়ো পাশে বসে আছে আরও কয়জন বুড়ো,
বয়স হলেও কেউ তো হয়নি সেরকম থুরথুরো,
যদি কোনো চাল ভুল দেয় কেউ চিৎকার  করে তারা ,
 অন্য দু  বুড়ো খেলা কেড়ে নেয়, দু বুড়ো বাস্তু-হারা ।


ভালোবাসা

ভালোবাসা তুমি/কোথায় থাকো হে/কি তোমার পরিচয়?
তোমারই তালাশে/ তরুণ ও তরুণী/ সদা আকুলিত রয় ,
সত্যি বলো তো/সে বস্তু তুমি/
যার অভাবেতে/ সবই মরুভূমি?
নাকি এটা শুধু/মনেরই বিকার/ভাব বিলাসিতা ময় ?
তোমারই কারণে কলহ বিবাদ পরকীয়া প্রেমে হয় ?

সুঠাম তনুতে/সীমায়িত তুমি  তার বেশি কিছু নও?
দেহপট খানি /ক্ষীয়মান হলে/ তুমি প্রস্থিত হও ?
দেহাতীত প্রেম/কাকে বলে তবে,
যার গুণগান/করে লোকে সবে?
তুমি কি শুধুই/সুযোগপ্রার্থী/দখিনা বাতাসে বও ?
নাকি তুমি শুধু ধনেরই কাঙাল ধনিকের কাছে রও?

ভালোবাসা নয়/শারীরিক প্রেম/ তার বেশি আরও কিছু,
ভালোবাসা সেই/ ত্যাগ অনুরাগ/ছাড়ে না কখনও  পিছু ,
বিপদের কালে/সঙ্কটে ত্রাসে,
বিশ্বাসী প্রেম/ দাঁড়ায় এসে পাশে,
ভালোবাসা তাই/ মহান উদার/কখনও সে নয় নীচু ,
বিশ্বাস ভরা বিশুদ্ধ প্রেম নিকষিত হেম  উঁচু ।।

পেজে লাইক দিন👇

Comments

Popular posts from this blog

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা

মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যেন্দুবিকাশ কর মহাপাত্র এবং তাঁর 'মাসস্পেকট্রোগ্রাফ' যন্ত্র /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ঋত্বিক ত্রিপাঠী / আত্মহত্যার সপক্ষে

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

আসুন স্বীকার করি: আমরাই খুনী, আমরাই ধর্ষক /ঋত্বিক ত্রিপাঠী

শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজই আদর্শ সমাজ 'কালের যাত্রা' নাটকের শেষ কথা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

অংশুমান কর

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল