ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১০০

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১০০

সম্পাদকীয়, 
ছোটো বন্ধুরা মজার ব্যাপার কি জানো? ছোটোবেলার বাগানে যেসব ছোটো বন্ধুরা এতদিন গল্প কবিতা ছড়া কাহিনি লিখেছিল, সেগুলো ফিরে দেখতে গিয়ে দেখি, সব সব গুলোই ফুল হয়ে ফুটে আছে আমার বাগান আলো করে। আমি জানতাম, তোমরা আমার কথা কিছুতেই বিশ্বাস করবে না। তাই ঠিক করেছিলাম, দু'একটা গোলাপ, একটা দুটো চাঁপা, কয়েকটা জুঁই তুলে এনে তোড়া বেঁধে একশো তম ছোটোবেলা সংখ্যার উদযাপন করব। কিন্তু তোড়া বেঁধে চিত্রগ্রাহক অমিয় দাদাকে দিয়ে বললাম, ছবি তুলে পাঠিয়ে দিও কিন্তু। ওমা, অমিয়দাদা যে ছবি পাঠালো সেটা তো তোমরা প্রচ্ছদেই দেখছো। তোড়ার সব ফুলই হয়ে গেছে কদম। সেই তোড়া থেকে আমি তো কিছুতেই গোলাপ, জুঁই, চন্দ্রমল্লিকাদের আলাদা করতে পারলাম না। ঋত্বিক আঙ্কেল আমার কথা শুনে হেসে বললেন, ছোটোবেলার বাগানে ছোটোদের আলাদা করবেন না। ওদের সকলকে একসঙ্গে প্রস্ফুটিত হতে দিন। আজ তো ফুল ফোটার উৎসব। ঠিকই তো, উৎসব মানেই আনন্দ, এসো ফুল ফোটার উৎসবে আমরা আনন্দে মেতে উঠি। এই আনন্দ উৎসবে তাই তোমরাই শততম সংখ্যা পড়ে খুঁজে নাও গোলাপ, গন্ধরাজ, রজনীগন্ধাদের। আর হ্যাঁ, অবশ্যই তাদের সৌরভের কথা জানিও কিন্তু তোমাদের আরো আরো ছোটো বন্ধুদের।   - মৌসুমী ঘোষ।

ছেলেবেলা ১০০
প্রবাহনীল দাস
অষ্টম শ্রেণী, বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন, পশ্চিম মেদিনীপুর


মনের মাঝে খুশির হাওয়া যাচ্ছে দ্রুত বয়ে,
ভাবছি, সময় যায় এগিয়ে, স্মৃতি যে যায় রয়ে।
আনন্দে মন উড়ছে চেপে পক্ষীরাজে যেন,
বলতে পারো, এমন খুশি আসছে মনে কেন?
ভ্রমণকথা, গল্প এবং ছন্দ ঝুড়ি ঝুড়ি –
স্টেপ-আউটে ‘ছেলেবেলা’ও করল যে সেঞ্চুরি।
ছোট্ট পায়ে আনল বয়ে এত্ত বড় ভার,
গর্ব নিয়ে করল এবার একশো সংখ্যা পার।
এই জন্যেই খুশির জোয়ার লাগছে মনের তীরে,
চাইছি যেন ছেলেবেলায় আসতে পারি ফিরে।
আস্তে আস্তে মসৃণ হোক সব দুর্গম পথ,
না পাক বাধা ‘ছেলেবেলা’র এমন বিজয় রথ।


যেদিন সব্বাই স্কুলে যায়  

 শ্রীপর্ণা ঘোষ
অষ্টম শ্রেণী, জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, পশ্চিম মেদিনীপুর

আজ আমি স্কুলে যাবার জন্য তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে গেছি। আমি স্কুলে যেতে যে খুব ভালোবাসি এমন নয়। স্কুলে গেলেই তো খালি পড়া দেওয়া আর ভুল হলেই বকা খাওয়া। তাও আজ আমার খুব উৎসাহ স্কুলে যাবার কারণ আজ শিক্ষক দিবস। সব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেব বলে তাদের জন্য আলাদা আলাদা পেন কিনে রেখেছিলাম। সেগুলো গুছিয়ে ব্যাগে ভরে স্কুলে গেলাম।
প্রথম প্রথম সব ঠিকঠাক চলছিল, যেমন চলে হঠাৎ আমাদের ক্লাসের একটা ছেলে বলল, মনে হয় আজ অনেক নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকা এসেছে স্কুলে। আমরাও মুখ বার করে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখলাম সত্যিই অনেক নতুন নতুন মুখ। আমরা ভাবলাম হতেই পারে নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকারা আজ একসঙ্গে জয়েন করেছেন। প্রথম পিরিয়ডের ঘন্টা পড়ল। আমরা ক্লাসে যে যার জায়গায় বসে পড়লাম। 
প্রথম ক্লাস বিজ্ঞানের। আমাদের বিজ্ঞানের ম্যাম দারুন রাগি, পড়া না পারলেই দাঁড় করিয়ে রাখেন, পায়ে ব্যথা হয়ে যায়। কিন্তু আজ একজন নতুন ম্যাম ক্লাসে এলেন, কত কম বয়স আর কী সুন্দর দেখতে। তিনি বললেন, ‘আজ আমি তোমাদের বিজ্ঞান পড়াব।’ তিনি কী সুন্দর করে পড়াচ্ছেন, একটুও বকছেন না আর শাস্তিও দিচ্ছেন না। তারপর বাংলা ক্লাসে আবার একজন নতুন স্যার এলেন। তিনিও খুব ভালো, আমাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো গল্প করলেন। সবাই নতুন স্যার-ম্যাম পেয়ে খুব খুশি। এরপর আমাদের ভূগোল ক্লাস। আমাদের ভূগোল ম্যাম দারুণ ভয়ঙ্কর তারওপর বলেছিলেন আজ ক্লাস টেস্ট নেবেন। সবাই প্রাণপণে বইতে চোখ বোলাচ্ছি। আমার তো কাল রাত অবধি সব মুখস্ত ছিল কিন্তু এখন কী জানে কী হল কিছুই মনে পড়ছে না! আমি তো ঠাকুর কে ডাকছি, হে ঠাকুর এ বিপদ থেকে আমাকে রক্ষা করো। দেখি ভূগোল ক্লাসেও নতুন এক ম্যাম আসলেন! আজ হচ্ছেটা কী!! সেই ম্যামও খুব ভালো করে, মিষ্টি মিষ্টি করে কথা বলছেন। আমার একটু একটু সন্দেহ হচ্ছে এবার। সব স্যার-ম্যামরাই কী করে নতুন হবেন!! যাই হোক ক্লাস টেস্ট থেকে তো মুক্তি পেলাম।
টিফিনে আমি বন্ধুদের বললাম, একসঙ্গে সব পুরনো স্যার-ম্যাম-রা কোথায় চলে গেলেন? 
মিমি বলল, হয়ত তারা আজ বেলায় বড়দের বিভাগে ক্লাস নেবেন।
আকাশ বলল, অত ভাবছিস কেন? নতুন স্যার-ম্যমারা কত ভালো। এদের পেয়ে কেউ ওই আগের স্যার-ম্যামদের চায়!! 
সে ঠিক, তারা ভালো কিন্তু আমার কেন জানিনা আকাশের কথায় রাগ হচ্ছিল আবার একটু মন খারাপও হচ্ছিল। টিফিনের পর ইংরাজি আর অঙ্কেরও নতুন স্যারেরা আসলেন। তারাও খুব সুন্দর করে কথা বললেন। কিন্তু এখন সবাই আর আগের মতো অত খুশি নয়। আমিও নই, কেন কে জানে!! পুরনো স্যার-ম্যামরা আমাদের বকতেন, পড়া ধরতেন কিন্তু এখন নতুনরা তা করছেন না তবুও আমাদের আর ভালো লাগছে না। হঠাৎ ছুটির ঘন্টা বেজে উঠল কিন্তু এখন তো ছুটির সময় হয় নি! সবাই ছুট লাগাল। একজনের ধাক্কায় আমার ব্যাগ থেকে কীসব পড়ে গেল। আমি সেগুলো কুড়োতে গিয়ে প্রথমে দেখি সেই পেনটা যেটা আমি বিজ্ঞান ম্যামকে দেব বলে এনেছিলাম। এটা বোতাম টেপা পেন। ম্যাম-এর সবসময় পেনের ঢাকা হারিয়ে যায় তাই এই পেনটা ম্যামের জন্য এনেছিলাম। তার পাশে বাংলা স্যারের জন্য আনা পেনটা। এটা লাল কালির পেন কারণ বাংলা স্যারের লাল পেনের রিফিল প্রায়ই ফুরিয়ে যায়। খাতা দেখার সময় তাই আমাদের কাছে চেয়ে নেন সবসময়। 
ডেস্কের নিচে ভূগোল ম্যাম-এর পেনটা, ম্যাম আমাদের যতই বকুন না কেন ক্লাসের কেউ যদি মন খারাপ করে বসে থাকে তিনি ঠিক বুঝতে পারতেন। তারপর তার সঙ্গে কথা বলতেন, তার সব মন খারাপ দূর করে দিতেন। তাই আমরা তাকে খুব ভালোবাসি। বাংলা ম্যাম-ও তো কেউ যদি অসুস্থ হয় তাহলে তার বাড়িতে ফোন করে দেন অনেক সময় বাড়িতেও দিয়ে আসেন। 
ব্যাগের পাশে দেখি ইংরাজি ম্যামের জন্য আনা কালি পেনটা।  ম্যাম কালি পেন দিয়ে লিখতে খুব ভালোবাসেন। কিন্তু অঙ্ক স্যারের পেনটা কোথায়? ওই তো ওখানে পড়ে তক্ষুনি কেউ পেনটা মাড়াতে যাচ্ছিল আমি চেঁচিয়ে উঠলাম তাড়াতাড়ি ওটা কুড়িয়ে নিলাম। সব পেনগুলো হাতের মুঠোতে চেপে ধরলাম যেন ওগুলো কত মূল্যবান। হ্যাঁ ওগুলোই আমাদের কাছে খুব মূল্যবান। তাদের কাছে বকা খাওয়া, তাদের নানা স্বভাব নকল করা, তাদের বিরক্ত করা ও যেচে শাস্তি পাওয়া এগুলোই আমাদের প্রিয়। হঠাৎ তখন একটা দাদা ক্লাসে মুখ ২০ বাড়িয়ে বলল, এখন শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান আছে সবাই এসেম্বলি গ্রাউন্ডে চলে আয়। 
আমরা সবাই মাঠে যাবার পর অবাক! দেখি বিজ্ঞান ম্যাম, বাংলা স্যার, ভূগোল স্যার আর সব স্যার ম্যামেরাই আছেন, তারা কোথাও যান নি। আর যে সব মিষ্টি মিষ্টি শিক্ষক-শিক্ষিকারা আমাদের আজ ক্লাস নিয়েছিলেন তার সবাই আসলে বেলার স্কুলের বড়দের বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী। আমরা আনন্দে আমাদের স্যার-ম্যামেদের প্রণাম করতে লেগে গেলাম। আমি আমার হাতে ধরা পেনগুলো একে একে তাদের হাতে তুলে দিতে থাকলাম। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা যেমনই হোক না কেন তারা আমাদের কাছে সবসময় প্রিয়।

শিক্ষক

সমাদৃতা রায়
দশম শ্রেণী, উত্তরপাড়া গার্লস হাই স্কুল, হুগলি

শিক্ষক মানে
শেখা নতুন কিছু,
শিক্ষক মানে
ছাত্রের পিছু পিছু।

শিক্ষক মানে
আদর সোহাগ
শিক্ষক মানে
বেত্রা ঘাত।

শিক্ষক মানে
আদব-কায়দা
শিক্ষক মানে
নিয়ম সর্বদা।

শিক্ষক মানে
মানার যোগ্যতা,
শিক্ষক মানে
মনের উদারতা।

শিক্ষক মানে
ভয়ের কিছু
শিক্ষক মানে
হয় না নিচু।

শিক্ষক তুমি সত্যি মহান
বিজয় করিলা সারা জাহান
তোমারি নিজস্ব গুনেতে

রাজকুমারী উদ্ধার

সুহেনা মন্ডল
পঞ্চম শ্রেণী, জি ডি গোয়েঙ্কা পাবলিক স্কুল, নর্থ কলকাতা


আজকে শনিবার। আমি আমার পড়ার ঘরে বসে অনেক রূপকথার বই পড়ছিলাম। বইগুলোর ছবির পাতা ওল্টানোর সময় আমার একটু অদ্ভুত লাগল। একটাতেও তো রাজকুমারীদের ছবি নেই! এবার আমি সবকটা বইয়ের ছবিগুলো খুব মন দিয়ে দেখলাম। কোন না কোন গণ্ডগোল নিশ্চয়ই আছে। হঠাৎ দেখলাম একটা বইয়ের রাজকুমারের মুখ গোমরা হয়ে গেল। আমি রাজকুমারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম। আমি বললাম "রাজকুমার আপনার কী হয়েছে? আর রাজকুমারীরাই বা গেল কোথায়?" রাজকুমার জবাব দিল "তুমি মনে হচ্ছে খুব সাহসী। আমাদের তোমার সাহায্য চাই।" আমি কিছু বোঝার আগেই আমাকে ওই রাজকুমার একটা সুন্দর বাগানে নিয়ে এলো যেখানে সব রাজকুমারেরা দাঁড়িয়েছিল। আমি অবাক হয়ে গেলাম। সবাই একটা সুরঙ্গকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। ওরা আমাকে অনুরোধ করলো "তোমাকে আমাদের একটু সাহায্য করতে হবে। আমাদের রাজকুমারীরা এই সুরঙ্গ দিয়ে কোথায় যেন একটা চলে গেল। কিছু বললোও না আমাদের। কখন বেরিয়েছে ওরা! প্রায় সকাল সাতটায়। আর এখনো ফেরেনি।" আমি বললাম, "না না, আমি ওদের ঠিক ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।" তখন প্রিন্স রামেন আমায় একটু কাছে টেনে বললো, "আমার রাজকুমারী ঈশানীর এই নেকলেসটা তুমি তোমার কাছে রাখো।এটা দ্বারা তুমি পরে ঠিক সাহায্য পাবে।" এই কথা শেষ হতেই লাফ দিলাম ঐ সুরঙ্গতে। শেষে এসে পড়লাম পাতালে, যেখানে সব রাজকুমারীদেরকে একটা বিরাট বড় কাঁচের বোতলে বন্দি করা হয়েছিল। এটা না ভাঙা যাবে না ওপরে চড়ে বেরোনো যাবে। তখন সেনপাই রাজকুমারী বোতলের ভেতর থেকে চিৎকার করে আমায় বলল, "আমরা এখানে দুষ্টু রানী রুলার জন্য আটকে আছি। উনি একজন ফুল বিক্রেতা সেজে বলেছিল, এই সুরঙ্গ দিয়ে এলে অনেক মায়াবী প্রসূনের সন্ধান পাব। সেসব তো হলোই না। আর আমাদের এই মায়াবী বোতলে বন্ধ করে রাখা হলো। বাইরেটা কাচের হলেও ভেতরটা মায়াবী। ভাঙা যাবে না কিছুতেই। কোনো জাদুও করা যাবে না ভেতর থেকে। কিন্তু আমাদের একটা উপায় আছে, রানী আমাদের ভেতরে বন্দি করলেও বোতলের মুখটা খোলাই আছে। যেহেতু মায়াবী বোতল, হয়তো ভেবেছে আমরা কিছুতেই পালাতে পারবো না। কিন্তু ভেতর থেকে কিছু না করা গেলেও বাইরে থেকে হয়তো কিছু করা যেতে পারে। তুমি একটু চেষ্টা কর না। নাহলে আমরা এখানেই মরে যাব।" এই কথা শুনে আমি অনেকবার চেষ্টা করলাম  বোতল ভাঙার কিন্তু কিছুই হলো না। সব ব্যর্থ হয়ে গেল। শেষে যখন আমার হাল ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম তখন হঠাৎ ঈশানীর নেকলেসটা জ্বলজ্বল করে উঠলো। আমার  তখন রাজকুমার রামেনের বলা কথাগুলো মনে পড়লো। আমি তখন রাজকুমারীদের  কাছে গিয়ে রাজকুমারী ঈশানীকে  জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে ওর নেকলেস জাদু করতে পারে। তখন ঈশানী বললো, "নেকলেসের মধ্যে লেখা জাদুয়ী শব্দগুলো পড়।দেখ যদি কিছু হয়।" আমি তাই করলাম। হঠাৎ জাদু দিয়ে ভেতরে জল ভর্তি হতে লাগলো। যতই জল ভর্তি হচ্ছিল ততই রাজকুমারীরা জলে ভেসে ওপরের দিকে উঠতে লাগলো। একসময় সবাই বোতলের মুখের কাছে পৌঁছে গেল এবং বাইরে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো। তারপর আমরা সবাই সুরঙ্গ দিয়ে পৌঁছে গেলাম বাগানে। ওরা সবাই আমায় ধন্যবাদ জানিয়ে আবার আমাকে আমার দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিল। আমার দুনিয়ায় গিয়ে বই খুলে দেখলাম, ছবিতে রাজকুমারীরা রাজকুমারদের সাথেই আনন্দে রয়েছে। এই দিনটি আমার কাছে খুবই রোমাঞ্চকর  ছিল।

সেপাই

শৌর্য্য পাল  , ষষ্ঠ শ্রেণি
নর্থ পয়েন্ট ইংলিশ একাডেমি, মালদা


সে এক ছিল দস্যি রাজা
তার সেপাই অনেকগুলো 
কয়েকটা বেশ পাতলা রোগা
দু চারটে গাল-ফুলো

যুদ্ধে গেল ঢাল নিয়ে সব
তলোয়ারটাও হাতে
রাজা বসে যুদ্ধ দেখে
লম্বা গড়ের ছাতে

ঝন ঝনা ঝন কত্তো লড়াই
চলেছে দুই দলে
পট পটা পট পটাশ পটাশ
তির ধনুক-ও চলে 

কিন্তু ওদের লড়াইটা ঠিক
দশ মিনিটেই জব্দ
হাত পা ভেঙে সেপাইগুলো  
করে না টুঁ শব্দ

ডাক্তার নার্স দৌড়ে এলো
ফার্স্ট এড বক্স মাথায়
ওমা! সেপাই দেখি তৈরি শুধু
শুকনো তালের পাতায়!!


রঙিন ছাতা

সাঁঝবাতি কুন্ডু 
তৃতীয় শ্রেণি, গার্ডেন হাই স্কুল, নদিয়া


সেবার পূজোর সময় আমরা তিন বন্ধুরা মিলে ঠাকুর দেখতে যাবো ঠিক করলাম। কিন্ত্ত আমরা যে বড্ড ছোটো - তাই ঠিক হল আমার বাবা একদিন আমাদের কে সকালবেলা আশেপাশের ঠাকুর দেখিয়ে নিয়ে আসবে। সেই মত পূজোর একদিন ওরা মানে বন্ধুরা আমাদের বাড়িতে চলে আসলো। মা আমাদের কে ফুলকো ফুলকো লুচি আর আমার প্রিয় সাদা আলুর তরকারি খেতে দিল। 

গিনি প্রথমে বলে উঠলো
-আমরা মনে হয় আজ আর ঠাকুর দেখতে যেতে পারবো না।
আমি খেতে খেতেই উত্তর দি 
-কেন রে?
পরি বলে ওঠে
-আরে বাইরেটা দেখ! এখুনি বৃষ্টি নামবে।
বাইরের দিকে তাকিয়ে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। আকাশের মুখ ভার সত্যিই এখন যদি বৃষ্টি নামে তাহলে তো আমরা আর আনন্দ করতে পারবো না।
আমাদেরও মুখ ভার। মা জিজ্ঞেস করল 
-কি রে তোরা এমন মুখ শুকনো করে বসে আছিস কেন?
আমি চোখের ইশায় জানালা বাইরেটা দেখালাম।
-ওহো!  মন খারাপ করিস না। দেখবি একটু পরেই বৃষ্টি থেমে যাবে। তোদের না দেখলে মা দূর্গারও কি ভাল লাগবে?
তিনজনে মিলে ঠাকুর কে ডাকতে থাকলাম যেন বৃষ্টি থেমে যায়
কিছুক্ষণ পরে সত্যি সত্যি বৃষ্টি থেমে গেলো। 
কিন্ত্ত বেরিয়ে দেখি তখনও ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। 
তবে আমার কিন্ত্ত একটা জিনিস ভারি অদ্ভুত লাগলো নতুন নতুন জামার থেকে বেশি ছাতা দেখতে পেলাম - লাল নীল সবুজ। আমার তো বেশ লাগছিল।
এতো ছাতা দেখে আমার বন্ধুরাও অবাক।
ওহ আমি তো বলতেই ভরে গেলাম। আমাদের সাথেও একটা বিরাট বড় সাত রঙা ছাতা ছিল। যেটা বাবা দার্জিলিং থেকে কিনেছিল।
দু তিনটে প্যান্ডেল ঘোরার পর আবার কালো করে মেঘ আসল। বৃষ্টি শুরু হল সঙ্গে ঝরো হাওয়া। আমরা কোনোরকম কাছেই একটা প্যান্ডলে ঢুকে গেলাম। ছোট্ট মত ছিমছাম ভিতরে বেশি লোকজন নেই। আমি সবে আমার রামধনু রংয়ের ছাতাটা বন্ধ করতে যাব - হঠাৎই একটা দমকা হাওয়ায় আমার ছাতাটা উঠে গিয়ে সোজা অসুরের বুকে। যেন ভয় পেয়ে নিজেকে ছাতার পিছনের  আড়াল করছে আর বলছে- 
- আমাকে ক্ষমা করো, আমি আর দুষ্টুমি করবো না।
এই দৃশ্য দেখে আমরা সবাই হেসে উঠলাম -  আর আমি দেখলাম মা দুগ্গাও কেমন জানি মুচকি মুচকি হাসছিল।


এসো শরৎ 

রেনেসাঁ গঙ্গোপাধ্যায় 
অষ্টম শ্রেণী, স্যাক্রেড হার্ট স্কুল, আদ্রা, পুরুলিয়া

কখন তুমি আসবে শরত 
তাকিয়ে আছি তাই 
তোমায় নিয়ে ছুটির কদিন 
দূরে কোথাও যাই। 
 
তুমি এলেই পুজো আসে
হিমের পরশ দুব্বোঘাসে
ঢাং কুড়াকুড় বাদ্যি বাজে 
প্যাণ্ডেলে আর মনের মাঝে 
এসো শরৎ হাত বাড়ালেই 
তোমায় খুঁজে পাই।



আগমণী

ভানুপ্রিয়া মাহাত
নবম শ্রেণী, জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, পশ্চিম মেদিনীপুর

কাশের বনে মাঠ ঢেকেছে
পেঁজা মেঘে আকাশ,
আগমণীর ডাক এসেছে
তাই তো মাতে বাতাস।
দুধ সাদা ওই শিউলি ফুলে
গাছের তলা ঢাকা,
দশভূজা আসবে বলে
সজীব হল ধরা।
হাওয়ায় হাওয়ায় ছড়িয়ে গেছে
আগমণীর সুর,
ঢাকের শব্দ আসছে ভেসে
নেই পুজো আর দূর।
কুমোরটুলি সাজছে এখন
হাজার প্রতিমায়,
দিন গুণছে সবাই বসে
মায়ের অপেক্ষায়।
প্রকৃতিতে ভাসছে আজ
খুশির ছড়াছড়ি
ইঙ্গিতেই জানান দিচ্ছে
আসছে আগমণী।


হার-জিত

শতভিষা মিশ্র
নবম শ্রেণী, জ্ঞানদীপ বিদ্যাপীঠ, পশ্চিম মেদিনীপুর


স্কুলের ব্যাগটা বিছানার একপাশে রেখে দিয়ে তাড়াহুড় করে দরজা বন্ধ করে দিল অয়ন। হাতের ট্রফিটা বুকে আঁকড়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল। কান্নার শব্দে ছুটে এলেন মা। অয়নকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করলেন," কি হয়েছে সোনা আমার, এভাবে কাঁদছিস কেন ? অশ্রুসিক্ত নয়নে কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে বারবার অয়ন একটা কথাই বলে চলল," আমরা হেরে গেছি মা!"
           রসুইপুর গ্রামে প্রতিবছর দুটি সরকারি ও একটি বেসরকারি স্কুলের মধ্যে যুব সংসদ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক বছরই অয়নদের স্কুল " বাণীপাঠ বিদ্যামন্দির"( বেসরকারি) প্রথম স্থান অধিকার করে। এবছর অয়নও নাম দিয়েছিল। ও হয়েছিল " বিরোধী দলনেতা"। যথেষ্ট দাপুটে একটা চরিত্র। জান প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিল। রাত জেগে প্র্যাক্টিস করে গিয়েছিল। পণ করেছিল এবারও স্কুলের মান ও মর্যাদাকে অক্ষুন্ন রাখবে। আজ ছিল সেই প্রতিযোগিতা।স্কুলকে জয়ী করতে পারেনি শেষ পর্যন্ত। প্রথমবারের জন্য পরাজিত হল" বাণীপাঠ বিদ্যামন্দির"। "সেরা বিরোধী দলনেতা" র পুরস্কার জিতলেও, জেতাতে পারেনি দলকে, জেতাতে পারেনি স্কুলকে। এই পরাজয় তাকে একটু একটু করে শেষ করে দিচ্ছে। কিছুটা সামলে নিয়ে মাকে বলল," কিছু হয়নি মা , তুমি বরং খাবারের ব্যবস্থা কর ,খিদে পেয়েছে খুব।" মা চলে যাবার পর ফোন এল তিয়াস দাদার। তিয়াসদা ওদের টিমের ক্যাপ্টেন হয়েছিল। তিয়াসদার  সাথে কথা বলে আস্বস্ত হল অয়ন। সবসময় এই তিয়াসদাদা ই ওকে সাহস দিয়েছে, পরামর্শ দিয়েছে ওকে ভরসা দিয়েছে। কথা বলে বেশ শান্ত হল অয়ন। একটা নোটবুকে অভিজ্ঞতার  কথা লিখতে গিয়ে প্রতিজ্ঞা করল পরের বছর স্কুলকে জেতাতে না পারলে এই পুরস্কার সে ফিরিয়ে দিয়ে আসবে।

        এক বছর পর। আবার সেই দিন এসে উপস্থিত হল। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে রসুইপুর হাইস্কুলে। সেই স্কুলও নাম দেবে। সেখানে পৌঁছে অয়নের মনটা অস্থির হয়ে উঠলো। এবার ভরসা দেবার জন্য তিয়াসদাদাও নেই কারণ ও এখন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। অয়নের এই অস্থিরতা দশগুণ বৃদ্ধি পেলো যখন সে দেখল তিয়াস দাদা কে। তিয়াস দাদা এসেছে । তবে তিয়াস দাদা  তাকে  ভরসা দিতে আসেনি। তিয়াস দাদা এখন ওর প্রতিপক্ষ। ওদের স্কুল থেকে বিদায় নেওয়ার পর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী   পড়ার জন্য তিয়াস দাদা "রসুইপুর হাইস্কুল" এ ভর্তি হয়েছে। সেই স্কুলের হয়ে প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছে সে। নিজেকে সামলে নিয়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি শুরু করল। শুধু বারবার এটাই মনে হতে লাগল আজ হয় তিয়াসদার জিত হবে নাহলে তার নিজের। এমন সময় স্কুলের নাম ঘোষণা হওয়ার পর তারা প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। জীবনের সবচেয়ে ভালো অভিনয়টা উজাড় করে দিল অয়ন। প্রতিযোগিতা শেষে সবাই ওর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিয়াসদাদাও জড়িয়ে ধরে বলল, " অয়ন, তুই আমাদের গর্ব ছিলি আর এখনও আছিস।" একে একে সমস্ত স্কুলের প্রতিযোগিতা হওয়ার পর ফল ঘোষণা করা হল। হ্যাঁ, অয়ন তার প্রতিজ্ঞা পূর্ন করেছে, প্রথম হয়েছে " বাণীপাঠ বিদ্যমন্দির"।  বিজয়ীর ট্রফি নেওয়ার পর সবাই যখন ফিরে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে ঠিক তখনই অয়ন দেখতে পেল তিয়াস দাদাকে। তিয়াস দাদার চোখের কোনে জল চিকচিক করছে তবু মুখে হাসি। কাছে এগিয়ে যেতে বলল," আমি যা স্কুলের জন্য করে আসতে পারিনি তা তুই করে দেখালি অয়ন। স্কুলের মান ,মর্যাদা বজায় রেখেছিস। আজ হেরে গিয়েও আমি জিতে গিয়েছিরে অয়ন !"শেষের কথা গুলো বলার সময়  অয়ন স্পষ্ট বুঝতে পারছিল তিয়াসদাদার  মনের মধ্যে কি চলছে। ফিরে আসার সময় তিয়াসদাদার ওই বিষন্ন মুখ জেতার আনন্দকে বড় ফিকে করে দিয়েছিল অয়নের কাছে।


আমার কোচবিহার ভ্রমণ 

ঋতব্রত সিংহ মহাপাত্র 
পঞ্চম শ্রেণী,সরস্বতী দেবী ইন্টারন্যাশানাল স্কুল,বাঁকুড়া


২৬ ও ২৭ মার্চ কোচবিহার জেলার মহকুমা শহর দিনহাটা বয়েজ রিক্রিয়েশন ক্লাব আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দেবার আমন্ত্রণ ছিল আমার বাবা রামামৃত সিংহ মহাপাত্রের। উত্তরবঙ্গের কোনো কোনো জায়গা আগে গেলেও কোচবিহার কোনদিন যাই নি। তাই বাবার সঙ্গ নিলাম ভ্রমণ পিপাসু মা আর আমি।
   ২৫ তারিখ রাতে চেপে বসলাম উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসে। রাতের খাবার মা বাড়ি থেকে বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। মা খেয়ে তাড়াতাড়ি শুইয়ে দিলেন আমায়। কিন্ত ট্রেনের দুলনি আর নতুন জায়গা দেখার উত্তেজনায় তাড়াতাড়ি ঘুম এলো না আমার।ট্রেন যাত্রীদের কথোপকথন থেকে বুঝতে পারলাম ট্রেন লেটে চলছে।তবে ঘুমিয়ে পড়লাম একসময়। দেরী করে ঘুমালেও সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল তাড়াতাড়ি। দেখলাম আমার আগেই উঠে পড়েছেন বাবা মা।বাবা বললেন দিনহাটা পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় ১২ টা বেজে যাবে।হলেও তাও।স্টেশনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্টেশনে গাড়ি পাঠানো হয়েছিল। ঐ একই ট্রেন থেকে নামলেন সাহিত্যিক নলীনি বেরা। বাবা আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন 'সুবর্ণরেণু সুবর্ণরেখা'-র লেখকের সঙ্গে।গাড়িতে করে আমাদের জন্য সুনির্দিষ্ট গেস্ট হাউসে উঠলাম আমরা। সকালের খারাপ প্যাকেট করে গাড়িতেই দেওয়া হয়েছিল আমাদের। গেস্ট হাউসে নামানোর সময় ড্রাইভার কাকু বললো দুটোর মধ্যেই চান করে রেডি হয়ে যাবেন,অনুষ্ঠান মঞ্চে আমি এসে নিয়ে যাবো।দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা ওখানেই। 
   আমরা পৌঁছানোর আগেই পৌঁছে গেছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কবি সাহিত্যিকেরা।বাবা আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন শিশু সাহিত্যিক রতনতনু ঘাটির সঙ্গে। আমি ওনার লেখা পড়ি শুনে খুব খুশি হলেন। ছবি তুললেন আমার সঙ্গে।খুব ভালো লাগলো আমার।
   দুপুরের খাবার খাওয়া শেষে শুরু হলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিশাল মঞ্চ আলোকিত করে আছেন এপার বাংলা ওপার বাংলা সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা কবি সাহিত্যিকেরা। এর আগে আমি কোন সাহিত্যানুষ্ঠানে যাই নি।খুব ভালো লাগলো আমার। ঐ দিন দিনহাটাতেই ছিলাম। আমাদের থাকার জায়গা স্টেশন থেকে বেশি দূরে ছিল না।রাতে ছাড়াছাড়া ঘুমে শুনতে পাচ্ছিলাম ট্রেনের হুইশেল।ঘুম ভেঙ্গে গেলেই মনে হচ্ছিল কাল বাবা কোচবিহার রাজবাড়ি দেখাবেন বলেছেন।
     পরদিন বাবার গল্পপাঠ ছিল অনুষ্ঠানে। সকালের জলখাবার খেয়ে গল্পপাঠ শেষ করে পাড়ি দিলাম কোচবিহারের উদ্দেশ্যে।উত্তরবঙ্গ পরিবহন দপ্তরের বাসস্ট্যান্ডের পাশেই লালরঙের বিশাল রাজবাড়ি। দুপাশে সবুজ ঘাসের লন। তার মাঝখান দিয়ে ঢালাই রাস্তা দিয়ে রাজবাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম আমরা।একপাশে রয়েছে একটা ছোট সরোবর। সেখানে বসার জায়গা আছে। অনেক ভ্রমনার্থী সরোবরের তীরে ঠাণ্ডা বাতাসে জিরিয়ে নিচ্ছে।হাঁটতে হাঁটতে কল্পনার ভরে মন চলে যাচ্ছিল সেই সময়ে যখন রাজা,মন্ত্রী, সৈন্য সামন্তে গমগম করতো এই রাজপ্রাসাদ।রাজপ্রাসাদের মূল ফটকের সামনে তিনটি কামান রাখা রয়েছে। এর আগে আমি দেখেছি বিষ্ণুপুরের দলমাদল কামান এবং মুর্শিদাবাদ হাজারদুয়ারিতে রাখা কামান।প্রবেশ মুখে একটা ফলকে লেখা আছে এই রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন রাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ।বিদেশী স্থাপত্য রীতিতে তৈরি এই রাজপ্রাসাদ ঘুরে দেখতে অনেক সময় লাগে। প্রাসাদের মধ্যেই রয়েছে গাড়ি বারান্দা, দরবার কক্ষ,রাণীমহল, রাজকর্মচারীদের থাকার জায়গা। অনেক গুলো ঘর তালাবন্ধ। মেঝেতে আঁকা রয়েছে রাজপ্রতীক। দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে বিভিন্ন সময়ে রাজত্ব করে যাওয়া রাজাদের তৈলচিত্র।রাজপ্রসাদের একটা অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে সংগ্রহশালা।সেখানে রাখা রয়েছে কোচবিহার রাজাদের রাজশাস্যনের বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ,অস্ত্রশস্ত্র, রাজ পোশাক, ব্যবহৃত নারায়ণী মুদ্রা ইত্যাদি। সংগ্রহশালার একদিকে রয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া পুরাতাত্বিক, প্রত্নতাত্বিক এবং জনজাতিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র। পুরোরাজপ্রাসাদ ঘুরে দেখতে অনেক সময় লাগে।
   রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে একটা টোটোওয়ালার সঙ্গে দরদাম করে আমরা  চড়ে বসলাম টোটোয়।উদ্দেশ্য কোচবিহার শহর ঘুরে দেখা।
   কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছালাম শহরের প্রাণকেন্দ্র সাগরদীঘির পাড়ে।বহুপ্রাচীন এই জলাশয়কে কেন্দ্র করে রয়েছে জেলাশাসকের অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর।প্রায় প্রত্যেকটি দপ্তর গড়ে উঠেছে কোন না কোন গুরুত্বপূর্ণ রাজভবন নিয়ে।রাজস্থাপত্যগুলি ঘুরে দেখতে এবং সাগরদীঘির পাড় ধরে হাঁটতে ভালোই লাগছিল।সাগরদীঘির একপাড়ে কোনাকোনি রয়েছে জেলা প্রাক্তন সৈনিক সংঘ।এখানে রাখা রয়েছে আমেরিকায় তৈরি একটি প্যাটন ট্যাঙ্ক।প্রসঙ্গত এই ট্যাঙ্কটি ১৯৭১ সালে  বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের সেনা ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে।পাকিস্তান পরাজিত হলে এই ট্যাঙ্কটি ঢাকায় ভারতীয় সৈনদের হারে সমর্পণ করে।বিজয়ের চিহ্ন স্বরূপ ভারতীয় সৈন্যরা এটি কোচবিহারে নিয়ে আসে।এখান থেকে পাড় ধরে কিছুক্ষণ গেলেই পঞ্চকোটি শিবমন্দির।মন্দিরটির বৈশিষ্ট্য হলো বটগাছের গোড়া শিবলিঙ্গের আকার নিয়েছে। নেমে আসা বটগাছের ঝুরিগুলি আকার নিয়েছে জটার।খুব মনোরম পরিবেশ।এখান থেকে পৌঁছালাম বড়দেবী বাড়ি।এটি প্রকৃতপক্ষে রাজবাড়ির দুর্গামন্দির।পূর্বে এখানে নরবলি দেওয়া হতো।বলি দেওয়ার হাঁড়িকাঠ এখনো বর্তমান। নিকটেই রয়েছে রাণী বাগান।এখানে কোচবিহারের রাণী সখী সহ ভ্রমণ করতেন।বর্তমানে সমাধিস্থল।কুমার গজেন্দ্রনারায়ণের ঠাকুরবাড়ি পৌঁছালাম রাণী বাগান দেখে।এখানে রয়েছে শিব ও মদনমোহনের একটি মন্দির। 
এখান থেকে গেলাম রাজপ্রাসাদের পরের মূল আকর্ষণীয় স্থান মদনমোহন মন্দিরে। স্থানীয় নাম মদনবাড়ি।
মন্দিরের রঙ দুধসাদা। মূল মন্দিরের বাঁকানো কার্নিশের উপরে রয়েছে একটি গম্বুজ। এই গম্বুজের উপরে পদ্ম, কলস ও আমলক দেখা যায়।
মদনমোহন বিগ্রহটি রাখা রয়েছে কাঠের উপর রূপোরপাত দিয়ে মোড়া সিংহাসনে।মদনমোহন মন্দির চত্বরে রয়েছে একাধিক মন্দির। 
        পুরো মন্দির প্রাঙ্গন ঘুরে দেখতে সময় লাগে।সাজানো এবং পরিচ্ছন্ন মন্দির প্রাঙ্গন মনে শান্তি আনে।
      মন্দির থেকে বেরিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম মধ্যাহ্ণ ভোজনের। নিকটবর্তী একটি হোটেলে খেয়ে নিলাম দুপুরের আহার।টোটোওয়ালা বলছিল এতো সুন্দর সাজানো গোছানো বাজার কোচবিহার ছাড়া উত্তরবঙ্গের আর কোথাও পাবেন না।রাস্তার দুধারের বাজার ঘুরতে মন্দ লাগছিল না।তবে দুপুর বলে বেশিরভাগ দোকান বন্ধ ছিল।ঘুরতে ঘুরতে একসময় দেখে নিলাম রাস মেলার মাঠ।রাস উপলক্ষে তৈরি হয় বিশাল রাস চক্র।ওখান থেকে গেলাম রাজআমলের তৈরি এরোড্রাম এ।বিশাল এলাকা নিয়ে তৈরি।মাঝে একবার এয়ারপোর্ট চালু করা হলেও বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।নিকটেই ব্ল্যাইন্ড স্কুল। কিছুদূরে মেডিক্যাল কলেজ ।
     এখান থেকে রওনা দিলাম বাণেশ্বরের উদ্দেশ্যে।দশফুট নীচে রয়েছেন দেবতা বাণেশ্বর।একদা রাজপরিবার কতৃক পূজিত হতেন এই দেব।রাসপূর্ণিমায় বিশেষ আচার পালন করা হয় এখানে।এখানের জলাশয়ে রয়েছে প্রাচীন ক্চ্ছপ।
    আর সময় ছিল না।ঘড়ি জানান দিচ্ছিল ফেরার ট্রেনের সময় সমাগত। তাই সিদ্বেশ্বরী সহ একাধিক মন্দির, স্থাপত্য না দেখেই ফিরতে হলো।বুঝতে পারলাম কোচবিহার ঘোরার জন্য একটা দিন যথেষ্ট নয়।
     ফেরার টিকিট কাটা ছিল পদাতিক এক্সপ্রেসে।ট্রেনে উঠে দিনভর দেখা রাজপ্রাসাদ, মদনমোহন মন্দির, রাসমেলার মাঠ ঘুরে ঘুরে উঁকি মেরে যাচ্ছিল মনের কোনে।

কাছেপিঠে একদিন
সোমরাজ দাস
দশম শ্রেণী, স্প্রিংডেল হাই স্কুল, নদিয়া


আমরা তিনজনেই ঘুরতে খুব ভালোবাসি। আমি, মা, বাবা। সে যেখানেই হোক। বাড়ির বাইরে যেতে পারলেই খুশি। বাড়ির পাশের গঙ্গার ঘাট হোক কী সুদূর পাহাড়। গত সপ্তাহে বুধবার বাবা হঠাৎ বললেন, কোথাও ঘুরে আসলে হয়না! এত সুন্দর আবহাওয়া। কিন্তু বাবার মোটরসাইকেলে এখন তিনজন হয় না, আমি বড়ো হয়ে গিয়েছি তো। অনেক ভেবে বাবা বললেন, গঙ্গার পাড়ে বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দিরে বিকেলটা কাটাতে পারি আমরা। সেই মতো বিকেল চারটেয় বেরোলাম টোটো করে। ঈশ্বরগুপ্ত সেতু পেরিয়ে ছিমছাম পাড়ার মধ্যে দিয়ে এসে পৌঁছলাম হংসেশ্বরী মন্দির। অপূর্ব সুন্দর সাদা মন্দিরটি যতবার দেখি ভালো লাগে। এক নজরে দেখলে মনে হয় যেন অনেকগুলো পদ্মফুল ফুটবো ফুটবো করছে। 

মার কাছে শুনেছি রাজা নৃসিংহদেব মন্দিরটি নির্মাণ শুরু করেন ১৭৯৯ খ্রীষ্টাব্দে কিন্তু মন্দির নির্মাণের আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। তাঁর বিধবা স্ত্রী রানী শঙ্করী মন্দির নির্মাণ শেষ করেন ১৮১৪ খ্রীষ্টাব্দে। মন্দিরে বড়ো চাতালের শুরুতে  মাঝখানে ধূপকাঠি জ্বালানোর জায়গা। সেখান থেকে নীল মাকালী মূর্তিটি দেখা যায়। শুয়ে থাকা শিবঠাকুরের নাভি থেকে উঠে আসা পদ্মে মাকালী বাঁ পা মুড়ে ডান পা ঝুলিয়ে বসে আছেন। চর্যাপদের কীসব কঠিন কথা বলছিলেন মা বাবাকে। সে আমি বুঝিনি। মাকালী কুলকুন্ডলিনী রূপে নাকি রয়েছেন। ৭০ ফুট উঁচু এই মন্দিরের স্তম্ভগুলোর ও নাকি বিশেষ অর্থ আছে। 

আমার অবশ্য বিশাল চাতালে ছুটোছুটি করতে খুব ভালো লাগে। পায়রার ঝাঁক আসে এখানে। মন্দিরের ডানপাশে অনন্ত বাসুদেবের মন্দির। এমন অপূর্ব টেরাকোটার কাজ আমি আর কোথাও দেখিনি। বাবা যেহেতু এইসব খুব ভালোবাসেন তাই মেঝেতে বসে মন দিয়ে কাজ দেখতে লাগলেন। আমি আর মা ভবঘুরের মতো মন্দির চত্বর ঘুরে বেড়ালাম। কাজ দেখলাম, ছবি তুললাম, মানুষ দেখলাম। মন্দিরের চারিদিক উঁচু করে বাঁধানো। পিছনের নরম ঘাস, ঘন সবুজ গাছ দেখতে দেখতে মন্দির প্রদক্ষিণ করলাম। মন্দিরের ডানদিকে খুব সুন্দর বকুল গাছ ছিল। সেটা শুকিয়ে গিয়েছে দেখে মন খুব খারাপ হল। মা আর আমি আবার ফিরে এলাম বাসুদেব মন্দিরে। সূর্য ডোবার পালা এসেছে। ভগ্নপ্রায় রাজবাড়ি যেন কানে কানে ফিসফিস করে কত কী বলছে।

মন্দিরে পূজা শুরু হয়েছে। মায়াময় লাগছে চারিদিক। ভক্ত সমাগম বাড়ছে। আমরা বেরিয়ে এলাম বাইরে। এই মন্দিরের চারিদিকে বিল রয়েছে। সেই বিলের জলে ছায়া পড়েছে মন্দিরের। বড়ো পাখা মেলে উড়ে যাচ্ছে বকের দল। সে এক অলৌকিক দৃশ্য। 

ঠেলাগাড়িতে পাঁপড়িচাট,ঘুগনি,ফুচকা। ঘুরতে এসে না খেলে হয়? তাই আমি আর মা পাঁপড়িচাট খেলাম। বাবা কিছুই খেতে চায়না। তবে ফেরার পথে ঈশ্বরগুপ্ত সেতুতে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। খুব ভালো লাগছিল। সুন্দর হাওয়া। ব্যাণ্ডেলের থার্মাল ফ্যাক্টরির আলো। তোমরা যদি কল্যাণী আসো আমি নিয়ে যাব। খুব ভালো লাগবে কথা দিতে পারি। আমার এই কাছেপিটে ঘুরে আসার সময়টা খুব ভালো কেটেছে। এরপর একদিন লাহিড়ী বাবার আশ্রমে ঘুরে আসার গল্প বলবো।

স্মরণীয়
(ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর)
কলমে - স্নেহা দাস
অষ্টম শ্রেণী, জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, পশ্চিম মেদিনীপুর


'বিদ্যার সাগর তুমি / বিখ্যাত ভারতে।' ( মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
 সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কুড়িজন বাঙালির মধ্যে অষ্টম স্থান লাভ  করা সেই বিখ্যাত বাঙালি হলেন বীরসিংহ গ্রামের সিংহ শিশু ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ঊনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ছিলেন।

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর  ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ সালে অধুনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল ঠাকুর দাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার মাতার নাম ছিল ভগবতী দেবী। ছোটবেলায় তার নাম ছিল "ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়"। ঈশ্বরচন্দ্রের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে সুপণ্ডিত ব্যক্তি। তিনিই ঈশ্বরচন্দ্রের নামকরণ করেছিলেন। ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় স্বল্প বেতনের চাকরি করতেন। সেই কারণে ঈশ্বরচন্দ্রের শৈশব বীরসিংহেই তার মা ও ঠাকুরমার সঙ্গে অতিবাহিত হয়। ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর স্বরচিত জীবনচরিতে লিখেছেন --
       "বীরসিংহগ্রামে আমার জন্ম হইয়াছে; কিন্তু, এই গ্রাম আমার পিতৃপক্ষীয় অথবা মাতৃপক্ষীয় পূর্ব্ব পুরুষদিগের বাসস্থান নহে। জাহানাবাদের (অধুনা আরামবাগ) ঈশান কোণে, তথা হইতে প্রায় তিন ক্রোশ উত্তরে, বনমালীপুর নামে যে গ্রাম আছে, উহাই আমার পিতৃপক্ষীয় পূর্ব্ব পুরুষদিগের বহুকালের বাসস্থান।"

ছোটবেলায় বিদ্যাসাগর তার নিজের গ্রামে সনাতন বিশ্বাসের পাঠশালায় ভর্তি হন।  পরে আট বছর বয়সে তিনি কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের পাঠশালায় ভর্তি হন। তাঁর চোখে কালীকান্ত ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। পরবর্তীকালে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার পিতার সাথে কলকাতায় আসেন এবং কলকাতা সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণের তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। কথিত আছে যে মেদিনীপুর থেকে কলকাতা আসার সময় পথের ধারে মাইল ফলকে লেখা ইংরেজি সংখ্যাগুলি দেখে তিনি সেগুলি অনায়াসেই আয়ত্ত করেছিলেন। ১৮৩১ সালের মার্চ মাসে বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য মাসিক পাঁচ টাকা হারে বৃত্তি এবং ‘আউট স্টুডেন্ট’ হিসেবে একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ ও আট টাকা পারিতোষিক পান। 
১৮৩৯ সালে ঈশ্বরচন্দ্র হিন্দু ল  কমিটির পরীক্ষা দেন এবং যথারীতি উত্তীর্ণ হয়ে হিন্দু ল কমিটির কাছ থেকে তিনি যে প্রশংসাপত্রটি পান সেখানেই প্রথম তার নামের আগে "বিদ্যাসাগর" উপাধিটি ব্যবহৃত হয়। সংস্কৃত কলেজের প্রশংসা পত্রেও অধ্যাপকগণ তাকে "বিদ্যাসাগর" নামে অভিহিত করেন।

১৮৪১ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে বিদ্যাসাগর কলকাতা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের প্রধান শিক্ষক হন এবং ২৫ বছর বয়সে সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদকের ভার গ্রহণ করেন। ১৮৪৭ সালে হিন্দি বেতাল পচ্চিসী অবলম্বনে রচিত তার প্রথম গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি প্রকাশিত হয়। তিনি প্রথম এই গ্রন্থে বিরাম চিহ্নের সফল ব্যবহার করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-ই প্রথম বাংলার "প্রথম ভাগ" ও "দ্বিতীয় ভাগ" বই দুটি রচনা করেন। তার দ্বারা রচিত কিছু বিখ্যাত বই যেমন- বর্ণপরিচয়, কথামালা, চরিতাবলী, আখ্যানমঞ্জরী ইত্যাদি।
বাংলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে সব থেকে বড় ভূমিকা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের। তিনি প্রথম কলকাতা হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৫৭ সালে বর্ধমানের তিনি মেয়েদের জন্য একটি বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় বালিকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায় ২৮৮ টি।এরপর কলকাতায় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন  এবং নিজের মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিজ গ্রাম বীরসিংহে ভগবতী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সাথে সাথে দয়ারসাগর নামের বিখ্যাত। ১৯৫৬ সালে তিনি ব্রিটিশদের সাহায্য নিয়ে বিধবা বিবাহ আইন সিদ্ধ করেন এবং বাঙালি বিধবাদের অসহনীয় দুঃখ, তাদের প্রতি পরিবারবর্গের অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার থেকে মুক্ত করেন। তার পুত্র নারায়ণচন্দ্র  এক ভাগ্যহীনা বিধবাকে বিবাহ করেন। এজন্য সেযুগের রক্ষণশীল সমাজ ও সমাজপতিদের কঠোর বিদ্রুপ ও অপমানও সহ্য করতে হয় তাকে।

বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রয়াত হন ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই, বাংলা ১২৯৮ সনের ১৩ শ্রাবণ, রাত্রি দুটো আঠারো মিনিটে তার কলকাতার বাদুড়বাগানস্থ বাসভবনে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। মৃত্যুর কারণ, ডাক্তারের মতে, লিভারের ক্যানসার।
মৃত্যুর পর ১৮৯১ সালে তার আত্মজীবনী বিদ্যাসাগর চরিত প্রকাশ করেন তাঁর পুত্র 
নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্ন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তিনি বাংলা সাহিত্য ও বাংলায় নারী শিক্ষার জন্য অনেক কিছু করেছেন।বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার তিনিই। তাকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী বলে অভিহিত করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আরও পড়ুন 
পেজে লাইক দিন👇

Comments

Popular posts from this blog

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা

মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যেন্দুবিকাশ কর মহাপাত্র এবং তাঁর 'মাসস্পেকট্রোগ্রাফ' যন্ত্র /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ঋত্বিক ত্রিপাঠী / আত্মহত্যার সপক্ষে

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

আসুন স্বীকার করি: আমরাই খুনী, আমরাই ধর্ষক /ঋত্বিক ত্রিপাঠী

শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজই আদর্শ সমাজ 'কালের যাত্রা' নাটকের শেষ কথা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

অংশুমান কর

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল