কয়েকটি রম্য কবিতা /শুভশ্রী রায়

কয়েকটি রম্য কবিতা
শুভশ্রী রায়


ক্ষীর-খাবার 

পুষি আমার সোনা, করছ তুমি কী?
বিরক্ত কোরো না, মন দিয়ে পড়ছি।
পড়ো তাহলে, আমি কাজকর্ম করি
চাপ বেড়েছে, তাই  অ্যাত্তো পড়া করি।
তাহলে এখন খাবে না বুঝি ক্ষীর?
কী বললে মাম্মা, প্লিজ বলো ফির!
বানিয়েছি ঘন ক্ষীর, চাই না তোমার?
কী যে বলো, জিভ জানো না আমার!
জানি বলেই কষ্ট করে এ সব যোগাড়
মাগো, দু'জন মিলে খাব ক্ষীর-খাবার।



সমব্যথী পুষি

ওরে পুষি-বিল্লি, তুই করেছিস কী?
দেখো না মা, কত বড় মাছ এনেছি!
ওরে পুষি কোথায় টাকা পেলি তুই?
বলছি মা, তোমায় কিচ্ছু কী লুকোই?
ভয় নেই, চুরি করিনি আমি বড় মীন
তোমার পুষি কী হতে পারে অত হীন?

একটা বাড়ীতে মেরেছি ইঁদুর একশো
খুশী হয়ে তারা দুশো টাকা দিল গো,
গুনে গুনে টাকা ট্যাঁকে ভরেছি আমি
যেমন তাদের অর্থ, আমার শ্রমও দামী।
তারপরে মনে হল, একটু বাজার যাই
কতটুকু ভালোমন্দ আমরা এখন খাই?
ভাবলাম দরদাম করে কিনে নিই মাছ
বড় দেখে, মা-মেয়ে মিলে খাব আজ।

সোনা বিল্লি , তুই আসলে এত সমঝদার!
বলি না তবু জানিস, কষ্টে চলছে সংসার 
সোনা, চোখে জল এস গেল রে আমার,
চোখ মোছো, মেয়ে বোঝে অভাব তোমার।


ভান্ড কান্ড 

কালকে পূর্ণিমায় কারা যেন করেছে এক কান্ড
ছাদে রেখে ভুলে গিয়েছে জ্যোৎস্না ভরা ভান্ড!
সেই ভাঁড় নিয়েই চলছে এখন তুমুল কাড়াকাড়ি
মুখার্জিদা বলেন, "আমার", সেনবাবু বলেন তাঁরই।
ফয়সালা হয় না দেখে কেউ পুলিস ডাকতে যাবে
নেতা বললেন, পুলিস এলেই বা কে কী পাবে?
এই দেখ, জ্যোৎস্নাটুকু শুষে নিয়েছে সূর্য রাজা
যার জিনিস তার কাছেই ফেরত গেছে সোজা
নামবে আজ রাতে নতুন করে চন্দ্রকিরণ হয়ে;
ছাদের ওপর চাঁদের মায়া শত ধারায় যাবে বয়ে।
তাই বলি, কষ্ট করে যাঁরা কৌমুদী করেন জমা,
ঘরে তুলবেন, নয়তো সূর্যদেব করবে না তো ক্ষমা।
শুষে নেবেই নিজের আলো, আত্মীকরণ করবে
মাঝখান থেকে, অবুঝ মানুষ ঝগড়া করে মরবে।


ইচ্ছে-বাড়ী এসো

খটখটে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন এক সুশিক্ষিত মাছ
গমগমে এক অফিসে করেন আজকাল কাজ।
উড়ে উড়ে স্কুলে পড়াতে চললেন গুরু প্রজাপতি
লেখাপড়া ভালো শেখান, করেন পড়ুয়াদের গতি!
বনবন করে দেশভ্রমণ করছে বুঝদার খরগোশ
দূর রাজ্যের মাটি-জল-হাওয়ায় পায় সে সন্তোষ,
সাদা পোষাক পরে ক্রিকেট খেলছে সবুজ টিয়া
তার ব্যাট-বল করা আমি দেখছি যে মন দিয়া!
এ সব আজগুবি ভেবে যাদের হচ্ছে না বিশ্বাস
চলে এসো তাড়াতাড়ি, যেখানে বহু দিনের বাস,
আমার ইচ্ছে-বাড়ী খুঁজো হওয়া, না-হওয়ার মাঝে
এখান থেকেই দেখে নেবে, নয় গো কথা বাজে!

পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন