জ্বলদর্চি

মূর্তির হৃদস্পন্দন/পদ্মরাগ


  মূর্তির হৃদস্পন্দন 

 পদ্মরাগ

এক প্রত্যন্ত গ্রামের একটি ছেলে খুব ভালো মূর্তি বানায়। সে তার কল্পনার নারী মূর্তি বানাতে লাগলো যেই নারীকে কল্পনা করে তাকে সে কখনো স্বচক্ষে দেখেনি। নিজের কল্পনার দ্বারা মনের সব আবেগ উজাড় করে দিয়ে তার শিল্প প্রতিভা ও সৌন্দর্য বোধ সহ ছেলেটি সেই নারী মূর্তি বানালো। সেই অপরূপ নারী মূর্তি গ্রামের যেই দেখে একবাক্যে স্বীকার করলো এমন সুন্দর মূর্তি তারা আগে কখনো দেখেনি। মূর্তি তো নয় যেন রূপকথার কোন পরী! 

সকলে সেই মূর্তির প্রশংসা করলেও সেই ছেলেটির কিন্তু খুব দুঃখ হলো এই ভেবে তার গড়া এই নারী মূর্তি প্রাণহীন। সে যতো সুন্দর করেই বানাক এই মূর্তি তাতে হৃদস্পন্দন জাগাতে পারবে না এমনকি বাস্তবে এমন চেহারার কাউকে সে দেখতেও পায়না, এই নারী মূর্তি যে কেবলই তার কল্পনা! ছেলেটি এটা ভাবে আর কাঁদে, সে শুধু কেঁদেই চলে সেই নারী মূর্তির পাশে বসে। 

🍂
ad

ওই মূর্তির পাশে একটা ছোট্ট ফুলের চারাগাছ ছিল। ছেলেটির চোখের জল পড়ে সেই চারাগাছ ভিজে গিয়ে বেড়ে উঠতে লাগলো আর ছেলেটি ক্রমশঃ যুবক অবস্থা থেকে বৃদ্ধ অবস্থা প্রাপ্ত হলো তাও সে তার বানানো সেই মূর্তির চেহারা সম্পন্ন কোন মেয়েকে তার চোখের সামনে দেখতে পেলো না। এই আফসোস নিয়ে সেই মূর্তির সামনেই ছেলেটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো আর গ্রামের লোকেরা তার শেষ ইচ্ছামতো তাকে তার বানানো সেই মূর্তির পাশে ওই ফুলের গাছের নীচে কবর দিলো। 

এরপরে গ্রামের লোকেরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলো সেই ফুলের গাছটা বড় হলেও তাতে আর ফুল হয়না। ততোদিনে এই ছেলেটির বানানো সেই পরীর মতো সুন্দর নারী মূর্তি এতো বিখ্যাত হয়ে গেছে যে সেই মূর্তি দেখতে দেশ বিদেশের নানা স্থান থেকে পর্যটক ওই গ্রামে আসে। তারা এমন অপূর্ব নারী মূর্তি দেখে মূর্তি শিল্পীর প্রশংসা করে। 

এরকমই এক কলেজ থেকে কিছু কলেজের ছেলেমেয়ে একদিন ওই মূর্তি দেখতে এলো। ওই কলেজ গ্রুপের মধ্যে একটি মেয়েকে দেখিয়ে বাকিরা অবাক হয়ে বললো 

' 'আরে! এই মূর্তি তো একদম আমাদের কলেজের পরীর মতো দেখতে! দেখ পরী! তোর সাথে এতো মিল হয় কি করে!' ' 

ওই কলেজের পরী নামের মেয়েটিও ওই মূর্তি দেখলো, অবিকল তার মতো চোখ, নাক, মুখের আদল সেই মূর্তির! সত্যি এমন মিল হয় কি করে! যে এই মূর্তি গড়েছে সে তাকে আগে কখনো দেখেছে নাকি! কিন্তু সেতো এই গ্রামে এই প্রথম এলো। এই প্রথম সে তার মতো দেখতে এই মূর্তি দেখছে। পরী নামের মেয়েটির সেই নারী মূর্তি দেখে কেমন যেন হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল।

পরী সহ সেই কলেজ গ্রুপটি যখন ওই গ্রাম ছেড়ে চলে গেল গ্রামের লোকেরা পরেরদিন দেখলো ওই ফুলের গাছে এতো বছর পর প্রথম ফুলের কুঁড়ি ধরেছে। আর সেই নারী মূর্তির স্থির চোখ দুটি যেন আরো উজ্জ্বল লাগছে। তার স্রষ্টা কি জানলো তার মধ্যেও প্রাণ আছে যার হৃদস্পন্দন সে শুনতে চেয়ে নির্জনে কতো চোখের জল ফেলেছে। 

Post a Comment

1 Comments