জ্বলদর্চি

চৌরঙ্গী স্কোয়ার /পঞ্চম পর্ব / উত্তীয় ভট্টাচার্য


চৌরঙ্গী স্কোয়ার 
পঞ্চম পর্ব 
 
উত্তীয় ভট্টাচার্য

এখন রাত বারোটা
স্যার বরেন তবুও একা।
শুধু সঙ্গী ওনার স্মৃতি,
আর স্মৃতির অন্তরালের
না বলা অভিমান।

বাহ্যিক এক নাটকের অসমাপ্ত অধ্যায়।
স্যার বরেন একমাত্র চরিত্র,
স্যার বরেন একমাত্র ঘটনা,
বাকি সবই এখানে রহস্যে মোড়া এক  অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ।

স্যার বরেনের  গন্ডির জীবনের,
এক অসমাপ্ত অধ্যায়; সীমাহীন চেষ্টা,
ছিটকে গিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে কিছু বলার চেষ্টা,
ছিটকে গিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে কিছু ছবি আঁকা।

" তিয়াশা ভেতরে যাবে না?"
আবার সেই স্বর বলে উঠলো।
"তিয়াশা একি তুমি কথা বলবে না?"
তিয়াশা কোন উত্তর দিল না।

এ এক স্থির প্রকৃতি,তবু অস্থির স্যার বরেন।
হাল্কা আঙুল নেড়ে স্যার বরেন ইশারা করলেন,
" দরজার সামনে কে?"
শুধু ঘরের প্রাণহীন জীবজন্তুর দেহ এর উত্তর দিল।

" নবনীতা, নবনীতা তুমি কোথায়?"
কোন উত্তর এলো না।
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তিয়াশা 
শুধু এর উত্তর দিয়ে গেল মৃদুভাবে।

" বাবা তুমি কি মাকে ডাকছিলে?
মা তো আর নেই,
বাবা তুমি কি কষ্ট পেয়েছ?
বাবা তুমি কি দুঃখ পেয়েছ?"
তিয়াশার বন্ধু তখনও নিরুত্তর।

স্যার বরেন আবার বলে ওঠেন
" দরজার সামনে ওখানে কে?"
তিয়াশা এবার উত্তর দিয়ে ওঠে,
" বাবা, এইতো আমি,আমি এখানে এইতো আমি।"

গুটি গুটি পায়ে তিয়াশা এখন
এগিয়ে চলেছে স্যার বরেনের দিকে।
ঝিমিয়ে পড়া ঝাড়বাতির আলো,
দামি চামড়া দিয়ে ফ্রেমবন্দি ছবি,
আর খাঁচায় বন্দি ম্যাকাও,
সবাই এখন কথা বলতে চাইছে।

ঘাড় ঘুরিয়ে তিয়াশা তার বন্ধুর দিকে হাত বাড়ায়,
কিন্তু এ কি?
তার বন্ধু তো আর সেখানে নেই।
তিয়াশা বলে ওঠে," কে? কে তুমি?"

কোন উত্তর আসে না,
শুধু হালকা মেয়েলি গলায়
 সাদা পোশাক পরা এক যুবতী বলে ওঠে,
" তিয়াশা, আমি ,তোমার বন্ধু 
ভেতরে যাবে না?"
🍂

Post a Comment

0 Comments