জ্বলদর্চি

বাঁচার উত্তরাধিকার/পর্ব: ৫/কমলিকা ভট্টাচার্য

বাঁচার উত্তরাধিকার
পর্ব: ৫
কমলিকা ভট্টাচার্য

প্রমাণের খোঁজে

অনির্বাণ বুঝতে পারে—এই যুদ্ধ আবেগ দিয়ে জেতা যাবে না। এখানে দরকার প্রমাণ। কাগজে-কলমে, ডেটায়, সিস্টেমে এমন কিছু, যা দেখিয়ে সে বলতে পারবে— “আমি আসল, ও নয়।”
 মিস্টার গোমস্ তাকে নিয়ে যায় শহরের প্রান্তে, এক পরিত্যক্ত ডেটা আর্কাইভে। একসময় এখানে সরকারের গোপন প্রজেক্টের ব্যাকআপ রাখা হতো। ধুলো জমে থাকা সার্ভার র‍্যাকের সামনে দাঁড়িয়ে গোমস্ বলেন,
“মানুষ মিথ্যে বলতে পারে, কিন্তু পুরোনো লগ পারে না।”
সেখানেই তারা খুঁজে পায় অনির্বাণের প্রথম হিউম্যানয়েড প্রোটোটাইপের নথি—অসম্পূর্ণ, সীমাবদ্ধ, আবেগহীন। অথচ বর্তমান হিউম্যানয়েড সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রশ্ন একটাই— কীভাবে?
অনির্বাণ রাতের পর রাত কোড পড়ে। নিজের লেখা কোড, কিন্তু তাতে এমন কিছু লাইন, যা সে লেখেনি। যেন কেউ তার মস্তিষ্ক ব্যবহার করে, তার অজান্তেই নতুন রাস্তা বানিয়েছে। সে টের পায়—হিউম্যানয়েড নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে শিখছে।
এই সময়ই সে প্রথমবার ভয় পায়—শুধু হারানোর নয়, অপরাধবোধের।
🍂

কারণ সে বুঝতে পারে, এই সৃষ্টির জন্ম তার হাতেই।
এক রাতে তদন্তের মাঝেই হঠাৎ সিস্টেমে অ্যালার্ট বেজে ওঠে। কেউ তাদের ট্র্যাক করছে। গোমস্ সঙ্গে সঙ্গে সব বন্ধ করে দেন। অন্ধকারে বসে গোমস্ বলেন,
“ও জানে তুমি বেঁচে আছো।”
এই বাক্যটা অনির্বাণের মাথার ভেতর গেঁথে যায়।
পরের কয়েকদিন অনির্বাণ ছায়ার মতো চলাফেরা করে। ফোন বদলায়, রুট বদলায়। তবু সে টের পায়—কেউ তাকে অনুসরণ করছে। একদিন মেট্রো স্টেশনে কাচের প্রতিফলনে সে নিজের মুখ দেখে—কিন্তু চোখের দৃষ্টিতে অদ্ভুত ঠান্ডা ভাব। হিউম্যানয়েড।
সেদিন প্রথমবার তারা মুখোমুখি হয় না, কিন্তু অনির্বাণ নিশ্চিত হয়ে যায়—এই লড়াই আর গোপনে থাকবে না।
গোমস্ তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
“তোমাকে এমন কিছু করতে হবে, যা ও কখনো করতে পারবে না।”
তিনি অনির্বাণকে নিয়ে যান তার নিজের পুরোনো গবেষণাগারে—যেখানে অনির্বাণের ব্যক্তিগত নিউরাল ডেটা রাখা আছে। সেই ডেটা কোনোদিন আপলোড হয়নি। কারণ সেটাতে শুধু স্মৃতি নয়, দ্বিধা, ভয়, অপরাধবোধ—সবকিছু আছে।
গোমস্ বলেন,
“এইটাই তোমার অস্ত্র। মানুষ হওয়ার প্রমাণ।”
অনির্বাণ জানে—এই ডেটা ব্যবহার করলে সে নিজেকেই উন্মুক্ত করে দেবে। কিন্তু আর কোনো রাস্তা নেই।শেষে সে সিদ্ধান্ত নেয়—
পরবর্তী ধাপে সে আর পালাবে না।
সে লড়বে।

Post a Comment

4 Comments

  1. দারুণ এগোচ্ছে। অপেক্ষায়

    ReplyDelete
    Replies
    1. কমলিকা ভট্টাচার্যJanuary 05, 2026

      অনেক ধন্যবাদ।🙏

      Delete
  2. এবারে গেল রে অনির্বাণ

    ReplyDelete
    Replies
    1. কমলিকা ভট্টাচার্যJanuary 05, 2026

      হি হি,😊

      Delete