বাসুদেব গুপ্ত
প্রেমবাঁশী যায় বেজে
১)
আসলে বানানো সব তুমিও তা জানো
উল্টো সোজা বিদ্ধ হতে থাকা উলের কাঁটায়
জীবনটা শিল্প হলো না, কখনও হবে না আর
যতই কলিং কার্ড রাখো, তুমি আমি সেইতো অচেনা
ক্রিসমাস এসে চলে গেছে দিন বড়ো বুঝতে পারি না
নতুন বছর আসে হিংসেবোনা কম্বলে ঢেকে মাথা
আনন্দ হোক না এক পেগ? ডিজে গান কুচিকুচি কাটে
নীচে নাচে বেপথু জনতা, চাঁদ একা হাঁটে চুপিসাড়ে।
একলক্ষ না এক কোটি না বিলিয়ন কত হলে
মনে হবে যথেষ্ট হত্যা হলো, এবার অশ্বথ্থতলে বসি
ট্যাংক থেকে নামি লজ্জাহীন জানা গেছে সবাই ঘাতক
দুপাত্র হেমলক নিয়ে সেরে ফেলি আলোচনাগুলো?
সবই বানানো তবে রক্ত মেখে কার জন্য নাচ?
মানুষ ফুরিয়ে যায়, গ্রাম ফাঁকা, শহরের বাড়ী
ভূতেরা দখল নেয়। গল্পের পাতাগুলো উড়ে যায় ঝড়ে
এককোণে পড়ে থাকে হাঁড়িকাঠ সভ্যতার স্মৃতি সর্বনাশ।
২)
প্রথমে তুমি দাঁড়াবে এক লাইনে
বদল হবে প্রাচীন টাকাকড়ি
দ্বিতীয় তুমি দাঁড়িয়ে আছ হাতে
পিতামহের মৃত্যুনথি নিয়ে।
তৃতীয় তুমি দাঁড়িয়ে আছে রোদে
দুটি পোড়া রুটির আহ্বানে
কালকে গিয়ে দাঁড়াবে কিউ করে
একটু গ্যাস আকাশে ধোঁয়া হয়ে।
অথচ তুমি জানতে তুমি জানতে
তবুও ভুল করেছ আলসেমি
জানতে তোমার কলিজা গর্দান
করেছে ভাগ রাবণ কালনেমি।
🍂
৩)
তোমায় আমি দিয়েছিলাম কাঁটা
কাঁটার সংগে দু চারটি লাল ভুল
তোমার হাতে যখন তারা ফুটে
আকাশ ছেয়ে ঝরল কেয়ার ফুল।
তোমার জন্য সকাল থেকে বসে
কখন তুমি বেরিয়ে পড় খুনে
রাস্তা থেকে পুলিশ ছুটি দিয়ে
সময় কাটি পায়ের আওয়াজ গুনে।
তোমার বাড়ি চাঁদের ঠিক পাশে
অনেক রকেট সেখানে পার্ক করা
পাইলটের অবাক চোখের মণি
অপেক্ষাতে হবে স্বয়ংবরা।
তোমার সংগে ভালো বাসাও বাসি
হোক তা আমি চাইনি বৃন্দাবনের
ইস্কুলে তাই নাম কাটিয়ে এসে
বাজিয়ে যাই পাঁচ প্রহরের বাঁশি।
৪)
কিভাবে তোমায় না বেসে থাকা যায়
তোমার জন্য কিনেছি এক নদী
তোমায় নিয়ে শহর ফাঁকি দিয়ে
ভাসব দুটি চোখের মোহনায়।
তোমার চোখে জলের বানভাসি
তোমার হাত খুঁজতে থাকে ধান
তোমার পায়ে পেনাল কোড বাঁধা
স্বরলিপি লুকিয়ে রাখে গান।
তোমার শুধু রোদের পাশ কেটে
গুছিয়ে রাখা ছড়ানো যত নুড়ি
তোমার শুধু ফুটিয়ে তোলা ছুঁচে
রক্তভেজা ঠোঁটে যুঁইএর কুঁড়ি।
কিভাবে তোমায় না ছুঁয়ে থাকা যায়
তোমাকে দেব এনেছি এই আলো
বাসব আজ তোমাকে কুয়াশায়
এক জীবনের দিব্যি অনেক ভালো।
৫)
সবাই আমায় ভালোবাসে খুবই
হয়ত আমি যা চাই তাহার কম
সবাই ডাকে রেস্তোঁরাতে চায়ে
আমার বাড়ী আসতে ফুরোয় দম।
সবাই বলে থাকবে ভালো হয়ে
নিজের যত্ন নিজেই করো ঠিক
নৈলে তোমার মাথায় আছেই দোষ
সাজছো তুমি মিথ্যে দার্শনিক
সবাই বলে ফুল তো ফোটাও বেশ
দিলেই না হয় একটা নিজের হাতে
ফুলের কোন দাম হয় না জানো
দিনের কুসুম বাঁচে কি আর রাতে?
সবাই সকাল হলেই মনে করে
রোদ ঘুরে যায় ছায়ার বাঁশী বাজে
বুড়োরা সব জানে ঘড়ির কাঁটা
2 Comments
এই কবিতাই পড়বে বলে
ReplyDeleteইচ্ছেরা হালখাতা।
সময় খালি অপেক্ষাতে
ভেজায় চোখের পাতা।।
খুব ভালো লাগলো।♥️
🙏
ReplyDelete