জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে

দুটি কবিতা 
দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে 

অনন্ত ব্রহ্ম


নেই শুরু, নেই অন্ত, নেই গতি, নেই স্থিতি,
যা সর্বত্র বিরাজে, তাই পরম সত্ত্বা—অমৃতি।
যার নিঃশ্বাসে জগৎ জাগে, যার নিঃশ্বাসে লয়,
সেই ব্রহ্মই সর্বময়, নিঃসঙ্গ অথচ সর্বজন জয়।

বাতাসে তাঁর স্পন্দন, জলে তাঁর প্রতিচ্ছবি,
অগ্নিতে দীপ্তি, ধূলিতে প্রাণ, চেতনায় তাঁর নবি।
নক্ষত্রের জ্যোতি, অন্ধকারের নীরবতা,
সবই এক সত্তার ছায়া—ব্রহ্মের অনন্ত মহিমা।

“অহং ব্রহ্মাস্মি”—বলে অন্তর মৃদু কণ্ঠে,
“তত্ত্বমসি”—ফিসফিস করে প্রভাতের প্রান্তে।
যে দেখে দ্বৈত, সে অন্ধ এখনো,
যে জানে এক, সে মুক্ত, চিরজাগ্রত চেতন।

নদীর মতো বহে সৃষ্টি, সমুদ্রে মেশে লয়,
চক্রবৎ ঘুরে ফিরে আসে, ব্রহ্মেরই আবির্ভাব হয়।
নাহি ভেদ প্রাণে, নাহি ভেদ পাষাণে,
যা আছে, যা ছিল, যা হবে—সবই ব্রহ্ম জ্ঞানেতে।

বস্তু নয়, শব্দ নয়, চিন্তা নয়, রূপ নয়,
যে নীরব চেতনা সর্বত্র, সেই ব্রহ্ম চিরন্তন।
নমো তস্য, অনন্ত, নিরাকার, নিঃস্পন্দ,
যার নাভিতে জগত, যার হৃদয়ে আনন্দ।
🍂


গড়বেতা আমার গ্ৰাম
 
রাস্তার ধারে শিমুল গাছ,
লাল ফুলে জ্বলে ওঠে দুপুর।
রেললাইনটা পেরোলেই বাজার,
আর তার পরেই আমার গ্রাম গড়বেতা।

এখানে সময় থেমে থাকে না,
তবু যেন তাড়াও নেই।
কেউ ধান কেটে ফেরে,
কেউ স্কুলের ঘণ্টা শুনে ছুটে আসে মাঠে।

নদী আছে, শুকিয়ে গেলেও সে জানে
কীভাবে বৃষ্টি ডাকতে হয়।
বটতলায় বসে বৃদ্ধেরা রাজনীতি নয়,
মনের গল্প বলে,
যেন খবরের কাগজের বাইরে অন্য এক দেশ।

রাতে,
বাতাসে ধূপের গন্ধ মিশে যায়
চাঁদের আলোয় ভেজা উঠোনে।
আমি দাঁড়িয়ে ভাবি—
এই মাটির মতো শান্ত হতে পারব কি কোনোদিন?

গড়বেতা,
তুমি আসলে এক নাম নয়,
তুমি সেই শব্দ,
যা উচ্চারণ করলেই বুকের ভেতর
একটুখানি ঘর তৈরি হয়।

Post a Comment

0 Comments