চিত্রগ্রাহক - প্রসেনজিৎ মাহাত
সম্পাদকীয়,
কী মিষ্টি মিষ্টি ছোটোরা, যাব না কি তোমাদের বাড়িতে পিঠে খেতে? আর তোমরা যদি পশ্চিমের জেলাগুলোতে আসো তবে দেখতে পাবে তোমাদের বন্ধুরা কি সুন্দর দুন্দর চৌডল বানিয়েছে। সেটা কী? চৌডল হলো টুসু পরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মূলত মন্দিরের আদলে তৈরি শৈল্পিক ও রঙিন কাঠামো (সাধারণত বাঁশ ও কাগজ দিয়ে তৈরি) এবং এটি উৎসবের শেষে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়, যা গ্রামীণ বাংলার ফসল উৎসব টুসু-এর মূল আকর্ষণ। তার ছবি পাঠিয়েছেন প্রসেনজিৎ আঙ্কেল। আর হ্যাঁ দেবোপম স্যারকে কেমন লাগছে তোমাদের? ভাল তো। জানতাম, রতনতনু জ্যেঠু দারুণ ছক্কা মারছেন প্রতি পর্বে কি বল? তোমাদের বন্ধু অনুশ্রুতি কি সুন্দর এক ফ্রেমে চার সময়ের ছবি এঁকেছে দেখো। মলয় জ্যেঠু তোমাদের লাল ঝুঁটি ওলা কাঠঠোকরার গল্প বলেছেন। এরা পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। আজ শৌর্য্য অপূর্ব ছড়া লিখেছে গ্রহ দের নিয়ে। আর শেষ পাতে আছে চঞ্চল জ্যেঠুর পাঠ প্রতিক্রিয়া। পড়ে জানিও তোমাদের কেমন লাগছে ছোটোবেলার ছড়া গল্প উপন্যাস আঁকা আর ছবি? --- মৌসুমী আন্টি।
ধারাবাহিক উপন্যাস
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ৩
রতনতনু ঘাটী
গত শনিবার গগনজ্যোতি স্কুলের মাঠে হয়ে গেছে ক্লাস এইট এ-সেকশানের সঙ্গে বি-সেকশানের ক্রিকেট ম্যাচ। শনিবার হাফ-ডে স্কুল ছিল বলে ছাত্রছাত্রীরা কেউ বাড়ি চলে যায়নি। শনিবার খেলার প্ল্যানটা স্বয়ং হেডস্যারের। ছেলেমেয়েদের কাছে বাড়ি যাওয়ার চেয়ে ক্রিকেটের আকর্ষণ অনেক বেশি। আজও ক্রিকেট কোচিং দেখতে এখন ভিড় উপচে পড়ছে খেলার মাঠে। সকলেই নিজেদের মধ্যে উত্তেজিত কথাবার্তা বলছিল, সামনের ক্রিকেট মাচে কারা জিতবে? ডি-সেকশান নাকি সি-সেকশান? ডি-সেকশানের ক্যাপটেন রকি দেববর্মা। সব পরীক্ষায় ভূগোলে আটানব্বই পায়। দারুণ ব্যাট করে। দেবোপমস্যার কথায় কথায় যখন ক্লাস এইটের ডি সেকশানের কথা ওঠে, তখন বলেন, ‘ডি-সেকশানের রকির ছয় মারতে না পারলে হাত নিশপিশ করে।’
কথাটা ঠিক। ফুলটস বল পেলে চক্কা বাঁধা। এ-সেকশানের জেতার পর এখন এই একটাই আলোচনা চলছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, এর পরের ম্যাচের রেজাল্ট কী হবে? এইট সি-সেকশানের সঙ্গে কতখানি এঁটে উঠতে পারবে ডি-সেকশান, সেই নিয়ে জনে-জনে আলোচনা চলছে, চাদ্দিকে তুমুল জটলা।
এমন সময় দেবোপমস্যার ক্রিকেট বলের ব্যাগ নিয়ে মাঠে চলে এলেন কোচিং করানোর জন্যে। হেডসার স্কুলের ফান্ড থেকে এক ডজন ক্রিকেট বল কিনে আনতে নিজেই গিয়েছিলেন বাজারে। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন দেবোপমস্যারকে।
হেডস্যার ক্রিকেটের জিনিসপত্রের দোকানে গিয়ে বললেন, ‘দ্যাখো দেবোপম। আমি তো ক্রিকেট বলের তেমন কিছুই বুঝি না! তুমি সঙ্গে আছ, ভাল হবে!’ তারপর একটু থেমে হেডস্যার বললেন, ‘দ্যাখো দেবোপম, আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়েরা ক্রিকেট খেলবে, আর সে ম্যাচ হবে আমাদের স্কুলেরই মাঠে। তাই এই ক্রিকেট ম্যাচের জন্যে আমাদের স্কুলের কিছু কন্ট্রিবিউশন থাকবে না তা তো হয় না! এখন সেরা ব্র্যন্ডের এক ডজন ক্রিকেট বল কিনি?’
হেডস্যার এবং দেবোপমস্যার শিমুলতলির বাজারের ‘মাই স্পোর্টস’ দোকান থেকে অনেক দেখেশুনে এস জি কোম্পানির এক ডজন ক্রিকেট বল কিনে ফেললেন।
দেবোপমস্যার হেডস্যারকে বললেন, ‘এই বলটা ক্রিকেটে সব চেয়ে বেশি ব্যবহার করে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। এই বলটা আমাদের বি সি সি আই অনুমোদনও দিয়েছে। যেসব বোলাররা সুইং ও স্পিন বল করে, তাদের তো খুবই পছন্দের এই বলটা!’
আজ দেবোপমস্যার ওই বলগুলোর থেকে একটা বল হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিলেন। হঠাৎ চারদিকে তাকিয়ে কী যেন খুঁজতে লাগলেন স্যার। তারপর যেন আবিষ্কার করলেন ডি-সেকশানের বারোজন ক্রিকেটারের মধ্যে এখনও তো সকলে মাঠে আসেনি। লিস্টে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে অতিমান সেন এখনও মাঠে নেই কেন? দেবোপমস্যার গলা তুলে গ্যালারির দিকে চোখ তুলে ডাকলেন, ‘অতিমান সেন, এখনও মাঠে কেন কেন?’ তারপর মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সকলের দিকে তাকিয়ে স্যার জানতে চাইলেন, ‘তোমরা কেউ বলতে পার, অতিমান কোথায় গেছে?’
ইরাবান বল মারবার জন্যে ব্যাট হাতে নিয়ে রেডি। স্যারের কথার উত্তরে বলল, ‘স্যার, আমি ইরাবানকে খুঁজে আনব?’
‘কেন, তোমাকে খুঁজতে যেতে হবে কেন? ক্রিকেট খেলায় তা হলে কি মেনে নেব আমাদের ক্রিকেট ম্যাচে অতিমানের আগ্রহ কম? এমন করলে অতিমানকে ক্লাস এইটের টিমে আর রাখবই না। আর একটু দেখে নিই।’
ইরাবান কাঁচুমাচু মুখে গলার স্বর খুব নরম করে বলল, ‘স্যার, অতিমান মনে হয় এক্ষুনি চলে আসবে!’
তক্ষুনি দেখা গেল, অতিমান ছাতিম গাছের দিক থেকে মাঠে ঢুকছে ব্যাট ঘোরাতে ঘোরাতে! স্যার গলার স্বরে রাগ ঝরিয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার অতিমান? তুমি ছুটির পর সঙ্গে-সঙ্গে মাঠে আসোনি কেন?’
অতিমান লজ্জিত মুখ করে বলল, ‘সরি স্যার!’
দেবোপমস্যার সব সময় খুব হাসিখুশি মানুষ বলে সকলে জানে। কিন্তু একবার রেগে গেলে চট করে ঠাণ্ডা হন না। রাগী গলায় বললেন, ‘সরি বললে সব সময় পুরো দোষটা ক্ষমা হয়ে যায় না অতিমান। এর পর থেকে প্র্যাকটিসে আসতে যেন তোমার দেরি না দেখি, কেমন?’
সি-সেকশানের জিতিন নিচু গলায় দেবককে বলল, ‘অতিমানটা কী রে? ক্রিকেট মাঠে আসতে এতটা দেরি করল?’
অতিমান ঘাড় নেড়ে স্যারের কথায় সায় দিল। স্যার রাগত চোখে ইরাবানকে দেখে নিয়ে বল করার জন্যে দৌড় শুরু করলেন।
এবার ফুলটস বল ছিল। মাঠের বাইরে থেকে সকলে চেঁচিয়ে উঠল, ‘ইরাবান, ছক্কা চাই!’
ইরাবান অন্যমনস্ক ছিল মনে হয়। ব্যাটটা তুলতে দেরি করে ফেলেছিল। তাই জোরে শূন্যে ব্যাট চালাল। কিন্তু বলের নাগাল পেল না। বোল্ড হলেও হতে পারত। কোনও ভাবে উইকেটটা বাঁচাল ইরাবান।
স্যার বললেন, ‘এরকম সহজ বলটা তুমি খেলতেই পারলে না ইরাবান? তুমি যাতে বলটা মারতে পার, সেই ভেবে অমন একটা লুজ বল করলাম!’
মাঠের বাইরে থেকে রোরো চেঁচিয়ে বলল, ‘স্যার, ‘স্যার, ওকে ইয়র্কার দিন! এই বলটাতেই ইরাবান যেন আউট হয়! ও ইয়র্কার একদম খেলতে পারে না।’
স্যার ইয়র্কার দিলেন। ইরাবান ব্যাটে ডিফেন্স করল। রান হল না। এর পরের বলে দেবোপমস্যার একটা বাউন্সার বল করলেন। সেই বলটাও খেলতে পারল না ইরাবান। বসে পড়ে বলটাকে ছেড়ে দিল। এর পর স্যার আবার একটা ইয়র্কার বল করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বলটা লোয়ার ফুলটস হয়ে গেল। ইরাবান বলটাকে ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেট কিপারের পাস দিয়ে বলটা চলে গেল বাউন্ডারি লাইনের বাইরে।
মাঠের বাইরে থেকে সকলে হইহই করে উঠল। ব্যাট করছিল এইট ডি-সেকশান। দারুণ ফিল্ডিং করছে সি-সেকশান। ডি-সেকশান একদম রান তুলতেই পারছে না।
স্যার বললেন, ‘ইরাবান, এই বলটা তোমাকে খেলতেই হবে। দেখি পারো কিনা!’ বলে স্যার জোরে একটা বল করলেন। ইরাবান মনে-মনে গুমরোচ্ছিল। পর-পর ক’টা বলই হিট করতে পারেনি। এবার সপাটে বলটা মারার চেষ্টা করল। সঙ্গে-সঙ্গে উইকেট ভেঙে ছত্রখান। ইরাবানের মুখটার রঙ বদলে গেল তক্ষুনি। ওর মুখের ওরকম অবস্থা দেখে দেবোপমস্যার বললেন, ‘তোমার মনে অত দুঃখের মেঘ জমে উঠছে কেন ইরাবান? তুমি তো ভাল খেলো! এক-একসময় একজন ব্যাটসম্যান কতবার যে একটিও রান না করে আউট হয়ে যান। সে নিয়ে তুমি দুঃখ মনে পুষে রাখলে চলবে কেন? তা হলে পরের বলে রান করতেই পারবে না? এক-একজন ব্যাটসম্যান কত খারাপভাবে আউট হন,
তাঁরা তোমার মতো অমন করে ভেঙে পড়েন না! তা হলে তিনি তো পরের ম্যাচে আর খেলতেই পারতেন না? তুমি শুনলে অবাক হয়ে যাবে, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার মুথাইয়া মুরলীধরন, তিনি বোলার ছিলেন ঠিকই, তবু ব্যাটিংয়ে নেমে মোট উনষাটবার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে অতবার আউট হয়েও তিনি কি আর ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছিলেন? মোটেও না। তিনি যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি! সে কথাও লেখা আছে তাঁর ক্রিকেট রেকর্ডে।’
মাঠের বাইরে থেকে তুমুল হাততালি শোনা গেল। স্যার এবার সি-সেকশানের সিন্ধুজা দেওয়ানকে ডাকলেন। হাত নেড়ে বললেন, ‘সিন্ধুজা দেওয়ান, এবার তুমি এসো! দারুণ টাইট বল করো তো দেখি!’
বল হাতে নিয়ে সিন্ধুজা দৌড় শুরু করতেই মাঠের বাইরে দর্শকদের তুমুল হাততালি ভেসে এল। সিন্ধুজার প্রথম বলে কোনও রান নিতে পারল না ইরাবান। সিন্ধুজা পরের বলটা করল আরও জোরে। চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যেতে পারে সিন্ধুজা সি-সেকশানের নির্ভরযোগ্য বোলার।
‘এবারের ম্যাচে দেখে নিস সিন্ধুজা তিনটের বেশি উইকেট নেবেই নেবে!’ খুব জোরের সঙ্গে বলল বি-সেকশানের শানায়া।
‘তুই তো সব সময়ই সিন্ধুজার ফ্যান রে শানায়া! দেখা যাক, আর তো ক’টা দিন! মাঠে কী হয় দেখা যাবে।’
শানায়ার কথা শেষ হয়েছে কি হয়নি, অমনি সিন্ধুজার উইকেট পতন হল। শানায়া গলায় জোর এনে বলল, ‘কী রে, আমার মুখের কথা এবার মিলিয়ে নে! আসলে কী জানিস, সিন্ধুজার কব্জির জোরটা কিন্তু দারুণ!’ ফিক করে হেসে শানায়া বলল, ‘খেলার দিন দেখে নিস কী হয়! আমার কথা অক্ষরে-অক্ষরে মিলে যায় কিনা?’
বিকেলের রোদ এতক্ষণে মেঘে-মেঘে পড়ো-পড়ো। দেবোপমস্যার বললেন, ‘আজ এবার ক্রিকেট কোচিংয়ে ছুটি হোক, কী বলো রুচিকা গুপ্ত? বাড়িতে ফিরে পড়াশোনা নিয়ে বসতে হবে তো?’
হেডস্যার সাইকেল করে মনে হয় বাজার থেকে এখন বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বাঁ পায়ে ভর দিয়ে সাইকেল থামিয়ে রাস্তা থেকেই চেঁচিয়ে বললেন, ‘দেবোপম, এবার ক্রিকেট কোচিং ক্লাসের ছুটি হোক। সন্ধে নেমে এল যে? ক্রিকেটের জন্যে কি পড়াশোনাও লাটে উঠল নাকি?’
দেবোপমস্যারের মুখটা লজ্জায় রঙিন হয়ে উঠল। কাঁচুমাচু গলায় বললেন, ‘না স্যার! আমি তো ছুটি ঘোষণা করেই দিয়েছি।’
রুচিকা ডি-সেকশানের ওপেনার ব্যাটসম্যান, দেবোপমস্যারকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। স্যার হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘না! আর কোনও কথা নয়। আজকের মতো ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছি তো। তোমার কিছু বলার থাকলে কাল ক্রিকেট কোচিংয়ের সময় আমাকে বোলো!’
সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে নীল আকাশে একটাই মাত্র তারা চটপট আকাশ আলো করে উঠে পড়ল। সে তারাটার নাম সন্ধেতারা। পিটপিট পায়ে ছাত্রছাত্রীরা বাড়ির পথ ধরল।
রোরো স্যারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার কাল এরকম সময়ই তো কোচিং করাবেন?’
রোরো স্যারের উত্তরের অপেক্ষা না করেই বলল, ‘স্যার, আজ তা হলে আসি?’
অনুশ্রুতি মন্ডল
ষষ্ঠ শ্রেনি
কোন্নগর হিন্দু গার্লস হাই স্কুল
হুগলি
🍂
কাঠঠোকরার কাণ্ড
মলয় সরকার
সবাই জানো কাঠঠোকরা বড় সুন্দর পাখী। গ্রামবাংলার ছেলে মেয়েরা তো অনেকেই এর সঙ্গে পরিচিত। শহরেরও অনেকেই একে চেনে। তবে গাছপালা কমে যাওয়ায় এদের দেখা পাওয়া মুস্কিল হয়ে গেছে অনেক জায়গাতেই।
গানেও আছে, ‘লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া ধরেছে যে বায়না,চাই তার লাল ফিতে চিরুণী আর আয়না।’
এদের মাথায় ‘লাল ঝুঁটি’ই এদের বড় পরিচয়।
ছড়াতে বলে ,কাঠঠোকরা ঠকর ঠাঁই ,বনের সেপাই ঘুমটি নাই। পোশাক আশাক মজাদার লাল পাগড়ি জমাদার।
এ ছাড়াও বহু ছড়া ছড়িয়ে আছে, বাংলা দেশের মাঠে ঘাটে।সত্যিই মজাদার এদের রঙ চঙে শরীর।
সারা পৃথিবীর বহু জায়গাতেই এদের দেখা যায়। এদের পরিবারে প্রজাতিও আছে বেশ কয়েকরকম।
কাঠঠোকরা গোত্রে প্রায় ২০০ প্রজাতির স্থান সংকুলান হয়েছে। বেশিরভাগ প্রজাতি বন ধ্বংস বা আবাসস্থল উজাড়ের ফলে বিপদগ্রস্ত তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাদা ঠোঁট কাঠঠোকরা (Campephilus principalis) ও রাজকীয় কাঠঠোকরা (Campephilus imperialis) নামের দুটি প্রজাতিকে প্রায় ত্রিশ বছর যাবৎ বিলুপ্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
কাঠঠোকরা পাওয়া যায় পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশেই। শুধু অস্ট্রেলিয়া, নিউ গিনি, নিউজিল্যাণ্ড, মাদাগাস্কার ও মেরু অঞ্চলে এদের প্রায় পাওয়া যায় না। আসলে যেখানেই বড় গাছ আছে সেখানেই কাঠঠোকরার বাস।এদের মাথায় লাল রঙ পেটের সাদা রঙ, গায়ে কালো দাগ এবং সাদা চোখই চিনিয়ে দেয় বিশেষ ভাবে। এছাড়া এদের তীক্ষ্ণ ঠোঁট গাছে গর্ত করার পক্ষে যথেষ্ট।
কাঠঠোকরাকে অনেকে গাছের ডাক্তারও বলেন।কারণ তার খাদ্য হচ্ছে, গাছের কাঠের ভিতরে জন্মানো পোকা, যা থাকলে গাছের কাণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।গাছের কাণ্ডের যে অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে বা পোকার আক্রমণে জীর্ণ হয়ে যাচ্ছে, সেই অংশ থেকে পোকা বের করে নিয়ে গাছকে সুস্থ রাখার দায়িত্বে আছে এই কাঠঠোকরা।এদের দৈর্ঘ্য সাধারণতঃ ৯ ইঞ্চি থেকে ১৫-১৬ ইঞ্চি মত হয়।
সেবার গিয়েছি আমেরিকার ক্যালিফোর্ণিয়ার পিনাকলস স্টেট পার্কে। সেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আমি তো হাঁ হয়ে দেখছি এর সৌন্দর্য্য। এর প্রকৃতি একটু রুক্ষ ঠিকই, তবে এখানকার পাহাড়গুলো খুব উঁচু নয়, হেঁটেই ওঠা যায় অনেকখানি, সাধারণ ভাবেই।
এই জায়গাটির ইতিহাস হল, এখানে আগে ও’লোন নামে যে আদিম অধিবাসীরা ছিল ,অষ্টাদশ শতাব্দীতে , যখন এখানে স্পেনীয় আক্রমণ হয়, এরা তার কাছে পদানত হয়।এরই ফলে তারা ক্রমশঃ কমতে শুরু করে। স্পেনীয়রা বিদেশ থেকে এদের জন্য উপহার হিসাবে এনেছিল মারণ ব্যাধির বীজাণু আর তাদের পরিবর্তিত জীবনযাত্রা। এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে এই আদিম উপজাতিরা ধীরে ধীরে শেষ হতে হতে ১৮১০ সালে এদের শেষ সদস্যও মারা যায়।
তাদের ব্যবহার করা কিছু কিছু জিনিসপত্র পাওয়া গেছে এখানে। আমি এখানে সেই পার্ক সম্বন্ধে কিছু বলছি না, কারণ সেটা আমার উদ্দেশ্য নয়।সে সব কথা সুযোগ পেলে অন্যত্র বলা যাবে।
এই পার্কে যখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে আমি বিভোর হয়ে আছি, পাহাড়ের পাথরের অদ্ভুত রঙের সঙ্গে আকাশের সূর্যের চমক লাগানো খেলায় মেতে আছি, তখনই চোখে পড়ল এই বিচিত্র ব্যাপারটা।
দেখি , সামনের গাছগুলোর গায়ে ফুটো ফুটো , ছোট ছোট গর্তে ভর্তি। অনেক ফুটোতে কিছু একটা জিনিস দিয়ে ভরা রয়েছে। তার পর দেখতে দেখতে দেখি, একটা দুটো নয় , আশেপাশের বহু গাছেই, কোনটাতে কম কোনটাতে বেশি, নীচু থেকে উপর অবধি, এই ধরণের ফুটোয় ভর্তি।
ব্যাপারটাতে আকৃষ্ট হলাম।এগোলাম একটা গাছের কাছে। দেখি একটু পরেই ঠক ঠক শব্দ।মাথা তুলে দেখি, এই গাছেই উপর থেকেই আসছে সেই শব্দ।ভাল করে তাকিয়ে দেখি, একটি কাঠঠোকরা আপন মনে কাজ করে চলেছে। আশ্চর্য হয়ে ভাবলাম, এটা কি ব্যাপার, আমাদের দেখা কাঠ ঠোকরারা গাছের উপরে গর্ত করে ঠিকই, তবে তা একটা গাছে একটা বা দুটো ,তা-ও হয় নিজের বাসা বানাতে বা খাবার খুঁজতে।
কিন্তু এখানে দেখি, শুধু একটা আধটা গর্ত নয়, শত শতও নয় ,হাজারে হাজারে।ছোট ছোট গর্ত।সমস্ত দাঁড়িয়ে থাকা গাছের গায়ে গর্তে ভরা। গাছের নীচে থেকে উপর পর্যন্ত, একেবারে পাশাপাশিও।তার মধ্যে বেশ কিছু গর্তে কিছু বীজে ভরা । সেটির মধ্যেও কায়দা আছে।
বীজগুলো শক্ত, একটু বড় বড় , অনেকটা আমাদের দেশের একটু মোটা যে লিচুর বীজ হয় সেরকম।আর এর বিশেষত্ব হচ্ছে, এই বীজের আকৃতি তো সব সমান নয়, হওয়া সম্ভবও নয়। কিন্তু প্রত্যেকটি গর্ত এমন ভাবেই করা, যাতে একটি বীজ বেশ শক্তভাবে অন্ততঃ অর্ধেকটা বা তার বেশী ঢুকে যায়। অর্থাৎ এক একটি বীজ গর্তের মধ্যে কিছুটা বেরোন অবস্থায় এতই শক্ত ভাবে ঢুকে আছে, যে, তাদের চট করে, পড়ে যাওয়া তো দূরের কথা, বের করে আনাও মুস্কিল। মনে হল , বীজটাকে ঠুকে ঠুকে গর্তের মধ্যে ঢোকানো হয়েছে।এটা বলা যায় যে, যে বীজের যেমন সাইজ, সেই অনুযায়ী তার জন্য সেই সাইজের গর্ত করা হয়েছে।
খুব মজা লাগল ব্যাপারটা দেখে।
এবার বলি, এদের ব্যাপারে কিছু কথা।
কাঠ ঠোকরা যে, পৃথিবীর কয়েকটি দেশ ছাড়া প্রায় সব দেশেই পাওয়া যায় আগেই বলেছি।এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার Pileated Woodpecker হল সবচেয়ে বড় আকৃতির। এটি একটি কাকের আকৃতির বা ১৬-১৯ ইঞ্চি মত। আর Bar-breasted piculet প্রজাতির কাঠ ঠোকরা হল সব থেকে ছোট, যা প্রায় তিন ইঞ্চির মত হয়।
প্রধানতঃ ছোট ছোট পোকা মাকড়, মাকড়সা, গাছের বাকলের ভিতরে থাকা পোকা,পিঁপড়ে, গাছের বীজ বা ‘নাট’ জাতীয় কিছু, গাছের রস ইত্যাদিই প্রধানতঃ এদের খাবার।তবে কখনো কখনও যে অন্য পাখীর ডিমও যে খেয়ে ফেলে না ,তাও নয়। তবে ওই বীজই হল প্রধান খাদ্য।
আমি যে কাঠঠোকরাদের নিয়ে বলতে বসেছি, তার নাম, Acorn Woodpecker। এদের বায়োলজিক্যাল নাম Melanerpes formicivorus ।এরা ৭.৩০-৯ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের রঙ মোটামুটি কালো ,লাল ও সাদায় মেশা।এদের দেখতে পাওয়া যায় মোটামুটি আমেরিকার ওরেগন, ক্যালিফোর্ণিয়া এবং দক্ষিণ পশ্চিম আমেরিকা থেকে দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায়।
মজার ব্যাপার হল, এরা এই খাবার জমা করে ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের জন্য। যখন প্রচুর পরিমাণে এই সব বীজ পাওয়া যায়, ওরা সংগ্রহ করে এনে জমা রাখে । আবার যখন শীতে খাদ্যসঙ্কট হয়, তখন ওরা এই খাবার ব্যবহার করে। এর জন্য ওরা যে শুধু গাছের কাণ্ডই ব্যবহার করে তা নয়, মানুষের তৈরী কাঠের জিনিসপত্র, ইলেক্ট্রিকের খুঁটি, ঘরের দেওয়াল বা গর্ত ইত্যাদি সব কিছুই ব্যবহার করে। কাজেই সবগুলোই যে, গাছের পোকা খোঁজার জন্য তা নয়, কেবল এই বীজ জমা রাখার জন্যই এই ছোট ছোট গর্ত খোঁড়ে। ওরা আগে বীজটা আনে, সেটার যেমন সাইজ, সেই অনুযায়ী গর্ত খোঁড়ে, যাতে ওটা শক্ত ভাবে ওতে গেঁথে বসে থাকতে পারে।
আর হাসির ব্যাপার হল, কোন কোন সময় ওরা এমন জায়গায় তা জমা করে, হয়ত সেখান থেকে ওগুলো প্রয়োজনে বের করতেই পারবে না বা ভুলেও যায় অনেক সময়। এরকমই একটা জলের পরিত্যক্ত ট্যাঙ্ক থেকে আমেরিকার আরিজোনাতে পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ২২০ কিগ্রা জমা করা বীজ।
ক্যালিফোর্ণিয়ার স্যান্ট রোসার আর একটি বাড়ির ভিতরে পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ৭০০ পাউণ্ড বা ৩১৮ কিগ্রা ওক বীজ। আসলে কি ব্যাপার, পাখীটি যে বীজ সংগ্রহ করছিল, সেগুলো বের করে নেওয়ার জন্য, সে আর ওর ভিতরে ঢুকতেই পারে নি। আর একটা কথা, সম্ভবতঃ ওরা যদি বুঝতে না পারে যে, যেখানে রাখছে সেটা ভর্তি হয়ে গেছে, ওরা রাখতেই থাকে। এক্ষেত্রে ও রাখছিল একটি বাড়ির চিমনির ভিতরে । আর বীজগুলো চলে আসছিল ঘরের মধ্যে । কাজেই পাখীটি দেখেছিল, এটি ভর্তি হয় নি। কাজেই ও বীজ সংগ্রহ চালিয়েই গেছে।
দেখা গেছে একটা গাছে ওরা ৫০০০০ (পঞ্চাশ হাজার) মত গর্ত করতে পারে।
সাধারণতঃ বিভিন্ন ধরণের ওক গাছের বীজই এদের এই উদ্দেশ্যে বেশি প্রিয়। তবে ওরা জানে, ওদের এই বীজ চুরি করার আরও শত্রু আছে। কাজেই শুধু বীজ সংগ্রহ করলেই তো হল না, একে সুরক্ষিত রাখার জন্যও এদের সদা সতর্ক থাকতে হয়।এই বীজ প্রথম অবস্থায় একটু মোটা থাকে , ধীরে ধীরে শুকালে আকারে একটু ছোট হয়ে যায়। তাই যেখানে প্রথমে রাখে , সেখানে আলগা হয়ে পড়ে যেতে পারে। তাই তাকে সময় মত তুলে নিয়ে আবার একটু ছোট আকারের গর্তে ভরে দিতে হয়। এ ছাড়াও আছে বীজ চোরের হাত থেকে বীজ বাঁচিয়ে রাখা। সে ব্যাপারেও সদা সতর্ক থাকতে হয়, যাতে অন্য পাখীরা এই বীজ চুরি করতে না পারে।
এক ধরণের বাজপাখী এদের খুব শত্রু। এরা যদি বুঝতে পারে কাছাকাছি বাজপাখী আছে, এরা চুপ করে গর্তে আত্মগোপন করে, আবার নিরাপদ বুঝলে , নিজের কাজে বেরোয়।
এরা দারুচিনি, তুলসী, পেঁয়াজ, রসুন, পেপারমিন্ট ইত্যাদি গন্ধ খুবই অপছন্দ করে।এদের চামড়া অন্যান্য পাখীদের থেকে একটু মোটা।এ ছাড়া এদের বাড়তি চোখের পাতা আছে, যা কাঠের টুকরোতে চোখ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।
সাধারণতঃ এরা ৪-১১ বছর বাঁচলেও একটা ক্ষেত্রে দেখা গেছে ১৭ বছর পর্যন্ত বাঁচতে। এরা প্রায়ই দলবদ্ধ ভাবে পরিবারের মত থাকে। শুধু তাই নয় পরিচিত বা পরিবারের কাউকে দেখলে নাকি আনন্দ উল্লাসও প্রকাশ করে।
এরা অনেক সময়েই যৌথ পরিবারে বিশ্বাস করে, যেটি সাধারণতঃ পশুপাখীর ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এক পরিবারে কয়েকটি পুরুষ ও কয়েকটি স্ত্রী পাখীও একসঙ্গে থাকতে পারে।প্রায় বারোটি বা তার বেশি পর্যন্ত পাখী একসঙ্গে থাকতে পারে।আবার একটি ঘরে একসঙ্গে কয়েকটি পাখীও ডিম পাড়তে পারে। ফলে একটি ঘরে ১৭ টি পর্যন্ত ডিমও দেখা গেছে। ফলে বাচ্চাদের যে মা বাবাই শুধু দেখা শোনা করে তা নয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও দেখা শোনা করে।এই দেখাশোনা করার ব্যাপারটা পালা করে হয়। হয়ত অনেক সময় এক ঘণ্টার মধ্যে কয়েকবারও নার্সিং পাখীরা পালা করে দেখা শোনা করে । খাওয়ানোর ব্যাপারেও মা বাবা ছাড়াও অন্য পাখীরা যত্ন নেয়।
একটি স্ত্রী পাখী পাঁচটি পর্যন্ত ডিম পাড়ে।তার পর এগারো দিন পরে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। তখন তাদের চোখ ফোটে না ,ডানাও বিশেষ থাকে না। পূর্ণ পরিণত পাখী হতে প্রায় দু মাস পর্যন্ত লাগে।এদের পরিবারের পুরুষরা প্রায়ই সহোদর হয় এবং স্ত্রীরা প্রায়ই সহোদরা হয়।
বাড়ি তৈরীর ব্যাপারেও শুধু মা বা বাবা পাখী নয় , পরিবারের নানা অন্য সদস্যরাও ঠোঁট লাগাতে পারে। সাধারণতঃ মাটি থেকে ১২-৩০ ফুট উপরে এরা বাসা বাঁধে।
তবে বিভিন্ন জায়গায় গাছ কেটে ফেলার জন্য এদেরও অস্তিত্ব সংকটে ভুগতে হচ্ছে।
গ্রহ-বিদ্রোহ
শৌর্য্য পাল
নবম শ্রেণি
নর্থ পয়েন্ট ইংলিশ একাডেমি, মালদা
লক্ষ কোটি বছর আগে
বিশাল বিশাল গ্রহ,
অনাহারে রুগ্ন হয়ে
করছিল বিদ্রোহ!!
সূর্য তখন বিপদ বুঝে
গ্যাসের সাথে নুড়ি
সবার কাছে পাঠিয়ে দিল
হাজার হাজার ঝুড়ি।
মঙ্গল যেই পেয়েছে খাবার
দারুণ দারুণ পদ!
তাই না দেখে বৃহস্পতি
ফন্দি আঁটে বদ।
রাত্রিবেলা যখন সবাই
নাক ডাকানোর রেসে
বৃহস্পতি সেসব খাবার
সাবাড় করে এসে!
সকালবেলা লালমুখো মার্স
মাথায় দিলো হাত
বৃহস্পতির দুষ্টুমিতে
হইল কুপোকাত!!
আড়ি দিয়ে তুলল দেওয়াল
মাঝখানেতে মস্ত,
আ্যস্টরয়েড বেল্ট নামে তা
এখন ভীষণ ব্যস্ত!!
পাঠপ্রতিক্রিয়া
(ছোটোবেলা ১৮৬ পড়ে চঞ্চল দাশগুপ্ত যা লিখলেন)
'ছোটবেলা ১৮৬' পড়ে ফেলেছিলাম কয়েক দিন আগে। কয়েকটি কথা বলার ইচ্ছে হলো। প্রথমে সম্পাদক মৌসুমী কে ধন্যবাদ দিতে হয়। সম্পাদকীয়তে পত্রিকা পড়ার জন্য পাঠককে বেধে ফেলে। সামগ্রিক পত্রিকার একটা স্কেচ আমাদের সামনে তুলে ধরেন।এবার পত্রিকার লেখায় আসা যাক, মোনালিসা র ছড়া প্রকৃতি খুব বলিষ্ঠ লেখা। শিরোনামের যথার্থ তা প্রতিটি
লাইনে প্রকাশিত হয়েছে।
তৃষ্ণা বসাকের ছড়াতে শেষ লাইনের চমকটি বেশ। রতনতনু ঘাটীর স্কুলের ক্রিকেট খেলা নিয়ে ধারাবাহিক উপন্যাস আমাকে স্কুল জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আমি এখানের স্যারদের সাথে আমার ফেলে আসা স্কুলের স্যারদের মিল খুজে পাই। আজকাল যখন ছেলে মেয়েরা খেলাকে ভুলতে বসেছে সেই সময় এরকম টানটান উপন্যাস আমাদের সবাই কে খেলার জগতে নিয়ে যায়। পরের অধ্যায় পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকি। প্রতিটি চরিত্র নিখুঁত ও সাবলীল। হেডস্যার দের একটু কঠিন কঠোর হতে হয়। এখানেও
তার চিত্র এক। এলেখায় কিছু তথ্য খুব সহজে এনেছে
উপন্যাসে। পরবর্তী ১৮৭ ছোটোবেলা পড়ার অপেক্ষায়।
0 Comments