জ্বলদর্চি

রক্তদ্রোণ/ভাস্করব্রত পতি

বাংলার ঘাস পাতা ফুল ফল, পর্ব -- ১০৭
রক্তদ্রোণ

ভাস্করব্রত পতি

নদী সংলগ্ন রাস্তার পাশে, রুখামাটির পথে, পতিত জমিতে, পরিত্যক্ত অনাবাদি জমিতে জন্মায় রক্তদ্রোন। মূলত এটি চিন, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকার গাছ। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও মেলে। পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বর্ধমান, বীরভূমে জন্মাতে দেখা গিয়েছে। মেদিনীপুর শহরের কাছে কাঁসাই ব্রিজের কাছে নদীর পাড়ে লাল মাটির ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তদ্রোনকে।
কাঁচা রক্তদ্রোন

আসলে এর ফুল লাল হওয়ার দরুন এহেন নামকরণ। দ্রোণপুষ্পীকে সংস্কৃতে গ্রন্থি, গ্রন্থিকা, গ্রন্থিপর্ণি, গ্রন্থিপর্ণা, কুতুম্বা, কুন্ত যোনি, দ্রোণ, পাঞ্জাবিতে গুলডেরা, মারাঠিতে দীপমাল, কুম্ভা, গুজরাটিতে কুলন্নফুল, কোঙ্কনিতে কানশিশা, হিন্দিতে বড় গুমা, লাল গুমা, হলকুষা, কন্নড়ে তুম্ব, তেলুগুতে লতুগ তুম্মি, পুয়া পাতোসী, কুমকি, সিংভূমের ভাষায় গেটতুম্ব বলা হয়।এছাড়াও একে ঘলঘসি, দণ্ডকলস, ঘলঘসা, হলকসা, খর্বপত্রা, কুন্ডফেণি, লালদ্রোন, দেবদ্রোনী, দেবদ্রোন, কুরুম্বিলা, চিত্রাক্ষুপ, কুরুম্বা, সুপুষ্পা, চিত্রপত্রিকা, দ্রোণা, ফলেপুষ্পও বলা হয়। একে ইংরেজিতে Honeyweed, Chinese Motherwort, Lion's Ear, Annual lion's ear, Christmas candlestick বলে। 

Lamiaceae পরিবারের রক্তদ্রোনের বিজ্ঞানসম্মত নাম Leonurus sibiricus। এছাড়াও এই রক্তদ্রোনের আরও কয়েকটি প্রজাতি হল --
Leonurus manshuricus
Leonurus japonicus
Leonurus manshuricus f. albiflorus
Leonurus multifidus
Leonurus occidentalis
Leonurus sibiricus f. albiflorus
Leonurus sibiricus var. glaber
Leonurus sibiricus var. grandiflorus
Panzeria Multifida
Panzeria Sibirica
Phlomis Sibirica

এই গাছ ঝোপঝাড় এলাকায় বেশি জন্মায় যেখানে জল জমা হয় না। ফুলের রঙ হালকা গোলাপি থেকে রক্তলাল ধারণ করে। সাধারণত এদের ফুলের কোনও গন্ধ থাকে না। কিন্তু ফুলগুলি দেখতে বেশ আকর্ষণীয় হয়। মোটামুটি গাছগুলি সরু কাঠির মতো প্রায় ২-৪ ফুট লম্বা হয়। কাণ্ড পাটকাঠির মতো। ঘন সবুজ পাতা। গাছ শুকিয়ে গেলে একটিও পাতা থাকে না। কেবল ফুলের বৃন্তগুলো কাণ্ডের পর্বের গায়ে আটকে থাকে। তখন ধূসর রঙের হয়। 

এটি দারুণ ভেষজ এবং আয়ুর্বেদিয় গুন সমৃদ্ধ গ্রামীণ উদ্ভিদ। পাতায় রয়েছে জীবাণুনাশক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে অ্যালকালয়েড, গ্লুকোসাইড, ফ্যাটি অ্যালকোহল এবং নানা তৈলাক্ত পদার্থ। উপাদানগুলির মধ্যে লিওনুরাইন, সাইক্লোনিউরিনিন, লিউরোনুরাইন, প্রিলিওহেটেরিন, স্ট্যাকাইড্রাইন লিওহেটেরিন, লিওনুরিনিন, প্রিহিসপ্যানোলোন উল্লেখযোগ্য। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে, গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধানে, খোস পাঁচড়ার উপশমে, বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়ের ব্যাথা ও যন্ত্রনার নিরাময়ে, মহিলাদের অনিয়মিত পিরিয়ডসের সমাধানে, বুকের জমা কফ থেকে রেহাই পেতে এই রক্তদ্রোন গাছ খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে অভিমত।

🍂

Post a Comment

0 Comments