জ্বলদর্চি

দুটি অণুগল্প / বিনোদ মন্ডল

দুটি অণুগল্প  

বিনোদ মন্ডল 


দেওয়ালি- পোকা 

মদ্যপ স্বামী বহু স্ত্রীলোকের জীবন নরক করে দ্যায়। অতসীর ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে।
কিন্তু তার স্বামী কিঙ্কর যখন সিলিং ফ্যানে বাম দিকে ঘাড় কাত করে জিভ বের করল, অনেকে অতসীকেই দায়ী করল। 
     সেই অতসী, দেওয়ালি-পোকা জীবন কাটাল। কিঙ্করের চাকরিটা পেল। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিল। ভালো ছেলে। রোজগেরে। দু ' বছর ঘুরতে না ঘুরতে, চার মাসের মেয়েকে কোলে নিয়ে মায়ের কাছে ফিরে এল মেয়ে। 
   অস্তরাগিনী অতসী অনেক চেষ্টা করেছিল, বাঁচবার। যাকে কেতাবি ভাষায় বলে জীবন সংগ্রাম। তবু, ব্যর্থ হল। 
    অতসীর ডেডবডি চুল্লিতে ঢুকিয়ে চুল্লুখোর ডোম দড়ির খোঁজ করল। আত্মহত্যার দড়ি। না আনা হয়নি। আপনারা শিক্ষিত লোকেরা কেন যে ওটা আনেন না! ওটা চিতায় পুড়িয়ে ফেলতে হয়। নাহলে ঐ দড়ি আবারও একজনকে টানে যে। শ্মশানবন্ধু ডোম বলল ফিসফিসিয়ে।

🍂


ছাঁকনি


আগে প্রতি মঙ্গলবার আসত। এখন রোববার সকালেও চলে আসে। গেটের সামনে চিল চিৎকার করে - ভিক্ষাটা দাও গো মামণি। আমি প্রতিবারের মতোই যা পারি দিই। 
   অভ্যেস অতি বিষম বস্তু। অভি বিরক্ত হয় তবু দিই। টুকটাক গল্প করি। ও বলে, জানো, লোকটার গ্রামে ভালো সম্পত্তি। তবু তোমাদের সারা বছর টুপি পরায়। 
   লুঙ্গি পরে বাম পা টেনে টেনে হাঁটে। নানা পাটেকরের মতো গলা। কথা বলা। আজকাল তার জন্য প্রতীক্ষা করি। খুচরো জমা রাখি। যাতে তার দেরি না হয়। ভাবি, -- ইলেকট্রিক বিল, ব্রড ব্যান্ড বিল, জিও-বি এস এন এল, টিভির প্যাক সবই প্রিপেইড। হেলথ পলিসিও।
   সবাই যে যার ইচ্ছে মতো বধ করে। বেচারার আর দোষ কী! 
    উৎসবের মরশুমে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে দুশো টাকা আদায় করল। মজা করে বললাম, ভালোই তো ক'দিন রোজগার হচ্ছে! অনাবিল হেসে বুড়ো উত্তর দিলে -- এই তো ক'টা  দিন মামণি, একেবারে ছেঁকে নিচ্ছি,  সবাইকে।

Post a Comment

0 Comments