জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /চিত্রা ভট্টাচার্য্য


দুটি কবিতা 
চিত্রা ভট্টাচার্য্য

স্বাধীনতা 

মানবের কাঙ্ক্ষিত তুমি বহু সাধনার ধন।
 স্বৈরাচারী লুঠেরা রাজতন্ত্রের যুগযুগান্তের শোষনে -  বেয়নেটের নল বুটের লাথি চাবুকের ঘায়ে জর্জরিত।
  বিপ্লবীদল তব অকুতোভয়ী সংগ্রামী সন্তান রক্তক্ষয়ী মরণপণে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা তোমাকে! শবরীর কঠিন তপস্যায়।

নীলাম্বরীর বুকে সগর্বে উড়েছিল মুক্তির তেরঙ্গা।
  বিজয় ডঙ্কাবাজে দিকেদিকে মহাসমারোহে
তুফান ঝড়ের শেষে গণতন্ত্রের প্রতীক তুমি এলে।

তবু অন্তঃপুর জ্বলছে অগ্নিবানের ব্যাকুল বেদনায়।
স্বেচ্চাচারের শাসনতন্ত্রে রাজঅনুগামীর দল      
খুনে ধর্ষণে বলাৎকারে পেয়েছে যে মহাবল।
 কোথায় স্বাধীন!সে যে পরাধীনতার নামান্তর।
স্বাধীনতার মোড়কে দেখেছি নিরলাজ প্রহসন।
লৌহ শৃঙ্খলবেড়ির ঝংকারে রয়েছে সে অবিচল।

🍂


অবশেষে বৃষ্টি তুমি!         
 
সাগরের অন্তহীন লবণাক্ত ঢেউ
 এক লহমায় গন্ডুষ ভরে পান করেছিল 
অহংকারী তেজদৃপ্ত তৃষিত সূর্য। 
বৈশাখীর গৈরিক দ্বিপ্রহরের,রক্ত চক্ষুর চাহনিতে 
নীলিমার বুকে এঁকেছিল গভীর শোকের ক্ষতচিহ্ন।

বৃষসম স্তূপমেঘ ধায় সুদূরের অলকার প্রসাদে প্রাঙ্গণে
আঘাতে আঘাতে ভেঙেছিলো যক্ষপুরীর রুদ্ধ কারা।
 অলক্ষ্যে থেকে সিক্ত হলো ধূপছায়ার মরমী আঁচল।
পৃথিবীর সুধা রস যত শুষে নিল উন্মাদ উল্লাসে। 

 প্রলয় নাচনে যৌবনমদে মত্ত দ্বিপ্রাহরিক সূর্য        
রিক্ত মাটির কর্কশ ফাঁটা বুকে অগ্নির লেলিহান শিখায় ভেবেছিল শাসনের লৌহদন্ড সোজা রবে অহর্নিশ। 
 হয়নি সে অভীষ্ট পৃরণ! নীলিমা মানেনি অহংকার।
 শ্রাবণের জল ধারার স্রোত অঝোরে ঝরে যায় 
 তপ্ত মৃত্তিকার বুকে শান্ত নীলাভ সাগরের মায়ায়।

Post a Comment

0 Comments