জঙ্গলমহলের লোকগল্প
তিন বোন
সংগ্ৰাহক- পূর্ণিমা দাস
কথক-সম্পদ দাস, গ্ৰাম- ডুমুরিয়া, থানা- নয়াগ্ৰাম, জেলা- ঝাড়গ্ৰাম
অনেকদিন আগে কাঞ্চনগড় নামে এক রাজ্য ছিল। সেই রাজ্যের রাজা ছিল কাঞ্চনসিংহ। রাজা কাঞ্চনসিংহের কোনো ছেলে ছিল না। তার ছিল তিন তিনটি মেয়ে। এই নিয়ে রাজার চিন্তার কোনো শেষ ছিল না। তার একটাই চিন্তা মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে না কেন? তিনটি মেয়েরই বিয়ের বয়স হয়ে গেছে, কিন্তু কোনোভাবেই তাদের বিয়ে হচ্ছে না। রাজার তিন মেয়ে যে দেখতে খারাপ তা নয়। তারা অনেক সুন্দরী। কিন্তু কোনো এক কারণে তাদের বিয়ে হচ্ছে না। কী কারণ তা রাজা কাঞ্চনসিংহও বুঝতে পারছে না। এই নিয়ে রাজা কাঞ্চনসিংহ সবসময় চিন্তায় থাকত।
এইভাবে তাদের দিন কাটতে থাকে।
একদিন এক সাধু রাজামশাইয়ের কাছে আসে। আর এসে বলে-“মহারাজের জয় হোক। মহারাজ আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। দয়া করে আমাকে কিছু ভিক্ষা দাও।”
তখন রাজা কাঞ্চনসিংহ বলে-“এ আমার পরম সৌভাগ্য যে আপনি আমার রাজ্যে আপনার পায়ের ধুলো দিয়েছেন।”
এরপর রাজা কাঞ্চনসিংহ মন্ত্রীকে বলে-“মন্ত্রী, সাধুবাবার খাবার ও শোয়ার ব্যবস্থা করো।”
মন্ত্রী বলে-“যথা আজ্ঞা মহারাজ।”
রাজার আদেশে সাধুবাবার যত্ন আত্তির কোনো খামতি থাকে না।
🍂
এইভাবে তিনদিন কেটে যায়। তিনদিন পর সাধু সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু যাওয়ার আগে রাজামশাইকে বলে-“তোমার সেবায় আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। তাই যাওয়ার আগে তোমাকে কিছু দিতে চাই। বলো তোমার কী চাই?”
রাজা কাঞ্চনসিংহ তখন বলে-“বাবা, আপনার আশীর্বাদে আমার সব আছে। কিন্তু আমার একটাই সমস্যা। আমার তিন মেয়েরই বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের কেন যে বিয়ে হচ্ছে না তাই আমি বুঝতে পারছি না?”
সাধুবাবা বলে-“বেশ, তুমি তোমার তিন মেয়েকে একবার ডাকো। আমি তাদের হাত দেখতে চাই। তাদের হাত দেখে আমি বলতে পারব যে তাদের ভাগ্যে কী লেখা আছে?”
এরপর রাজা কাঞ্চনসিংহ তার তিন মেয়েকে সেখানে ডাকে। বাবার ডাকে তারা তিন বোন সেখানে আসে। সেখানে আসার পর সাধুবাবা তাদের তিনজনের হাত দেখে। আর তাদের হাত দেখে বলে-“মহারাজ, আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার মেয়েদের বিয়েতে অনেক বাধা আছে।”
এই শুনে রাজা কাঞ্চনসিংহ বলে-“কী! তবে এর একটা উপায় বের করুন বাবা।”
সাধুবাবা বলে-“হুমম, একটা উপায় আছে। কিন্তু সে বড়ো কঠিন। কাল সূর্য ওঠা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রাজকুমারীদের শুধু জল খেয়ে থাকতে হবে। কিন্তু……”
রাজা কাঞ্চনসিংহ বলে-“কিন্তু কী বাবা?”
সাধুবাবা বলে-“কিন্তু যদি কেউ একথা না মেনে কিছু খেয়ে নেয় তবে তার তো কোনোদিন বিয়ে হবে না। তার সঙ্গে সঙ্গে আর দুজন রাজকুমারীদেরও বিয়ে হবে না।”
এই বলে সাধুবাবা সেখান থেকে চলে যায়।
এদিকে সাধুর এই কথা শুনে রাজার তিন মেয়ের মধ্যে বড়ো এবং মেজ মেয়ে নিজেদের ঘরে বসে কথা বলতে থাকে। বড়ো মেয়ে চন্দ্রমালা মেজ মেয়ে তারামালাকে বলে-“এই সুযোগ বোন। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে রূপমালাকে জব্দ করার। ওই সাধুবাবা কাল আমাদের ব্রত পালনের কথা বলল না?”
তারামালা বলে-“হ্যাঁ তো। কিন্তু তাতে কী?”
চন্দ্রমালা বলে-“এই সুযোগটাই আমাদের কাজে লাগাতে হবে। রূপমালাকে বাবা অনেক ভালোবাসে তাই না। এবার আমিও দেখব রূপমালা কী করে আমার হাত থেকে বাঁচে।”
এবার বলি এই রূপমালা হল রাজা কাঞ্চনসিংহের ছোটো মেয়ে। যাকে রাজা অন্য মেয়েদের থেকে একটু বেশিই ভালোবাসে। আর এরজন্য বাকি দুই মেয়ের খুব হিংসে হয়।
এর পরেরদিন রাজা রাজসভায় তিন মেয়েকে ডাকে। তাদের মধ্যে রূপমালাকে বলে-“আজ তোদের ব্রত পালনের দিন। মনে আছে তো রূপমালা?”
এই শুনে চন্দ্রমালা তারামালাকে বলে-“আমরাও তো দাঁড়িয়ে আছি নাকি। কিন্তু বাবা যেন আমাদের দেখতেই পাচ্ছে না।”
বাবার কথা শুনে রূপমালা বলে-“হ্যাঁ বাবা মনে আছে।”
রাজা কাঞ্চনসিংহ বলে-“তুমি সবার ছোটো। আমি চাই তুমি আগে ওই পাত্রে রাখা জল খেয়ে বাকিটা দিদিদের দিয়ে দাও।”
বাবার কথা মতো রূপমালা জল খেতে যায়।
এদিকে চন্দ্রমালা মনে মনে ভাবে-“খা খা যত পারিস জল খেয়ে নে। এরপর তোর কপালে রাজবাড়ির নুনও জুটবে কিনা কে জানে, হা হা হা।”
এরপর রূপমালা জল খায় আর বাকি জল দিদিদের দিয়ে দেয়।
কিছুক্ষণ পরে দেখা যায় সাধুবাবার কথা না মেনে চন্দ্রমালা নিজের ঘরে মেজ বোন তারামালাকে নিয়ে খাবার খেতে বসে।
তখন তারামালা দিদিকে বলে-“এই দিদি যদি বাবা জানতে পারে জল ছাড়া আমরা অন্য খাবার খেয়েছি তাহলে…”
চন্দ্রমালা বলে-“হা হা হা, এই খবর এই ঘরের বাইরে যাবে না। আর বাবাও এখানে আসবে না। কারণ ঘরের বাইরে আমার খাস দাসী দাঁড়িয়ে আছে। তাই কেউ কিছু জানতে পারবে না।”
তারামালা বলে-“কিন্তু দিদি আমাদের যদি বিয়ে না হয়?”
চন্দ্রমালা বলে-“হুম…. আমাদের বিয়ে না হওয়া কী এত সোজা। আমরা এত সুন্দরী। আমাদের কী বিয়ে না হয়ে পারে। তুই কোনো চিন্তা করিস না। এবার তুই খা তো।”
এদিকে সকাল থেকে সন্ধ্যে হয়ে যায়। কিন্তু রূপমালা সাধুর কথা মতো সারাদিন জল ছাড়া কিছুই খায় না।
সে তার ঘরে বসে ভগবানকে বলতে থাকে-“হে ভগবান আমার দিদিদের যেন খুব ভালো ঘরে বিয়ে হয়।”
ঠিক সেইসময় সেখানে তার দিদিরা আসে। তাদের মধ্যে চন্দ্রমালা রূপমালাকে বলে-“কী বিড়বিড় করছিস রে বোন, আমাদের যাতে বিয়ে না হয়?”
রূপমালা বলে-“এ মা ছি ছি, না না দিদি আমি এমন কিছু চাই না। তোরা ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকব।”
তখন চন্দ্রমালা মনে মনে বলে-“উমমম, ঢং দেখাচ্ছে।”
এরপর রূপমালাকে বলে-“শোন ওই রত্না দাসীর থেকে সাবধানে থাকিস কিন্তু। ও তোকে কিছু খাওয়াতে এলে কিছু খাবি না।”
রূপমালা বলে-“না না দিদি আমি কিছু খাব না। তোরা কোনো চিন্তা করিস না।”
এরপর রাত্রিবেলা যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে তখন চন্দ্রমালা ও তারামালা কিছু খাবারের টুকরো এনে রূপমালার ঘরের সামনে ফেলে দেয়। তারপর রাজার কাছে গিয়ে বলে রূপমালা ব্রত ভেঙেছে।
এই শুনে রাজা বলে-“না না এ হতে পারে না। আমার রূপমালা একাজ করতেই পারে না।”
চন্দ্রমালা বলে-“ঠিক আছে বাবা, তুমি তাহলে নিজের চোখেই দেখবে চলো।”
এরপর রাজা দুই মেয়ের সঙ্গে রূপমালার ঘরের দিকে আসে। আর এসে দেখে রূপমালার ঘরের সামনে কিছু খাবারের টুকরো পড়ে আছে।
এইসব দেখে রাজা রেগে গিয়ে রূপমালাকে ডাকতে থাকে-“রূপমালা, রূপমালা বেরিয়ে আয়।”
বাবার ডাক শুনে রূপমালা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। আর এসে বলে-“কী হয়েছে বাবা, এভাবে ডাকছ কেন?”
রাজা কাঞ্চনসিংহ বলে-“ছি ছি ছি। এইসব কী রূপমালা?”
খাবারের টুকরো দেখে রূপমালা চমকে যায়। সেগুলো দেখে সে বলে-“এ কী! এসব এল কোথা থেকে? সত্যি বলছি বাবা আমি এসবের কিছু জানি না।”
তখন চন্দ্রমালা বলে-“এই তুই মিথ্যে কথা কেন বলছিস? তুই রত্না দাসীর কাছ থেকে খাবার চেয়েছিলি তাই না। রত্না আমাদের সব বলেছে।”
তারামালা বলে-“তোকে এতবার বারণ করা সত্ত্বেও তুই আমাদের কথা শুনলি না।”
তখন রূপমালা বলে-“বিশ্বাস কর দিদি, বিশ্বাস করো বাবা আমি সত্যিই কিছু খাইনি।”
রাজা কাঞ্চনসিংহ বলে-“আমি কিছু শুনতে চাই না। তুই আমার বিশ্বাস ভেঙেছিস। তাই আজ থেকে তুই এই ঘরেই বন্দী হয়ে থাকবি। এটাই তোর শাস্তি।”
রূপমালা বলে-“বাবা তোমরা সবাই আমায় ভুল বুঝছ। আমি সত্যি কিছু খাইনি।”
কিন্তু তার কথা কেউ শোনে না।
দেখতে দেখতে কয়েকদিন কেটে যায়। এদিকে রাজা তার বাকি দুই মেয়ের জন্য স্বয়ম্বর সভার আয়োজন করে। কিন্তু দুই মেয়ের মধ্যে একজনকেও কোনো রাজকুমারের পছন্দ হয় না।
তখন দুই মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে রাজাকে বলে-“দেখলে বাবা, সেদিন বোনের ওই কাজের জন্য আমাদের বিয়ে হচ্ছে না।”
রাজা কাঞ্চনসিংহ বলে-“কাঁদিস না মা তোরা কাঁদিস না। আমি তোদের জন্য আবার স্বয়ম্বর সভার আয়োজন করব।”
এদিকে স্বয়ম্বর সভা শেষ হওয়ার পর দ্বীপগড়ের রাজকুমার চন্দন যখন বাড়ি যাচ্ছিল ঠিক তখনই সে রাজপ্রাসাদের ছাদে রূপমালাকে দেখতে পায়।
রূপমালাকে দেখে রাজকুমার চন্দন বলে-“আরে আরে এ কে, এ কী কোনো রাজকুমারী? কিন্তু স্বয়ম্বর সভায় তো একে দেখতে পেলাম না। যাই এখনই মহারাজা কাঞ্চনসিংহকে গিয়ে সবটা বলি।”
এইবলে রাজকুমার চন্দন রাজা কাঞ্চনসিংহের কাছে আসে। আর গিয়ে বলে-“প্রণাম মহারাজ, আমি আপনার এক মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি।”
এই শুনে রাজা বলে-“এ তো খুব ভালো কথা। বলো রাজকুমার আমার দুই মেয়ের মধ্যে তোমার কাকে ভালো লেগেছে?”
রাজকুমার চন্দন বলে-“ক্ষমা করবেন মহারাজ, সেই মেয়ে এদের দুজনের মধ্যে কেউ নয়।”
এই শুনে রাজা ও তার দুই মেয়ে অবাক হয়ে যায়।
এরপর চন্দন বলে-“আমি আপনার রাজপ্রাসাদের ছাদে এক মেয়েকে দেখেছি। আমি যদি বিয়ে করি ওই মেয়েকেই করব।”
রাজা কাঞ্চনসিংহ তখন বলে-“ও আমার ছোটো মেয়ে। কিন্তু এ বিয়ে হতে পারে না।”
চন্দন বলে-“কেন হতে পারে না? বিয়ে করলে আমি ওই মেয়েকেই বিয়ে করব। আর আপনি ভালো করেই জানেন আমার কথা না শুনলে আমি কী করতে পারি।”
এরপর রাজা কাঞ্চনসিংহ ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের কথা ভেবে দ্বীপগড়ের রাজকুমার চন্দনের সঙ্গে ছোটো মেয়ে রূপমালার বিয়ে দিয়ে দেয়।
আর এদিকে বোনের বিয়ে হয়ে যেতে তারামালা দিদি চন্দ্রমালাকে বলে-“দেখলি দিদি, দেখলি আমাদের ছোটো বোন রূপমালার কত ভালো ঘরে বিয়ে হয়ে গেল।”
তখন চন্দ্রমালা বলে-“আমি বড়ো মেয়ে আমার বিয়ে হল না। আর ওই রূপমালার বিয়ে হয়ে গেল।”
ঠিক তখনই সেখানে এক ডাইনি আসে।
ডাইনিকে দেখে চন্দ্রমালা ও তারামালা বলে-“কে, কে তুমি?”
ডাইনি তখন বলে-“আমি এক ডাইনি। এখান দিয়েই যাচ্ছিলাম। তোদের কথা শুনে এখানে এলাম। তোদের আমি সাহায্য করতে পারি। বল কী করতে হবে?”
তখন চন্দ্রমালা ডাইনিকে বলে-“আমাদের ছোটো বোন রূপমালার সব সুখ শান্তি কেড়ে নিতে হবে। পারবে, তুমি এটা করতে পারবে?”
ডাইনি বলে-“হ্যাঁ পারব। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।”
চন্দ্রমালা বলে-“কী শর্ত শুনি?”
ডাইনি বলে-“তিন রাত্রি পার হয়ে যাওয়ার পর আমাকে দুটো বাদুড় এনে দিতে হবে। আমি তাদের হাড় দিয়ে আমার গলার হার বানাবো।”
চন্দ্রমালা বলে-“ও এই কথা। এটা কোনো ব্যাপার নাকি। পারব পারব আমরা ঠিক পারব।”
তখন ডাইনি বলে-“তাহলে ঠিক আছে। এই নে এই লোহার কাঁটাটা। এটা তোর বোন রূপমালার চুলে আটকে দিবি। তাহলেই সব হয়ে যাবে, হা হা হা।”
এরপর ডাইনির কথা মতো বাবার আদেশ নিয়ে দুই বোন রূপমালার শ্বশুরবাড়ি যায়। দিদিদের দেখে রূপমালা খুব খুশি হয়। এদিকে দুই বোন শুধু সুযোগ খুঁজতে থাকে কখন রূপমালাকে একা পাওয়া যাবে। কিন্তু কোনোমতে তারা রূপমালাকে একা আর পায় না।
এইভাবে দুই দিন কেটে যায়। তিনদিনের মাথায় রাজকুমার চন্দন রাজ্যের কিছু কাজের জন্য অন্য এক জায়গায় যায়। আর এই সুযোগে চন্দ্রমালা ও তারামালা এক দাসীকে টাকা দিয়ে রাজপ্রাসাদের সমস্ত দাসীকে কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে রাখতে বলে।
এরপর চন্দ্রমালা ও তারামালা দাসী সেজে রূপমালার কাছে যায়। আর ওই লোহার কাঁটাটা রূপমালার মাথায় গুঁজে দেয়। আর লোহার কাঁটাটা মাথায় গুঁজতেই রূপমালা পাখি হয়ে যায়।
আর সে পাখি হতেই চন্দ্রমালা বলে-“কী ভেবেছিলি তুই আমাদের থেকে সুখে শান্তিতে থাকবি। এবার দেখ কেমন মজা লাগে।”
তারামালাও বলে-“ওই দিন আমরাই তোর ঘরের সামনে খাবারের টুকরো ফেলেছিলাম। যাতে বাবার চোখে তুই খারাপ মেয়ে হয়ে যাস।”
এই বলে তারা দুজনে হাসতে থাকে। এদিকে চন্দন সব কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে আসে। চন্দনকে ঘরের দিকে আসতে দেখে চন্দ্রমালা ও তারামালা পাখিরূপী রূপমালাকে নিয়ে লুকিয়ে পড়ে।
এরপর চন্দন ঘরে আসতেই দেখে রূপমালা ঘরে নেই। সে তখন রূপমালাকে ডাকাডাকি করতে থাকে। ঠিক তখনই পাখিরুপী রূপমালা দিদির হাত ফসকে উড়ে আসে। আর উড়ে এসে চন্দনের হাতে এসে বসে।
পাখিকে দেখে চন্দন বলে-“এ কী এই সুন্দর পাখিটা এখানে এল কী করে? এ মা এই পাখির মাথায় কাঁটা এল কী করে? আহা রে কত কষ্ট হচ্ছে ওর।”
এই বলে চন্দন ওই পাখির মাথা থেকে ওই লোহার কাঁটাটি বের করে নেয়। আর পাখির মাথা থেকে কাঁটাটা বের করতেই রূপমালা আবার তার আসল রূপে ফিরে আসে। আর তার সঙ্গে যা যা ঘটেছে তা সব বলে।
সব শুনে রাজকুমার চন্দন ডাক দেয় প্রহরীদের দুই রাজকুমারীকে বন্দী করার জন্য।
এদিকে দুই বোন সেখান থেকে পালাতে চায় কিন্তু পালাতে পারে না। প্রহরীরা তাদের ধরে রাজকুমার চন্দনের কাছে নিয়ে আসে।
তখন রাজকুমার চন্দন ওই লোহার কাঁটাটা তাদের দুই বোনের দিকে ছুঁড়ে মারে। আর লোহার কাঁটা গায়ে লাগতেই চন্দ্রমালা ও তারামালা বাদুড় হয়ে যায়।
0 Comments