জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা ১৮৫


ছোটোবেলা ১৮৫

চিত্রগ্রাহক - ঋপণ আর্য

সম্পাদকীয়,
ছোটবন্ধুরা, এই প্রচন্ড শীতেও সান্টা বুড়ো যেমন তোমাদের জন্য প্রচুর প্রচুর উপহার নিয়ে হাজির হয় ২৫ শে ডিসেম্বর ঠিক তেমনি ছোটোবেলা প্রতি রবিবার আবার মিষ্টি মিষ্টি গল্প ছড়া আর আঁকা নিয়ে হাজির। সান্টা বুড়োর কথায় মনে পড়ে গেল, মৌসুমী আন্টি তোমাদের জন্য একটা সান্টা বুড়োকে নিয়ে গল্প পাঠিয়েছে। গল্পটা সান্টার উপহারের মতোই মজাদার। তোমাদের বন্ধু রিয়া একটা পাঠিয়েছে।  অনুস্মিতা আঁকা পাঠিয়েছে। মলয় জ্যেঠু একটা ঝাল ঝাল পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে। আর যে উপহারটার জন্য তোমরা এবং আমিও হাঁ করে অপেক্ষা করে আছি সেটা নিয়ে হাজির তোমাদের সবার প্রিয় রতনতনু জ্যেঠু। এবারের উপন্যাসটার নাম তোমরা যারা ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসো তারা কখনো ভুলবে না জানি। অন্যরাও পড়ে জানিও পাথরকুসমা গ্রামের গগনজ্যোতি স্কুলের গল্পটা কেমন লাগছে।  ঋপণ আঙ্কেল টুংকুড়ির লুকোচুরি খেলার ছবি পাঠিয়েছে। কার সঙ্গে খেলছে?  কেন, রোদের সঙ্গে, সর্ষে ফুলের সঙ্গে আর তোমাদের সঙ্গে। শুভ নববর্ষ। --- মৌসুমী ঘোষ।
(প্রচ্ছদটি AI এর সহায়তায় এঁকেছেন রাজীব কুমার ঘোষ)

ধারাবাহিক উপন্যাস

গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ১
রতনতনু ঘাটী


 আজ বিকেলে গগনজ্যোতি স্কুলের মাঠে ক্লাস এইট এ-সেকশনের সঙ্গে বি-সেকশনের প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ হয়ে গেল। পাঁচ ওভারের খেলা। জিতেছে এ-সেকশান। পাঁচ ওভারে ছ’ উইকেট হারিয়ে এ-সেকশান তুলেছে সাতচল্লিশ রান। বি-সেকশন এ-সেকশানের কাছে হেরেছে পাঁচ রানে। তারা সব উইকেট হারিয়ে করেছে বিয়াল্লিশ রান। 
   এ-সেকশানের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিল ক্লাস এইটের ফার্স্ট বয় রোরো মজুমদার আর অঙ্কের তুখোড় মহিন দত্ত। ওভারের প্রথম বলে রোরো ছক্কা হাঁকিয়েছে। রোরো তিন ওভার খেলেছে। তিনটে ছয় মেরেছে বটে। ওর মোট  রান একুশ। রোরো বি-সেকশানের ফাস্টবোলার বিহান বসুরায়ের আগুনে বোলিংয়ের সামনে তেমন করে দাঁড়াতেই পারেনি। একটা দারুণ ক্যাচ ধরেছে এ সেকশনের মায়ামি দেব। একেবারে বাউন্ডারি লাইনের ধারে। সকলে বলছিল, মায়ামি এই ক্যাচটা মিস করলে খেলার মোড় অন্য দিকে ঘুরে যেত।
   রাহুল দ্রাবিড়ের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের কথা বলতে গিয়ে সেই বিখ্যাত ক্যাচটার কথাও বললেন দেবোপম স্যার। দর্শকদেরও একই মত। 
    বি-সেকশন ব্যাট করতে নেমে পাঁচ ওভারে করেছে বিয়াল্লিশ রান সব উইকেট হারিয়ে। ওদের সংগ্রহে মাত্র একটাই ছক্কা। ছক্কাটা মেরেছে ওপেনিং বোলার সানায়া দাস। ফার্স্ট ওভারের লাস্ট বলে। কিন্তু সেকেন্ড ওভারের তিনটে বল খেলেছে সানায়া। তারপর গালির কাছে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে গেছে। 
   একজন আম্পায়ার নিয়েই খেলা। আজকের ম্যাচের আম্পায়ার ছিলেন দেবোপমস্যার। খেলা শেষ হওয়ার পর তাঁকে ঘিরে জটলা করছিল ক্লাস এইটের এ-সেকশান। খেলা দেখতে এসেছিলেন পাথরকুসমা গ্রামের অনেকেই। খেলা ভালবাসেন এমন মানুষের সংখ্যা পাথরকুসমায় কম নেই।   
  গগনজ্যোতি স্কুলটা গোড়া থেকেই কো-এডুকেশান। স্কুলের নামটা ভারী অদ্ভুত। পাথরকুসমা গ্রামে গগনপ্রকাশ সামন্ত নামে একজন প্রবীণ মানুষ মুখে-মুখে বড়-বড় গুণ অঙ্ক করে দিতে পারতেন। ‘অঙ্কমানবী’ শকুন্তলা দেবীরও আগে। 
   শকুন্তলা দেবী মানে যাঁকে ‘হিউম্যান কম্পিউটার’ বলা হয়। একদিন অঙ্কের ক্লাসে দেবোপমস্যার গল্প করতে গিয়ে শকুন্তলা দেবীর কথা বলছিলেন, ‘শকুন্তলা দেবী বেঙ্গালুরুর মানুষ ছিলেন। তাঁর জীবনের গোড়ার কথা একদম রূপকথার মতো! শুনলে তোমরা অবাক হয়ে যাবে। শকুন্তলা দেবীর বাবা সি ভি সুন্দররাজ রাও একটি সার্কাস দলে জাদুকরের কাজ করতেন। মেয়েকে তিনি তিন বছর বয়সেই তাসের খেলার কৌশল শিখিয়ে ছিলেন। তখন তিনি তাঁর মেয়ের সংখ্যা মুখস্ত করার অসাধারণ ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে যান। শকুন্তলা দেবী বড় বড় অঙ্ক মুখে-মুখে করে ফেলতে পারতেন সেই ছোটবেলাতেই।’
   স্যারের কথা শুনতে শুনতে মনিকা বলল, ‘স্যার, তাই এঁকে লোকে ‘হিউম্যান কম্পিউটার’ বলে তো?’
   স্যার হেসে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছ মনিকা! গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বই তাঁর অঙ্কের প্রতিভা দেখে তাঁর নতুন নামকরণ করেছে, ‘মানব-কম্পিউটার।’ 
   পাথরকুসমা গ্রামের মানুষ যেদিন তাঁদের গ্রামে একটা নতুন স্কুল তৈরি করার কথা ভেবেছিলেন, সেদিন প্রথমেই গগনপ্রকাশ সামন্তের কথাটা মনে পড়েছিল সকলের। তাঁর নামে স্কুলের নাম রাখার প্রস্তাব উঠেছিল বড়-বড় অঙ্ক মুখে-মুখে করে দেওয়ার সুবাদে। তাতে গ্রামের সকলেরই সম্মতি ছিল। কিন্তু স্কুলটি গড়ে ওঠার জন্যে তো জায়গা চাই। জায়গা খোঁজা শুরু হল। কিন্তু কোথায় জমি পাওয়া যাবে? তখন ওই গ্রামেরই জমিদারের ছেলে বিনোদবিহারী দাস তাঁর কুড়ি বিঘে জমি দান করতে এগিয়ে এলেন। 
   বিনোদবিহারী গ্রামের বয়স্ক মানুষদের কাছে গিয়ে বললেন, ‘আমাদের গ্রামে স্কুল হবে, এ কী কম আনন্দের কথা? আমি আমাদের মাঠপুকুরের পাশের কুড়ি বিঘে জমি স্কুলের জন্যে দান করতে চাই। কিন্তু আমার একটাই আবেদন আছে!’
   সকলে একবাক্যে প্রশ্ন করলেন, ‘কী আবেদন বলুন না!’
   বিনোদবিহারী দ্বিধা জড়ানো গলায় বললেন, ‘আমার স্বর্গত মায়ের নামটি যদি স্কুলের নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায়, তা হলে আমার পরিবারের মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়।’ 
   বিনোদবিহারীর মায়ের নাম জ্যোতিপ্রভা দাস। তিনি সব সময় পাথরকুসমা গ্রামের আতুর মেয়েদের পাশে দাঁড়াতেন, তাঁদের সেবা করতেন বিপদে-আপদে। তাই গ্রামবাসী এক কথায় রাজি হয়ে গেল। শেষে অনেক আলোচনার পর ঠিক হল, গ্রামের অঙ্কবিদ গগনপ্রকাশ সামন্তর নাম থেকে ‘গগন’ শব্দটি নেওয়া হল এবং জ্যোতিপ্রভা দাস নামটি থেকে ‘জ্যোতি’ শব্দটি নিয়ে স্কুলের নাম রাখা হল ‘গগনজ্যোতি স্কুল’।
   এই সঙ্গে গ্রামবাসী একবাক্যে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। স্কুলটি হোক কো-এডুকেশন। যেন এই গ্রামের মেয়েরাও ছেলেদের  সঙ্গে স্কুলটিতে পড়তে পারে। তখন স্বাধীনতার পর-পর গ্রামে মেয়েদের আলাদা করে পড়ার মতো স্কুল ছিল না। 
   অনেক পরে গগনজ্যোতি স্কুলের আশপাশে গার্লস স্কুল একটিও গড়ে ওঠেনি তেমন নয়! কাছাকাছি পারুলপ্রভা বালিকা বিদ্যালয় তো আছেই। সেটিও বেশ পুরনো স্কুল। স্বাধীনতা আন্দোলনে লড়াই করার সময় অমূল্যচক গ্রামের প্রুলপ্রভা হাজরা জেল খেটেছিলেন। তিনি জেলেই পুলিশের অত্যাচারে মারা যান। তিনি সুভাষচন্দ্র বসুর তৈরি ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর আন্ডারে থাকা ঝাঁসি রানী লক্ষ্মী বাঈ রেজিমেন্টের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর নামে স্কুলটি তৈরি হয় স্বাধীনতার ক’ বছর আগে। এখন প্রত্যেক বছর মাধ্যমিকে পারুলপ্রভা থেকে একজন না একজন ছাত্রী প্রথম থেকে দশম স্থানের মধ্যে থাকেই।
    কিন্তু গগনজ্যোতি স্কুলের নাম এখন একবাক্যে সকলেই গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করে। তার বড় কারণ, স্কুলের শুধুমাত্র ঝকঝকে রেজাল্টের জন্যেই নয়। মাধ্যমিকের রেজাল্টে নবীনগঞ্জ জেলার আর কোনও স্কুলই গগনজ্যোতি স্কুলের পাশে দাঁড়াতে পারে না। প্রত্যেক বছর দু’-তিনজন ছাত্রছাত্রী প্রথম থেকে দশম স্থানের মধ্যে থাকবেই থাকবে। শুধু মাধ্যমিকের রেজাল্টের কথাই বা বলি কেন? নবীনগঞ্জ জেলার স্বয়ং জেলাশাসক নানা বিষয়ের যে আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, সেখানে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, গল্পবলা কম্পিটিশান, বসে-আঁকো নিজের ছবি এবং আবৃত্তিতে গগনজ্যোতি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা দু’-তিনটে করে প্রাইজ ছিনিয়ে নেয় প্রত্যেক বছর। এ ছাড়া মাধ্যমিকে স্ট্যান্ড করার জন্যে পুরস্কার তো প্রায় বাঁধা। হেডস্যারের অফিস রুমের আলমারিগুলো পুরস্কারে উপচে পড়ছে।
   হেডস্যার নবনীত মুখোপাধ্যায়ের মনে গগনজ্যোতি স্কুল নিয়ে আনন্দ এবং গর্ব যেমন আছে, তেমনই খেদও কম নেই! গগনজ্যোতি স্কুলে স্কুস সার্ভিস কমিশন থেকে এবার একজন অঙ্কের মাস্টারমশাই এসে জয়েন করেছেন বছর খানেক হল। তিনি দেবোপম দত্ত। দেবোপমস্যারের বড় পরিচয় হল, তিনি গগনজ্যোতি স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। এই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন বছর আটেক আগে। তখন ক্লাস টেনে পড়ার সময় দেবোপমস্যাররা একটা ক্রিকেট ম্যাচ অর্গানাইজ করেছিলেন। তখনকার স্পোর্টস টিচার অমলবিকাশ ঘোষ নিজেই হলেন আম্পায়ার। অতদিন আগের সেই ক্রিকেট ম্যাচে গগনজ্যোতি স্কুলের মেয়েরাও খেলেছিল। সেই ম্যাচটার কথা হেডস্যারের এখনও মনে আছে।
   সেদিন স্কুলের কোনও একটা বিষয় নিয়ে জরুরি টিচার্স মিটিং ছিল। হেডস্যার সেই মিটিংয়েই বললেন, ‘আমার একটা প্রস্তাব আছে স্কুল কমিটির কাছে। এ বছর থেকে আমাদের স্কুলে ক্রিকেট ম্যাচ শুরু করার কথা ভেবেছি আমি। দেবোপম যখন এসে গেছে, তখন আর এ নিয়ে আমাদের ভাবনা কী?’
   যেহেতু দেবোপমস্যার এই স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র, মিটিংয়ে সকলে একবাক্যে বললেন, ‘ঠিক কথা। তা ছাড়া এখন ক্রিকেট খেলার রমরমা চাদ্দিকে।’
   দেবোপমস্যার বললেন, ‘এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছে আমাদের মহিলা ক্রিকেট টিম। শুধু তাই নয়, এবারই প্রথম ভারতের দৃষ্টিহীন মহিলা ক্রিকেট টিমও কলম্বোয় সারাভানামুত্তু স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল নেপালকে হারিয়ে। আর আমাদের পিছিয়ে থাকলে হবে না স্যার।’
   হেডস্যার গুরুগম্ভীর গলায় বললেন, ‘তোমাকেই প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে দেবোপম। আমি তোমার পিছনে তো থাকবই। গতকাল ডি এম সাহেবের ঘরে মিটিং ছিল। সেখানে শুনে এলাম, ডি এম সাহেব আগামী বছর থেকে নাকি আন্তঃবিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরুর কথা ভাবছেন। তা হলে আমরাই আগামী বছর সেখানে টিম পাঠাতে পারব, কী বলো দেবোপম?’
   দেবোপমস্যার মিটিমিটি হাসিটা মুখে ছড়িয়ে রেখে বললেন, ‘তেমন হলে স্যার, আমরা এ বছর থেকে আমাদের নবীন ক্রিকেটারদের ব্যাটিং টিপস দেওয়ার জন্যে ইন্ডিয়া টিমের প্রাক্তন ব্যাটসম্যানদের একজন কাউকে স্কুলে আসার জন্যে আমন্ত্রণ করে দেখতে পারি? যদি তাঁরা কেউ আসতে রাজি হন তো কথাই নেই!’
   মিটিং হলের বাইরে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেমেয়েরা হাততালি দিয়ে উঠল। ভিড়ের ভিতর থেকে কেউ একজন বলে উঠল, ‘মহারাজদাকে বলুন! মহারাজদাকে বলুন স্যার!’
   কোনও একজন ছাত্র পাশের ছাত্রের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে জানতে চাইল, ‘অ্যাই, মহারাজদা কে রে? আমাদের সৌরভ গাঙ্গুলি?’
   দেবোপমস্যার কথাটা শুনতে পেয়েছিলেন। গলা উঁচু করে বললেন, ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে মহারাজদা তো একজনই আছেন!’
   দারুণ হইচইয়ের মধ্যে শেষ হল সেদিনের মিটিং। এ রকম একটা চমৎকার প্রস্তাবে বাড়ি ফেরার পথে গগনজ্যোতি স্কুলের ছেলেমেয়েরা যেন টগবগ করে ফুটতে থাকল।
(ক্রমশ)
আয়ুস্মিতা সামন্ত
 দ্বিতীয় শ্রেণী, সরস্বতী শিশু মন্দির , মেদিনীপুর


সান্টা, গ্রেটা আর মাছের ছানারা
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


এই, ছেলে মেয়েরা, চল চল এবার ফেরার সময় হয়েছে। 
স্যার ম্যাডামের তাড়া খেয়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা চটপট তাদের টিফিন ক্যারিয়ার, ওয়াটার বোতল, নোটবুক, ব্যাগ, ছাতা গুছিয়ে বাসে উঠার প্রস্তুতি শুরু করল। 
একে একে সকলে বাসে উঠে যাবার পর স্যার ম্যাডামরাও উঠে পড়লেন। ধোঁয়া উড়িয়ে বাস‌টাও এগিয়ে গেল সারি সারি ঝাউগাছের মধ্যেখানের পাকা রাস্তা দিয়ে। 
সারা দিন ছোটদের কলকাকলিতে মুখর সমুদ্রের তীরটা ধীরে ধীরে আবার নিজের নির্জনতার চাদরটা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল। এই অঞ্চলটায় এমনিতে পর্যটকরা খুব একটা আসে না। 
ডুবন্ত সূর্যের আলোয় উড়তে থাকা একটা বৃদ্ধ শঙ্খচিল মনে মনে বলল, আপদ গেল! 
বালির ওপর হঠাৎই তার নজরে এসেছে 'শিক্ষামূলক ভ্রমণে সবুজ পাতা বিদ্যালয়' লেখা ফ্লেক্সটা। আর এদিক ওদিক পড়ে থাকা দু একটা চকোলেটের মোড়ক। 
বড়দের সব কথা যদি ছোটগুলো শুনতো! কত বারণ করল ওদের এসব ফেলতে।
শঙ্খচিলের কথা শেষ হতে না হতেই একটা দাঁড়কাক বাবলা গাছের মগডালে উড়ে এসে জুড়ে বসে বলল,
আরে না না, অনেক সময় ছোটদের কথাও বড়দের শুনতে হয়। 
হবে হয়ত। চল এবার বাসায় ফিরি। 
পাখিদুটো দুদিকে উড়ে গেলে অন্ধকার হয়ে আসা বালুকাবেলায় তিনটে কুকুর ছানা হঠাৎ কোথা থেকে এসে ফ্লেক্সটাকে নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিল। জোয়ার আসছে। ঢেউ এসে লাগছে ওদের গায়ে। তিনটি কুকুর ছানা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করল।
সারারাত সেই ফ্লেক্সটা ঢেউয়ের ধাক্কায় ধাক্কায়, উতল হাওয়ার হাওয়ায় সমুদ্রের জলে পড়ে এদিকে ওদিকে চলতে লাগলো। তারপর বড় বড় মাছ কাছিম আর জেলিফিসের সাথে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে অনেকটা পথ সে পাড়ি দিল।
সমুদ্রের জলে লেগেছে সকালের রোদ। জলের তলদেশে আবছা সেই আলোয় শুরু হলো মাছের ছানাদের স্কুল। বাচ্চা মাছগুলো মাস্টারমশায়ের কাছে নানা রকম ছিপ জাল ইত্যাদি গঠন এবং এগুলোর হাত থেকে বাঁচার উপায় এইসব বিষয়ে গুরুগম্ভীর চ্যাপ্টারের উপর টেস্ট দিচ্ছিল। ওদের ক্লাস রুমের পাশেই মাছ মাসিরা ওদের মিড ডে মিলের রান্না করছিল গেঁড়ি গুগলি দিয়ে। ঠিক এমনই সময় হঠাৎ ছাপাৎ আওয়াজে চমকে উঠে বললেন
কে রে?
মিড ডে মিলের দুই মাসিই, দেখছি, দাঁড়ান বলে টেনেটুনে ছইয়ের উপর থেকে ফ্লেক্সটাকে নামিয়ে আনলো। তারপরে ক্লাসরুমে মাস্টারমশাইয়ের সামনে সেটা রেখে দিল। মাস্টারমশাই ভালো করে সেটা ছড়িয়ে টড়িয়ে দেখলেন তার ওপরে একটা মানুষ মেয়ের ছবি আঁকা। তার পাশে কিছু লেখা আছে মানুষের ভাষায়।
ব্যাস টেস্ট মাথায় উঠলো। ছানাপোনাগুলো জিনিসটা ঘিরে ধরল। 
মাস্টারমশাই অনেক কষ্টে পড়ে উদ্ধার করলেন লেখাটা। লেখা আছে 'গ্রেটা, গ্রেট গ্রেটা। আমরা তোমার পাশেই আছি'।
🍂

কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে ওনার ঘনঘন লেজ নড়ে। তাই মাষ্টারমশাইয়ের লেজ নড়তেই লাগলো। কচিকাঁচারা কিচ কিচ করে বলতে লাগলো,
কার ছবি স্যার? কার ছবি?
স্যার তখন বাধ্য হয়ে মোবাইলের ডেটা অন করলেন। ফ্লেক্স থেকে মেয়েটার ছবি স্ক্যান করে তিনি বেশ খানিকক্ষণ কি সব যেন করলেন। খানিকক্ষণ গম্ভীর মুখে পড়াশোনা করার পর বললেন 
সাহসী মেয়ে রে গ্রেটা। সুইডেন নামে একটা দেশে ওর বাড়ি।আমাদের এই সমুদ্রের আশেপাশে অবশ্য সেটা নয়। অন্য সাগর পাড়ে। বল্টিক সাগর। মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজকর্মে দূষণের প্রভাবে পৃথিবীর আবহাওয়া দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে তো। ফলে মানুষের‌ও আগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীবজন্তু গাছপালা। মানুষের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের প্রতিবাদে এই মেয়েটা গর্জে উঠেছে। 
ও যখন বেশ ছোট ছিল তখন থেকেই প্রতি শুক্রবার করে স্কুল বয়কট শুরু করেছিল। এই কর্মসূচিরটার সে নাম দিয়েছে ভবিষ্যতের জন্য শুক্রবার। অনেক শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের সমর্থন পেয়েছে তার এই ফ্রাইডে ফর ফিউচার আন্দোলন। পৃথিবীর নানা প্রান্তের ছেলেমেয়েরা যোগ দিয়েছে ওর সাথে। আর এই প্রতিবাদকে শক্তিশালী করে তুলেছে।
তারপর মাস্টারমশাই সেদিনকার রুটিন মাফিক পড়া বন্ধ রেখে মাছের ছানাদের মানুষের জগতের খবর দিতে লাগলেন। পৃথিবীতে দূষণের ফলে সমুদ্রের তলদেশ খুব ভালো নেই। পৃথিবী গরম হয়ে যাবার ফলে স্বাভাবিক বরফ ঢাকা অঞ্চল দ্রুত গলে যাচ্ছে, কত প্রজাতির স্বাভাবিক জীবন নষ্ট হচ্ছে, এসব কথা শুনে ছোট ছোট মাছগুলো খুব গম্ভীর হয়ে গেল। তবে আশার কথা পরিবেশ নিয়ে নানা ধরনের আন্দোলন‌ও হচ্ছে।
পরেরদিন থেকে বড় দিনের ছুটি পড়বে স্কুলে তাই একটু হালকা মেজাজ সবার। গল্প শুনে গেঁড়ি গুগলির সুস্বাদু মিড ডে মিল খেয়ে মাছের ছানাপোনারা বাড়ির পথে রওনা দিল। মাষ্টার মশাই আর মিড ডে মিলের মাসিরা যে যার পথ ধরল।
টুনা আর পুনা দুই মাছ ভাই ভাসতে ভাসতে গল্প করছিল আরো সব বন্ধুদের সাথে। তাদের সব একই দিকে বাড়ি। একজন বলল, দেখ, ওই যে ফ্লেক্সটা ভেসে ভেসে এসে পৌঁছালো আমাদের স্কুলে সেটার তো আমাদের এখানে আসা মোটেই উচিত হয়নি। এটা তো মানুষের জগতের জিনিস। এটা কিন্তু মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীনতার একটা নমুনা।
বাকিরা বলল, নিশ্চয়ই, কোনো সন্দেহ নেই মানুষরা আমাদের কথা ভাবে না। 
ভেটকু বলল, আমাদের তো কোন গ্রেটা নেই। কে লড়বে বল। সকলেই বড় দুঃখে চুকচুক করে লেজ নাড়ালো।
টুনা বলল, আমাদের অনেক দুঃখ রে। মানুষেরা খুব ভালো আছে। এই যে কালকে বড়দিন। মানুষের বাচ্চাদের কাছে নাকি বড়দিনে সান্টা নামে একটা সাধু আসে। সে নাকি বাচ্চাদের মনের কথাও বুঝতে পারে। কার কী চাই সেসব জেনে সে তাদের সে ঝোলানো মোজায় সেই সব জিনিস দেয়। আমাদের সান্টাও নেই। আমাদের দুঃখের কথা শোনার কেউ নেই।
না রে, মানুষরাও এখন ভালো নেই শুনেছি, ওরা প্রকৃতিকে শাসন করতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের বিপদে ফেলেছে। তাই তো গ্রেটার মতন মানুষরা আন্দোলন শুরু করেছে। ভালো চিন্তা করার মতো মানুষ‌ও আছেন। হয়ত সংখ্যায় খুব কম।
কথা বলতে বলতে ওরা একটা বিরাট কোরাল স্তূপের পাশে পৌঁছে গেল। এখান থেকে ওদের বাড়ির পথ আলাদা আলাদা হয়ে যাবে।  
ইলু বলল, ঠিক আছে। তাহলে আবার ছুটির পরে দেখা হবে বন্ধুরা।
কিন্তু গল্প তো আর শেষ হয় না বন্ধুদের। অনেকেই ছুটিতে বেড়াতে যাবার পরিকল্পনায় আছে। যেমন এই টুনা পুনারা বাবা-মায়ের সাথে বিবেকানন্দ রকের কাছে ঘুরতে যাবে। রকের উপর ওদের কিছু আত্মীয়-স্বজনকে পুষে রাখা আছে। পুনা বলল, যদি কোন ভাবে ওদের সাথে দেখা হয়ে যায় তাহলে খুব ভালো হবে।
একজনের এক এক রকম কথা মনে পড়ছে আর বলছে। কথা আর শেষ হচ্ছে না। যেমন মঝেমাঝেই হয় তোমাদের সবার স্কুলেতেই। একটু বেশিই দেরি হয়ে গেল কথা বলতে বলতে। কিন্তু মায়ের বকুনি ভয় তো সবারই আছে তাই এবার ওরা লেজ ঘুরিয়ে কেটে পড়বে ঠিক।
আর সেই মুহূর্তেই হঠাৎ মনে হল কোরালের স্তূপের উপর থেকে কে যেন বলল, ও বাছারা, সবাই একটু দাঁড়াও না।
পুরো দলটা হঠাৎ চমকে গেল। এতদিন আসা যাওয়ার পথে এখানে কাউকেই দেখেনি ওরা। বড্ড নির্জন এই জায়গাটা। কোন মাছ সমুদ্রশশা ঝিনুক, কে জানে কেন, এই জায়গাটা দিয়ে যাওয়া আসা পছন্দ করে না। তাই এই জায়গাটা সম্বন্ধে একটু ভয় আছে ওদের বাবা-মায়েরও। যদি বাচ্চাদের হাঙ্গর টাঙ্গর ধরে! এবার ওরা দেখল হঠাৎ ঝপ করে কি একটা যেন গড়িয়ে নেমে এলো ওদের সামনে। একজন মানুষই বটে। সাদা চুল দাড়িতে ঢাকা মুখে দুটো হাসি হাসি ঠোঁট মানুষটা যেটাতে চেপে আছে সেটার ছবি ওদের মাস্টার মশাই দেখিয়েছেন। স্লেজ গাড়ি। ঠান্ডা বরফের জায়গায় মানুষরা ওতে চেপে যায়। আরে! গাড়িটা টানছে সাতটা সিল।
অবাক অবাক গোল গোল মাছদের চোখগুলো দেখে মানুষটা বলল,
তোমরা তো একটু আগে আমার কথায‌ই আলোচনা করছিলে, তাই না?
টুনা আমতা আমতা করে বলল,
আপনিই কি সান্টা?
হ্যাঁ রে বাবা, হ্যাঁ, আমি তোদের সব কথা শুনতে পেয়েছি, তোদের কি চাওয়ার আছে সত্যি করে বলতো?
এ কথা শুনে সাহস পেয়ে ওরা একটু মুখ চাওয়াচায়ি করল। তারপর নিজেদের মধ্যে ফিস ফিস করে একটু কথা বলে নিল। মনে সাহস এনে সেদিনের স্কুলের অভিজ্ঞতার কথা ওরা সবাই ছোট ছোট করে জানালো সান্টাকে।
আরু বলল, দেখুন তো, মানুষের তৈরি করা এইসব জিনিস তো আমাদের রাজত্বে জলের নিচে এসে হাজির হওয়ার কথা নয়। তবুও আমাদের এখানে এসব এসে হাজির হচ্ছে।
পাঙাসি বলল, আমার বাবা বলছিল বাবার পরিচিত এক ডলফিন দাদুকে বাবা প্লাস্টিকের দলা গিলে খাবি খেতে খেতে মরে যেতে দেখেছে। এইরকম নানা বিপদ তো লেগেই আছে।
হ্যাঁ হ্যাঁ করে উঠল পমপম। খবরে বলছিল দূর সাগরে মৃত তিমির পেট থেকেও অনেক প্লাস্টিক বার হয়েছে।
সবাই এবার একসাথে বলল,
 সান্টা দাদু, দাও না আমাদের জায়গাটা এসব আবর্জনা বাদ দিয়ে সুন্দর আর পরিচ্ছন্ন করে।
সান্টা মাথা নাড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
তোদের এই জলের অতল তলে কত অপূর্ব সম্পদ। তা যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে তো একদিন মানুষের‌ই অপূরণীয় ক্ষতি হবে রে। তবে কি জানিস আমিও তো বড্ড বুড়ো হয়েছি। তাই এই বিরাট বড় জলভাগকে আমি একার ইচ্ছাতে দূষণ মুক্ত করতে পারবো না।
ছোট ছোট বাচ্চা মুখগুলো একথা শুনে একবারে চুপসে গেল। ব্যাট বল ভালো জামা কাপড় চকলেট ক্যামেরা মোবাইল এসব কিছুই ওরা চাইনি। ওরা সবার কথা ভালোর কথা ভেবে কিছু ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। কিন্তু সান্টার ক্ষমতার বাইরে সেই ইচ্ছেপূরণ।
সান্টাই আবার একটু হেসে সাদা দাড়ি নাড়িয়ে বলল, শোন, তার চেয়ে আমি এক কাজ করি। আমার কাছে তো ভালো ভালো ছেলেমেয়েদের মানে মানুষ ছেলে মেয়েদের, যারা লক্ষ্মী, যারা কথা শোনে, তাদের নামের লিস্ট করা আছে। সেই দেখে দেখে আমি ওদের স্বপ্নে আসব এক এক করে।  বলব, এ বছর বড়দিনে কোন উপহার নেই। আগামী এক বছর ধরে ওরাই পৃথিবীটাকে সুন্দর করার জন্য, পৃথিবীকে দূষণমুক্ত করার জন্য  চেষ্টা করতে পারে। গ্রেটার মতন খুব বড় করে না হোক, যে যার মতন করে পারে প্রকৃতিকে বাঁচাবার মতন কোন উদ্যোগ নিক। এসব কাজে আমি রোজ নজর রাখবো।  তাহলে আগামী বছরের শেষে সেই বিচারের পর ওরা পুরস্কার পাবে। এভাবে যদি কিছুটা তোদের উপকারে আসতে পারি। 
একেবারে হবে না কিন্তু আস্তে আস্তে হবে কারণ আমি জানি শিশুরা সুন্দর। তাদের কোন লোভ নেই। ওরা ভালোকেই ভালোবাসে।
টুনা পুনা আরু ইলু পাঙ্গাস ভেটকু সকলের মুখ জ্বলজ্বল করছে এখন। 
সান্টা বলল, তবে আমি এখন আসি। আমাকে অনেক জায়গায় যেতে হবে।
পাখনা আর লেজ খুশিতে নেড়ে নেড়ে মাছছানারা সাণ্টাকে বিদায় জানালো। সান্টা দাদুর সীলেটানা স্লেজ মিলিয়ে গেল কোরাল স্তূপের পেছনদিকে।


সপ্তস্মৃতির কবিতা

রিয়া মণ্ডল                                          
দ্বাদশ শ্রেণী, জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, পশ্চিম মেদিনীপুর


সেদিনের সকালটা কেমন যেনো অচেনা কৌতূহলে ভরা এডমিশান টেস্ট,
মাসখানেক পর এলো পরীক্ষার ফল
'কংগ্রাচুলেশন' একটা শব্দে বদলে গেল ভবিষ্যত।

সেদিন তেশরা জুলাই, 
প্রথম পা রেখেছিলাম এই গেটের ভেতর,
বাবা-মার হাত ধরে 
যেনো ছাড়লেই
হরিয়ে যাব অচেনা সমুদ্রে।

দিনশেষে আমায় রেখে চলে গেলো  মা-বাবা
তাদের ভেজা চোখে টা টা দিয়ে,
আর আমার ছোট্ট বুকেও জমেছিল 
একটা প্রথম বড় হওয়ার ব্যথা।

ধীরে ধীরে অচেনা মাটির সুগন্ধতা তৃপ্তি পেল,  
বন্ধুদের হাসি - আড্ডা 
চুপি চুপি ফেলে রাখা কান্নাকে 
ধুয়ে নিয়ে গেল অজান্তেই।

সকালের পিটি ক্লাসে ঘোরঘুমে 
উল্টো ট্র‍্যাকসুট পরে দৌড়,
মাঠের ধুলোয় লুটোপুটি খেয়ে
হাসি, 
এই হাসির মাঝেও থাকে নবোদয়ের সুখ।

হাউসমিস্ট্রেস! আমাদের দ্বিতীয় মা 
কঠোর গলায় ছিল গভীরতার ছোঁয়া 
ভরা যত্নের ভাষা আর ডিসিপ্লিন 
বাচ্চাগুলো যেন ঠিক মানুষ হয়।

রাখি বন্ধনে রক্ত ছাড়াও 
গড়ে উঠত ভাই-বোন-এর সম্পর্ক 
সেই এক সুতোর বন্ধনে 
যেখানে ছিল বিশ্বাস আর ভালবাসা।

মাসির দোকান!
আমাদের গোপন সদর দপ্তর
দশ টাকার নোনতা চিপসেও 
এত সুখ অনুভব কেনো হত কে জানে।

শীতের  বিকেলে ম্যামের চোখের আড়ালে 
ধনেপাতা, পেয়ারা তোলা 
দুষ্টুমি ছিল ঠিকই 
তবে এগুলোই ছোটবেলার রঙিন সিগনেচার।

স্কুল ট্রিপের ঘোরাফেরা 
হাউস কম্পিটিশনের চিৎকার
হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়া দিন 
সব মিলিয়ে সাতটি বছর।

কিন্তু এবার শুধু শেষ ঘণ্টার ঢং ঢং 
আওয়াজ যেনো ঘনিয়ে আসছে কানে 
সময়টাও ভালোবেসে থমকে গেছে 
শেষবার আমাদের দিকে তাকিয়ে।

অজান্তেই চোখের কোনায় এসেছে জল
নিমেষেই সাতটি বছর পেরিয়ে গেল
স্মৃতির আলোয় ফিরে আসব আবারও 
কিন্তু ফিরে আসা আর যায় না।

জীবনের গভীর অর্থটা 
শিখেছিলাম ঠিক এখান থেকেই 
এই স্কুল,রুম,মানুষগুলো শুধু গল্প নয়
জ্বলন্ত বাতির আলোর শিখা।

পাঠ প্রতিক্রিয়া
ছোটোবেলা ১৮৪ পড়ে মলয় সরকার যা লিখলেন

১৮৪ সংখ্যাটার প্রচ্ছদে রাজীবের ছবির তুলনা হয় না। তবে খুউব খারাপ লাগল,একটা ভাল জিনিস 'মিস' করলাম, তার ফলে পত্রিকাটা অসম্পূর্ণ লাগল। সেটা হল, তোমার লেখা সুন্দর সম্পাদকীয়। আমাদের ছোটবেলায় ' শিশুমহল' সুন্দরই হত না, যদি না শুনতে পেতাম ইন্দিরাদির গলায়, " ছোট্ট সোনা বন্ধুরা ভাই, কি, ভাল আছ তো সব? সবাই আদর আর ভালবাসা নাও"।আজও প্রায় ৬০-৬৫ বছর পরে কানে লেগে রয়েছে একই রকম। কাজেই--
আর একটা কথা, অন্য কিছু বলছি না, শুধু বলছি তানিয়ার গল্পটা দুবার এসেছে আর গল্পের শেষে মুকুলকে বুড়ি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মুকুল বুড়ি হবে কেন, হলে বুড়ো হতে পারে।

Post a Comment

2 Comments

  1. ভালো লাগলো ছোটদের মত করেই গল্পের ছলে তথ্য দেওয়া।

    ReplyDelete
  2. বড়ই সুন্দর প্রয়াস - মূলতঃ ছোটদের জন্য হলেও পড়ে ভারি ভালো লেগেছে

    ReplyDelete