জ্বলদর্চি

দূর দেশের লোকগল্প-- ২৭৪/মহাজনের মহা মুর্খামি /জাভা, ইন্দোনেশিয়া (এশিয়া)/ চিন্ময় দাশ

দূর দেশের লোকগল্প-- ২৭৪

মহাজনের মহা মুর্খামি 

জাভা, ইন্দোনেশিয়া (এশিয়া) 

চিন্ময় দাশ


সকাল থেকেই উঠোনে পায়চারি করছে এক চাষি। দেখেই বোঝা যায়, বেশ অস্থির মন তার। যেন কিছু একটা স্থির করে উঠতে পারছে না।

চাষির বউ বলল—তোমার কী হয়েছে বল তো? তখন থেকে দেখছি, হেঁটে বেড়াচ্ছ।

চাষি বলল-- হবেটা আবার কী? মনে নেই, আজ মহাজন আসবার দিন। দেখবি, বিকেল না হতে এসে ঠিক হাজির হবে। 

মহাজনের নাম শুনে বউয়েরও মুখ গম্ভীর। সে ভালো করেই জানে, আজ বিকেলে অনেক হয়রানি আছে। 

বছরখানেক আগে শ’পাঁচেক টাকা ধার নিয়েছিল মহাজনের কাছে। লোকটা যে ভারি শয়তান, সেটা চাষির জানাও ছিল। কিন্তু এমনই বিপদে পড়েছিল, হাত না পেতে উপায় ছিল না তার। সেই থেকেই চলছে তার যন্ত্রণা। মাসে মাসে এসে হাজির হবে-- সুদের টাকা দাও 

🍂

বছর কাটতে চলল। আসলে হাত পড়েনি এখনো। মাসে মাসে কেবল সুদের টাকাই গুনে যাচ্ছে। মহাজন লোকটাও তেমনই। আসলের কথা মুখেও আনে না কোনদিন। আসবে, সুদের টাকা আদায় করবে। চুপচাপ হাসিমুখে বাড়ি চলে যাবে। 

চাষি ভেবে পায় না, এইভাবে কতদিন সুদের টাকা বয়ে যেতে হবে তাকে। আজ একটি টাকাও তার হাতে নাই। লোকটাও নাছোড়বান্দা। সুদের টাকা না নিয়ে এ বাড়ি ছাড়বেই না সে। কী করবে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না। তাতেই অস্থির ভাবে পায়চারি করছে

তার বউ বলল-- তুমি এক কাজ কর। আমার বাবার কাছে যাও। বুড়ো মানুষ, হয়তো কোন একটা বুদ্ধি দিতে পারে। দেখা যাক, কোনও পথ বেরোয় কিনা। 

কথাটা মনে ধরল চাষির। হনহন করে চলল শ্বশুরের কাছে। 

সব শুনে শ্বশুর বলল-- কী বলি তোমাকে, বলতো বাপু। হতভাগাকে আমি বহুকাল ধরে চিনি। মহা ধুরন্ধর লোক। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে দিনে-- সেটা আবার গাল ফুলিয়ে শুনিয়ে বেড়ায় সবাইকে। কিন্তু এটা জানে না, আমাদের ধর্মে সুদ খাওয়া মহাপাপ।

চাষি বলল-- এইভাবে নিজেকে জাহির করে বেড়ায়, আমরাও সবাই জানি। লোকটার কি নরকের ভয় নাই? 

বুড়ো বলল-- নরকের ভয় ওই লোকের নাই। উল্টে অন্যদের জীবন নরকের চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে। 

চাষী বলল—তাহলে, এখন আমি কী করি, কিছু একটা উপায় তো বলুন।

বুড়ো বলল-- নরকের ভয় যে কারও না থাকতেও পারে। তবে, দ্যাখো বাছা, প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু একটাকে ভয় থাকেই। তোমার কাজ হল, ওই ভয়টা খুঁজে বার করা। তা যদি করতে পারো, তাহলে ওর হাত থেকে রেহাই পাওয়ার কোনও একটা রাস্তা ঠিক বের করে নিতে পারবে।

ঘরে ফিরে এসে বউকে সব কথা খুলে বলল লোকটা। বউ বলল— দাঁড়াও, আমাকে একটু ভাবতে দাও। কিছু একটা রাস্তা বের করা যায় কিনা। 

খানিক বাদে একটা বুদ্ধি এসে গেছে বউয়ের মাথায়। ভাবল, একবার খাটিয়ে দেখা যাক। ধোঁকা দেওয়া যায় কি না লোকটাকে। 

বস্তা ভর্তি তুলো ছিল ঘরে। একটা চাটাই পেতে তুলো বিছিয়ে দিল বউটা। কাল রাতে তালের রস ফুটিয়েছিল। সেই আধ-ফুটানো গুড়ের হাঁড়ি এনে, চাষির মাথায় ঢেলে দিল হড়হড় করে।

চাষি চেঁচিয়ে উঠেছে—হায় হায়, এটা কী করলি? 

বউ বলল—একটু বাদেই বুঝতে পারবে। এখন তুমি দু’ পাক গড়িয়ে নাও দেখি এই তুলোর উপরে। 

তুলোর উপরে দু'পাক গড়িয়ে নিয়ে চাষি যখন উঠে দাঁড়ালো, চেনাই যায় না মানুষটাকে। সারা শরীর সাদা তুলোয় মোড়া। মুখখানায় লাল রঙ। 

একটা সাদা কাপড় এনে চাষিকে জড়িয়ে দিল বউ। বলল-- তুমি ওই মুরগির খাঁচাটার মধ্যে ঢুকে বসে থাকো। বাকি ব্যাপারটা আমি দেখছি। তবে, কান খুলে রেখো।

সবে দুপুর গড়িয়েছে। মহাজন সে হাজির—কই রে, বাড়ি আছিস?

চাষীর বউ বেরিয়ে এলো-- হুজুর সে তো বাড়িতে নেই। মহাজন চেঁচিয়ে উঠেছে-- বাড়িতে নেই মানে? তোরা জানিস না, আমি এখন আসবো? টাকা রেখে গেছে? 

--না, হুজুর। টাকা তো কিছু রেখে যায়নি। 

--টাকা রেখে যায়নি মানে? গেল কোথায় সে? 

মুখ কালো করে চাষীর বউ বলল-- সে আর বলবেন না। ভারী এক ঝামেলায় পড়েছি আমরা। 

মহাজন বলল-- তোদের আবার নতুন কিসের ঝামেলা হলো? 

বউটা বলল-- কাল গিয়েছিল পাহাড়ে। বিশাল একটা সাদা রংয়ের পাখি ধরে এনেছে। 

--ভালোই তো। তাতে ঝামেলার কি হলো? 

সে আর বলবেন না, হুজুর। গাঁয়ের লোকেরা নামাজের সময় মসজিদে আলোচনা করছিল। চৌকিদার গিয়ে পুলিশের দারোগা বাবুর কানে তুলে দিয়েছে পাখির কথাটা। 

পুলিসের নাম শুনে, মহাজন একটু যেন দমে গেল। বলল—তার পর? 

আজ সক্কাল বেলাতেই তো চৌকিদার এসেছিল। দারোগা বাবুর ফরমান জানিয়ে গিয়েছে। এই পাখি দারোগা বাবুর চাই-ই চাই। তার আগে যেন অবশ্যই থানায় গিয়ে দেখা করে আসে। তাই তো সে থানায় দৌড়েছে। 

মহাজনের অবাক হবার পালা। পাখি ধরেছে, তাতে থানার দারোগার দরকার কেন? কী এমন পাখি?

মহাজন বলল-- হঠাৎ দারোগাবাবুর দরকার হল কেন পাখিটা?

বউ বলল-- হবে না? এমন পাখি নাকি পুরো দুনিয়ায় খুব কম আছে। যার ঘরে থাকবে, তার টাকা-কড়ি সুখ-শান্তি সব না কি উপচে পড়বে। এ পাখি দেখাও না কি খুব সৌভাগ্যের। খুব কম লোকের কপালে এই পাখি দেখা জোটে। তাই তো দারোগা বাবু একেবারে হামলে পড়েছেন। 

চোখ চকচক করে উঠল মহাজনের। খুব লোভ হলো, একবার পাখিটা অন্তত চোখে দেখা যাক। কিন্তু লোভটা তো দেখানো যায় না এদেরকে। মুখে বলল—কী আজগুবি গল্প ফেঁদেছিস। দেখি তোদের কী পাখি। 

বউটা  আঁতকে উঠেছে। বলল-- সর্বনাশ হয়ে যাবে আমাদের। এমনটা করবেন না, হুজুর। বিপদে পড়ে যাব আমরা।

মহাজনও অবাক। বলল—সর্বনাশের কী আছে এতে? 

 বউ বলল-- কড়া হুকুম যে দারোগা বাবুর। তাঁর কাছে পাখি পৌঁছবার আগে, কাউকে যেন না দেখানো হয়। আপনি দেখে ফেললে, হুকুম অমান্য হবে। আমরা বিপদে পড়ে যাব।

এমন কথা শুনলে কার না মাথা ঘুরে যায়। মাথা ঘুরতে লেগেছে মহাজনের। এমন পাখি দেখাও যদি সৌভাগ্য, তাহলে না দেখে ফিরে যাওয়া যায় কখনও? মহাজন বলল—একটি বার দেখা না।  দারোগা বাবু জানতে পারছে কী করে? 

বউ বলল—না, হুজুর। সেটি হবে না। কে কোথায় খবর দিয়ে দেবে। তখন এক্কেবারে সর্বনাশ। ভয়াণক বিপদে পড়ে যাব আমরা। পায়ে পড়ি আপনার। এইটি করবেন না, হুজুর।

বউটি রাজি নয়। মহাজনও নাছোড়বান্দা। পাখি দেখে, তবে সে নড়বে এ বাড়ি থেকে। নরম গলায় কথা বলতে লাগল। তার পর অনুরোধ, পীড়াপীড়ি। কিন্তু বউ কিছুতেই টলে না।

এবার মহাজন অন্য পথ ধরল। বলল-- ঠিক আছে। তুই একটি বার দেখা। এই আমি কথা দিচ্ছি, এই মাসের সুদের কিস্তি মাফ। তোদের দিতে হবে না ও টাকা। মাফ করে দিলাম। 

বউ বলল—হুজুর, আপনি তো জানেন, আমরা গরিব মানুষ। শুধু এই কটা টাকার জন্য, আপনাকে এক ঝলক দেখতে দিচ্ছি আমি। তবে, দেখবেন এটা যেন পাঁচ কান না হয়। 

মহাজন ভারি খুশি। আহ্লাদে আটখানা হয়ে বলল-- নিশ্চিন্তে থাক, কাউকে বলবো না।

মহাজনের সাথে কথা বলছে বউ। মুরগির খাঁচার মধ্যে বসে, সবই কানে যাচ্ছে চাষির। সেও মনে ফন্দি এঁটে নিয়েছে, এবার কী করতে হবে। খেলা দেখিয়ে ছাড়বে শয়তানটাকে।  

মুরগির খাঁচা ছিল খিড়কির দাওয়ায়। তার মধ্যে বসেছিল চাষি। বউ গিয়ে পাল্লা ঠেলছে খাঁচার। মুখে বলল-- ওইখান থেকে উঁকি মেরে একবার দেখে নিন হুজুর। বেশি এগোবেন না।

মহাজন বলল-- ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমি তাই দেখে নেব। 

কথা শেষ হয়েছে কি হয়নি মহাজনের। অমনি একটা ঝটপট শব্দ। ধবধবে রঙ। বড়সড় চেহারার কিছু একটা খাঁচা থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেল। মহাজন কেবল দেখল, বড় বড় দুটো ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে কিছু একটা বেরিয়ে গেল খাঁচা  থেকে।  

ভালো করে দেখাই হলো না মহাজনের। তবে বিশাল একটা সাদা রঙের কিছু বেরিয়ে গেল, এটা দেখতে পেয়েছে মহাজন। মহাজন কিছু বলবার আগেই, বউটা কপাল চাপড়ে, হায়-হায় করতে লাগল—এ কী সর্বনাশ করলেন, হুজুর? কী বিপদ হল আমাদের। কে রক্ষা করবে এখন। আমাদের আমার পাখি উড়ে গেল। দারোগা বাবু রেহাই দেবে না আমাদের।

এমন চক্করে পড়তে হবে মহাজনের জানা ছিল না। বেশ ঘাবড়ে গেছে বেচারা। মাথা-টাথা চুলকে, একটা উপায় এলো তার মাথায়। বলল—শোন, একটা কথা বলি।  সুদের কোনও কিস্তিই আর তোদের দিতে হবে না। সব ছেড়ে দিলাম।

বউ তো মওকা পেয়ে গিয়েছে।  সে রাগ দেখিয়ে বলল—রাখুন আপনার সুদ আসল। দারোগা বাবু তো গারদেই ঢুকিয়ে দেবে আমাদের। তার কী উপায় হবে? 

--এতোগুলো টাকা ছেড়ে দিচ্ছি। কিছু একটা উপায় বের করে নিবি। 

বউয়ের গলা এবার গম্ভীর—একটাই উপায় আছে এখন আমাদের সামনে। আপনার কথা বলে দেব দারোগা বাউকে। কোনও মানা শোনেননি আপনি। টাকার লোভ দেখিয়ে, খাঁচার পাল্লা খুলিয়েছেন। তাতেই পাখি ভোঁ-কাট্টা হয়ে গেছে। তারপর যা হয় হবে। আপনি সামলাবেন নিজেকে। 

মহাজনের তো মাথায় ব্জ্রাঘাত। দুনিয়ায় একমাত্র পুলিশকেই ভয় মানুষটার। খোদাতালাকেও এত ভয় পায়না সে। ককিয়ে উঠেছে লোকটা—অমন কাজ করিস না, বাছা। মারা পড়ে যাব আমি।

বউটা বলল—আপনি কেন মারা পড়বেন। কতো টাকা আপনার সিন্ধুকে। দারোগা বাবুর মুখ ঠিক বন্ধ করতে পারবেন আপনি। আপনার ভয় কীসের?

ঠিক এই ভয়টাই পেয়েছে মহাজন। দারোগার তো মুখ নয়, হাঁ। সেটা ভর্তি করতে গেলে, সিন্ধুক সাফ হয়ে যাবে তার। তার চেয়ে অন্য ব্যবস্থা করা ভালো। বউকে বলল--তোরা দারোগা বাবুর কাছে আমার নাম করবি না। আসলটাও আমি মাফ করে দেবো তোদের। কথা দিচ্ছি।

বউটা তো মহা খুশি। কিন্তু দেখিয়ে দেখিয়ে নাকি কান্না কাঁদতে লাগলো। মুখে  বলল—দেনা না হয় আপনি মাফ করে দিবেন। কিন্তু দারোগা বাবু তো মাফ করবার লোক নয়। সে কি আমাদের রেহাই দেবে? 

মহাজন বলল-- কিছু একটা গল্প শুনিয়ে দিস যে পাখি উড়ে গেছে। 

আসল উদ্দেশ্য সফল হয়ে গেছে। বউ বলল-- কী আর করা যাবে? আপনি বিপদের দিনে আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন। আপনাকে কি আর বিপদে ফেলতে পারি? কিছু একটা বানিয়েই বলবো। তাতে যা হয় হবে। দারোগাবাবু রাখেন রাখবেন, মারেন মারবেন। কিন্তু আপনাকে তো ফাঁসিয়ে দিতে পারি না। 

মহাজন বুঝল, ফাঁড়া কেটে গেছে। এবার সরে পড়তে হবে এখান থেকে।  চলে যাবার সময় বলল—তা হলে ঐ কথাই রইল। তোদের দেনা সব শোধ।

নদীতে ডুব দিয়ে, সাফসুতরো হয়ে ঘরে ফিরে এসেছে চাষি। সেদিন দুজনের সে কী আনন্দ। এতগুলো টাকার দেনা। অনেক বড় এই বোঝাটা নেমে গেছে মাথা থেকে। শান্তিতে বাঁচা যাবে এবার। 

সকাল হয়েছে। ধোপদূরস্থ হয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে চাষি। বউ অবাক হয়ে বলল— সাতসকালে সেজেগুজে কোথায় চললে? 

চাষি বলল-- মহাজনের ঘরে যাচ্ছি। 

বউ তো আকাশ থেকে পড়ল-- মহাজনের ঘরে? সেখানে কী করতে যাবে? 

--দেখ না, কী করি। শয়তানটাকে ঘোল খাইয়ে ছাড়বো আজ। কাল ঘুঘু দেখে বাড়ি গেছে। আজ ফাঁদটা দেখিয়ে আসি।

মহাজনের বাড়ি গিয়ে হাজির চাষি। মহাজন বলল—কীরে, তুই আবার কেন? 

--যা সর্বনাশ আপনি করে এসেছেন আমাদের। না এসে, কী করে থাকি? 

--কেন, তোর সব দেনা তো আমি মাফ করে দিয়ে এসেছি। কতো বড় একটা বোঝা নেমে গেছে তোর ঘাড় থেকে। আমি আবার কী সর্বনাশ করলাম? 

চাষি বলল—হুজুর, আপনি তো খুব ভালো করেই জানেন। ঘরে একটা কানাকড়িও থাকে না আমাদের। সেজন্যই তো আপনাকে কিস্তি মেটাতে পারি না সময়মতো। কত হয়রান করেন আপনি আমাকে। 

মহাজন বলল—সব জানি। কিন্তু এখন তো সব মাপ হয়ে গেছে। সব হয়রানি খতম। আবার দৌড়ে এলি কেন? 

--হুজুর, আপনার হয়রানি এমন আর কী? কিন্তু দারোগা বাবু আমাকে ছাড়বে কী? সে তো গারদে পুরে দেবে। মারধর করে সব কথা বের করে নেবে পেট থেকে। পুলিশের মার, সাত সাগর পার। 

মহাজন বলল-- সেটা কোন রকমে একটা ব্যবস্থা কর। পুলিশের মুখ বন্ধ করার একটা ব্যবস্থা কর। 

মুখে বলছে বটে, লোকটার মাথা ঘুরছে মারধরের ভাবনায়। পুলিশ আর গরাদের ভয়ে বুক কাঁপছিল। এবার মারধোরের কথা শুনে, থরথর করে কেঁপে উঠল মহাজন। ভাবল, যে করেই হোক, একটা ফয়শালা করতেই হবে। দারোগার পাল্লায় কোন মতেই পড়া যাবে না। 

চাষি বলল-- দারোগা বাবুকে ব্যবস্থা করা কি সোজা কাজ? কলাটা-মূলোটার কাজ নয়। টাকার খাঁই মেটাতে হবে পুলিশের। আমার ঘরে কি আর নগদ টাকাকড়ি আছে? টাকা থাকলে কি আর আপনার কাছে আসতাম? সব সামলে নিতাম আমি। 

নগদ টাকার কথা শুনে, ধড়ে প্রান এলো মহাজনের। বলল—শেষ কথা বলছি, মন দিয়ে শোন। দেনা আর সুদ সব তো মাফ করে দিয়েছি। তোদের উপকার হয়েছে। এবার বলছি, দারোগার মুখ বন্ধ করার কাজটাও তোরাই করবি। এই নে। আরও পাঁচ শ’ টাকা দিচ্ছি, নিয়ে যা। শুধু দারোগার চক্করে যেন আমাকে পড়তে না হয়। 

পাঁচ শ’ টাকা! এক সাথে এতগুলো টাকা কত দিন দেখেনি চাষি মানুষটা। পকেটে রাখতে রাখতে বলল—কাকপক্ষীটিও কোনও দিন জানবে না আপনার নাম। দারোগা তো দুরের কথা। কথা দিয়ে গেলাম।

মহাজন খুশি। বলল—গরীব হতে পারিস। তুই মানুষটা বেশ ভালো রে।

মনে মনে একচোট হেসে নিল চাষি। মুখে বলল—একটা কথা বলি, হুজুর। পুলিশকে কোনও বিশ্বাস নাই। পরেও যদি কোনদিন কানে যায়, আমাদের কাউকে ছাড়বে না। তার চেয়ে এক কাজ করি আসুন। আজ থেকে এই পাখি, দারোগা আর আপনি—এই তিনটা জিনিষ আমরা স্রেফ ভুলে যাই আসুন। ভুলে গেলে, কোনও দিন আর ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না। ফাঁস না হলে, পুলিশের ভয়ও থাকল না। ঠিক বলছি, কি না?

মহাজন একেবারে গদগদ— মাথায় বুদ্ধিও আছে দেখছি তোর। 

চাষি ভাবতে ভাবতে গেল—সে তো আছেই। হক কথাই বলেছে মহাজন। 

Post a Comment

0 Comments