ছোটোবেলা ১৮৯
সম্পাদকীয়,
অনেক তো খুশির গল্প হল। এবার শীত চলে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি, সেই দু:খে একটু আধটু দু:খ কষ্টের গল্প হয়ে যাক। দু:খের গল্প বলব শুনে বেড়ালটা চুপটি করে বসে গেল। আর মৃণাল আঙ্কেল খিচিক করে ওর ছবিটা তুলে পাঠিয়ে দিল ছোটবেলার দপ্তরে। রতনজ্যেঠু আজ লোকন আর লোকনের দিদির মন খারাপের কথা বলেছে ক্রিকেট ম্যাচের গল্প বলতে বলতে। লোকন ক্রিকেট খেলতে চায়। তারপর? তারপর জানতে হলে পড়তে হবে। সুব্রত জ্যেঠু দুই ভাই বোনের খুব কষ্টের একটা বিদেশী গল্প অনুবাদ করে পাঠিয়েছেন। তবে শেষে কষ্টটা আর ততটা ছিল না। শৌনক কষ্টে বড় হওয়া রিনুর কথা বলেছে। রিনুর আরো কথা বলব পরের সপ্তাহে। রিনুর কথা শুনে তোমাদেরও মন খারাপ হয়ে যাবে। সন্দীপ আঙ্কেল খুব সুন্দর পাঠপ্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে। যেটা পড়ে আমরা আমাদের ভুল শুধড়ে নেব। তবে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে আত্রেয়ীর আঁকা দেখলে। তোমরাও এমন নির্মল ছবি এঁকে পাঠাও যা অন্যদের কষ্ট চড়ুই পাখির মতো ফুড়ুৎ করে দূর করে দেবে। ---- মৌসুমী ঘোষ।
(প্রচ্ছদটি AI এর সহায়তায় এঁকেছেন রাজীব কুমার ঘোষ)
ধারাবাহিক উপন্যাস
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ৫
রতনতনু ঘাটী
গগনজ্যোতি স্কুলে ক্লাস এইটে পড়ে লোকন দাস। লোকন সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দিদি পারুলমণিকে বলল, ‘দিদি, আমাদের স্কুলে ক্লাস এইটের চারটে সেকশানের ছেলেমেয়েদের নিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু হয়েছে, তোকে বলেছিলাম না? তার প্রথম ম্যাচটা এইট এ-সেকশানের সঙ্গে বি-সেকশানের। ম্যাচ হয়ে গেছে গত শনিবার। এ-সেকশান ছ’ উইকেট হারিয়েছে বি-সেকশানকে। এ-সেকশান তুলেছে পাঁচ ওভারে সাতচল্লিশ রান। এর পরের ম্যাচটা হবে এক শনিবার বাদ দিয়ে পরের শনিবার। জানিস তো দিদি, বি-সেকশান এবং সি-সেকশানের বারোজনের টিমে আমাকে নেননি দেবোপমস্যার। আমি বলতে গিয়েছিলাম। অনেক অনুরোধ করলাম। স্যার আমার কথা শুনলেনই না। বললেন, ‘টিম তৈরি হয়ে গেছে লোকন। এখন নতুন করে তোমাকে টিমে নেব কেমন করে?’ কিছুতেই শুনলেন না।’
লোকন দিদির আঁচলটা জড়িয়ে ধরে বলল, ‘দিদি, চল না, তুই আর আমি গিয়ে হেডস্যারকে অনুরোধ করি। স্যার নিশ্চয়ই তোর কথা ফেলতে পারবেন না!’
পারুলমণি হেসে বলল, ‘ও, তোর ভর্তির সময় আমি হেডস্যারকে বলতে গিয়েছিলাম বলে তোর অমন মনে হয়েছে? ভারী বুদ্ধি তো তোর!’ লোকনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পারুলমণি বলল, ‘আচ্ছা, চল তবে কালই যাই হেডস্যারের কাছে!’
পাথরকুসমার পাশের গ্রামটা বিজনডিহি। সেখানেই লোকনের বাড়ি। পঞ্চায়েত থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকায় দৃষ্টিহীনের কোটায় একখানা ঘর বানিয়ে দিয়েছে। টালি দিয়ে ছোট বাড়িটা এখন পারুলমণির।
বিজনডিহি গ্রামটা খুব নির্জন, আঁকাবাঁকা নিরিবিলি পথঘাট। গোটা গ্রামে একটাই মাত্র দিঘি। নাম ‘কুলোদিঘি’। আর আছে কয়েকটা ছোট-ছোট ডোবা-পুকুর।
এ গ্রামগুলো কনকগড় রাজ্যের অধীন। কনকগড় রাজ্যের রানিমা গ্রীষ্মকালে একবার করে পালকি চড়ে গ্রাম দেখতে বেরোন। এবারও বেরিয়েছেন। সঙ্গে রাজামশাইও ছিলেন। রানিমা হঠাৎ রাজামশাইকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা রাজামশাই, এই বিজনডিহি গ্রামে একটাও জল পান করার মতো বড় পুকুর তো দেখতে পাচ্ছি না? প্রজারা জলতেষ্টা পেলে কী করে?’
রাজামশাই বললেন, ‘হাতে গোনা কয়েকটা ছোটখাটো পুকুর আছে। ওই ডোবা পুকুরের জলই গ্রামের লোকেরা পান করে!’
সঙ্গে-সঙ্গে রানিমা অবাক গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘গরমের দিনে ছোটখাটো পুকুরের জলও তো শুকিয়ে কাঠ-ফাটা হয়ে যায়?’ রানিমা আবদার করলেন, ‘না না! এখানে প্রজাদের পানীয় জলের কষ্ট দূর করার জন্যে আপনি বরং একটা বড় দিঘি খনন করে দিন।’
রাজামশাই হাসিমুখে ঘাড় নেড়ে সায় জানালেন। বছর খানেক কেটেছে কি কাটেনি, রানিমা ফের এক গ্রীষ্মের দিনে ওই পথেই বিজনডিহি গ্রামে আসছিলেন। এসে একটা দিঘি দেখতে পেয়ে রাজামশাইকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘রাজামশাই, এ কি সেই দিঘি? যে দিঘিটা খনন করতে আপনাকে অনুরোধ করেছিলাম?’
রাজামশাই হাসতে-হাসতে বললেন, ‘হ্যাঁ, গত এক বছর ধরে এই দিঘিটাই তো খনন করিয়েছি।’
রানিমার প্রতিমার মতো দেখতে অমন সুন্দর মুখটা নিমেষে কেমন গোমড়া হয়ে উঠল। বললেন, ‘রাজামশাই, এটা আর তেমন বড় দিঘি হল কই? এটা তো আমাদের হাতিশালার মালিনী হাতিটার একটা কানের মতো! এর কী নাম রেখেছেন?’
রাজামশাই বললেন, ‘তোমাকে জিজ্ঞেস করে দিঘিটার নাম রাখব বলে এখনও কোনও নামই রাখিনি! মন্ত্রীমশাই জানতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছি, এই দিঘিটার নামকরণ করবেন রানিমা!’
রানিমা বললেন, ‘তা যদি বলেন, তা হলে এই দিঘির নাম রাখুন ‘কুলোদিঘি’! হাতির কানের মতোই তো দেখতে দিঘিটা!’
সেই থেকে জনে-জনে একে কুলোদিঘি নামেই ডাকে! আর আছে বিজনডিহি গ্রামে কয়েকটা মাত্র ছোটখাটো পুকুর, তিনটে মাঝারি মাপের জলাশয়, আর ন্যাড়ামুড়ো একটা লাজুক টিলা। টিলাটাকে বিজনডিহির লোকেরা বলে ‘ডিহিপাহাড়’। বিজনডিহি গ্রামের এইটুকুই সম্বল। তাই তার নাম অমন—বিজনডিহি!
তবে হ্যাঁ, গ্রামে একটা মাত্র প্রাইমারি স্কুল আছে। তার নাম নিধিভূষণ প্রাইমারি স্কুল। এ ছাড়া বিজনডিহিতে হাই স্কুল তো দূরঅস্ত! সেই নিধিভূষণ প্রাইমারি স্কুল থেকে বছর তিনেক আগে পাশ করেছিল লোকন পাল।
ওর অমন নাম দেখে বন্ধুরা জিজ্ঞেস করত, ‘হ্যাঁ রে লোকন, তোর ওরকম নামের মানে কী রে? অমন নাম তো কখনও শুনিনি?’
লোকন উত্তরে বন্ধুদের বলত, ‘আমার নামটা রেখেছিলেন মামাদাদু। স্কুলে ভরতির সময় বাবা আমার নামের মানে হেডস্যার জিজ্ঞেস করতে বাবা বলতে পারেননি। শেষে মামাদাদুর কাছে জেনে নিয়ে স্কুলে গিয়ে হেডস্যারকে বলে এসেছিলেন ‘লোকন’ মানে দেখা, দৃষ্টি। মামাদাদু আরও বলেছিলেন, যেমন ‘অবলোকন’ মানে দেখা, ওরকম আর কী।’
তারপর মুখটা মলিন করে লোকন বন্ধুদের বলত, ‘আমার দিদি তো চোখে দেখতে পায় না। তাই মামাদাদু আমার ওরকম নাম রেখেছিলেন।’
লোকনের সঙ্গে পড়ত অভয়। সে ওর কথা শুনে বলত, ‘দুর, বাজে কথা! আমি হেডস্যারকে একদিন জিজ্ঞেস করব।’
পুলক চট করে হেডস্যারের সামনে যেতে চাইত না। ভীষণ ভয় পায়। তাই লোকনের নামের মানে তার আর আজ পর্যন্ত জানা হয়ে ওঠেনি।
আজকাল প্রাইমারি স্কুলে ভরতি হলেই, সে পাশ নম্বর পাক বা ফেলই করুক, তার ক্লাস ফোর পাশ হয়ে যায়। আলাদা করে আর পাশ করতে হয় না।
তবে লোকন পালের আর উঁচু স্কুলে পড়ার কথা নয়। বাবা-মা মারা গিয়েছেন কবেই। সংসারে একমাত্র সম্বল ওই দৃষ্টিহীন দিদি পারুলমণি। পারুলমণি নিধিভূষণ প্রাইমারি স্কুলে একটা কাজ পেয়েছে পঞ্চায়েতপ্রধান নটবর সামন্তের চেষ্টায়। স্কুল ঝাঁট দেয়, স্কুলের সামনের কয়েকটা ফুল গাছে পুকুর থেকে জল তুলে এনে গাছের গোড়ায় দেয়। চোখে দেখতে পায় না, তবু কেমন করে যে পারুলদিদি এসব কাজ করে, কে জানে? তবু পারুলমণির ইচ্ছের জোরে গগনজ্যোতি স্কুলে ভরতি হয়েছে লোকন। পারুলমণি হেডস্যারের কাছে গিয়ে দরবার করেছিল, ‘স্যার, আমার ভাইটাকে আপনার স্কুলে ভরতি নিতে হবে!’
লোকনের একমাত্র দিদি পারুল। বাবা-মা কবেই আকাশের তারা হয়ে গেছেন। দিদি আর ভাই মিলে হাওয়া লিক হয়ে যাওয়া সাইকেলের মতো তাদের ঠরঠরিয়ে চলা সংসার! কোনও দিন নুন আছে তো পান্তা নেই! কখনও পান্তা আছে নুনই নেই। দিদি কোথা থেকে যে কী করে কখনও নুন আর কখনও পান্তার জোগাড় করে, লোকন জানে না। কেননা, তার দিদি যে দু’ চোখে দেখতে পায় না! একলা রাস্তার বাঁকে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে ভাবে লোকন।
পঞ্চায়েত থেকে পারুলদিদি মাইনে পায়। সেই টাকায় চলে লোকনের লেখাপড়া আর ওদের দিদি-ভাইয়ের খাওয়ার খরচ।
পরের দিন দিদির সঙ্গে লোকন স্কুল শুরুর আগে তো বটেই, স্কুলের প্রেয়ার শুরুরও আগে ওরা হেডস্যারের রুমে গিয়ে ঢুকল।
স্যার ব্যস্ত হয়ে কিছু লিখছিলেন। মুখ না তুলেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী চাই?’
পারুল কাঁচুমাচু গলায় বলল, ‘আমি পারুল স্যার!’
এবার মুখ তুলে তাকালেন হেডস্যার। বললেন, ‘ও পারুল, বলো বলো, কী বলবে?’
‘স্যার, এ আমার ভাই লোকন!’
‘চিনি তো ওকে। ক্লাস এইট, সি-সেকশন! কখনও মন দিয়ে পড়াশোনা করে, আবার কখনও বেজায় ফাঁকি দেয়। তবে ভূগোলে লোকন খুব ভাল, কেলাসের সেরা! অন্য সব সাবজেক্টে যেমন-তেমন!’
পারুল শুকনো ঢোক গিলে নিয়ে বলল, ‘লোকন বাড়িতে আমাকে গিয়ে বলল, ও স্কুলের ক্রিকেট টিমে খেলতে চায়। লোকন দেবোপমস্যাকে গিয়ে বলেছিল। স্যার বলেছেন, টিম তৈরি হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করা যাবে না।’
হেডস্যার বললেন, ‘আমাদের দেবোপম এই ক্রিকেট খেলার পুরো দায়িত্বে আছে। ও যদি না বলে, তা হলে তো কিচ্ছু করা যাবে না পারুল!’
‘তবু স্যার, একটু দেখুন না! অনাথ ভাইটার আবদার যদি মেটানো সম্ভব হয়!’
অমন সময় ভূগোলের ভুবনস্যার হেডস্যারের রুমে ঢুকলেন। লোকনকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী ব্যাপার লোকন?'
হেডস্যার বললেন, ‘দেখুন না ভুবনবাবু, লোকন এখন ক্লাস এইটের সি-সেকশানের ক্রিকেট টিমে আসতে চাইছে। ও দেবোপমের কাছে টিমে আসার কথা বলেছিল। দেবোপম না করে দিয়েছে। বলেছে, একবার যখন টিম তৈরি হয়ে গিয়েছে, তখন আর কিছু করা যাবে না রে লোকন।’
ভুবনস্যার এগিয়ে এলেন লোকনের কাছে। তাঁর ভূগোলের প্রিয় ছাত্র সে। ভুবনবাবু হোডস্যারকে বললেন, ‘ঠিক আছে স্যার, আজ প্রেয়ারের পর আমি একবার দেবোপমকে বলব, যাতে লোকন ক্রিকেট টিমে চান্স পায়।’
হেডস্যার লোকনকে বললেন, ‘তুমি ক্লাসে যাও লোকন। দেখি, ভুবনস্যারের কথায় কাজ হয় কিনা!’
পারুলের দিকে তাকিয়ে হেডস্যার বললেন, ‘তুমি বাড়ি যাও পারুল! কারও কথায় কাজ না হলে না হয় আমিই অনুরোধ করব দেবোপমকে।’
পারুলমণি খুশি মনে নিধিভূষণ প্রাইমারি স্কুলের দিকে রওনা হল। প্রাইমারি স্কুলের হেডস্যারকে বলে এসেছিল পারুল, আজ স্কুলে আসতে একটু দেরি হবে। তবু হাতড়ে-হাতড়ে অন্ধকার দু’চোখে পথ চলতে লাগল পারুলমণি।
লোকন তত আনন্দিত হল না বটে, তবে ক্ষীণ একটা ভরসা দেখতে পাচ্ছিল মনে-মনে। সে যেন কার মুখ থেকে শুনেছিল, সুযোগ এরকমই না জানিয়েই জীবনে আসে। তার জীবনেও কি অমন করে ক্রিকেট খেলায় চান্স পাওয়ার মতো অমন আচম্বিৎ ঘটনা ঘটবে?
(এর পর ষষ্ঠ কিস্তি)
আর্মেনীয় রূপকথা
বার্ট, বার্টুহি ও চড়ুই পাখি
মূল- এ জি শেখলে মিয়ান
রূপান্তর- সুব্রত চৌধুরী
কোন এক দেশে বার্ট নামে এক বালক ছিল যার বয়স ছিল ছয় বছর, আর তার বোন বার্টুহি যার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। খুব ছোটবেলায় মা হারা দু’ভাই-বোন বাবার অপত্য স্নেহে বেড়ে উঠছিল। কিন্তু বিধি বাম! এক অমাবস্যা রাতে তাদের বাবা বার্টান লাল টুকটুকে বউ নিয়ে বাড়িতে এসে হাজির, সাথে বছর চারেকের ছোট্ট এক সৎ ভাই।
উত্তরাধিকার সূত্রে বার্টান একজন স্বচ্ছল কৃষক ছিলেন।তিনি মাতৃহীন ছেলে-মেয়ের জন্য সব সময় ভালো খাবার,
দামি পোশাক পরিচ্ছদ, খেলনা নিয়ে আসতেন। কিন্তু সৎ মা আসার পর থেকে বাবার হাতে আর ওসব ওঠেই না।
বার্টদের সৎ মা ছিলেন কুটিল প্রকৃতির। বার্টান জমিতে রোপণ করার জন্য বস্তা ভর্তি শস্যবীজ বাজার থেকে কিনে এনেছিলেন, তার অগোচরে একদিন সে গোপনে সব পুড়িয়ে ফেলে। তাই সেবছর ফসল ফলাতে না পেরে বার্টান দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরের বছরও তাদের সৎ মা একই কাজ করাতে বার্টান সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়েন। শেষে বাধ্য হয়ে তিনি অন্য রাজ্যে পাড়ি জমান চাকরির আশায়। এই সুযোগে বার্টদের সৎ মা সুযোগ খুঁজতে থাকে তাদের দু’ভাই-বোনকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার। সে মনে মনে ফন্দি আঁটে তাদের দু’ভাই-বোনকে নদীতে স্নান করানোর নামে নিয়ে গিয়ে পানিতে ডুবিয়ে মারবে,সুযোগের অপেক্ষায় থাকে সে।
একদিন দুপুরবেলা, বার্ট ও বার্টুহি ঘরের দাওয়ায় বসে খিদের জ্বালায় ভূট্টা খাচ্ছিল।এমন সময় তাদের সৎ মা এসে বললো,তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করো।
কেন? বার্ট জানতে চাইলো।
আমার সাথে নদীতে স্নান করতে যেতে হবে, আমি ঘরের ভেতর থেকে কাপড় চোপড় নিয়ে আসছি, ততক্ষণে তোমরা
খাবার শেষ করে রেডি হয়ে নাও।
ঠিক আছে।
বার্টদের সৎ মা ঘরের ভেতর যেতেই একটা চড়ুই ফুড়ুৎ করে উড়ে এসে তাদের সামনে এসে বসলো। বার্ট এক পর্যায়ে ভাবলো পাখিটাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে তারপর ভাই-বোন মিলে আগুনে ঝলসিয়ে খাবে। কিন্তু তার আগেই চড়ুই বলে উঠলো, ওহে এতিম বাচ্চারা, আমি খুব ক্ষুধার্ত। আমাকে কয়েকটা ভূট্টা দেবে খেতে?
বিনিময়ে তুমি আমাদের কী দেবে?
আমি তোমাদেরকে ভালো উপদেশ দেবো।
তুমি একটা চড়ুই পাখি, তুমি কী ভালো উপদেশ দেবে? -
বলেই বার্ট চড়ুইটাকে মারার জন্য পাথর খুঁজতে লাগলো।
আর তা টের পেয়েই চড়ুই বলে উঠলো, বাচ্চারা তোমরা এখান থেকে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাও, নইলে তোমাদের সৎ মা তোমাদেরকে নদীর পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলবে - বলেই পাখিটা শুণ্যে উড়াল দিলো।
বাচ্চারা তোমরা সবাই রেডি তো?
হ্যাঁ।
তোমরা আমার পিছু পিছু এসো। আমি তোমাদেরকে আজকে ভালো করে ঘষে মেজে স্নান করিয়ে দেবো।
আপনি যান, আমরা একটু পরে আসছি।
ঠিক আছে বলেই সৎ মা নদীর পথে পা বাড়ালো।
ওদিকে বার্ট ও বার্টুহি তাদের সৎ মা পথের বাঁকে মিলিয়ে
যেতেই পাহাড়ের উদ্দেশ্যে ভোঁ-দৌড় লাগালো। তারা পাহাড়ে পৌঁছে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। ঘুরতে ঘুরতে তারা গহীন বনের ভেতর পথ হারিয়ে ফেললো। মেঘে মেঘে বেলা বাড়তে বাড়তে এক সময় অন্ধকার ঘনিয়ে এলো।ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে দু’ভাই-বোন একটা বড়ো গাছের গুঁড়ির নিচে জবুথবু হয়ে বসে পড়লো। আর যে কোনো ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তাদের মৃত মায়ের কাছ থেকে শেখা মন্ত্র উচ্চারণ করতে লাগলো। এক সময় ক্ষুধা তৃষ্ণায় ক্লান্তিতে শ্রান্তিতে দু’ভাই-বোন ঘুমিয়ে পড়লো।
পরদিন ভোরের আলো ফুটতেই পাখির কিচিরমিচির ডাকে দু’ভাই-বোনের ঘুম ভেঙে গেলো। চোখ মেলতেই দেখলো ছোট চড়ুই পাখিটা তাদের সামনে বসে আছে। তাদেরকে জেগে থাকতে দেখতেই চড়ুই পাখিটা বললো, তোমরা তো সারারাত কিছুই খাওনি, তোমরা আমার পিছু পিছু এসো। আমি তোমাদের জন্য খাবার ব্যবস্থা করেছি।
দু’ভাই-বোন চড়ুইর পিছু পিছু বনের ভেতর খোলা এক জায়গায় একটা কুঁড়েঘরের সামনে এসে পৌঁছলো। তারা দেখলো ঘরের সামনের উঠোনে এক বুড়ো মহিলা কয়েকটা চড়ুই পাখিকে ভূট্টা খাওয়াচ্ছে।তাদেরকে দেখে বুড়িটা বললো, এসো, এসো। আমি তোমাদের দু’জনকে পেয়ে
খুব খুশি । কারণ তোমাদের বয়সী আমার দুই নাতি-নাতনিকে হারিয়ে আমি একদম ভেঙে পড়েছিলাম।তোমাদের পেয়ে আমি আমার হারিয়ে যাওয়া নাতি-নাতনিদের যেন ফিরে পেলাম। বুড়ি কুঁড়েঘরের ভেতর থেকে স্যুপের পাত্র নিয়ে এসে তাদেরকে গরম গরম স্যুপ ও ভাজা ভূট্টা খেতে দিল।
দু’ভাই-বোন পেট ভরে তা খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে লাগলো।খাওয়া শেষে বুড়ি তাদেরকে তাদের থাকার জায়গাটা দেখিয়ে দিলো। দু’ভাই-বোন সেই কুঁড়েঘরে
চড়ুই পাখিদের সাথে সুখে দিন কাটাতে লাগলো।
আরেকদিনের ঘটনা। ওই রাজ্যের রাজা শিকারের উদ্দেশ্যে বনের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে দু’ভাই-বোনের খোঁজ পেয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তারা একা একা বনের ভেতর কী করছে? তারা দু’ভাই-বোন রাজাকে সব খুলে বললো। তাদের দু:খের কথা শুনে রাজা তাদেরকে বললেন রাজপ্রাসাদে গিয়ে থাকতে। এ যেন দু’ভাই-বোনের কাছে মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পাওয়ার মতো অবস্থা। তারা সাগ্রহে রাজি হয়ে গেল। দু’জনই সান্ত্রীর সঙ্গে রাজপ্রাসাদের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
রাজপ্রাসাদে দু’ভাই-বোন বেশ সুখেই দিন কাটাতে লাগলো।কিন্তু তাদের মন পড়ে রইলো তাদের বাবা ও ছোট চড়ুই পাখির জন্য। একদিন তাদেরকে মনমরা অবস্থায় দেখে রাজা তার হেতু জানতে চাইলে তারা রাজাকে তাদের বাবা ও ছোট চড়ুইটাকে তাদের সাথে থাকার ব্যবস্থা করতে বললো।
রাজা তাঁর লোক পাঠিয়ে বার্টানকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে আসলেন, কিন্তু তিনি সমস্যায় পড়ে গেলেন চড়ুই পাখিটাকে খুঁজে বের করতে।
আরেকদিন ভোরবেলা, বার্টরা যে ঘরে ঘুমায় সেই ঘরের জানালার পাল্লায় বসে চড়ুই পাখিটা কিচিরমিচির করছিল।বার্ট দৌড়ে গিয়ে রাজাকে সে খবর জানাতেই রাজা এসে চড়ুই পাখিটাকে বললেন , আমি তোমার জন্য রাজপ্রাসাদের অন্দরমহলে বাসা বানিয়ে দিচ্ছি।তুমি এখন থেকে সেই ঘরেই থাকবে।
রাজার কথা শুনে বার্ট ও বার্টুহি দুজনেই বেশ খুশি হলো। তারা তাদের বাবা সহ চড়ুই পাখিটাকে নিয়ে বেশ সুখে দিন কাটাতে লাগলো।
🍂
গল্প
মলিন বিষাদের পাড়
(প্রথম পর্ব)
শৌনক রায়
একাদশ শ্রেণি, দরাপপুর হাইস্কুল, নদীয়া জেলা
এপ্রিলের প্রায় শেষ, ঘড়িতে সকাল নটা, উঠানে চালহীন মাটির উনানের সামনে বসে আছে শীতল। বসে যে সে ঠিক কী করছে তা বোঝার সাধ্য কারো নেই। এমন সময়ই উঠানের সামনের সরু গলি দিয়ে রিনুর মা উঠানে প্রবেশ করেই চড়া গলায় বলে উঠলেন, 'হতচ্ছারী মাইয়া এহানো ঘুমাইতাছত নাহি? উডানের একটা পাতাও নড়ে নাই ক্যা? কাইল রাইত্তেই তরে কইসি সহালে উইঠ্যা প্রথমে উডান ঝাড়বি। কিরে কথা কানে ধরেনা তর?'
উঠানের পাশের থেকে তখন জড়ানো গলায় শীতল বলে উঠলেন, 'সহালতেই তর এই শুরু হইল। আরে একটু ঘুমাকনা। এই রিনু, ওঠ মা উঠে পড়। আজ কী খাবি? মাকে বল মা বাজারে যাবে।'
বাইরের এই চেঁচামেচিতে রিনু বাইরে বেরিয়ে এলো। তার চোখ মুখ দেখে বলা মুশকিল যে আসলেই কী সে ঘুমাচ্ছিল কিনা? সে প্রথমে বাড়ির পেছনের কল থেকে চোখে হালকা জল ছিটিয়ে নিল। এরপর ঘর থেকে ঝাঁটাটা হাতে নিয়ে উঠান ঝাট দেওয়া শুরু করল।
রিনু অর্থাৎ রিনুলিকা মজুমদার কিছুদিন পূর্বেই মাধ্যমিক দিল; আর আজকেই তার ফল প্রকাশ। কিন্তু অবাক বিষয় বড়ির কারোরই এই কথা মাথাতেই নেই। মেয়েবেলা থেকেই রিনু বই পাগল। বাড়িতে বাবাকে সে শুরু থেকেই দেখে এসেছে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতে, বেশি কথা বলে না, প্রায়ই মদ খেয়ে মা ও মেয়ের ঘুম নষ্ট করে। স্বভাবতই সংসারে একমাত্র ভরসা রিনুর মা অর্থাৎ চন্দ্রালিকা মজুমদার। তাই রিনুর মা তিন বাড়িতে কাজ করেন। এখন তার মধ্যেই একটি বাড়ির সকালের কাজ সেরে এসেছেন। এমন অভাবের সংসারে বই পাগল পড়াকু মেয়ে থাকাকে পূর্ব জন্মের পাপ হিসাবেই গণ্য করেন রিনুর মা। রিনুদের বাড়িটা ছোটো দু'কামড়ার। নিচে মাটির বেদীর উপর মরচে পড়া বাদামি টিনের বেড়া ও চাল। সামনে উঠান দু'হাত মতন; তারই এক কোণায় রয়েছে মাটির উনান। ঘরের পিছনে সীমানা ঘেঁষে সরকারি শৌচালয় ও জলের কল। বাড়ির পিছনের এক কোণায় বাঁশঝাড় কিছু চালের উপর দিয়ে বেঁকে রয়েছে। সামনের দিকে সরু গলির রাস্তা ও দু'ধারে সারি করা কিছু লম্বু গাছ এবং তারপরই ফাঁকা জমি। স্বভাবতই লম্বু গাছের ও বাঁশের পাতা প্রতি সকাল বিকালে ছোটো উঠান ও চালে পড়ে থাকে।
যাই হোক ইতিমধ্যে রিনু উঠান ঝাড় দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে ঘর থেকে ভাতের হাড়িতে জল নিয়ে উনানে বসিয়েছে। এদিকে শীতল তার যথাস্থানে বসে উনানে জ্বালানিগুলো নাড়িয়ে চাড়িয়ে দিচ্ছেন। রিনুর মাও হাত মুখ ধুয়ে উঠানে দাঁড়িয়ে গামছা দিয়ে মুছছেন। এরমধ্যে রিনু আবার ঘরে ঢুকে কিছুক্ষন পর বেরিয়ে এসে বলল, 'মা, চাল বাড়ন্ত; যে টুকু আছে আজকের মতন হয়ে যাবে।'
রিনুর মা চেঁচিয়ে বললেন, 'চাইল শ্যাষ তো আমি কি করমু। টিহা কইত্যে? মরার চাইল, আইজকাই শ্যাস হইতে হইল।'
একটু থেমেআবার গলা নামিয়ে বললেন, 'তা আড় কয়ডা দিন পড়ে হইলেই তো টিহাডা পাই।'
রিনু কোনো কথার উত্তর না দিয়ে শেষ চালগুলো ধুয়ে এনে হাড়িতে দিল। এমন সময় ময়নার ডাকে রিনু দেখে ময়না আসছে দৌড়ে দৌড়ে।
'রিনু, এই রিনু কিরে কী করছিস? আজ যে রেজাল্ট বেরিয়েছে। দেখেছিস রেজাল্ট?'
এতক্ষন ধরে বাড়ির বকাবকিতে গুটিয়ে থাকা রিনু কথা শোনামাত্র উদ্যমের সাথে ঘরে ঢুকল। বাইরে এল প্রায় আট-ন বছর পুরানো এক মোবাইল ফোন নিয়ে। ফোনটা ময়নার হাতে দিয়ে বলল, 'চেক কর, চেক কর। অ্যাডমিট কার্ড লাগবে, না? দাঁড়া নিয়ে আসছি। আর হ্যাঁ তুই কত পেলি?'
ময়না রিনুর এই চঞ্চল প্রশ্নে থতমত হয়ে বলে, 'হ্যাঁ-অ্যা...। মানে ওই ৫০৯।'
শীতলও উঠেময়নার পাশে গিয়ে ফোনে উঁকি মারছে। চন্দ্রালিকাও উঠানে স্থির দাঁড়িয়ে। রিনু অ্যাডমিট কার্ড এনে ময়নাকে দিল। কিছুক্ষণ এক বিস্ময় স্তব্ধতা বিরাজ করল। এরপর ময়না চেঁচিয়ে বলে উঠল, 'তুই ৬০০ পেয়েছিস। দুর্দান্ত বেজাল্ট। গণিত ও ভৌতবিজ্ঞানে ৯০। এই না হল আমাদের রিনু।'
'কই দেখা; দেখা...'
এদিকে শীতল ও চন্দ্রালিকা একদম চুপ। চোখ দেখে মনে হচ্ছে অন্তরের খুশিটা বাইরে বেরোনর পথটা কেউ চেপে ধরে রেখেছে।
ময়না আবার বলে, 'কীরে রিনু তাহলে একাদশ শ্রেনীতে কোন স্কুলে ভর্তি হবি? আমার বাবা বলল...'
'কীসের স্কুলে ভর্তি হওয়া? কোনো স্কুল হবে না আর। আমার সাথে কাজে লাগবে ও' - রিনুর মা তীব্রস্বরে বললেন।
শীতলও বলে উঠলেন, 'কেন? না-না ও স্কুলে পড়বে।'
'আহা, আচ্ছা সোহাগ হইছে না? তো টিহাগুলি কি তুমি দিতাছ নাহি?'
এই চেঁচামেচি শুনে ময়নাও প্রথামে কিছুক্ষণ বোকা বোকা দাঁড়িয়ে থেকে পরে শীঘ্রই চলে গেল। ক্ষণেকের মধ্যেই রিনুর আনন্দ আসন্ন চিন্তায় বদলে গেল।
(ক্রমশ)
ছোটবেলা ১৮৮ পড়ে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে সন্দীপ যাযাবর দত্ত যা লিখলেন:
প্রচ্ছদ: ঋপণ আর্যের তোলা ছবি অনাবিল শৈশবকে সুন্দরভাবে ধারণ করে, যা পত্রিকার ভাবনার সাথে অত্যন্ত সম্পৃক্ত। সাদাকালো রঙের ব্যবহার আমাদের প্রত্যেকের ফেলে আসা অতীতকে মনে করিয়ে দেয়।
সম্পাদকীয়: মৌসুমীদি'র সম্পাদকীয় আসলে পত্রিকার এই সংখ্যার বিন্যাস ছুঁয়ে পাঠকের কৌতূহল ও প্রস্তুতি বাড়িয়ে দিয়েছে সুন্দরভাবে।
ধারাবাহিক: রতনতনু ঘাটীর ধারাবাহিকের চতুর্থ পর্ব গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ক্রিকেট উন্মাদনাকে কেন্দ্র করে এ কাহিনীর উত্তরণ আমাদের কৌতূহলী করে তুলছে ক্রিকেটের আরো নতুন নতুন গল্পের জন্যও। এ পর্বে মেয়েদের ক্রিকেটের সম্ভাবনা, আগামী কোন পর্বে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে নিশ্চয়ই। ( এই পর্বে মুকুলকৃষ্ণ নামটি দু জায়গায় মুকুন্দকৃষ্ণ লেখা হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। অ্যাসেজ সিরিজ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রতি দুবছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু ছোটদের কাছে পরিবেশিত হচ্ছে তাই তথ্য সংক্রান্ত বিভ্রান্তি না থাকাই বাঞ্ছনীয়)
চিত্র: জয়দীপের ছবি আঁকার হাত বেশ ভালো। পরিমিত রং ও পেন্সিলের স্কেচে নর্তকীর অভিব্যক্তি সুন্দরভাবে প্রকাশিত। শুভকামনা রইল।
ছড়া: রামকিশোর বাবুর ছড়া অত্যন্ত সুন্দর। ছত্রে ছত্রে এক অপরূপ সব পেয়েছির দেশের হদিস যেন! আসলে আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব এমন একটি দেশ আছে। শৈশব। মন খারাপ হলে একবার সেখানে ঘুরে আসতে পারলেই ব্যাস।
গল্প: ঋষিকার কল্পবিজ্ঞানের গল্প লেখার প্রচেষ্টা বেশ ভালো। কিশোর থেকে বৃদ্ধ, এ প্রশ্ন তো সব্বার, সত্যি কি আছে কোন ভিনগ্রহী জীব?
সে কল্পনার ডানার এই অদ্ভুত বন্ধুত্বের গল্প। ভাবতে ভালো লাগে, সত্যি হলে মন্দ হতো না!
গল্পে কিছু জায়গা জুড়ে দিলে ভালো হতো না কি? যেমন ufo গ্রামের মাঠে নামলো কিন্তু একা গল্পের 'আমি' ছাড়া আর কেউ দেখলো না। দুদিন ufo র মধ্যে থেকে গেলেও 'আমি'র বাড়ির কেউ খোঁজ করলো না! পরের গল্পে ভাবনা কিন্তু যথেষ্ট জমাটি চাই। শুভেচ্ছা।
0 Comments