গুচ্ছ ছড়া
সুদেব কুমার ঘোষ
যেতে নাহি চাই
বঙ্গ ছেড়ে যাব নাকো শীত করেছে জারী
সরষে ফুলের সখ্য আমি মন করেছে ভারী।
খোলা মাঠে হাওয়ার সাথে বেড়ায় ঘুরে ফিরে
গোলাপ গাঁদার সৌরভ মোর মন রেখেছে ঘিরে।
মল্লিকা আর ডালিয়া জুটি হাত ছানিতে ডাকে
পিটুনিয়া বোগেনভেলা রঙিন সাজে থাকে।
ধানের ক্ষেতের সোনালী রঙ মুগ্ধকর রূপ
রকমারি সবুজ ফসল আকাশতলে চুপ।
মেঘ বিহীন আকাশে চাঁদ চতুর্দিকে আলো
জোছনায় ভরেছে ধরা নয়কো কোথাও কালো।
নদীর চরে বালির পরে ঘুরছে শালিক দোয়েল
আবার কখন চখা - চখী সঙ্গে আছে কোয়েল।
খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি মন করেছে লোলুপ
সকাল বেলায় তৃষ্ণা মেটায় মুখে এঁটে কুলুপ।
কুয়াশা ঢাকা গাছের আগায় চুপটি মেরে বসি
এসব ছেড়ে যাব কোথায় বেশ রয়েছি খুশি।
কাক
কোন্ দেবতার আশীর্বাদে রূপটি তোমার কালো ?
যতই দেখি তোমার মধ্যে আছে কত আলো।
ঝেড়ে পুছে সাফ করছ ধরার যত আবর্জনা
ঝাড়ু বিহীন ঝাড়ুদার আখ্যা দিল সর্বজনা ।
হোক না তোমার কর্কশ সুর আঙুল সবার কানে
' কাক ভোর 'এক শুভ সময় সর্বলোকে জানে।
তোমার ডাকেই ধরা জাগে ব্যস্ত সবাই কাজে
সূর্যি মামাও সাড়া দিয়ে উঁকি মারে লাজে।
চালাক চতুর সুবুদ্ধিতে জুড়ি মেলা ভার
গল্প গাথায় লেখা আছে পুঁথির পাতার ধার ।
কবে কোথায় তৃষিত কাক ঘুরে বেড়ায় উড়ে
হতাশ হয়ে গাছের ডালে বসল এসে জুড়ে ।
দূরেতে এক কলসী দেখে কৌতূহলের বশে
বুদ্ধিবলে জলপানে আশ মিটল অবশেষে।
বিদ্যে বুদ্ধি ছাড়াও তোমার আছে অনেক দয়া
তোমার বাসায় স্থান পেয়েছে কোকিল অসহায়া।
এঁটো পচা খাবার খেয়ে বড়ই তোমার মন
তোমায় দেখে শিক্ষা নেব আমরা মানুষজন।
🍂
কাঠঠোকরা
রঙিন জামা গায়ে দিয়ে
কাঠঠোকরা আসে,
গাছের গুঁড়ি বেয়ে উঠে
স্থান করে নেয় পাশে।
গাছের 'পরে ঠোকর মারে
যেন তবলায় লহরা।
মনের সুখে তাল দিয়ে যায়
ত্রিতাল কিংবা দাদরা।
ধাদিনা নাতিনা আওয়াজ তুলে
মাতিয়া তুলেছে আসর।
বনের যত পশু পাখি
গীতের মধ্যে বিভোর।
তালের পরে তাল ঠুকে যায়
বাজনা হয়না শেষ ---
ময়না দাদা মাথা দুলিয়ে
তারিফ করে বেশ।
হঠাৎ করে যায় যে চলে
নেই কোনো তার দিশা।
সেথায় আবার ঠোকর মারে
এটাই তাহার পেশা।
পেঁচা
দিনে থাকে চুপ - চাপ
গোপনের ডেরাতে,
চোখ তার অন্ধ
সূর্যের আলোতে।
হাঁক - ডাক ফেলে দেয়
নিশা নামে যখনই,
চারিদিক মুখরিত
শঙ্খ বাজে তখনই।
গোল গোল চোখে খোঁজে
শিকারের জন্তু
মাংসাশী প্রাণী বটে
দাঁত নাই কিন্তু।
বাঁকানো নাসিকাতে
ঠোঁট তার ধারাল
আঁধারেতে ঘুরে ঘুরে
পেটটি সে ভরাল।
আমিষাসী পাখী তবু ---
দেবতার পরিজন
লক্ষীর পাশে থেকে
1 Comments
বেশ লাগলো
ReplyDelete