বাংলার ঘাস পাতা ফুল ফল, পর্ব -- ১১০
জগতমদন
ভাস্করব্রত পতি
জমির সীমানা নির্দেশক উদ্ভিদ হিসেবে গ্রামাঞ্চলে ব্যবহৃত হয় জগতমদন। 'জীবন্ত বেড়া'ও বলা হয়ে থাকে। ঘন ঝোপের মতো এই গাছের প্রাকৃতিক এবং মনোরম বেড়া টপকে গরু বাছুর বাগানে প্রবেশ করতে পারে না। খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে গাছটি। ডাল ভেঙে জমির সীমানা বরাবর পুঁতে দিলেই বেঁচে ওঠে। এককথায়, বাগানের বাউন্ডারি হল এই জগতমদন বা জগৎমদন বা জাগমদন।
জগতমদনের ফুল
ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াতেও জন্মায়। এসব অঞ্চলই এর আদি নিবাস। এই গাছে Puccinia graminis triticii নামের এক প্রকার পরজীবী ছত্রাক মরিচা রোগের সৃষ্টি করে।
কোথাও কোথাও একে বলে বিষ কাডালি। নরসিংদীতে বলে বিষডলনী। কালাবাসক নামেও পরিচিত। আবার আঞ্চলিক নাম দেওয়া হয়েছে কাল বিষহরি। ইংরেজিতে বলে Willow Leaved Justicia। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Justicia gendarussa। এটি Acanthaceae পরিবারের অন্তর্গত।
ডালপালা সহ জগতমদন
এই গাছে কোনও কাঁটা নেই। তা সত্বেও এই গাছ দিয়েই জমির দেওয়াল বানানো হয়। যদিও এখন এই গাছের ব্যবহার এবং চল সীমিত হয়ে গেছে। আপাতত গ্রামাঞ্চল থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়ার মুখে জগতমদন। যদিও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (IUCN) অনুসারে জগতমদন এখনও ন্যূনতম উদ্বেগের প্রজাতি। অর্থাৎ এখনও বিপন্ন অস্তিত্ব নয়।
জগতমদন হল বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। অনেক শাখা প্রশাখা যুক্ত। মোটামুটি ১ - ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। কাণ্ডে এবং পাতায় কিছুটা কালচে ভাব লক্ষ্য করা যায়। এই গাছের পাতাগুলি ল্যান্সোলেট বা উপবৃত্তাকার। এদের সাদা কিংবা বেগুনি রঙের ফুলগুলি নলাকার দেখতে।
জগতমদনের পাতা
গাছ জুড়ে ভেষজ গুণ রয়েছে বহুলাংশে। এই গাছে অ্যালকালয়েড, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ফেনোলিক যৌগের মতো বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ রয়েছে। গাছটির পাতা অত্যন্ত ঔষধি গুণসম্পন্ন। দেহের কোনও অংশ কেটে গেলে এর পাতার রস বেটে লাগালে দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। শরীরের প্রদাহ, নানাবিধ চর্মরোগ, পেটের অসুখ, ফুসফুসের সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি অ্যান্টি ক্যান্সার এবং অ্যান্টি ডায়বেটিস রোগের উপশমে উপকারী। এছাড়াও ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
🍂
0 Comments