জ্বলদর্চি

পাঁচটি অপ্রকাশিত/অনিন্দিতা শাসমল

পাঁচটি  কবিতা 
অনিন্দিতা শাসমল-


শূন্যতা পেরিয়ে এসো

আপনি তুমির দ্বিধা-দ্বন্দ পেরিয়ে 
এসো মুখোমুখি বসি।

ধোঁয়া ওঠা কফির কাপের দুদিকে দুটো শূন্য আকুল হৃদয়। 
বাঁধভাঙা আবেগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বুনোফুলের গন্ধ।

বন-ফায়ারের অগোছালো আগুন এলোমেলো হাওয়ায় 
উত্তাপ ছড়াক ।

এসো পরিপূর্ণ হই।
এসো পরিশুদ্ধ হই।
এসো কবিতায় পথ চলি।

 
গুহাচিত্র

 অগ্নিকন্যা সে ।
রাজ্য জয় করে ফিরেছে আজ।
একশো খুশির উন্মুক্ত দিগন্ত।

হাসি গান আনন্দের মাঝে, কবিমনে হঠাৎ অন্যমনস্কতা, লালচে খড়িমাটির গুহাচিত্রে মনে মনে এঁকেছে প্রিয়তমের মুখ । সারাদিন ধরে খুঁজেছে স্বপ্নের অমলেন্দুকে।

তপ্ত নিঃশ্বাসে ক্যানিয়ন রাত 
আরো মধুময় হবে আজ--
সোহাগে আদরে।
দেখে নিও।


 ফ্যান্টাসি

রূপকথার গল্প শেষ।
রাজপুত্র ফিরে গেছে সুন্দরী রাজকন্যার কাছে অথবা সুখী গৃহকোণে।

কবির কল্পনায় রূপসী আঁধার ভরে ওঠে মায়াবী আলোয় ,
কন্টকশয্যায়ও পুষ্পবৃষ্টি হয়।
নিঃশর্ত সমর্পণ নিশ্চিত হলেই প্রেমপর্বের সমাপন।

তবু আকাশে বাতাসে বাজে
 ভালোবাসার ভৈরবী সুর ।
জন্ম নেয় নতুন কবিতা।

🍂


 পার্বণ  রাত

গাঢ় আলিঙ্গনের স্পর্শে আবিষ্ট হয়ে আছে সারা শরীর।
সীমাহীন উষ্ণতা ছুঁয়েছে রজনীর শীতলতা।

মকর সংক্রান্তির পার্বণ রাত।
সরু চাকলি আর দুধ পুলির সুগন্ধ বাতাসে।
উঠোনে লক্ষ্মীর পদচিহ্ন এঁকেছে নরম হাত।

রাত গভীর হলে পেঁচা ডাকে , শেষহীন চুম্বনের দীর্ঘতর রাতে।


বসন্ত পঞ্চমীর অভিমান

বেশ । তোমার কথাই ঠিক।
সন্ন্যাসী ভোর । 

মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে আসা বার্তার  মৃদু শব্দে ঘুম ভাঙে । স্নান সারা হলে বাসন্তী শাড়ির আঁচলে আলতো টান। অনুভবে তুমি । ষোড়শীর উন্মাদনা। 

"কুচযুগ শোভিত মুক্তা হারে...'
বলতে বলতে লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে মুখ। সারাদিন অপেক্ষায় থাকি...
কখন শোনাবো ঠোঁট থরথর স্বীকারোক্তি।

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলো তোমার নির্লিপ্ত উদাসীনতায়।
বুকের মধ্যে আগুন পুষেও অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিলো
বসন্ত পঞ্চমীর রাত।

Post a Comment

0 Comments