জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা ১৯০

ছোটোবেলা ১৯০
চিত্রগ্রাহক - সুশোভন সর

সম্পাদকীয়,
শীত চলে গিয়েও ফিরে এসেছে সেই আনন্দে গ্রামে গঞ্জে সরষে ক্ষেতে মুখোশ পরে বহুরূপীরা আবার এসেছে। ছোটোরা তাই খুব খুশি, সেই ছবি পাঠিয়েছে সুশোভন আঙ্কেল। আর আগের বারের মৃণাল আঙ্কেলের বিড়ালটা এখন কোথায় জানো? সুদীপ্তাদিদির বিছানায় শুয়ে ঘুমাচ্ছে। কি করে জানলাম? সুদীপ্তা দিদি পাঠ প্রতিক্রিয়ায় লিখে জানিয়েছে তো। আগের বারের শৌনকের গল্পের শেষটা শোনার জন্য যারা বসেছিলে, তারা পড়ে জানিও। গৌরাঙ্গ জ্যেঠু একটা খুব ছোট বন্ধুর মিষ্টি মিষ্টি কথা বলার গল্প বলেছেন। আর রতন জ্যেঠু এবারের পর্বে কোথায় ভাল ব্যাট পাওয়া যায় তার খবর দিয়েছেন। যারা ক্রিকেট ব্যাট কিনবে বলে বায়না করছো তারা কাশ্মীর বেড়াতেযাবে বলে নতুন বায়না করো মা-বাবার কাছে। শ্রীজার আঁকা বাঘের মুখের ছবিটা দেখে মনে পড়ে গেল বাঘের মাসি বিড়াল। -- মৌসুমী ঘোষ।
(প্রচ্ছদটি AI এর সহায়তায় এঁকেছেন রাজীব কুমার ঘোষ)

ধারাবাহিক উপন্যাস

গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ৬

রতনতনু ঘাটী

আজ অন্য দিনের মতো অত কম সময়ের জন্যে ক্রিকেট প্র্যাকটিস নয়। আজ শনিবার। ক্লাস এইটের সি-সেকশান যেন টগবগ করে ফুটছিল মাঠের মাঝখানে। এমন সময় দেবোপমস্যার স্কুলের স্টাফ রুম থেকে হাঁটতে-হাঁটতে মাঠে এসে ঢুকলেন। তাঁর হাতে নতুন কেনা বল ভরতি ক্রিকেট বলের ব্যাগ। 
   দেবোপমস্যার আগে বলেই রেখেছেন, ‘যার-যার বাড়িতে ব্যাট আছে তারা তাদের ব্যাটগুলো স্কুলের স্পোর্টস ইকুইপমেন্টের ঘরে যেন জমা রেখে দেয়। এই জমানো ব্যাট থেকে বেছে নিয়ে যে ব্যাটার যেমন খুশি ব্যাট নিয়ে প্র্যাকটিস করতে আসতে পারে।’
    সেই মতো আজ প্রথমে ক্লাস এইট সি-সেকশান ব্যাট প্র্যাকটিস করবে। আর প্রথমে বল করবে ডি-সেকশানের ক্রিকেটাররা। দেবোপমস্যার বল করতে শুরু করার ইঙ্গিত করলেন বোলারদের দিকে তাকিয়ে।
   প্রথমে স্যারের কাছে বল নিতে এগিয়ে এল ডি-সেকশানের ওপেনার বোলার রুচিকা গুপ্ত। ছিপছিপে মেয়েটি দেখতে যেমন ফরসা, চোখে-মুখে তেমনই তেজের ছটা ঠিকরে পড়ছে!  রুচিকাকে দেখে দর্শকদের মনে হচ্ছিল, রুচিকা যেন দারুণ বল করার জন্যে মনে-মনে তৈরি হয়েই এসেছে মাঠে। 
   এদিকে ব্যাট হাতে গা ঘামানোর ভঙ্গিতে লাফানো-ঝাঁপানোর কসরত করছিল সি-সেকশানের দুরন্ত ব্যাটার সারিন দাস। রুচিকার প্রথম বল গোলার মতো ছুটে এল পিচের উপর দিয়ে একদম উইকেটের সামনে। বলটা মারতে গিয়ে সারিন একটু হতচকিত হয়ে গিয়েছিল মনে হল দর্শকদের। ব্যাটে-বলে হল না। এবার আবার পরের বল। সাঁই-সাঁই করে ছুটে এল রুচিকার হাত থেকে। রুচিকার হাত ঘোরানো দেখে দর্শকরা ভেবে নিয়েছিল, এই বলটা ইয়র্কারই হবে। 
   এমন সময় একটা নতুন ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্যে ঘোরাতে-ঘোরাতে মাঠের ধারে এসে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠল রোরো, ‘এ বলটা ছেড়ে দে রে সারিন। অত কঠিন ইয়র্কার, খেলতে পারবি না! আউট হয়ে যাবি!’
   দেবোপমস্যার বকুনির গলায় রোরোকে বললেন, ‘তুমি ওকে নিরাশ করছ কেন রোরো? সানায়া যদি ইয়র্কার বল খেলতে পারে তো খেলুক না! সব বলই ফুলটস হবে, তাই কি হয়? সব বলেই ছক্কা হাঁকাবে?’
   একটু দমে গেল রোরো। তারপর মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। স্যার বুঝতে পারলেন, রোরো তাঁর কথায় মনে হয় একটু আহত হয়েছে। নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ গো রোরো, তেমার হাতে ওটা নতুন ব্যাট বলে মনে হচ্ছে? দেখি, দেখি! কবে কিনলে?’ বলে ব্যাটটা নেওয়ার জন্যে হাত বাড়িয়ে দিলেন রোরোর দিকে।
   রোরোর মুখে গর্ব ছড়িয়ে পড়ল। মাঠের ধার থেকে হনহন করে রোরো ঢুকে গেল মাঠে, একেবারে স্যারের সামনে। নতুন ব্যাটটা তুলে দিল স্যারের হাতে। 
   স্যার ব্যাটটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে দেখতে বললেন, ‘বাঃ! দারুণ ব্যাট। কোথা থেকে কিনলে ব্যাটটা?’
   রোরো লাজুক মুখে বলল, ‘না না। আমি কিনিনি। আমার দাদু আর ঠামি কাশ্মীর বেড়াতে গিয়েছিলেন। কাল ফিরেছেন। যাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করেছিলেন আমাকে, ‘রোরোবাবু, তোমার জন্যে  কাশ্মীর থেকে কী আনব বলে দাও?’
   আমি বললাম, ‘তোমাদের যা ভাল মনে হবে, তা-ই এনো!’
   ঠামি দাদুর দিকে তাকিয়ে চোখ নাচিয়ে বললেন, ‘আমাদের রোরোবাবু সেভেন থেকে এবার ক্লাস এইটে উঠেছে ফার্স্ট হয়ে। একটা জবরদস্ত প্রাইজ ওকে দিতে হবে তো?’
   দাদু মুচকি-মুচকি হেসে বললেন, ‘আমার মাথায় তো কিচ্ছু আসছে না! তুমিই বলে দাও রোরোর জন্যে কী গিফট আনব?’
   পাশ দিয়ে ছোটকা উঠোনের দিকে যাচ্ছিল। দাদুর কথা শুনে পিছন ফিরে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। আমাকে চোখের ইশারায় কিছু একটা বলতে চাইল। আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। তখনি ছোটকা দাদুর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বাবা, রোরো তো ভাল ক্রিকেট খেলে! ওর জন্যে কাশ্মীর থেকে ভাল একটা ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে এসো! কাশ্মীরে পৃথিবীবিখ্যাত উইলো কাঠের দারুণ ব্যাট তৈরি হয়।’
   দাদু ছোটকার কথার উত্তরে বললেন, ‘সে কি আর আমি দেখেশুনে কিনতে পারব? বেমালুম ঠকে যাব।’
   ছোটকা বলল, আমি ইন্টারনেট সার্চ করে দোকানের নাম রোরোকে বলে দেব। রোরো তোমাকে সব লিখে দেবে, কেমন?’
    তারপর ছোটকা হাতের কাজ ফাঁকা হতে আমাকে ডেকে বলল, ‘রোরো, তুমিও তো নেট দেখে কোন দোকানটা ভাল, কোথায় দারুণ ব্যাট পাওয়া যায়। দাদুকে সে দোকানের নামটা লিখে দিতে পারো? তোমারই তো ব্যাট আসবে।’
   তক্ষুনি আমি ছুটলাম লাপটপ অন করে নেট সার্ফ করতে। আমি নেটে দেখলাম, শ্রীনগরে ভাল ব্যাটের দোকান অনেক আছে। ওরকম একটা বড় দোকানের নাম হল ‘ক্রিকেট টপার’। আমি একটা কাগজে শ্রীনগরের দোকানের নাম আর ঠিকানা এবং ফোন নম্বর লিখে দাদুকে দিয়ে এলাম, ‘এটা রেখে দাও দাদু! উইলো কাঠের ব্যাটের এই দোকানটা শ্রীনগরের বিখ্যাত দোকান। তুমি এই দোকান থেকে ব্যাটটা কিনবে। ওখানে পাওয়া যায় সবচেয়ে ভাল উইলো কাঠের ব্যাট এবং টেনিস বলের ব্যাট, গ্লাভস, বল, হেলমেট, থাই গার্ড, এবং অন্যান্য খেলাধুলার সামগ্রী। ওখানেই এম আর এফ থান্ডার কাশ্মীর উইলো ব্যাট পাবে। ওটাই এনো দাদু!’ বলেই রোরো ফের চোখ বড়-বড় করে বলল, ‘তুমি আবার কাগজটা হারিয়ে ফেলো না যেন?’ একটু থেমে রোরো বলল, ‘না না। তার চেয়ে তোমার ফোনটা দাও! আমি বরং এই কাগজটার একটা ছবি তুলে দিই!’ দাদু মনে হয় ওই দোকানটা থেকেই এই ব্যাটটা কিনে এনেছেন।’
   সকলে মাঠের মাঝখানে স্যারকে ঘিরে ব্যাটটা দেখতে ছুটে এল। স্যার ব্যাটটা দেখতে দেখতে বললেন, ‘আমাদের সচিন তেন্ডুলকর জি-১ কাশ্মীরের উইলো কাঠের ব্যাটেই খেলতেন। ভিভ রিচার্ডসও উইলো কাঠের ব্যাটে খেলতে পছন্দ করতেন সব সময়।’ 
    সিন্ধুজা স্যারের কাছে দাঁড়িয়েছিল। স্যারের হাত থেকে ব্যাটটা নিয়ে দু’ হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল। তারপর রোরোর দিকে তাকিয়ে সিন্ধুজা অনুরোধের গলায় বলল, ‘আমাকে একটা দিন এই ব্যাটে খেলতে দিস রোরো! প্লিজ, না করিস না!’
   স্যার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ব্যাটটা দেখতে দেখতে বললেন, ‘রোরো, তোমার ব্যাটটা খুব সুন্দর হয়েছে। তোমার দাদুর কাছ থেকে এই ব্যাটটা তোমার একটা গ্র‍্যান্ড গিফট। তবে তোমাকে বেশি-বেশি রান করতে হবে মনে রেখো কিন্তু!’
   কে যেন স্যারের পাশ থেকে বলে উঠল, ‘স্যার সচিন অ্যাডিডাস মাস্টার ব্লাস্টার ক্রিকেট ব্যাটে খেলেন বলেই তো একটা স্পোর্টস ম্যাগাজিনে পড়েছি।’
   দেবোপমস্যার চারপাশে তাকিয়ে জানতে চাইলেন, ‘কে বললে কথাটা?’
   এইট ডি-সেকশানের সুজাত পাল কাঁচুমাচু মুখে বলল, ‘স্যার, কথাটা আমিই বললাম। আমি এই কথাটা একটা স্পোর্টস ম্যাগাজিনে পড়েছিলাম!’ 
   স্যার সুজাতকে তারিফ করে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছ! তবে সচিন সব সময় স্পনসর্ড ব্র্যান্ডের ব্যাটেই খেলতেন।’ তারপর একটু চুপ করে থেকে স্যার বললেন, ‘তোমরা জানো, সচিন বেশ ভারী ব্যাটে খেলতে পছন্দ করতেন। সচিনের ব্যাটের ওজন কত কে বলতে পারো, হাত তোলো!’
   দ্বিধার সঙ্গে সুরথ দিন্দা হাত তুলে বলল, ‘স্যার আমি বলব? সচিনের ব্যাটের ওজন ছিল ৩.২৫ পাউন্ড।’ 
   ‘ঠিক বলেছ সুরথ! তবে সবচেয়ে ভারী ব্যটে কে খেলতেন জানো? দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার লান্স ক্লুজনার। তাঁর ব্যাটের ওজন ছিল ৩.৪ পাউন্ড।’
   স্যার অন্যমনস্কভাবে একবার আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকালেন। একটা মস্ত বড় চিল সাঁই-সাঁই করে উড়ে গেল স্কুলের পিছনের ঘটক পুকুরের দিকে। স্যার বললেন, ‘বিকেল গড়িয়ে পড়ল যে! নাও রুচিকা, বল শুরু করো!’
রোরোর নতুন ব্যাট দেখার জটলা ভেঙে গেল। দর্শকরা চলে গেল মাঠের বাইরে।
   ওপাশে উইকেট আগলে ব্যাট হাতে টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল সি-সেকশানের সারিন দাস। সারিন রুচিকার বল-ঘোরানো হাতের দিকে অপলকে তাকিয়ে থাকল। এবার গোলার মতো বেগে ছুটে গেল রুচিকার বলটা সারিনের উইকেটের সামনে। সারিন বলটা মারতে গিয়েও ব্যাটটা তুলে নিল। উইকেট কিপারের গা ঘেঁষে বলটা বেরিয়ে গেল।
   এর পর সেকেন্ড বলটা অত জোরে করল না রুচিকা। যেন রুচিকা ভেবে নিয়ে মনে-মনে বলল, একটা লুজ বল করে লোভ দেখাই সারিনকে! 
   আর কথা নেই। সারিন এই সুযোগটা নষ্ট করল না। বল ব্যাটের মাঝখানে লেগে চলে গেল বাউন্ডারি লাইনের দিকে। চন্দ্রক তৈরি হয়েই ছিল। সারিনের ডাকে সাড়া দিয়ে দৌড়তে শুরু করল। দৌড়ে উইকেটের সামনে থেকে ফেরত চলে এল চন্দ্রক। দু’ রান চলে এল সারিনের সংগ্রহে।
   এর পর থার্ড বলটা করতে গিয়ে রুচিকা কেমন যেন ভুলভাল করে ফেলল। বলটা ব্যাটের নাগালে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। সঙ্গে-সঙ্গে সারিন উঁচুতে তুলে দিল বলটা। বেশ জোরেই মেরেছিল সারিন। দর্শকদের মাথার উপর দিয়ে বলটা গ্যালারি অঞ্চলে বাউন্ডারি সীমানা পেরিয়ে গেল। তিন বল খেলে এখন সারিনের ছ’ রান। এই ওভারে আর দুটো বল বাকি। 
   দেবোপমস্যার বললেন, ‘এরকম করে রান তুলতে দিও না রুচিকা। ব্যাটার মনে জোর পেয়ে গেলে তখন রান আটকাতে পারবে না! রান আটকাও রুচিকা!’ 
   মন দিয়ে স্যারের কথাটা শুনল রুচিকা। এবার কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে সামান্য দৌড়ে এসে রুচিকা একটা স্পিন বল দিল সারিনকে। নাঃ! এ বলটায় সারিন ভেবেছিল ছয় মারবে। রুচিকা স্পিন বল করবে ভাবেনি সারিন। কিন্তু ব্যাটের কানায় না লেগে বলটা সোজা উইকেটে ঢুকে গেল। সারিন আউট! 
(এর পর সপ্তম পর্ব)
শ্রীজা মাইতি
দশম শ্রেণি,নারায়ণা স্কুল,,হলদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর

অণুগল্প
অত্রিকার খেয়াল খুশি

গৌরাঙ্গ দাস 

ঝাঁক ঝাঁক বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, দার্জিলিং ঘুরে বাড়ি ফিরেছে অত্রিকা। চারাগাছ। মাত্র দুই পেরোনো।
   টুপ টুপ বৃষ্টির মত কথা কয়। হাওয়ার দাপটে আঁকা বাঁকা বৃষ্টির মত ছোটাছুটি। ঘরময় ব্যস্ততার ছাপ। বৃষ্টি এলেই ডেরাজ খুলে বের করে ছাতা । লাল রঙের ছাতা ওর প্রিয়।
   এখন সন্ধ্যা। অত্রিকা ছাতা বের করেছে। ঠাম্মার হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে উঠোনে, ছাতা মাথায়।
   কামিনি গাছে ফুল ফুটেছে। ও গাছের পাশে গিয়ে বারবার শ্বাস টানছে অত্রিকা। ঠাম্মাকে বলছে - সুন্দর সুন্দর।
   রাস্তা দিয়ে শা শা শব্দ করে কেউ চলে গেল, ডাকল অত্রিকাকে । সে কি বৃষ্টি?
   ঝম ঝম শুরু হল বৃষ্টি। অত্রিকা ঘরে আসবেনা, বায়না করছে। অনেক বোঝানো শেষে ঘরে এল। ছুটে গেলো জানলায়। ছেয়ে রইলো ধোঁয়া ওঠা বৃষ্টির দিকে।
   ও এখন খাটের বিছানায়, বালিশে মুখ গুজে শুয়ে আছে। ওর মা ডাকছে - খেতে এসো, অনেক রাত হয়েছে। অত্রিকা উত্তর করল -খাবো না, মন ভালো নেই।

 সকালবেলা। আমি পড়ার টেবিলে। সন্দেশ পত্রিকা পড়ছি। এমন সময় অত্রিকা ছুটে এসে- আমার কোলে উঠে বসল। শুরু করল সন্দেশের পৃষ্ঠা উল্টাতে।  ছবির গায়ে আঙ্গুল রেখে বলতে লাগলো- পাখি সাপ বক হাতি বানর...। জঙ্গলের ছবিতে আঙ্গুল ঘষে বলল -জঙ্গল মশা। মানুষের ছবি দেখে বলল মা ঠা ( ঠাকুমা )গাগু ( দাদু) বাবা কাকা বনি...। চায়ের কাপ হাতে ধরা একজন মানুষের ছবি দেখে বলল- চা খাবে গাগু? তারপর, একটা বাচ্চা মেয়ের ছবির দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলল- পুচকি। ডাকলো মাকে, বলল -দুধ নিয়ে এসো, পুচকি কে খাওয়াবো। ঝিনুক...
 সন্দেশের পৃষ্ঠা উল্টানো শেষ হয়েছে,কোল থেকে নেমে গেল অত্রিকা। ডায়নিং এর দিকে যেতে যেতে ফিরে এলো, বলল- গাগু আমাকে গল্প শোনাবে তো? বললাম- পড়া শেষ হোক শোনাবো। মাথা নাড়িয়ে অত্রিকা চলে গেল। হঠাৎ আমার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো -'আমাদের বকুলতলায় ভীড় জমেছে,বসেছে মেলা...'।অত্রিকা কোথায় ছিল ছুটে এলো, মোবাইলের রিংটোন এর সঙ্গে হাত তুলে বেশ নাচতে শুরু করল। রিংটোন থেমে গেলে, নাচ থামিয়ে বলল -গাগু মেলায় নিয়ে যাবে তো? আমি বললাম - হ্যাঁ। তা, অবার নাচবে নাকি, গান বাজাবো?অত্রিকা বললো- না,এখন পড়তে বসতে হবে,মা বলেছে। অত্রিকা চলে গেলো। 
আমি সন্দেশের পাতা বন্ধ করে  নিষ্পাপ  অত্রিকাকে পড়তে লাগলাম। পড়তে লাগলাম এ দুঃসময়ে -  এ আই এর থাবার নিচে বেড়ে উঠতে থাকা এক শিশুর চেতনাকে...

🍂

গল্প 
মলিন বিষাদের পাড়
(২য় পর্ব)

শৌনক রায়
একাদশ শ্রেণিদরাপপুর হাইস্কুল,নদীয়া জেলা

পরদিন সকালে চন্দ্রালিকার আর পাতামুখর উঠান দেখতে হলনা। রিনু আগেই ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করেছে সব। রিনুর বাবা রোজকার মত আজও বোবা পাথর হয়ে বসে আছেন উনানের পাশে। আজ ঘরে চাল নেই তাই ভাতের হাড়ি বসাবার জোগার নেই। চন্দ্রালিকা এক মালিকের কাছ থেকে ধার নিয়ে বাজারে গেছেন। তাই রিনু এখন তার মা'র আসার অপেক্ষা করছিল। এমন সময় রিনুদের ফোনটি বেজে উঠল। দৌড়ে গিয়ে ফোন ধরলে ওপার থেকে ভারী গলায় উত্তর আসল

   - কে? রিনু বলছে?

রিনু সম্মতি দিলে লোকটি বললেন

   - আমি তোর হেডস্যার বলছি। তুই স্কুলে মেয়েদের মধ্যে টপ করেছিস। এবার তোকে নতুন স্কুলে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি হতে হবে।

   - কিন্তু

   - কিন্তু কি? তোর মা না করছেন। আমি কথা বলে নেব। এছাড়া তুই তো কিছু স্কলারশিপ পাবি, আর আমরাও আছি।

   রিনু কিছু একটা বলার পূর্বেই ফোনটি কেটে দিলেন রিনুর হেডস্যার। রিনুর মন এখন উতলা; সে এখন আলো-আঁধারের মাঝ সমুদ্রে। সে জানে যে মাধ্যমিক অবধি তার মা যাও টেনেছে এরপর আর তার সামর্থ্যে কুলোবে না। এদিকে রিনুর পড়ার ইচ্ছে প্রবল।

   রিনু এখন নতুন স্কুলে একাদশ শ্রেনীতে আর্টস পড়ছে। সেদিন রিনুর হেডস্যারই রিনুর মা'কে রাজি করান। স্কুল থেকে বারবার সায়েন্স নিতে জোর করলেও রিনুর মা আর্টস-এই নিজের সামর্থ্যর উর্দ্ধে গিয়ে রাজি হন। ভর্তির প্রথমটা বেশ ভালো গেলেও পরিস্থিতি ক্রমেই ভেঙে পড়ে রিনুদের। রিনু তার স্কলারশিপের অর্ধেকটাই পায়না। সাইবার ক্যাফে, পঞ্চায়েতে বারবার ঘোরাঘুরি করেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এদিকে তার বাবা, শীতলের কথা বলা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। টানা অনেকদিন না খেয়ে থাকে। ডাক্তার কবিরাজেও কোনও উপায় হয়নি। রিনুর মা সত্তর কেজি থেকে পঞ্চাশে পৌছয়। তার মানসিক অবস্থা প্রায়ই খিটখিটে হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ বিল অপরিশোধে বিদ্যুৎসংযোগও কেটে দেওয়া হয়। রিনুও কোচিং-এর অভাবে ও বাড়িতে পড়ার অবস্থা না পেয়ে পিছিয়ে যেতে থাকে। পরিস্থিতির শিকার রিনু স্কুলে যাওয়া কমিয়ে দেয়।
এর মধ্যেই একদিন রিনুদের বাড়িতে এলেন এক ভদ্রলোক। তার পাশেই দাড়িয়ে ছিল দশ-এগারো বছরের একটি ছেলে। ভদ্রলোক রিনুকে ডেকে বললেন

   - আমাকে তোমার আগের স্কুলের হেডস্যার পাঠিয়েছেন।

   - হ্যাঁ বলুন। কোনো দরকার?

   - না, বিশেষ কিছু নয়। আমার এই ছোটো ছেলে ক্লাস ফাইভে উঠল এবার। যদি তুমি একটু পড়াতে ওকে; তবে খুব উপকৃত হতাম।

   রিনু নিজে কখনো কোচিং বা প্রাইভেট পড়েনি। অতএব সে পারবে কিনা বা পারলেই বা তার মা মানবে কিনা এসমস্ত ভাবতে লাগল। এদিকে ভদ্রলোক আবার বললেন

   - আমি সর্বচ্চ ৫০০ টাকাই দিতে পারব প্রতি মাসে।

একথা শুনে রিনুর আর না করার জায়গা থাকল না।

দেখতে দেখতে আরও দুটি ছাত্রী যোগ দিল রিনুর কাছে। ছোটো রিনু আর ছোটো রইল না। গ্রামের অনেকেই এখন তাকে আত্মনির্ভর বলা শুরু করেছে। তার নিজের পড়াশোনার গতিও বাড়ল। রিনুর মাও আজ আর রিনুকে বেশি বকাবকি করেন না। প্রত্যেক অনুষ্ঠান-পুজো-পার্বণ নতুন জামা কেনার সামর্থ্য হল না ঠকই কিন্তু নিজের পড়াশোনা ও বাবার চিকিৎসার টাকাটুকুর ব্যবস্থা হয়ে গেল এতে।
যখন রিনু দ্বাদশ শ্রেনীতে তখন তার মোট ছাত্রছাত্রী সংখ্যা হয়ে দাড়ায় আট। এবার পুজোর ছুটি পড়লে রিনু প্রথমবার তার নিজের টাকায় তার মা ও বাবাকে একটি শাড়ি ও জামা দিল। নিজেও কিনল। যে রিনু ছোটো বেলায় বন্ধু বান্ধবদের পুজোর আগে জামা কেনার গল্পে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকত সে আজ নিজের টাকায় পোশাক কিনছে - এ ভেবেই তার ভীষন আনন্দ হয়। এই সময়ে তার বাবা আবার টুকটাক বলা শুরু করেছে।

   সমস্যাটা যদিও এসে দাড়ায় দ্বাদশ শ্রেণীর শেষের দিকে। শীতল-এর শরীর দিনকেদিন পড়তে থাকল। শেষটায় হসপিটালাইস করেও লাভ হয়নি। চন্দ্রালিকা মুখে যতই বলুক

   - সালার বোঝাডা গেছে আড়কি। সারাডাদিন বইয়া থাইক্যা আমার যা হাড় জ্বালাইতন করছিল তা আর নাই কইলাম।
   কিন্তু সে যে ঠিক কতটা কষ্ট পেয়েছিলি তার প্রমাণ রিনু প্রতি রাতে মায়ের গোঙিয়ে গোঙিয়ে কাঁদার থেকে স্পষ্ট বুঝতে পায়। রিনু নিজেও খুব ভেঙে পড়ে। মায়ের বকা শুনে পিছনে আশ্রয় নেওয়ার মতো একমাত্র মানুষটি আজ আর নেই। ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকা, বোকা বোকা কথাগুলো রিনুর খুব মনে পড়ে। একসময় বাবার মাতলামিতে খুব রাগ হত এখন সেই মাতলামিকেই বারবার মনে করে রিনু।

 এই ঘোর থেকে বেরোতে না বেরোতেই রিনুর পরীক্ষা চলে আসে। রিনু তখনও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত ছিলনা। স্বাভাবিকভাবেই ফলপ্রকাশের দিন খুব কাঁদে রিনু। তার রেজাল্ট মোটেও আশানুরূপ ছিলনা। রিনুর ছাত্রাছাত্রীর অভিভাবকেরাও একে একে তাদের ছেলেমেয়েদের অন্য কোথাও পড়তে পাঠায়। এদিকে রিনুর মায়ের হাতে মুখে অতিরিক্ত পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট হয়। বাধ্য রিনু মাঝে মাঝে মায়ের পরিবর্তে কাজে যাওয়া শুরু করে। কিন্তু রিনুর আত্মবিশ্বাস এবার আরও বেশি। সে তার এতদিনের সঞ্চয় দিয়ে একটি সরকারি আই টি আই কোর্স-এ যোগ দেয়। জীবনে প্রথম সে কোচিং জয়েন করে; এদিকে সে এস এস সি'র প্রস্তুতিও পুরোদমে নিতে থাকে।

 দেখতে দেখতে রিনুর বয়স দাড়ায় কুড়ি। পাড়া প্রতিবেশীর চাপে চন্দ্রালিকা রিপুর বিয়ের কথা ভেবে মাথা খারাপ করে। এদিকে রিনু এসবে পাত্তা দেয়না, সে আরও দৌড়তে চায়।

  দিন যেতে না যেতেই রিনুর প্রথম সরকারি চাকরি পরীক্ষা চলে আসে। অ্যাসিটেন্ট লোকো পাইলটের পরীক্ষা। পরীক্ষার দিন অবশ্য চন্দ্রালিকা আর রাগ করলেন না। তিনি আজ মালিকদের থেকে ছুটি নিয়েছেন। মেয়েকে খেতে দিয়ে তিনি মেয়ের মুখের দিকে চাইলেন। অনেকদিন পড়ে এমন শান্ত মুখটির দিকে চাইলেন তিনি। রিনু আজ একটি সালওয়ার কামিজ পড়েছে। রঙটি হল হালকা পেস্তা বাদামের মতো। কোথাও কোথাও আবার অতিব্যবহারের ফ্যাকাশে ছাপ স্পষ্ট। পায়ে তার মায়ের মালিকের দেওয়া একটি পুরোনো স্যানডেল। পরীক্ষার সেন্টার গ্রাম থেকে পঞ্চান্ন কিমি দূরে। রিনু ট্রেনে বাসে চেপেই যাবে। সমস্ত গুছিয়ে নিয়ে রিনু যখন বেরোচ্ছে তখন তার মা বললেন,
  - আমি জানি তুই পাড়বি মা। ঠান্ডা  মাথায় দিস।


   রেজাল্ট বেরোল বছরের শেষ দিকে। রিনু তখন গ্রামের একটি সাইবার ক্যাফেতে বসে আছে। কম্পিউটারে লিস্ট সে একটি একটি করে দেখছে। অনেকটা দেখে হঠাৎ রিনুর চোখ থমকে গেল। লিস্টে লেখা রয়েছে - REENULIKA MOJUMDER!

   অডিটোরিয়ামে হঠাৎ একটা হাততালির ছন্দ বয়ে গেল। অডিটোরিয়ামটি বেশ বড়ো। স্টেজের মাঝ বরাবর কিছুটা পিছনের দিকে তিনটে টেবিল পাশাপাশি রাখা; তার উপর টেবিল ক্লথ পাতা রয়েছে। টেবিলের ওপারে পরপর বসে রয়েছেন কিছু বিশিষ্ট অতিথিগণ। টেবিলে তাদের সম্বর্ধনা জ্ঞাপক ফুলের তোরা, উত্তরিয় এবং প্রত্যেকের একটি করে জলের বোতল রাখা আছে। স্টেজটি বকমারি ফুলে সজ্জিত রয়েছে। স্টেজের সামনে প্রায় দু'শো ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকেরা বসে আছে। স্টেজের এক প্রান্তে পোডিয়ামে দাড়িয়ে গল্প পাঠ করছে একটি সেভেন-এইটে পড়া মেয়ে। তার পরনে সাদা স্কুল শার্ট ও গাঢ় ধূসর ফ্রক। পায়ে সাদা ফুল মোজা সমেত কালো কেডস। চুলটা ঘাড়ের উপর পর্যন্ত কাটা। চোখে একটি গোলাপি ফ্রেমের চশমা। জামার পকেটের উপর রয়েছে একটি মেটাল ব্যাজ। তাতে খোদাই করা রয়েছে - 

MIMI MAJUMDER
CLASS MONITOR

   কিছুক্ষন চুপ থেকে মিমি আবার গল্প পাঠ শুরু করল।

   - চাকরিতে জয়েনের পর রিনু শহরে শিফট হল। রিনুর মার স্বাথ্য অনেকটা শুধরেছে। তিনি আজকাল শহরের বাড়িতে এদিকে ওদিকে ঘুরে বেড়ায় আর বাড়ির চাকরদের সাথে নিজের ও তার মেয়ের গল্প করেন। গতবার পুজোতে রিনু ও চন্দ্রালিকা কলকাতায় শপিং করেছে। রিনু ছুটি পেলেই মায়ের সাথে গ্রামের বাড়িতে যায় মায়ের সাথে গল্প করে দিন কাটায়...

   প্রায় ৫ মিনিট পর মিমি থামল। স্টেজের এক পাশের দরজা দিয়ে একজন মহিলা স্টেজে প্রবেশ করল। মহিলাটির পরনে একটি হালকা ধূসর ফুলশার্ট ও পায়ে গাঢ় ধুসর ফুল প্যান্ট। গলায় রয়েছে একটি আইডি কার্ড, মহিলাটির চোখ দৃঢ় কিন্তু মালিনতার ছাপে পূর্ণ। তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন মিমির দিকে। মিমিকে জড়িয়ে ধরে সে তার হাত থেকে মাইক্রোফোনটা সযত্নে নিজের হাতে তুলে নিলেন এবং কিছু বলবার পূর্বে স্টেজের গণ্যমান্য ব্যাক্তির একজন মাইক্রোফোন হাতে এগিয়ে এলেন। ভদ্রলোকের কোটের ব্যাজে লেখা রয়েছে - PRINCIPAL ,

তিনি বললেন 

   - এই ম্যাম হলেন তোমাদের সহপাঠী মিমি মজুমদারের মা রিনুলিকা মজুমদার। ইনি হলেন একজন লোকো পাইলট। ইনি হলেন আমাদের এক বিশিষ্ট অতিথী। সম্প্রতি তিনি দুটি স্ত্রী শিক্ষা এন. জি.ও-তে ফানডিং করেছেন। আজ আমরা উনার মেয়ের মুখে উনারই কাহিনী শুনলাম। এখন স্বয়ং রিনুলিকা ম্যামের মুখেই তোমরা কিছু বিশেষ বাক্য শুনবে।

   প্রিন্সিপাল আবার তার যথাস্থানে বসার পর রিনুলিকা বলা শুরু করল

   - আমার আজও মনে পরে, আমি যখন প্রথম স্কুলে ভর্তি হই তখন আমায় মা বলেছিল 'মা, তোর পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাড়াতে হবে।' আমি তখন সহাস্যে বলেছিলাম তাহলে আমি বুঝি এখন লোকের পায়ে দাড়িয়ে আছি? তখনকার মায়ের সেই উক্তিই আমি এখন বুঝতে শিখিছি। ছোটোবেলায় মায়ের আদর আস্তে আস্তে কড়া থেকে কড়া শাসনে পরিবর্তন হওয়াটা আমায় খুব কষ্ট দিত। কিন্তু তার মর্মার্থ আমি আজ বুঝি...। তোমাদের কৌতূহল কাটাতে বলি, গল্পে সেদিন সকালে আমি ঘুমাচ্ছিলাম না, আমি সেদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলাম আমার গায়ে আমার নখেরই কিছু আচর লেগেছে। আমার মনে হল একটু বোরোলিন লাগিয়ে নিই; তাই আমি আমাদের ভাঙা একখান শোকেসে হাত লাগালাম। কিন্তু বোরোলিন খোঁজার আগেই আমি দেখলাম একটা খাম। খামটি বেশ পুরোনো। অনেকদিন হাত পরেনি। খুলে দেখলাম তাতে লেখা রয়েছে - Mr. Sital Mojumder is diagnosed to have catatonia...


পাঠ প্রতিক্রিয়া
ছোটোবেলা ১৮৯ পড়ে সুদীপ্তা আদিত্য যা লিখলেন :

অনেকটা ভালোলাগা নিয়েই লিখতে বসলাম, খুবই সাধারণ আর সাবলীল লেখা ছবিতে ভরপুর আমার বহু পরিচিত বহু কাছের এই  জ্বলদর্চি!জানলা খুললেই যেমন শীতের বিছানায় মাখো মাখো উষ্ণ রোদ বিছিয়ে পড়ে, তাতে আমরা এলিয়ে দি তেমনি এই মিয়াও! মিয়াও! করতে করতে ঘরের পোষ্য টাও আরামে চলে আসে কোলের মধ্যে। এই রবিবার এর দুপুরে বিড়াল টিকে নিয়ে বিছানার উমে জ্বলদর্চি উপভোগ করতে করতে দিনটা বাচ্চা থেকে বড়ো সবাই কাটাতে পারে এমনিই আমাদের মাননীয়া সম্পাদিকা মহাশয়া মৌসুমী দিদিভাই এর পরিশ্রম আর নিষ্ঠা!যাই হোক এবার আসি মূল আকর্ষণ এ!চিত্র সংগ্রাহক মৃনাল ঘোষ এর চমকপ্রদ ফ্রেম টা দেখার মতন!এর পর আসি রতনতনু ঘাটী মহাশয় এর গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ পর্ব ৫ এ লোকনের মনের মতন টিম এ সিলেক্ট না হওয়ার আক্ষেপ আর তার দিদি পারুলমনির ভাইয়ের মন ভালো রাখার জন্ চেষ্টা আমাকে চোখ ফেরাতেই দেয়নি! রাজীব কুমার ঘোষ মহাশয় এর প্রচ্ছদ টাও মানানসই একদম।পর্ব ৬ এ দিদির চেষ্টা কতটা সফল হয় সেটাই দেখার এখন!এবার বোন আত্রেয়ী জানার গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ আমাকে আ৺কড়ে ধরেছিল ভীষন ভাবে। পুরোনো পরিচিত গ্রামীণ অলিগলি পেড়িয়ে খেয়া পারাপার নষ্টালজিক বেশ!যদিও আমার ব্যাক্তিগত ভাবে তেমন নৌকোসফর হয়ে ওঠেনি! শৌনক রায় ভাইয়ের লেখা গল্পের চরিত্র রিনু বড্ড লড়াকু মনোভাবের মেয়ে, গ্রামের সহজ সরল মেয়ের মধ্যে জ্বলন্ত জেদ এর কাছে হার মেনে যায় বাড়ন্ত ভাতের চাল। মাধ্যমিক এ ৬০০ পাওয়া এক মেধাবী ছাত্রীর একাদশ শ্রেণিতে ওঠার গল্প ক্রমশঃ প্রকাশ্য।সবচেয়ে আকর্ষণ তো এখানেই, দেশী ছত্রে বিদেশী গল্প!আর্মেনিয়ার রুপকথা কে কেন্দ্র করে স্বচছল কৃষক বার্টান আর ছেলে মেয়ের সংসারে ভরা ভরা সবকিছুতে সদ্য বিয়ে করে আনা সৎ মা এর কুবুদ্ধিতে সর্বনাশ আসে।কিন্তু কিভাবে মা মরা বাচ্চা দুটো প্রানে বা৺চে তাই নিয়েই এই গল্প, সবকিছু মিলিয়ে জ্বলদর্চি আস্তে আস্তে আরো বিস্তার লাভ করছে!নতুন নতুন লেখক লেখিকা দের জন্য একটা ভীষন সুন্দর প্ল্যাটফর্ম হতে চলেছে এটি! পত্রিকার পুরো টিম কে ধন্যবাদ জানাই এতটা পরিশ্রমের সাথে সৃষ্টিশীলতাকে জাগিয়ে রাখার জন্য!

Post a Comment

0 Comments