জ্বলদর্চি

স্মরণের আবরণে/ চিত্রা ভট্টাচার্য্য

স্মরণের আবরণে 

চিত্রা ভট্টাচার্য্য

'' শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রা :
আয়ে চ ধামানি দিব্যানি তস্তু ;
বেদাহমে তং পূরুষঙ মহান্তম 
আদিত্যবরনং তমস :পরস্তাৎ। .
তমেব  বিদিত্বা অতিমৃত্যুমেতি 
নান্যমপন্থা বিদ্যতে অয়নায়।  ''---(শ্বেতাশ্বতর উপনিষৎ )

 শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে  বিদেহী  পিতার আত্মার উদ্দেশে একান্ত প্রজ্ঞায় মন্ত্র উচ্চারণ করছিল শাওন  ,বর্ষা। বৈদিক বা বৈদান্তিক ঐতিহ্যের বিশ্বাস মানুষ নয় বরং তার দেহই মারা যায় মানুষ অমরত্বের পুত্র। শ্রী মদ্ভগবৎ গীতায় ও রয়েছে একই ধারণা। প্রাচীন ভারতের উপনিষদ মানুষকে অমরত্বের সন্তান হিসেবে মহিমান্বিত করেছে। যখন আসক্তির বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে তখন জলস্থল-আকাশ, জড়জন্তু, মনুষ্য সমস্তই অমৃতে পরিপূর্ণ--তখন আনন্দের অবধি নেই।

  সব শেষে আসে সেই প্রার্থনা,' 
.“ওঁ মধুবাতা ঋতায়তে। মধু ক্ষরন্তি সিন্ধব:। মাধ্বীর্ন: সন্তু ওষধি:।
মধু নক্তমুতোষসো। মধুমত্‍ পার্থিবং রজ:। মধু দ্যৌরস্তু ন: পিতা। 
মধুমান্নো বনস্পতির্মধুমানস্তু সূর্য:। মাধ্বীর্গাবো ভবন্তু ন: ॥“ 
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি ৷৷                  বৃহদারণ্যক ৬॥৩॥
                                                                                                                
এ  আকাশ মধুময় হোক, বাতাস মধুময় হোক, তোমার আগামীর পথ শান্তির ও আলোকময় হোক, যারা রয়ে গেল তাদের আশীর্বাদ করো। তাদের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রবাহিত হোক বংশের সমস্ত সৎগুণ। 

মৃত্যু সম্পর্কে ছোটবেলায় পড়া মধুকবির লেখা ধ্রুব সত্য লাইন টি মনে পড়ছে। ''জন্মিলে মরিতে হবে ,অমর কে কোথা কবে ,চিরস্থির কবে নীর, হায় রে , জীবন নদে ?" জীবনের সঙ্গে মৃত্যুর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক জানলেও ওর বিক্ষিপ্ত হতাশ মন নিজের মাঝেই সান্ত্বনা খোঁজে । 

 এ কেমন নিয়ম বা সংস্কার ? এ কেমন শাস্ত্রীয় বিধি বা লোকাচার? প্রিয় মানুষটির মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধের মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় সে এখন এ জগতের কেউ নয়। পিছুটান বা মায়া কাটানোর জন্য তাকে যে পিন্ডদান করা হয় তা অত্যন্ত অবহেলার দান। কারণ বুড়ো আঙুলের ফাঁক দিয়ে তা গড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি মন্ত্রে তার নামের আগে উচ্চারিত হয় 'প্রেতা' শব্দটি।  সব হারানোর আশঙ্কায় উথালপাথাল মনের ভাবনায় বিষণ্ণ মন স্তব্ধতায় চাপা পড়ে থাকে ।  ওর সব প্রশ্নর উত্তর চাই পাশে বসে থাকা আজীবন  সুখদুঃখের বন্ধু, এককথায় বলা যায় ফ্রেন্ড ফিলসফার এন্ড গাইড পল্লবীর কাছে, অশান্তমন বারেবারে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ায়।                      সোসিও লজি নিয়ে গবেষক পল্লবী নির্বাক চোখে দেখেছে এই কয়েকদিনে ২৮শের শাওন এক লহমায় জগতের যত জটিল কুটিল অনভিপ্রেত সমস্যার সাথে লড়াই চালিয়ে হঠাৎ কেমন বড়ো হয়ে গেল।  
🍂
এই তো সেদিন বৈশাখের তপ্ত গৈরিক দুপুর। কড়া চোখের জ্বলন্ত দৃষ্টি তে জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে কলকাতার উপকণ্ঠে চন্দননগরের পীচঢালা কালো সড়কপথ। শাওন বর্ষার হাত ধরে সারিবদ্ধ লাল রঙে আকাশ মাতানো পলাশের তলে দাঁড়ালো। অদূরে শ্বেতপদ্ম রজনীগন্ধা সুগন্ধি অগরু চন্দন ধূপের সুগন্ধের মাঝে সৌম্য শান্তরূপের ওদের বাবা গভীর প্রশান্তিতে অন্তিম শয্যায় শায়িত যেন এক একাকী পথিক চলেছে পার্থিব এই বিশ্বলোকের মোহ মায়ার নিগূঢ় বাঁধন ছিড়ে এক দুর্গম পথে। জীবনের পারানি নৌকায় এসেছে সুন্দরের অমোঘ আহ্বান। সে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আকাশের নীলে। অনন্ত লোকের অপার্থিব আনন্দ নিকেতনের যাত্রায়।

 সামনে বাঁধানো চত্বর টুকুপার হলে পরপর অনেকগুলো সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে তরতরিয়ে বয়ে চলেছে পতিতপাবনী ভাগীরথী। রুদ্ধ চোখের জল গরম তরল লাভার মত নিঃশব্দে গড়িয়ে পরে বাধা মানেনা।  দাউদাউ আগুন থেকে উৎসারিত লেলিহান শিখা কুন্ডলি পাকানো ধোঁয়ার রাশি কালনাগিনীর মত অজস্র ফণা মেলে প্রাণহীন দেহ টিকে অবলীলায় গ্রাস করলে বেলাশেষের ধূসর আকাশে স্বেচ্ছায় মিশে যাচ্ছে অস্তিত্বের শেষ বিন্দুটি। সময়ের রথের চাকা সাতঘোড়ায় জীন লাগিয়ে বনবন করে ঘুরছে।ওদের সমস্ত পৃথিবী টা। চারদিক লাগছে সহায় সম্বল হীনের মত ধুঁধুঁ মরুপ্রান্তর। পল্লবী নীরব দর্শক। কবে যেন শাওনের পরিবারের ও এক গুরুত্ব পূর্ণ সদস্য হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে ওদের পাশে থাকা ছাড়া সান্ত্বনা জানানোর ভাষা ও জানে না । 

 ভাগীরথীর শান্ত জলে মন্ত্র পাঠ করে অস্থি বিসর্জনের পর সব কাজ মিটিয়ে ঘরে ফিরতে সন্ধ্যে নামলো । পুরোনো দিনের ঐতিহ্যের স্মারকচিহ্ন স্বরূপ পৈতৃক বাড়িটার জানলা দরজা বারান্দা এমন কি পিলারগুলো সব বিরাট হাঁ মুখ করে গিলতে আসছে। নীরবতায় ভরে আছে শুধু ঝিঁঝি ডাকা অন্ধকার। শাওনের এখন বহুমুখী দায়িত্ব অফিসের নানাবিধ কাজ সামলানোর পর মা ও বর্ষার মনের পাশে থেকে যত্নশীল হয়ে খেয়াল রাখা ।  

  আত্মীয় স্বজনের আলোচনা থেকে ও শুনেছিল হিন্দু শাস্ত্রে শ্রাদ্ধের অধিকার একমাত্র পুত্রসন্তানের। দুদিন বাদে আজ বাড়িতে পন্ডিতমশাই এসে বিধান দিয়ে গেলেন, গরুরপুরানের  নিয়ম অনুযায়ী যে ব্যক্তির শুধু কন্যা , তারাও পিতৃ শ্রাদ্ধের অধিকারী হবেন।  শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানের বিশেষ নিয়ম কানন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও ক্রিয়া কর্তব্য পূজা পাঠে পূর্বপুরুষদের তিলজল দান করে তর্পন করার সঙ্গে পরিবারের শান্তি সমৃদ্ধির সাথে বিদেহী আত্মার ও মুক্তিলাভ হবে। তার মতে প্রথা অনুযায়ী আদিকাল থেকেই মৃত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দশ দিন সাত্বিকভাবে হবিষ্যান্ন ও সংযম পালনের পর স্নানাদি শেষে নতুন বস্ত্র পরিধাণ করে শুদ্ধ হয়ে এগারদিনের দিন শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে বিশেষ রীতি অনুসারে পূজাপাঠের ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের অনুমতি পাওয়া যায় । পূজা পাঠের দান সামগ্রী ইত্যাদির নানা উপকরণের লম্বা ফর্দ খরচ বাবদ মূল্য ধরে দিলেই এই শ্রাদ্ধের সামগ্রী জোগাড় ও মৃতের বৈতরণী পারের সমস্ত রকম ব্যবস্থা তারাই সম্পন্ন করে দেবেন। 

  এই দশ দিনে সব নিকট আত্মীয়স্বজন দেখা করতে এসে এই শোকার্ত পরিবার কে গভীর সমবেদনা জানিয়ে গেলেন। লৌকিকতা স্বরূপ  ফলমিষ্টি হবিষ্যান্নর সাথে বস্ত্রাদিও কেউ দিয়েছেন । কেউ বা প্রথামেনে ঘাটের কাজের জন্য মূল্য ধরে দিলেন। কিন্তু শাওন বর্ষার আধুনিক যুক্তিবাদী মন বিরোধিতা করে। ওরা ওদের মায়ের ব্যাথিত, আঘাত প্রাপ্ত নীরব মুখটি বারবার দেখতে পায়। বুঝে পায় না,এই লৌকিকতাবোধ কেন?  মায়ের সাথে ওরা সমান সংকুচিত বোধকরে। প্রশ্ন জাগে মনে, সমবেদনা জানাতে এসে কেন এত সব লোক লৌকিকতা ? যে পিতৃ শোক ওরা ভুলে থাকতে চায় এ সব দানের নিয়ম বারবার করে মনে করিয়ে দেয় ওদের বাবা তো আর নেই ! সে কখনো ফিরে আসবে না। এটাই চরম বাস্তব।

 মনের ক্ষোভে রাগ দুঃখ অভিমান জানায় পল্লবী কে। বলে এইসব দান ক্রমশঃ নিয়ম ও প্রয়োজনের তুলনায় অঢেল হয়ে যাচ্ছে। এত কি প্রয়োজন?  আপন জন চলে গেলে যে পরিবারের সত্যি প্রয়োজন সে পরিবারের পাশে অবশ্যই থাকা উচিত এবং একশত বার তাদের আপদে বিপদে পাশে দরকার। কিন্তু যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে কেন?

  অপ্রত্যাশিত পিতৃ বিয়োগের অসহনীয় দুঃখ ভোলার ছলে আরো দুঃখের বোঝা বাড়িয়ে চলে  নিয়ম সংস্কারের এই  বারাবারি। সংযমের এই দিন গুলিতে খাদ্য পানীয় আহারে ওদের বিন্দুমাত্র স্পৃহা নেই , নতুন কাপড় গ্রহণ করার  রুচি ও আদৌ থাকে কি ? শাওন ভাবে তাদের এ দুঃখের দিনে সমাজের এই লৌকিকতার দায় বইতে মায়ের সাথে মেয়েদের ও  বিচিত্র রকম অভিজ্ঞতায় ঝুলি ভরে উঠছে।   

পল্লবী মন দিয়ে শুনছিল এ যুগের যুক্তিবাদী স্বনির্ভর কন্যা শাওন ,বর্ষার কাছে শ্রাদ্ধ' কথাটির সহজ বিশ্লেষণ।       শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা শ্রাদ্ধ। পূর্বপুরুষের, বিশেষত মৃত পিতামাতার মৃত্যুর পর নশ্বর দেহটির সৎকার করে আত্মীয় স্বজনের একান্ত কর্তব্য মৃতের বিদেহী আত্মার সদ্গতির জন্য নিরন্তর প্রার্থণা।  স্থির চিত্তে তাঁর আত্মার শান্তির কামনা করা। হিন্দু ধর্ম বলে, 'থাকা' আর 'না থাকা' এই দুই জগতের মাঝের যে সেতুটি, সেটি প্রার্থনা। তিনিই হলেন একমাত্র স্বজন--পরমাত্মার আত্মীয় যিনি সম্পূর্ণ আন্তরিকতা ও ভক্তিভরে পূর্বপুরুষদের স্মরণে নিষ্ঠা সহকারে পূজাপাঠের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনায় পরলোকে যাত্রার পথ সুগম করেদেন। বর্ষার মতে শ্রাদ্ধ বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি পবিত্র অনুষ্ঠান। তাঁদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে দান-ধ্যান ও অতিথিভোজনের এক সাত্ত্বিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হোক।  
 
ক্রমশঃ শ্রাদ্ধের দিন এগিয়ে এল। শাওন  চিন্তিত ,' আজকাল প্রায় সর্বত্র শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে শোক পালনের মধ্যেও বাহ্যিক আড়ম্বরের চুড়ান্ত প্রকাশ চোখে পড়ে ।  নানা রকম নিরামিষ রান্নায় আহারের বিশাল আয়োজন তো থাকেই এবং নিয়ম ভঙ্গেরদিন ও আমিষ ভোজনের তালিকাতে চব্য চোষ্য লেহ্য পেয়ো মিলিয়ে বেশ লম্বা মেনুতে অত্যাধিক আড়ম্বরের শেষ নেই।। শ্রাদ্ধবাসর সাদা কাপড়ে মোড়া নানা রূপ জাঁকজমকে ভরিয়ে তোলা। যেখানে কৃত্রিমতার সাথে  বিলাসিতার ঢাকঢোল বেশি করে বাজে। শোকের ছায়া গৌণ হয়ে যায় বরং পরিবর্তনে ভেসে পরিপূর্ন হয়ে ওঠে হৈহৈ করা দৃষ্টিকটূ এক শোকের বাসর।

 লোকনিন্দা সমালোচনা ঝড় ইত্যাদির কারণে পিতামাতার মত স্বজন হারানো শোকার্ত সন্তানরা সাধ্যমত আয়োজনে সচেষ্ট হয়। বর্ষা,শাওনের মা বলেন, বর্তমান সমাজে প্রচলিত শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান আত্মীয় স্বজনের মতামত অনুসারে সম্পন্ন করা উচিত।  

ইদানিং সমাজের রেওয়াজ অনুযায়ী ওরা শ্রাদ্ধশান্তির ব্যবস্থা করেছিল সকল নিয়মকানন মেনে সব সুবিধা বজায় রেখে। যাতে নিমন্ত্রিত অতিথি অভ্যাগতদের  বিন্দুমাত্র অসুবিধা না হয়।  তারা এসেছিলেন ফুল মালা মিষ্টির সাথে অবশ্যই বিবিধ বস্র ইত্যাদির উপহার সমেত। এ যেন এক উপহার দেবার প্রতিযোগিতা। যে পরিবারে এর বিন্দু মাত্র প্রয়োজন নেই সে পরিবারে এই উপহারের  খাম বা  শাড়ির স্তূপ হাতভরে গ্রহণ করতে শোকার্ত মা মেয়েদের অসহ্য মানসিক যন্ত্রনা কে বুঝবে? 

সমাজবদ্ধ মানুষ কেন নিজেরা বুঝতে চায় না এদিনে উপহার গ্রহণ করা গ্রহিতার কাছে মোটেই সুখকর নয়।   যেন এক অসম্মান জনক দুর্বিষহ  সামাজিক প্রথা।  এই দিন টা মৃতের প্রতি সম্মান স্বরূপ ফুলমালা অবশ্যই কাম্য কিন্তু সমব্যাথী হওয়ার প্রয়াসে শাড়ি ইত্যাদি উপহার নেওয়া এক হৃদয় বিদারক উপহাস।      

 পল্লবী ভাবে, এক মর্মান্তিক শোক কে উপলক্ষ্য করে লৌকিকতা দেখাতে  নির্লজ্জ্ব এ সমাজের আগাগোড়া বোধহীন কর্মকান্ড। আজকের আধুনিক যুগ ক্রমশ আলোর পথে এগিয়ে চলেছে এবং বতর্মান সমাজ ও কত উন্নত সভ্যতার কালজয়ী নিদর্শন বহন করছে। তবু পূর্ব প্রচলিত হিন্দু শাস্ত্র ও সংস্কারের রীতিনীতি অনুযায়ী শ্রাদ্ধের এই স্মরণ সভায় পূর্ব পুরুষকে জলদান পূজা পাঠে বাহ্যিক আড়ম্বরের বাড়াবাড়ি অবশ্যই বর্জন করে সাধারণ সাত্ত্বিক ভোজন ইত্যাদি নিয়ম ত্রুটিহীন হয়ে অবশ্যই চলুক ।
 এই পবিত্র শোকের অনুষ্ঠানে লৌকিকতার জাঁকজমক চিরতরে বর্জন করলে ক্ষতি কি?  মানব সমাজে এ এক  বড়ো অমানবিক কাজ। এমন অন্যায় অত্যাচার দেখলে সর্বদা বিবেকের দংশনে পীড়িত হতে হয় !  

শাওনের মনে ও একচিন্তা যে পরিবারে হঠাৎ এমন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় যেখানে অসহনীয় আঁধার নেমে আসে সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণ যুক্তি সন্মতো। কিন্তু এক্ষেত্রে যতটুকু প্রয়োজন তত টুকুই করা হোক বাকি টা অবান্তর।

এই প্রসঙ্গে মহাভারতের একটি শ্লোক পল্লবীর মনে পড়ে। ওর পরলোক গত বাবা বলতেন,
 ''কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ধ্বংসের পরিনতি জেনেই যুদ্ধের প্রাক্কালে সন্ধির প্রস্তাবে ভগবান  শ্রী কৃষ্ণ দুর্যোধনের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর দুর্যোধনের প্রাসাদে তাঁর নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন--" সম্প্রীতি ভোজ্যানি আপদা ভোজ্যানি বা পুনৈ:" অর্থাৎ "যে খাওয়াচ্ছে আর যে খাচ্ছে,দুজনেরই যদি মন প্রসন্ন থাকে তা হলেই সে খাবার খাওয়া উচিত। কিন্তু যিনি খাচ্ছেন আর যিনি খাওয়াচ্ছেন তাদের মনে যদি ব্যথা বেদনা থাকে সেই পরিস্থিতিতে কখোনো ভোজন গ্রহন করা উচিত নয়।" তাহলে এই বিলাসী ভোজনের আয়োজন এই লোকলৌকিকতা সবই যে বৃথাই প্রমাণিত হয়।

Post a Comment

0 Comments