জ্বলদর্চি

ব্রহ্মসূত্র --- শঙ্কর মতানুসারী প্রস্থানত্রয়ের একটি/পর্ব ১৬/প্রীতম সেনগুপ্ত

ব্রহ্মসূত্র --- শঙ্কর মতানুসারী প্রস্থানত্রয়ের একটি

পর্ব ১৬

প্রীতম সেনগুপ্ত 

শঙ্করাচার্যের আধ্যাত্মিক মতবাদের নিজস্ব মহিমা যতই থাকুক না কেন, অথবা উপনিষদের ব্যাখ্যায় তিনি যতই কৃতিত্ব প্রদর্শন করুন না কেন, আধুনিক পণ্ডিতগণ দৃঢ়তার সঙ্গেই মনে করেন যে, বাদরায়ণের সূত্রভাষ্য প্রসঙ্গে শঙ্কর সুবিচার করেন নি। বাদরায়ণ ২ সংখ্যক সূত্রে ব্রহ্মের যে লক্ষণ দিয়েছেন তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। ১ সূত্রে বলা হয়েছে যে, ব্রহ্মকে জানতে হবে। কারণ ব্রহ্মজ্ঞানই মোক্ষের হেতু। ১ সূত্রে  এই জাতীয় বিবৃতির পর স্বভাবতই  ব্রহ্মের স্বরূপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সূত্রকার এখানে আগে থেকেই একটি আপত্তি অনুমান করে নিয়েছেন যে, ব্রহ্মের লক্ষণ কোনও কিছুতেই নির্দেশ করা যায় না। কারণ এই বিশ্বে যা আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তা সসীম সুতরাং সসীম কোনও কিছু অসীম অনন্ত ব্রহ্মের লক্ষণ হতে পারে না। সীমাবদ্ধ কোনও বস্তু অসীম বস্তুকে নির্দেশ করতে পারে না। আমাদের সম্পূর্ণ ধারণা বহির্ভূত কোনও লক্ষণের দ্বারাও, যেমন কোনও বস্তুর সত্তার ধারণা ইত্যাদি ,আমরা ব্রহ্মকে নির্দেশ করতে পারি না। শাস্ত্র ব্রহ্মের  সংজ্ঞা নির্দেশ করতে পারে না, কারণ ব্রহ্ম অনুপম অদ্বিতীয় বলে একে ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। এই সূত্রে তৈত্তরীয় উপনিষদ থেকেও উদ্ধৃতি আছে ---“যতো বা ইমানি ভূতানি জায়ন্তে..... তৎ ব্রহ্ম ইতি”----“ যা থেকে এই সকল বস্তু জাত...... তিনিই ব্রহ্ম।” এখানে কিন্তু সগুণ ব্রহ্মকে নির্দেশ করা হয়নি। ব্রহ্মকে বিশ্বের নিমিত্ত ও উপাদান উভয় কারণ হিসেবেই নির্দেশ করেছে --- কারণ ব্রহ্মই সৃষ্টির লয়ের স্থল। সবকিছুরই উপাদান কারণ হওয়ায় ব্রহ্মই সবকিছুর মূল সত্তা। এর থেকে এই ধারণাই জন্মায় যে, ব্রহ্ম অদ্বৈত এবং অন্য সব কিছুই অ-সৎ।  ব্রহ্ম নিমিত্ত কারণ হওয়ায় এটিই প্রমাণিত হয় যে, ব্রহ্ম অদ্বৈত, সেই কারণে ব্রহ্ম ছাড়া অপর কোনও কিছুরই নিমিত্ত কারণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

🍂

ছান্দোগ্য উপনিষদ থেকে আমরা জানি যে, অবিচ্ছিন্ন আনন্দই ব্রহ্ম। একমাত্র ভূমাই আনন্দ, ভূমাকেই আমাদের জানতে হবে। ভূমার সংজ্ঞা হিসেবে উপনিষদ ব্যাখ্যা করেছেন --- যেখানে দ্রষ্টব্য, শ্রোতব্য এবং জ্ঞাতব্য কিছুই থাকে না তা-ই ভূমা । যেখানে অন্য কিছু দ্রষ্টব্য,শ্রোতব্য এবং জ্ঞাতব্য থাকে তা-ই অল্প (সসীম)। ভূমাই অমৃত, অল্পই মৃত্যু। এই অদ্বৈত আনন্দই ভূমা, আনন্দবল্লীতে ব্রহ্মকে‘ সত্যং জ্ঞানম্ আনন্দম্’ বলে নির্দেশ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, ব্রহ্ম থেকেই সকল ভূতের সৃষ্টি হয়েছে। বরুণের পুত্র ভৃগু এইভাবেই ব্রহ্মের স্বরূপ জ্ঞাত হয়েছিলেন।


ভারতীয় মননে এই জ্ঞানার্জনের স্পৃহা বিষয়ে স্বামী রঙ্গনাথানন্দজী বলছেন ---‘Two things I would request you to constantly bear in mind: one, the vastness of India in size and population; two, its long history running into over five thousand years. These two facts have imparted an amazing diversity to Indian culture and  life. From the snowy peaks of the Himalayas in the north to the land's end, the Cape Comorin, or Kanya kumari, on the Indian Ocean in the far south, a length of about 2,000 miles, from the jungles of Assam  on the border of Burma in the east to the deserts of Rajasthan and the beautiful valley of Kashmir on the border of Pakistan in the West, a  distance of  over 1,800 miles, India contains a  wide variety of climate, flora, and fauna, of culture language and human types. This vast land and its people have the pressure or the stimulus of over  five thousand years of history and tradition behind them, a long history during which the national mind has had the opportunity to experience life from various angles and various levels --- prosperity and adversity, victory and defeat, freedom and subjection,  knowledge and ignorance, illumination and darkness. The people had been taught one great lesson by there earliest leaders and thinkers , viz. that the object of life is not pleasure or pain, but knowledge, through a dispassionate study of both. (The spiritual life of the Indian people --- Swami Ranganathananda, Ramakrishna mission institute of culture)

শ্রদ্ধা ও স্মরণে নবারুণ ভট্টাচার্য।

Post a Comment

0 Comments