জ্বলদর্চি

নয়নতারার বাড়ি/গৌতম বাড়ই

নয়নতারার বাড়ি
গৌতম বাড়ই 

একটি একাঙ্ক নাটক

সময়: ১৫ আগস্ট, ২০২৬। স্বাধীনতার ৭৯তম বছর।
স্থান: ছোট শহর নয়নতারা। নিশিকান্ত সরকারের পুরনো বসতবাড়ি।
সময়কাল: প্রায় ২০-২৫ মিনিট।

চরিত্র

অর্ক — ২১/২২ বছরের যুবক। জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধি। দিল্লিতে বড় হয়েছে। পড়াশোনা ও কাজের সূত্রে মাঝে মাঝে নয়নতারায় আসে। এখন পুরনো বাড়িটির দেখভাল করে। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, AI—সব তার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ভিতরে কোথাও নিজের শিকড় নিয়ে অস্থির।

মেঘলা — অর্কের মা। চল্লিশের কোঠায়। দিল্লিতে বসবাস। বাস্তববাদী। পুরনো বাড়ি বিক্রি করে দেওয়াই তার কাছে যুক্তিযুক্ত।

সুব্রত — মেঘলার বাবা, অর্থাৎ অর্কের দাদু। সত্তরের কাছাকাছি। নিশিকান্ত সরকারের ছেলে। বাবার স্মৃতি ও স্বাধীনতা-আদর্শের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

অনুরাধা — অর্কের দিদা। শান্ত, সংবেদনশীল, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তীক্ষ্ণ। পুরনো দিনের মানুষ হলেও অন্ধভাবে অতীত আঁকড়ে থাকেন না।

হরিপদ — স্থানীয় বৃদ্ধ, প্রয়োজনে বাড়িটির দেখাশোনা করেন। শহরের জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর সংলাপে কখনও হাস্যরস, কখনও তীব্র ব্যঙ্গ।

দৃশ্য

মঞ্চসজ্জা

একটি পুরনো, ব্রিটিশ আমলের বড় বাড়ির বসার ঘর।দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কাঠের জানালার পাল্লা পুরনো। একটি ভাঙা আলমারি। কোণে ধুলোমাখা হারমোনিয়াম। দেওয়ালে একটি বড় সাদা-কালো ছবি—নিশিকান্ত সরকার, ধুতি-পাঞ্জাবি পরা, চোখে দৃঢ়তা।

ছবির নীচে একটি ছোট পিতলের ফলক—

“নিশিকান্ত সরকার
স্বাধীনতা সংগ্রামী
প্রাক্তন বিধায়ক, নয়নতারা বিধানসভা”

একপাশে পুরনো কাঠের টেবিল। তার ওপর একটি তামার ঘণ্টা, কয়েকটি পুরনো ফাইল, একটি বিবর্ণ জাতীয় পতাকা।

বাইরে থেকে মাঝে মাঝে মাইক থেকে ভেসে আসছে—

“জন গণ মন...”

দূরে স্কুলের ছেলেমেয়েদের কুচকাওয়াজের শব্দ।

সকাল।

মঞ্চে অর্ক। হাতে মোবাইল। সে পুরনো বাড়ির ছবি তুলছে।

অর্ক

(মোবাইলের দিকে তাকিয়ে)

ওল্ড হাউস।
লোকেশন—নয়নতারা।
একশো বছরেরও বেশি পুরনো।

(হেসে)

হ্যাশট্যাগ—
#IndependenceDay
#Heritage
#MyRoots...

(একটু থেমে) Roots! আমার roots কোথায়, সেটাই তো জানি না!

(দরজা দিয়ে হরিপদ প্রবেশ করে। হাতে ঝাড়ু।)

হরিপদ

শিকড় মোবাইলে পাওয়া যায় না বাবু।

অর্ক

(চমকে)

আপনি আবার কখন এলেন?

হরিপদ

যখন থেকে তুই মোবাইল হাতে নিয়ে কথা বলছিস, তখন থেকেই আমি চুপচাপ বসে আছি এখানে।

অর্ক

আজ পনেরো আগস্ট। বাড়িটা একটু পরিষ্কার করব।

হরিপদ

বাড়ি পরিষ্কার করবি, না ইতিহাস?আমি সুলতাকে পরিষ্কার করবার জন্য ইতিমধ্যে খবরও দিয়েছি। এসে গেল বলে....।‌ এ বাড়ি পরিষ্কার করা চাট্টিখানি কথা নয় বাবু। ও তোমার মায়ের দ্বারাও হত না।‌

অর্ক

বাড়ি আর ইতিহাস দুটোই করতে চাই।

হরিপদ

ইতিহাস ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার হয় না।

(দেয়ালের ছবির দিকে তাকিয়ে)

ওঁকে পরিষ্কার করিস আগে। ভালো একটা মোছার কাপড় হাতে নিয়ে ফটোর গায়ে লেগে থাকা ধুলো পুছতে হবে। না পারলে, আমাকে দে। এই নে কাপড়.....( একটা পরিষ্কার কাপড় এগিয়ে দেয় অর্কের দিকে।)  

অর্ক

দাদুর বাবা?

হরিপদ

তোর পরদাদু। নিশিকান্ত সরকার।

(ছবির দিকে তাকিয়ে)

এই মানুষটার জন্য একসময় নয়নতারা শহরের লোকজন রাতের অন্ধকারে দরজা বন্ধ করে শপথ নিত। তাঁর এক ডাকে জমায়েত হত ডাকবাংলো মোড়ে শহরের সমস্ত ছেলে বুড়ো মহিলাদের দল।‌

অর্ক

এখন?

হরিপদ

এখন দরজা বন্ধ করে EMI-এর হিসেব করে। সিন্ডিকেটের বখরাবাজির হিসেব করে আর  ছোটরাও বগলে থাকা  রঙীন বোতল খোলে রাতের অন্ধকারে। শহরের সাহেব ময়দানে বলতে গেলে সারাবছর আগাছার বাস। বল নিয়ে হুটোপাটি করা সেই ছেলেরা আজ আর জন্মায় না! 
🍂
(অর্ক হেসে ফেলে।)

প্রথম গান

পেছন থেকে ধীর হারমোনিয়ামের সুর।

হরিপদ বা অফস্টেজ কণ্ঠে—

গান ১ : “যে পতাকা উঠেছিল”

যে পতাকা উঠেছিল একদিন রক্তের ঋণে,
তার রং কি আজও লেগে আছে মানুষের মনে?

যে স্বপ্নে ছিল দেশ, ছিল মানুষের মুখ,
আজও কি আছে  অন্তরে সেই আগুনটুকুর রেশ?

স্বাধীনতা শুধু কি আকাশে পতাকা তোলা—
না কি অন্যায় দেখলে সত্য কথাটি বলা?

(গান থেমে যায়।মেঘলা প্রবেশ করে। হাতে একটি ফাইল ও ব্যাগ।)

মেঘলা

অর্ক!

অর্ক

মা! তুমি আজই এলে?

মেঘলা

আজ না এলে আর কবে? কাল সকালেই দিল্লি ফিরব।

অর্ক

দিদা-দাদু কোথায়?

মেঘলা

পেছনের উঠোনে। পুজোর ঘরটা পরিষ্কার করবে আগে।

(চারদিকে তাকিয়ে)

এ বাড়ির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।

অর্ক

তাই তো তোমাকে বলেছিলাম—এটা রেনোভেশন্ করতে হবে।

মেঘলা

রেনোভেশন্?

(ফাইল খুলে)

রিয়েল এস্টেট এজেন্ট কাল এসেছিল। এই বাড়ি আর জমিটা বিক্রি করলে যে টাকা পাওয়া যাবে...

অর্ক

(কথা কেড়ে)

বিক্রি?

মেঘলা

হ্যাঁ।

অর্ক

এই বাড়ি?

মেঘলা

এই ভাঙাচোরা বাড়ি। যেখানে বর্ষায় ছাদ চুইয়ে জল পড়ে, বিদ্যুতের তার বিপজ্জনক, সাপ ঢোকে, কেউ থাকে না—

অর্ক

আমি থাকি।

মেঘলা

তুই থাকিস কারণ তুই এখনও বুঝিস না জীবন কী!

অর্ক

আর তুমি বুঝে গেছ?

মেঘলা

আমি বুঝেছি, স্মৃতি দিয়ে সংসার চলে না। পুরানো স্মৃতি আঁকড়ে থাকা তাই বৃথা। 

(সুব্রত ও অনুরাধা প্রবেশ করেন।)

সুব্রত

সংসার চলে না।
কিন্তু মানুষ বেঁচে থাকে।

(সবাই থেমে যায়।)

মেঘলা

বাবা, আবার শুরু করো না.......

সুব্রত

আমি কিছু শুরু করিনি। তুই শুরু করেছিস।

মেঘলা

আমি শুধু বলেছি বাড়িটা বিক্রি করে দেওয়া উচিত।

সুব্রত

বাড়ি?

(দেয়ালের ছবির দিকে তাকিয়ে)

এটা শুধু বাড়ি নয়।

মেঘলা

তাহলে কী?

সুব্রত

তোর বাবার শেষ আশ্রয়।

মেঘলা

তোমার বাবার আদর্শ ছিল। কিন্তু সেই আদর্শ দিয়ে তো তাঁর ছেলেমেয়েদের জীবন চলেনি!

এক মুহূর্ত নীরবতা।

সুব্রত

(ধীরে)

তোর কথাটা ঠিক।

আমরা কেউ তাঁর মতো হতে পারিনি।

অর্ক

একটা কথা বলব?

(সবাই তাকায়।)

অর্ক

আমি ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি—আমাদের বাড়িতে একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন।

কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামী হওয়ার মানে কী?

ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন—ঠিক আছে।

কিন্তু আজ আমার স্বাধীনতা কী?

আমি নিজের জীবন নিজের মতো বেছে নিতে পারি?

আমি নিজের মতামত বলতে পারি?

আমি অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে পারি?

আমি প্রশ্ন করতে পারি?

নাকি স্বাধীনতা মানে বছরে একদিন পতাকা, লাড্ডু আর WhatsApp স্ট্যাটাস?

অনুরাধা

(মৃদু হেসে)

তুই বেশ বড় হয়ে গেছিস দেখছি।

অর্ক

দিদা, তোমরা যে স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলে, সেটা আর আমাদের স্বাধীনতা এক? আর আমরা শুধু বড় হইনি, একটা দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলাম ...এই তো ক'দিন আগে...তোমরা তো সবই দেখেছো.....জেন-জি আন্দোলনে আরশোলাদের কাছে তোমাদের প্রধানমন্ত্রীকেও কতটা অসহায় লাগছিল সেদিন! তাহলে এই দুটো স্বাধীনতা কী এক?

সুব্রত

এক নয়।

অর্ক

তাহলে?

সুব্রত

আমাদের সময় স্বাধীনতা মানে ছিল—দেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করা।

তোদের সময় স্বাধীনতা মানে—নিজেকে ভয় থেকে মুক্ত করা।

মেঘলা

আর বাস্তবতা?

সুব্রত

সেটাই তো যুদ্ধ।

(হরিপদ একটি পুরনো লোহার ট্রাঙ্ক নিয়ে আসে।)

হরিপদ

এটা পেলাম গোডাউনে।

(সুব্রত তাকিয়ে থাকেন।)

সুব্রত

বাবার ট্রাঙ্ক!

(হরিপদ সেটি মাটিতে রাখে।সুব্রত ধীরে ধীরে তালা খোলেন।
ভিতরে পুরনো কাগজ, চিঠি, একটি জেলখানার নথি, একটি বিবর্ণ পতাকা।অনুরাধা একটি চিঠি তুলে নেন।)

অনুরাধা

তোর পরদাদার লেখা।

অর্ক

কী লেখা?

(সুব্রত পড়তে শুরু করেন।)

সুব্রত

“দেশ স্বাধীন হলে আমরা কেউ যেন স্বাধীনতাকে নিজের সম্পত্তি না ভাবি। স্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন করে অর্জন করতে হয়...”

(তিনি থেমে যান।)

অর্ক

তারপর?

সুব্রত

“যেদিন সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করতে ভয় পাবে, সেদিন পতাকা থাকবে, স্বাধীনতা থাকবে না।”

(ঘরে গভীর নীরবতা।মেঘলা ধীরে বসে পড়ে।)

মেঘলা

বাবা কি সত্যিই এমন ছিলেন?

সুব্রত

তুই তো তাঁকে দেখেছিস।

মেঘলা

ছোট ছিলাম।আমার শুধু মনে আছে, লোকজন আসত। তিনি সবার কথা শুনতেন।

অনুরাধা

বিধায়ক হয়েও নিজের জন্য বাড়িটা মেরামত করেননি।

অর্ক

কেন?

সুব্রত

বলতেন—
“যে টাকা দিয়ে আমার বাড়ির ছাদ উঠবে, সেই টাকা দিয়ে যদি গ্রামের স্কুলের ছাদ ওঠে, তবে আমার মাথায় আকাশ থাকাই ভালো।”

(হরিপদ মৃদু হাসে।)

হরিপদ

সেই জন্যই তো আজ বাড়ির ছাদ নেই।

(সবাই হাসে। হাসির মধ্যে বিষাদ।)

সংঘাত তীব্র হয়

মেঘলা

কিন্তু বাবা, আদর্শের কথা বলা সহজ।আমরা তিন ভাইবোন তিন জায়গায় ছড়িয়ে গেলাম।দাদা আমেরিকায়। দিদি আমেরিকায়। আমি দিল্লিতে।এই বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের টাকা কে দেবে?
তোমরা? না অর্ক?

অর্ক

আমি পারব না। বা আমি  একা কেন এই টাকা দিতে যাব?

মেঘলা

তাহলে?

অর্ক

কিন্তু বিক্রিও করতে চাই না।

মেঘলা

তাহলে কী করবে?

অর্ক

জানি না।

মেঘলা

এই তো!তোদের জেন-জি—সব প্রশ্ন আছে, উত্তর নেই।

অর্ক

আর আপনাদের জেনারেশন?সব উত্তর ছিল?
আপনারা দেশ গড়তে গিয়ে শহর গড়লেন।শহর গড়তে গিয়ে বাড়ি ছাড়লেন।বাড়ি ছেড়ে পৃথিবী জয় করলেন।

এখন ফিরে এসে বলছেন—বাড়িটা বিক্রি করে দাও।

আমরা অন্তত জানতে চাই—আমাদের আসলে কোথায় ফিরে যাওয়ার কথা!

(নীরবতা।)

ছোট কবিতা

অর্ক দেয়ালের ছবির সামনে দাঁড়ায়।

অর্ক

একটা কবিতা লিখেছিলাম।

সুব্রত

শোনাও।

অর্ক

“স্বাধীনতা ৮০”

আমার স্বাধীনতা
শুধু পতাকার ভাঁজে নেই,
আছে বাবার সঙ্গে তর্কে,
মায়ের না-বলা কথায়,
দিদার পুরনো আলমারিতে
আর আমার স্ক্রিনের নীল আলোয়।

যে মানুষটি একদিন
শিকল ভেঙেছিলেন,
আজ তাঁর বাড়ির ভাঙা জানালা দিয়ে
আমি জিজ্ঞেস করি—
আমরা কি সত্যিই মুক্ত?

নীরবতা।

অনুরাধার চোখে জল।

দ্বিতীয় গান

অনুরাধা পুরনো হারমোনিয়ামের সামনে বসেন।

গান ২ : “এই মাটিটুকু থাক”

এই মাটিটুকু থাক,
এই ঘরটুকু থাক,
পুরনো দেওয়ালে জেগে থাক
মানুষের মুখের ডাক।

দেশ মানে শুধু মানচিত্র নয়,
দেশ মানে মানুষের হাত—
যে হাতে পতাকা ওঠে একদিন,
সে হাতেই থাকুক ভাত।

স্বাধীনতা মানে ফিরে দেখা নয়,
সামনে এগিয়ে যাওয়া—
তবু শিকড়টুকু বুকে নিয়ে
নতুন আকাশ ছোঁয়া।

(গান চলাকালীন অর্ক পুরনো ছবিটির ধুলো মুছে দেয়।)

চূড়ান্ত পর্ব

বাইরে মাইক থেকে ভেসে আসে—

“স্বাধীনতার ৮০ তম বর্ষ উপলক্ষে...”

মেঘলা ফাইলটি বন্ধ করে।

মেঘলা

বাড়ি বিক্রি করছি না।

(সুব্রত তাকান।)

মেঘলা

কিন্তু বাড়ি এভাবেও থাকবে না।

অর্ক

মানে?

মেঘলা

এখানে একটা স্মৃতি-ঘর হবে। মিউজিয়াম। শহরের ছেলেমেয়েরা আসবে। পুরনো নথি থাকবে।স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস থাকবে।

আর একটা ঘরে...

অর্ক

কী?

মেঘলা

তোর জন্য স্টুডিও।তুই যেভাবে এই সময়কে দেখিস, সেটা রেকর্ড করবি।

অর্ক

পডকাস্ট?

মেঘলা

হ্যাঁ।তোর ভাষায় স্বাধীনতার গল্প।

হরিপদ

তাহলে আমারও কাজ থাকবে?

অর্ক

আপনি তো হেড অফ হিস্ট্রি।

হরিপদ

বেতন?

অর্ক

দেশপ্রেম।

হরিপদ

দেশপ্রেম দিয়ে বাজারে আলু পটল চাল চিনি কিস্যু দেয় না বাবু!

(সবাই হেসে ওঠে।সুব্রত ধীরে দেয়ালের ছবির সামনে দাঁড়ান।)

সুব্রত

বাবা...আজ তোমার বাড়ি বাঁচল।কিন্তু একটা কথা বুঝলাম—
বাড়ি বাঁচানো আসল কথা নয়।তোমার স্বপ্নটা বাঁচাতে হবে।

(অর্ক এগিয়ে আসে।)

অর্ক

দাদু...তোমাদের স্বাধীনতা আমরা নষ্ট করব না।কিন্তু আমাদের স্বাধীনতাটাও আমাদের মতো করে লিখতে দিও।

(সুব্রত অর্কের কাঁধে হাত রাখেন।)

সুব্রত

লেখ।শুধু একটা কথা মনে রাখিস—স্বাধীনতা কখনও শেষ লেখা নয়।প্রতিটি প্রজন্ম তাকে নতুন করে লেখে।

শেষ দৃশ্য

অর্ক পুরনো ট্রাঙ্ক থেকে বিবর্ণ জাতীয় পতাকাটি বের করে।
মেঘলা নতুন একটি পতাকা নিয়ে আসে।পুরনো পতাকাটি নিশিকান্তের ছবির পাশে রাখা হয়।নতুন পতাকা উঠিয়ে দেয় অর্ক।

বাইরে শিশুরা একসঙ্গে বলে—“ভারত মাতা কি জয়!”

তারপর মাইকের আওয়াজ স্তব্ধ।কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা।
অর্ক দর্শকদের দিকে তাকায়।

অর্ক

আজ স্বাধীনতার ৮০ বছর।দেশটিকে অক্টোজেনেরিয়ন বলা যাবে কিন্তু একটা প্রশ্ন রেখে যাই—দেশ স্বাধীন হয়েছে।আমরা কি স্বাধীন হয়েছি?

আলো ধীরে ধীরে কমে আসে।শুধু নিশিকান্ত সরকারের ছবির ওপর একটি আলো।

পেছনে শিশুকণ্ঠে গানটির শেষ পঙক্তি—

“তবু শিকড়টুকু বুকে নিয়ে
নতুন আকাশ ছোঁয়া...”

অন্ধকার।

— পর্দা —

Post a Comment

0 Comments