জ্বলদর্চি

অণুগল্প : অদিতি/অর্ক মুখোপাধ্যায়

অণুগল্প 
অদিতি

অর্ক মুখোপাধ্যায়                                

দুবার বেলটা বাজানোর পরেই ভুরুটা কুঁচকে গেল রেশমীর। মা কি বাড়ি নেই? বড় মাসির বাড়ি গেল ? ঘুমিয়ে পড়েছে? দুপুর আড়াইটের সময় এত ঘুমিয়ে পড়ল যে… খারাপ কিছু নয়তো… বাথরুমে অজ্ঞান বা চোর ডাকাত… এসব  ভাবতে ভাবতে নিজের চাবি দিয়ে দরজা খুলে পা টিপে-টিপে মায়ের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো  রেশমি । সর্বনাশ! একি কান্ড। যেন যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে অদিতি। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ,মুখ ফ্যাকাসে, চোখের মধ্যে কেমন একটা অদ্ভুত ভাব, গোটা ঘর লণ্ডভণ্ড, বিছানা- আলমারি, সবকিছু ।
কী হয়েছে মা? ঘরের এ কী অবস্থা ? চমকে উঠে অদিতি । ঘরের দিকে তাকিয়ে তার কান্না পায়। কতবার বেল বাজালাম.. আমি তো ভাবলাম তুমি…
সরি, আমি শুনতে পাইনিরে.. তুই এত তাড়াতাড়ি চলে এলি ?
কলেজে হেবি বাওয়াল, কিন্তু…তোমার কী হয়েছে মা?  শরীর ঠিক আছে তো? কী হয়েছে বলোতো? আবার উইপোকা?
না না কিছু না,
কিছু না মানে ,ঘরটার কি অবস্থা, বলো কী হয়েছে?
একটা ছবি, কোথাও পাচ্ছিনা-
কার ছবি? বাবার? তোমার? আমার?
পরপর তিনবার ঘাড় নেড়ে অদিতি জানলার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। আমাদের কারো নয়। অন্য একজনের । প্রতি বছর দোলের দিন একটু করে  আবীর দিই, কোথায় যে গেল!
বাবা জানে?
না । 
যোগাযোগ আছে?
না।
শেষ কবে দেখেছো?
প্রায় চল্লিশ বছর আগে। তিনবার বাড়ি বদল হলো, দোতলা হলো, কত যত্ন করে রেখেছিলাম, কোথায় যে গেল?
কী করে পারো মা ?
অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর অদিতি দুপুরের খামখেয়ালী আকাশটার দিকে তাকিয়ে বলল- ভালোবাসলে পারা যায় রে, সত্যি সত্যি কাউকে ভালোবেসে দেখ, তুইও পারবি। 
জানলার ঠিক বাইরে কৃষ্ণচূড়া গাছের শরীর জুড়ে তখন বাসন্তী হাওয়া।
🍂

Post a Comment

0 Comments