জ্বলদর্চি

মননের দর্পনে জীবনের কিছু টুকরো কথা /একাদশ পর্ব / স্বাতী ভৌমিক

মননের দর্পনে জীবনের কিছু টুকরো কথা 
একাদশ পর্ব 
  
স্বাতী ভৌমিক 
                

জীবনের প্রতি পর্বে নানা কাহিনী, নানা গাঁথা লেখা হয় নানান না বলা কথায়।

পথের খোঁজে জীবনপথিক চলে জীবনের সন্ধানে। এই সন্ধানের অনুসন্ধান জন্ম দেয় কত না কাহিনীর, কত-ই না গল্পের। একটা সময় পর মানুষ ব্যস্ততার কন্টকময় পথ পেরিয়ে চলে আসে স্থির ভাবনার না জানা অবিলতায়। অনেকেই বলে অনুসন্ধিৎসামুক্ত জীবন নাকি গতিহীন-মৃতপ্রায়। কিন্তু কে বলে তা!আমার তো মনে হয় -অপ্রয়োজনীয় আগ্রহ জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা নিয়ে আসে। এই জীবনের পথ কখনো ছকে-বাঁধা পরিকল্পনা অনুসারে চলে না। জীবন অভ্যাসগত পথ চলার মাঝেই ছুঁড়ে দেয় নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ -যা হয়তো নিতান্তই অকল্পনীয়। তাহলে ভাবনা কীসের! যে জীবনে অনিত্য জড়অস্তিত্বটুকু আর উপলব্ধিলব্ধ আত্মার অতিন্দ্রীয় অনুভূতি ছাড়া নিজস্ব বলে আর কিছুকে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে দাবী করতে পারে না, সেখানে অদূর ভবিষ্যতকে নিয়ে কীসের এতো পরিকল্পনা!কীসের এতো উদ্বেগ!নিজের চলা, নিজের বলা, নিজেকে বোঝা ও নিজেকে বোঝানো -এই তো জীবনের অযাচিত প্রাপ্তি-বাকিটুকু তো বিস্ময়চিহ্ন।

খোলা আকাশের মাঝে নিজের মুক্তচিন্তার স্রোতোধারাকে ভাসিয়ে দিয়ে অনাবিলতার মুক্তপথে মুক্তবিচরণ-ই হল জীবন্মুক্তির মূলকথা। কেউ কখনো চিরদিন স্বপরিকল্পিত পথে একইভাবে এই জগতে  হেঁটে যেতে পারে না।
🍂
শুধু শুধু মালিকানার ভূয়ো মানসিকতায় জীবনের জটিলতা বাড়ে। জীবনের বিস্তৃত রাজপথ সংকীর্ণ গলিপথে পর্যবসিত হয়।তাহলে প্রশ্ন হল -এই অজানা পথ ভালো? নাকি ভূয়ো পরিদর্শনে ভূয়ো ভরসায় এগিয়ে যাওয়া শুন্যতা সঠিক?এর উত্তর মানবমন নিজেই দিতে পারার ক্ষমতা রাখে। এর জন্য বিশাল কোন যুক্তির প্রয়োজন হয় না বা বিস্তৃত জ্ঞানসমৃদ্ধ পাঠ্যপুস্তকেরও প্রয়োজন হয় না। কিন্তু জেনে বুঝে বোকা হয়ে পথচলাতে সফলতা থাকে না। যা থাকে তা হল-অজানা ব্যাস্ততা,কখনো বা অসাড় কর্মস্পৃহা। তাই চেতনার চেনাপথ অচেনা করে ব্যক্তি হেঁটে যায় সম্ভাব্যতার কুয়াশাঘেরা পথে-ফল প্রশ্নচিহ্ন বা বিস্ময়চিহ্ন।

জীবনের বিস্ময়কর পথে মুক্তমনে মুক্তভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। অযথা ভারাক্রান্ত-চিন্তাগ্রস্ত মন জীবনের প্রকৃতস্বরূপ বা জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যাপারগুলোর প্রকৃত রূপ অনুধাবনে বাধা দেয়। চিন্তার আবরণ প্রবহমান ঘটনার মাঝে লুক্কায়িত জীবনপ্রবাহের -জীবনবৈচিত্রের মর্মোপলব্ধির পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে।নীরবতার নিবিড়তায়-উপলব্ধির গভীরতায়- অসীম শূন্যতার মাঝে অসীম পূর্ণতার অনুভবই জীবনকাহিনীর মূল প্রতিপাদ্য ব্যাপার অনুধাবন করায়।
🍁
প্রকাশিতব্য 

Post a Comment

0 Comments