ছোটবেলা বিশেষ সংখ্যা: ২১৭
গ্রাহক: সেখ সুজাউদ্দিন
প্রিয় বন্ধুরা,
আশাকরি সবাই খুব আনন্দেই আছো। গত তিন সপ্তাহ ধরে তোমাদের মেদিনীপুরের মহান বিপ্লবী দের গল্প শোনাচ্ছি। কেমন লাগছে তোমাদের এই অগ্নিযুগের বীর সন্তান দের কথা শুনতে। পরে কখনো তোমাদের শোনাবো স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই সমস্ত মহান নারী বিপ্লবী দের কথা। আজ এই বিপ্লবী সিরিজের কথা শেষ করবো মেদিনীপুর এর দামাল ছেলে ক্ষুদিরামের কথা বলে।
১৮৮৯ এর ৩ রা ডিসেম্বর মেদিনীপুর এর কেশপুরের মোহবনী গ্রামে (মতান্তরে মেদিনীপুর এর হবিবপুরে ) তিনি প্রথম পৃথিবীর আলো দেখেন। তিনি পড়াশোনা করেন প্রথমে তমলুকের হ্যামিল্টন স্কুলে ও পরে মেদিনীপুর এর কলেজিয়েট স্কুলে। ১৯০২ সাল নাগাদ জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসু ও রাজনারায়ণ বসু গড়ে তোলেন মেদিনীপুর এ গুপ্ত সমিতি। আর সেখানে সংগঠনের নেতা ছিলেন হেমচন্দ্র কানুনগো ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু। সেই সময় কিংসফোর্ড বিপ্লবী দের দুর্গতি র অন্যতম কারন ছিলো। তখন বিপ্লবী রা কিংসফোর্ড কে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম বার হেমচন্দ্র কানুনগোর বানানো বোমা দিয়ে কিংসফোর্ড কে মারার চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। এরপর কিংসফোর্ড ১৯০৮ এ বিহারের মুজফ্ফরপুরে বদলি হয়ে যান জেলা বিচারপতি হিসাবে। এবার কিংসফোর্ড কে হত্যা করার দায়িত্ব পান প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরাম বসু। ২৯ শে এপ্রিল, ভুল বশত তারা কিংসফোর্ডের বদলে বোমা ছোঁড়েন মিসেস কেনেডির গাড়ীতে। বোমা র আঘাতে মা ও মেয়ে কেনেডি মারা যান।এরপর প্রফুল্ল ট্রেনে করে পালানোর সময় মোকামাঘাট রেল স্টেশনে ধরা পড়েন পুলিশের কাছে ও প্রফুল্ল চাকী নিজের রিভলবারের গুলি তে আত্মহত্যা করেন। ক্ষুদিরাম বসু ২৫ মাইল হেঁটে ওয়াইলি রেল স্টেশনে এসে পুলিশের কনস্টেবল এর কাছে ধরা পড়ে যান। ৩ বছর বিচারাধীন থাকার পর অবশেষে ১১ ই আগস্ট মুজফ্ফরপুরে তাঁর ফাঁসি হয়। বর্তমানে ওয়াইলি রেল স্টেশনের নাম ক্ষুদিরাম বসু রেল স্টেশন।
মেদিনীপুর এর দামাল ছেলে ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি তে এক চারণ কবি গান লিখেছিলেন " একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি" এ গান তোমরা সবাই নিশ্চয়ই শুনেছো। এর পর আবার যখন শুনবে, তখন একবার মনে মনে স্মরণ কোরো এই সব বীর বিপ্লবী দের।
আমাদের আজকের এই স্বাধীন ভারতের স্বাধীনতা র ইতিহাস যাদের রক্তে লেখা হয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণাম ।
আজ তাহলে এখানেই চিঠি শেষ করি। আবার পরের সপ্তাহে কথা হবে।
ইতি তোমাদের স্বাগতা দি।
মহৎ কর্ম
প্রদীপ দেব বর্মন
লিকপিকে ওই ছোট্ট শিশু
কাঁদছে কেন সারাক্ষণ,
কি হয়েছে খোকন সোনার
কারন খোঁজে আপনজন ।
ডাক্তার যখন দেখল তাকে
সব পরীক্ষার পর,
নির্দেশ দিলেন রক্ত দিতে
হবে জীবন ভর।
থ্যালাসেমিয়ায় ভুগছে তাই
হচ্ছে এমন ক্ষীণ,
জোগাড় করুন এবং নিজে
রক্ত ওকে দিন।
হন্যে হয়ে বাপ মা খোঁজে
সকাল রাত্রি ভোর,
মাথা ঠুঁকে আরজি জানায়
ও দোর ও দোর।
যেভাবে হোক রক্ত দিয়ে
বাঁচাও শিশুর প্রাণ,
এই জগতের মহৎ কর্ম
নিজের রক্তদান ।
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ বত্রিশ পর্বরতনতনু ঘাটী
মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেবোপমস্যার কী যেন ভাবছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, এই কনস্ট্রাকশানের মাঝখানে কী করে ক্রিকেট কোচিং হবে? গোটা মাঠজুড়ে লোহালক্কড় ছড়িয়ে আছে। খেলতে গিয়ে কারও আবার পা-হাত কেটে-ছড়ে না যায়!
স্যারকে ভাবালু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লোকন বলল, ‘স্যার আমাদের মাঠময় এত জঞ্জাল ছড়িয়ে আছে। এর মাঝে কেমন করে ক্রিকেট কোচিং হবে? আমরা না হয় আজও অনীক দাদুদের উঠোনে খেলতে চলে যাই?’
লোকনের কথা কানে গেল দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মাঠের শেড তৈরির কনট্রাক্টর মনোজ চাকলাদারের। তিনি কোনও সুপারভাইজারকে কিছু একটা নির্দেশ দিচ্ছিলেন। এগিয়ে এলেন ওদের কথার মধ্যে। দেবোপমস্যারের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘স্যার, আপনারা আর কয়েকটা দিন ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনীকবাবুদের উঠোনে কোচিংটা চালিয়ে নিন। আমি বুঝতে পারছি, আপনাদের খুব অসুবিধে হচ্ছে। দেখি, আরও বেশি লোক লাগিয়ে শেডের কাজটা কতটা তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেলা যায়।’
তখন হেডস্যার এদিকেই আসছিলেন। কনট্রাক্টর মনোজ চাকলাদারকে দেখে সামনে এগিয়ে এলেন। বললেন, ‘মনোজবাবু, দেখলেন তো কী অসুবিধেয় যে আমরা পড়েছি। না না, আপনাকে দোষ দেওয়ার কোনও সুযোগই নেই। আপনি তো যথাসাধ্য করছেন। দেখুন, যতখানি তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজটা যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।’
ছেলেমেয়েরা প্র্যাকটিসের জন্যে উসখুস করছিল। হেডস্যার বললেন, ‘দেবোপম, তোমরা ছেলেমেয়েদের অনীকবাবুদের উঠোনে পাঠিয়ে দাও প্র্যাকটিস করতে। ওখানেই আজকের দিনটা অন্তত প্র্যাকটিস চলিয়ে নিক ওরা। আমি একটা বাতিল নেট জোগাড় করে অনীকবাবুদের পুকুরের পাড়টা কাল বিকেলে ঘিরে দিয়েছি। গতকাল খেলতে গিয়ে যতবার বলটা পুকুরে পড়েছিল, আজ হয়তো ততবার পড়বে না। একটু কষ্ট করে চালিয়ে নিও তোমরা! লোকন আর রোরো, তোমরা যেন একটু কম কম চার আর ছয় মারো।’ তারপর ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোমরা আর এক-দুটো দিন কষ্ট করে প্র্যাকটিস করো। আমি দেখি, কত তাড়াতাড়ি শেডের কাজটা সেরে ফেলা যায়!’
দেবোপমস্যার ক্রিকেট টিমকে পাঠিয়ে দিলেন অনীকবাবুদের উঠোনের ক্রিকেট প্র্যাকটিস মাঠে। বললেন, ‘তোমরা এগিয়ে গিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করো। আমি এক্ষুনি আসছি!’
রোদ ঝলমলে দিনটা এখন অনেকটা খুশি মেখে উঁকি দিচ্ছে গগনজ্যোতি স্কুলের খেলার মাঠের উপরটায়। ততক্ষণে মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি স্কুলের মাঠে পৌঁছে গেলেন। হেডস্যারকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী নবনীতস্যার, কোনও গভীর সমস্যায় পড়েছেন বলে মনে হচ্ছে? আমাকে বলুন, দেখি সমাধান খুঁজে বের করতে পারি কিনা।’
‘আপনি আর কত করবেন আমাদের জন্যে?’
মুকুলবাবু চারদিকে তাকিয়ে দেখছিলেন। কনট্রাকটার মনোজ চাকলাদারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠলেন, ‘কী মনোজবাবু, কবে আমাদের মাঠটা ফিনিশ করে ছেড়ে দেবেন? আমরা তো ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ব্যস্তসমস্ত হয়ে উঠছি?’
‘আর ক’টা দিন সময় দিন মুকুলবাবু! আপনাদের ফাইনাল খেলা হবে কবে যেন?’
নবনীতস্যার বললেন, ‘আমাদের ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচের শুরু হবে উনত্রিশ নভেম্বর। ফাইনাল ম্যাচ হবে তিরিশ তারিখে।’
‘আমি আরও দিনদশেক সময় কমিয়ে আমার শেড তৈরির কাজের সময়সীমা ধার্য করলাম আঠারোই নভেম্বর। স্টাফদের বলে দিয়েছি, এর পর যেন মাঠের মধ্যে একটিও কুটো না পড়ে থাকে।’ তারপর বাঁ দিকে আঙুল তুলে মনোজবাবু বললেন, ‘ওই যে বাঁ দিকে মস্ত বড় একটা কিছু পড়ে আছে দেখছি, ওটা কী স্যার?’
হেডস্যারের মুখে লজ্জা ছড়িয়ে পড়ল। মুকুলকৃষ্ণবাবুর মুখের দিকে তাকিয়ে খানিকটা ইতঃস্তত করে বললেন, ‘ওটা আমাদের স্টেডিয়ামের নাম লেখা সাইনবোর্ড! আগেভাগে তৈরি করিয়ে রাখলাম। চলুন, আপনাদের দেখাই।’ তারপর মুকুলবাবুকে বললেন, ‘আপনিও আসুন স্যার। আপনার মতামতটাও দরকার। আমাদের সব কিছুতে আপনার মত না নিয়ে করিনি তো? চলুন!’
নবনীতস্যার মনোজবাবুকে বললেন, ‘আপনার স্টাফদের কয়েকজনকে বলুন না, বোর্ডটা ধরে নিয়ে গিয়ে আমাদের অ্যাসেম্বলি হলে রেখে দিতে।’
সাতজন স্টাফ এলেন। মনোজবাবুও তদারক করতে লাগলেন। বোর্ডটা সাদা পলিথিনের কভার দিয়ে ঢেকে আনা হয়েছে। ওই অবস্থায় বোর্ডটা নিয়ে যাওয়া হল অ্যাসেম্বলি হলে।
তক্ষুনি মাঠের মাঝখানে এসে থামল ডি এম সাহেবের গাড়ি। হেডস্যারের পিছন-পিছন মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতিও এসেছেন অ্যাসেম্বলি হলের কাছে। হেডস্যার এবং মুকুলকৃষ্ণবাবু ছুটে গেলেন মাঠের মাঝখানে ডি এম সাহেবকে রিসিভ করতে। হেডস্যার বিনয়ী গলায় বললেন, ‘স্যার, আপনি আমাদের না জানিয়ে আমাদের স্কুলে চলে আসবেন, এ তো ভাবতেই পারছি না! আসুন আসুন!’ বলে ডি এম সাহেবকে নিয়ে অ্যাসেম্বলি হলে নিয়ে গেলেন।
ততক্ষণে অ্যাসেম্বলি হলের স্টেজের সামনে আড়াআড়ি ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে সাইনবোর্ডটা। হেডস্যার দেবোপমস্যারকে বোর্ডটার পলিথিনের কভারটা খুলে দিতে বললেন। মুকুলকৃষ্ণস্যারও কভারটা খুলতে হাত লাগালেন। ডি এম কর্ণার্জুন পাল পড়তে লাগলেন বোর্ডের লেখাটা—‘নিখিলমনোহর ক্রিকেট স্টেডিয়াম, গগনজ্যোতি স্কুল, উদ্বোধন-২৯ নভেম্বর ২০২৬।’
মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘এ কী কাণ্ড করেছেন নবনীতস্যার? না না, এটা ঠিক করেননি। স্টেডিয়ামের নাম থাকুক গগনজ্যোতি স্কুলের নামে।’
জিজ্ঞাসু চোখে ডি এম কর্ণার্জুন পাল তাকালেন হেডস্যারের দিকে। হেডস্যার বললেন, ‘জানেন তো স্যার, মুকুলবাবুর পিতৃদেবের নামে আমাদের স্কুলের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নামকরণ করলাম। কেননা, মুকুলবাবুর পৈতৃক ভিটে বিক্রির টাকায় আমাদের স্টেডিয়ামের ভিত্তি! তাই মুকুলবাবুর পিতৃদেবের নামেই আমাদের স্টেডিয়ামের নাম রেখেছি। বলুন ডি এম সাহেব, কাজটা ঠিক করিনি?’
কর্ণার্জুন পাল হেডস্যারের কথার তারিফ করে বললেন, ‘খুব ঠিক কাজ হয়েছে! বোর্ডটা স্টেডিয়ামের সামনে এমনভাবে প্লেস করবেন, যেন রাস্তা থেকে স্টেডিয়ামের নামটা পড়া যায়!’
হেডস্যার ডি এম সাহেবকে অনুরোধ করলেন, ‘চলুন স্যার, আমরা আকাশের চাঁদ যখন হাতের মুঠোয় পেয়েছি, তখন একটু চা খেয়ে তারপর যেতে দেব।’
‘না না। আমার হাতে অনেক কাজ পড়ে আছে। এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম হেতমগড়ের স্বর্ণলতা গার্লস হাই স্কুলের নতুন ভবনের কাজ কতখানি এগিয়েছে, তার ইনস্পেকশানে। আপনাদের এখন স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চলে এলাম। কেমন স্টেডিয়ামের কাজ এগোচ্ছে দেখে যাওয়াও হবে! না না, এখন আর বসতে পারব না নবনীতস্যার। আর একদিন হাতে সময় নিয়ে এসে দেখে যাব স্টেডিয়ামের কাজ!’
মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘একটা ছোট্ট ক্রিকেটের অবাক-করা সত্যি গল্প শোনাব। চা খেতে-খেতেই আমার গল্প ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু গল্পের রেশ থেকে যাবে মনে অনেকদিন!’
হেডস্যার বললেন, ‘চলুন কর্ণার্জুনস্যার, চলুন চলুন!’
অগত্যা না করতে পারলেন না ডি এম সাহেব। ততক্ষণে দেবোপমস্যার চায়ের ব্যবস্থা করতে ঘন্টিদাদুকে বলতে ছুটলেন। সকলে হেডস্যারের রুমে এসে বসলেন। ডি এম সাহেব বললেন, ‘মুকুলকৃষ্ণবাবু, ঠিক এক কাপ চা খাওয়ার সময়ের ভিতরেই যেন আপনার ক্রিকেটের গল্প ফুরিয়ে যায়!’
মুকুলকৃষ্ণস্যার বললেন, ‘ডি এম স্যার, আপনিও ক্রিকেটের অনেক খবরই রাখেন। ক্রিকেট ইতিহাসে এক বলে দু’শোছিয়াশি রান তোলার একটি অবিশ্বাস্য ঘটনার কতা বলি!’
কর্ণার্জুনস্যার অবাক গলায় বললেন, ‘এক বলে অত রান? তাই কখনও হয় নাকি? ইমপসিবল!’
হেডস্যার ভরাট গলায় বললেন, ‘অবিশ্বাস্য বলেই মুকুলবাবু গল্পটা শোনাতে চাইছেন!’
মুকুলবাবু চোখ দুটো বড়-বড় করে বললেন, ‘তাই ঘটেছিল আটারোশো চুরানব্বই সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলায়। যেখানে ব্যাটসম্যানের মারা বলটি একটি জাররাহ গাছের ডালে গিয়ে আটকে যায়। ফিল্ডাররা তক্ষুনি তা নামাতে পারেননি। সেই খেলায় মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়া দল। ইনিংসের প্রথম বলেই সজোরে ব্যাট চালান ভিক্টোরিয়ার ব্যাটসম্যান। প্রথম বলেই সেই জোরালো শটে ভেতরে থাকা একটি বিশাল জাররাহ গাছের ডালে বল গিয়ে আটকে যায়। বল গাছ থেকে না নামানো পর্যন্ত ব্যাটসম্যানরা দৌঁড়ে রান নিতে থাকেন। তাঁদের রান গিয়ে পোঁছয় দু’শো ছিআশি রানে। এক বলেই ইনিংস ঘোষণা করার আর কোনও নজির নেই বিশ্বক্রিকেটের ইতিহাসে।’
ডি এম কর্ণার্জুন পাল উচ্ছ্বসিত গলায় বলে উঠলেন, ‘মুকুলবাবু, সত্যিই আপনার ক্রিকেটের গল্পটি অসাধারণ!’
‘গল্পের শেষের চমকটা না শুনলে তো হবে না।’
‘বলুন, বলুন! আমার চাও শেষ চুমুকের অপেক্ষায়।’
মুকুলবাবু একটু কেসে নিয়ে বললেন, ‘এই রান নেওয়ার সময় নিজেদের মধ্যে দু’শো ছয়াশিবার ক্রিজ বদল করে নিয়েছিলেন ভিক্টোরিয়ার দুই ব্যাটসম্যান। হিসেব করে দেখা গেছে এই রান নেওয়ার সময় তাঁরা প্রায় ৬ কি.মি. পথ দৌড়েছিলেন।’
হেডস্যার এবং দেবোপমস্যার হাততালি দিয়ে উঠলেন। ডি এম সাহেব উঠে পড়লেন চেয়ার থেকে। বললেন, ‘নবনীতস্যার, আজ চলি? আর একদিন এসে স্টেডিয়ামের কাজের অগ্রগতি দেখে যাব!’
গড়িতে উঠে বেরিয়ে গেলেন ডি এম সাহেব হেতমগড়ের উদ্দেশ্যে। সেদিকে তাকিয়ে দেখতে-দেখতে হেডস্যার বললেন, ‘মুকুলবাবু, আপনার সংগ্রহে ক্রিকেটের এরকম কত না গল্প জমে আছে। যতই শুনি মন আর ভরে না!’
দেবোপমস্যার ব্যস্ত হয়ে বললেন, ‘হেডস্যার, আমার ক্রিকেট টিম অনীকবাবুদের মাঠে কী করছে গিয়ে দেখি! ওদের স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছি! এমন কখনও ছাড়িনি তো?’
দেবোপমস্যার স্কুলের খেলার মাঠের মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেদিকে তাকিয়ে মুকুলকৃষ্ণবাবু বলল্ন, ‘আপনার সংগ্রহের সেরা কালেকশান এই দেবোপম!’
‘ঠিক বলেছেন মুকুলবাবু! আমি যে কত ব্যাপারে ওর উপর নির্ভর করেছ থাকি। আর একটা কথা কী জানেন, দেবোপমের উপর কোনও দায়িত্ব দিয়ে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন একশো ভাগ। এই তো দেখুন না, ওকে মনে করিয়ে দিতে হয়নি অনীকবাবুদের ক্রিকেট কোচিংয়ের কথা। আমাদের ক্রিকেট টিম নিয়ে ওর ভাবনাও তো কম নয়।’
মুকুলকৃষ্ণস্যার বললেন, ‘আপনার ক্রিকেট টিমের আর একটি রত্ন হল লোকন দাস! যেমনি দারুণ খেলে, তেমনি দায়িত্ববান।’
‘ওর বাবা নেই ছোটবেলা থেকে। বড় হতে-হতেই মাও চলে গেল। সঙ্গে থাকল পুরোপুরি দৃষ্টিহীন এক দিদি। দিদিকে নিধিভূষণ প্রাইমারি স্কুলের আয়ার কাজটা দয়া পরবশ হয়ে দিয়েছিলেন হেডস্যার দেবেন্দ্রলাল সামন্ত। সকলে বলেছিল, ‘মেয়েটাকে কাজটা দিলেন খুব ভাল কথা! সত্যিই উপকার করলেন মেয়েটির। কিন্তু অমন দৃষ্টিহীন মেয়েকে দিয়ে কী কাজ করাবেন? পারবে কি ও?’ অথছ, সেই মেয়ে পারুলমণি, নিজের চেষ্টায় স্কুলের সব কাজই সুন্দরভাবে করে চলেছে। সেই মাইনের টাকায় ভাইকে মানুষ করছে। এমন সচরাচর দেখা যায় না। কী বলেন মুকুলবাবু?’
‘সবই চেষ্টা নবনীতস্যার!’ বলে মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘আমি একজন মানুষের কথা বলতে পারি, তাঁর নাম পিটি ইকার্ট। তিনি রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা অসুখের জন্যে চোখের দৃষ্টিটাই হারিয়ে ফেলেন। তখন তিনি স্কাল্পচার নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। পরে তিনি ফটোগ্রাফিতে মন দেন। তাঁর ফোটো তোলার ধরণ ছিল, প্রথমে তিনি জেনে নেন তিনি কিসের ছবি তুলবেন? এর পর তিনি তাঁর মনে সেই জিনিসের ছবি কল্পনা দিয়ে এঁকে নেন। তারপর আশপাশের শব্দের কল্পনার সাহায্যে তিনি ছবি তোলেন। কী অদ্ভুত, একবার ভেবে দেখুন তো? তিনি নিজে একটা ভারী অদ্ভুত কথা বলেছেন নিজের সম্পর্কে—‘আমি আসলে একজন চক্ষুষ্মান মানুষ। শুধু দেখতে পাই না, এই যা!’
নবনীতস্যার অবাক চোখে তাকিয়ে তাকলেন মুকুলবাবুর দিকে। তারপর বললেন, ‘মুকুলবাবু, চলুন তো দেখি, এখনও কেন দেবোপম আসছে না?’
তখন বিকেলের আলো নিভে আসছিল। দিনের পাখিরা তড়িঘড়ি ডানা মেলে বাসায় ফিরে আসছিল। তাদের তখন আর অন্য দিকে তাকানোর ফুরসতই নেই!
(এর পর ৩৩ পর্ব)
পুণ্যজা পঞ্চাধ্যায়ী। ক্লাস V . সেকশন - ডেল্টা , বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন , মেদিনীপুর।
ঝিনুক
ঋতন্যা শতপথী
শ্রেণি-- দ্বিতীয় বয়স-- ৮ স্কুলের নাম- সেন্ট আরনল্ড স্কুল (শালাজপুর)
ঝিনুক যদি দেখতে চাও নদীর পাড়ে এসো
নানান রঙের ঝিনুক আছে শান্ত হয়ে বসো।
মনটা যদি ভালো থাকে তবেই কথা বোলো
ঝিনুক যদি পছন্দ হয় দু- একটি তোলো।
মনটা যদি খারাপ থাকে নদীর দিকে দেখো
বালির উপর ঝিনুক রেখে মনের কথা লেখো।
বালির নীচে নোনা জলে মনটা আছে ভিজে
তোমার মনের দুঃখ যত বলে ফেল নিজে।
ডাঃ এ সামন্ত
MD Homeopathy
গত সপ্তাহে তোমাদের বলেছিলাম কোন বয়সের জন্য কত IU ভিটামিন ডি ৩ এর প্রয়োজন। আজ তারপর থেকে বলবো। শ্যামল বাবু সকালে ছাদের উপর খালি গায়ে ব্যায়াম করেন ও গায়ে সূর্যালোক লাগান। কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেলো, ভিটামিন ডি বেশ কম। শ্যামল বাবু মহা চিন্তায় পড়ে ডাক্তার বাবুর কাছে গেলে তিনি বলেন, দিনের সবসময় কিন্তু সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি সংশ্লেষন এর জন্য উপযুক্ত নয়। সকাল দশটা থেকে দুপুর তিনটের মধ্যে সূর্যালোকে UV - B রশ্মি থাকে যা আমাদের ত্বকের ভিটামিন ডি সংশ্লেষে সহায়তা করে । তাই ওই নির্দিষ্ট সময়ে আমরা যদি কোনো রকম সানস্ক্রিন না মেখে ছাতা না ব্যবহার করে কাঁচের জানালার বাইরে নিজেদের ত্বক সূর্যালোকে মেরে ধরি, তখন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি সংশ্লেষিত হয়। তবে একটা কথা ফর্সা চামড়ার মানুষেরা ত্বকে কালো চামড়ার মানুষের ত্বকের তুলনায় অনেক দ্রুত ভিটামিন ডি সংশ্লেষ করে। তেমনি ঠান্ডার সময় সূর্যরশ্মির তীব্রতা কমে যাওয়ায় আবার বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পেলেও ত্বকে এই ভিটামিনের আরো কমে যায়। ভিটামিন ডি এর অভাবে ক্ষুদ্রান্ত থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ বাধাপ্রাপ্ত হয় ফলস্বরূপ হাড়ে ব্যথা বিশেষত সিনবোনে, পেশির দুর্বলতা, পড়ে যাওয়ার প্রবণতা, প্রচুর পরিমাণে ঘাম দেওয়া বিশেষত রাত্রে এবং কপালে, depression , ডিমেনশিয়া, প্যানিক অ্যাটাক,সব সময় দুর্বলতা বোধ। ভিটামিন ডি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফ্লেমিংহাম হার্ট স্টাডি থেকে দেখা গেছে যাদের ভিটামিন ডি এর অভাব থাকে, তাদের হৃদরোগ হবার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়, কারণ ভিটামিন ডি এর প্রদাহরোধী ক্ষমতা রয়েছে। তাছাড়া ভিটামিন ডি এর অভাবে উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায় এই ভিটামিন ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি করে তাই দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি এর অভাব হলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট দেখা দেওয়াই মধুমেহর প্রবণতা অনেকটা বেড়ে যায় ।এই ভিটামিন ইমিউনিটি প্রোভাইডিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করায় রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার সমতা রাখতে সাহায্য করে। তেমনি ক্ষত সারাবার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন দেখা যায় - ভিটামিন ডি এই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া আমাদের দেহের কোষগুলির বয়স হলে নির্দিষ্ট সময়ের পরে নিজে থেকেই মারা যায় এই প্রক্রিয়াকে অ্যাপোপটোসিস বলে। যা না হলে বয়স্ক কোষের মধ্যে যে দূষিত পদার্থ থেকে যায় সেখান থেকে ক্যান্সারের দিকে মোড় নিতে পারে। কিন্তু রক্তে ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকলে এপোপটসিস নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটায় ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা অনেক কমে যায়। ভিটামিন ডি দুই প্রকারের হলেও আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি টু অপেক্ষা ভিটামিন ডি ৩ অধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভিটামিন ডি থ্রি অনেক বেশি বায়োলজিক্যালি এক্টিভ। তাই ভিটামিন ডি এর অভাব হলে আমরা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ভিটামিন ডি থ্রি নিয়মিতভাবে দৈনিক বা সাপ্তাহিক বা মাসিক পর্যায়ে অবশ্যই গ্রহণ করব তবে রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি থ্রি ধরে রাখতে হলে দৈনিক 2000 IU মাত্রায় নিলে ভালো হয় যেহেতু এই ভিটামিন স্নেহ পদার্থের দ্রবীভূত হয় তাই মেদ বহুল খাবারের পরেই ভিটামিন ডি থ্রি ক্যাপসুল নিলে অন্ত্রের তার শোষণ খুব ভালো হবে।
তাহলে জানলে তো ভিটামিন ডি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা দরকারি তাই তোমাদের যাতে এই ভিটামিনের অভাব না হয় তার ব্যবস্থা নিয়ো কিন্তু। সুস্থ থাকো, ভালো থাকো।
দীপালি সাহু
জানতো শিশুরাই হলো জাতির ভবিষ্যৎ রূপকার। তোমরাই ভবিষ্যতে বিশ্ব পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তোমরাই আমাদের স্বপ্নের উত্তরাধিকার। শিশু মানেই নিষ্পাপ ঝলমলে মুখ, মায়াময় আকর্ষণ ও অপার সম্ভাবনা।দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তোমাদের সুষ্ঠু বিকাশ ব্যতীত দেশ ও জাতি অপরিপূর্ণ। তাই এই অনন্ত সম্ভাবনাময় সম্পদকে রক্ষা করা , তোমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর ও সুনিশ্চিত করা আমাদের ধর্ম।
সাধারণত আমরা সকলেই ছোটদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ বলতে শারীরিক দিককে বুঝি। ওজন, উচ্চতা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে বুঝি। কিন্তু শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক, সামাজিক, আবেগিক, নৈতিক, সৃজনশীল বিকাশ ও ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শৈশবের পর শুরু হয় কৈশোর ও তারুণ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল হল ১০-১৯ বছর বয়স।
বয়ঃসন্ধি আমাদের জীবনে প্রভূত অনুভূতিগত ও আচরণগত পরিবর্তনের সূচনা করে। এই পর্যায়ে কৈশোরের কিশলয় পর্ণে পরিণত হয়। এ এক অদ্ভুত বৈচিত্রাময় সময়। সন্ধিতে যেমন পূর্ববর্ণ ও পরবর্ণ থাকে তেমনি বয়ঃসন্ধিতে থাকে পূর্বস্তর বা অযৌন জীবন ও পরবর্তীস্তর বা যৌন জীবন। অভ্যন্তরীণ ভাঙাগড়ার খেলায় আর জোয়ার ভাঁটার টানে দুরন্ত কৈশোর, অনেক সময় দুর্বিসহ কৈশোরে পরিণত হয়। চতুরঙ্গ দেহের ও সাতরঙ্গা মনের মধ্যে যৌন ধারণার জলতরঙ্গ যেমন অবিরাম সঙ্গীতের মূর্ছনা তোলে, তেমনই তার চাপ ও তাপে অনেক সময় অনেক কিছু ওলট পালট করে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
এই বয়ঃসন্ধি কাল বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ "ছাত্র শাসন তন্ত্র" প্রবন্ধে বলেছেন “তখন শাসনের সীমানা হইতে স্বাধীনতার এলাকায় সে প্রথম পা বাড়াইয়াছে। এই স্বাধীনতা কেবল বাহিরের ব্যবহারগত নহে। মন রাজ্যেও সে ভাষার খাঁচা ছাড়িয়ে ভাবের আকাশে ডানা মেলিতে শুরু করিয়াছে। তার মনে প্রশ্ন করিবার তর্ক করিবার, বিচার করিবার ‘অধিকার প্রথম লাভ’ করিয়াছে। শরীর মনের এই বয়ঃসন্ধিকাল বেদনা কাতরতায় ভরা। এই সময়েই অল্পমাত্র অপমান মর্মে গিয়া বিঁধিয়া থাকে এবং আভাসমাত্র প্রীতি জীবনকে সুধাময় করিয়া তোলে। চিবাইয়া খাইবার বয়স আসিলে বেশ একটু জানান দিয়া দাঁত ওঠে তেমনি মনুষ্যত্বলাভের যখন বয়স আসে তখন আত্মসম্মানবোধটা একটু ঘটা করিয়াই দেখা দেয়।”
এই সময়েই তোমাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, বৌদ্ধিক, নৈতিক পরিবর্তন ঘটতে থাকে দ্রুত। জীবন দর্শন তৈরী হতে থাকে। তৈরী হতে থাকে নিজস্ব স্বত্বা। তাই প্রতি মুহূর্তে চলতে থাকে দ্বন্দ্ব। দ্বন্দ্ব সর্বস্তরে- দৃষ্টিভঙ্গি, নীতি, মূল্যবোধ, জীবন যাপন পদ্ধতি, সামাজিক চেতনা, শিক্ষাপদ্ধতি ও জীবন দর্শন। দ্বন্দ্ব চলতে থাকে পুরাতনের সাথে নতুনের , পূর্ববর্তী প্রজন্মের সাথে নতুন প্রজন্মের, প্রত্যাশা বা স্বপ্নের সাথে বাস্তবের । সর্বোপরি নিজের সাথে নিজের। কখনো কখনো নিজেকে, নিজের বাহ্যিক গঠনকে , নিজের চাওয়া পাওয়া কে সম্পূর্ণভাবে মেনে নিতে পারো না।
দ্বন্দ্ব মানেই তো যুদ্ধ।আর যুদ্ধ মানেই ব্যথা, যন্ত্রণা, চাপ, ভয়, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা, নিঃশব্দ রক্তক্ষরণ। আবার অপরদিকে আসে শরীরে মনে নতুনত্বের অমোঘ আকর্ষণ। আবেগীয স্তরে চলতে থাকে উথাল পাতাল জোয়ার ভাঁটা।
এরপর শরীরের লাটাই ও মনের সুতোয় মাঞ্জা দিয়ে মুক্ত স্বাধীন আকাশে প্রেম নামক ঘুড়ি উড়তে চায় অনির্দেশ টানে। হৃদয় বাগানে ফোটে প্রথম কদম ফুল। যেখানে চাওয়া ও পাওয়ার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। তার কারণে ভুল ভাবনা ও বহু অপরাধ প্রবণতার জন্ম। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে বয়ঃসন্ধিকালের দৈহিক পরিবর্তন সম্পর্কে নানা তথ্য থাকে কিন্তু আচার আচরণের উপর মস্তিষ্কের কার্যকলাপের প্রভাব সংক্রান্ত তথ্য থাকে না। সাধারণত ৬ বছর বয়সের মধ্যে ৯০% মস্তিষ্কের গঠন সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু তার পরেও প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত মস্তিষ্কের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ঘটতে থাকে। আমাদের মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স এর কাজ হল মানুষের যুক্তি, বুদ্ধি, চিন্তা ইত্যাদির বিকাশ। অন্যদিকে লিম্বিক সিস্টেমের দ্বারা মানুষের অনুভূতি নিয়ন্ত্রিত হয়। লিম্বিক সিস্টেমের পর প্রিফ্রন্টলাল কর্টেক্স এর বিকাশ ঘটে তাই বয়ঃসন্ধিকালে যুক্তি, বুদ্ধির চেয়ে আবেগ প্রাধান্য পায় বেশি আবেগ অনুভূতির স্তর এই কারণে এই বয়স অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়। একান্তে থাকার চাহিদা, অস্থিরতা, বিষন্নতা, বিরক্তি, একঘেঁয়েমি, কর্তৃত্বের প্রতি বিরোধ, আত্মপ্রত্যয়ের অভাব, বন্ধুদের দ্বারা প্রত্যাখানের ভয়, সংশয় ইত্যাদি নানা জটিলতা তোমাদের জীবনকে বেঁধে ফেলে ।
আবার এই সময় যৌন হরমোনের ক্ষরণের ফলে, শরীরে, মনে তৈরী হয় বিপরীত লিঙ্গের প্রতি অমোঘ আকর্ষণ।
কৈশোর তারুণ্য সুন্দরের আবাহনের সময়। প্রস্ফুটনের কাল। সেই সুন্দরের দলিত, মথিত, পীড়িত হওয়া না কাঙ্খিত, না প্রার্থিত।
বর্তমান বিশ্বে তোমরা অনেক বেশী মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছো । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সব ধরণের মানসিক অসুস্থতার অর্ধেকই শুরু হয়ে যায় ১৪ বছর বয়সের মধ্যে। কিন্তু অসুস্থতার বেশিরভাগ অবহেলায় ও অগোচরে থেকে যায়। এছাড়া বিষন্নতা, অবসাদ, একাকীত্ব এক ভয়াল শ্বাপদ যা তোমাদের গিলে ফেলতে চাইছে।বিশেষত স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে, কেরিয়ার ও পারিবারিক প্রত্যাশার চাপে অবসাদ গ্রস্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে অনেকেই। পশ্চিমবঙ্গে ও এই পরিসংখ্যান ক্রমবর্দ্ধমান ও ভীতিপ্রদ।
তবে শুধু সমস্যা বা জটিলতা নয় ,অনেক সৌন্দর্য ও লুকিয়ে আছে এই বয়সে ।এটা জীবনপ্রবাহের এমন এক অনন্য মোড়, যাকে সংসংজ্ঞায়িত করা যায় একঝাঁক রঙিন বৈপরীত্য দিয়ে। এটি কেবল শারীরিক পরিবর্তনের সময় বা সংকটকাল নয় বরং আত্মআবিষ্কারের এক রঙিন ক্যানভাস।যেমন .....
এই বয়সে পৃথিবীটাকে নতুন আলোয় দেখতে ইচ্ছা করে। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে নতুনকে জানা, বোঝা এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের একটা তীব্র তাগিদ কাজ করে। মন চায় বন্ধন ভেঙে নিজের ডানায় ভর দিয়ে নীল আকাশে ভাসতে।
কৈশোর হলো ভাবনার আকাশে ডানা মেলবার সময়। এই বয়সে চোখে থাকে একরাশ স্বপ্ন, হৃদয়ে থাকে অসাধ্য সাধনের আত্মবিশ্বাস। ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার এই অদম্য ইচ্ছেটাই Adolescence-এর অন্যতম সেরা চার্ম।
আবেগগুলো এই সময়ে সবচেয়ে প্রখর এবং খাঁটি হয়। হৃদয় বাগানে ফুটে ওঠে প্রথম ভালোবাসার অনুভূতির মতো কদম ফুল—যার টান গভীর ও অচেনা। বন্ধুত্বের প্রতি গভীর টান, অনুভূতির তীব্রতা আর আবেগের এই রঙিন জোয়ার-ভাটা জীবনকে অদ্ভুত এক স্পন্দন দেয়।
তাছাড়া “আমি কে?"—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করা এই বয়সের এক বড় বৈশিষ্ট্য। নিজের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, নিজের নীতি, পছন্দ-অপছন্দ তৈরি হওয়া এবং সমাজের বুকে নিজের একটা স্বতন্ত্র পরিচয় (Identity) তৈরি করার রোমাঞ্চই আলাদা।
ঝুঁকি নেওয়ার সাহস, নতুন কিছু করে দেখানোর উন্মাদনা আর অদম্য প্রাণশক্তি—এই বয়সের তরুণ-তরুণীদের করে তোলে অনন্য। সমাজের নিয়ম ভাঙার স্পর্ধা আর নতুন পরিবর্তনের স্বপ্ন কেবল এই বয়সেই এত জীবন্ত থাকে।
এরপর থেকে তোমাদের এই সময়ের কিছু সংকটকে কয়েকটা বিভাগে আলোচনা করবো ।তোমরা ছোট তবু বলবো নিজেদের ভালো রাখার দায়িত্ব তোমাদের নিজেদেরকে ও নিতে হবে । তাই নিজের শরীর ,মনকে চিনতে হবে , জানতে হবে ও বুঝতে হবে । প্রথম বিভাগ হবে “নিজের সাথে লড়াই ” । পরের সপ্তাহে থাকবে তার প্রথম পর্ব। সাথে থেকো ......
ক্যুইজ - ১৬
১. মালদার বিখ্যাত আমের নাম কি?
2. মালদা শহর আম ছাড়া আর কোন ফলের জন্য বিখ্যাত?
৩. জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কোথায়?
৪. জলদাপাড়া জাতীয় অরণ্য কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত?
৫. গোরুমারা জাতীয় উদ্যান কোথায়?
গত সপ্তাহের ক্যুইজ এর উত্তর
১. বীরভূম
2. মুর্শিদাবাদ
৩. ১০০০ টি
৪. ১৭৫৭ সালে
0 Comments