জ্বলদর্চি

জল ধরো,জল ভরো – ভবিষ্যৎ গড়ো। ( প্রথম পর্ব )/সোমনাথ মুখোপাধ্যায়


জল ধরো,জল ভরো – ভবিষ্যৎ গড়ো

( প্রথম পর্ব )

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়

একটু আগে পাম্প চালিয়ে রিজার্ভার থেকে জল তোলা হলো। ভাদুরে গরম এখনও জেঁকে বসার ফুরসৎ পায়নি তাতেই টান পড়েছে মিউনিসিপ্যালিটির জলের জোগানে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়াকে বাদ দিলে আমাদের রাজ্য মোটামুটি সুজলা। এল নিনো রক্তচোখ দেখিয়ে আমাদের রক্তচাপ কিছুটা বাড়িয়ে দিলেও শেষমেশ ঘনীভূত নিম্নচাপের প্রভাবে বেশ খানিকটা ঝরো ঝরো বরষণ হ‌ওয়ায় সঙ্কটের ধাক্কাটা কিছুটা বোধহয় সামলানো গেছে। তবে আগামী দিনগুলোতে কি হবে ,তা বলা বেশ কঠিন কেননা নতুন করে এল নিনোর পুনরাগমনের আভাস দিয়েছেন আবহবিদরা। আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশেই কার্যকর জলের জোগান তলানিতে গিয়ে ঠেকবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। 

🍂

অথচ জল ছাড়াতো জীবন চলেনা।এই আশ্চর্য তরলের উপস্থিতির জন্য‌ই ধরিত্রী তাঁর সহচরদের তুলনায় আলাদা। অবশ্য পাশাপাশি এ কথাটাও পরম সত্য যে ধরিত্রী দেবীর জলের বোতলে পেয় বা মিঠা জলের জোগান একদম সীমিত এবং এই ভাণ্ডার খুব দ্রুত গতিতে নিঃশেষিত হতে চলেছে। এমন‌ই এক সমস্যাঘন পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই আমাদের এখন চলতে হবে। জলের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে যে একদিন ভারসাম্যহীনতা দেখা যাবে তা আমাদের পূর্বজরা অনেক আগেই টের পেয়েছিলেন। তাই নানান সূত্রে আমাদের সতর্ক করে গিয়েছেন তারা। নিজেরাই হাতে কলমে পথ দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে জলকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আগামী প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে। বিশেষ করে ভারতের পশ্চিম প্রান্তের শুখা পীড়িত রাজ্য রাজস্থানে বৃষ্টির জল ধরে রেখে তাকে সারা বছর ধরে প্রয়োজন মতো কীভাবে ব্যবহার করা সম্ভব তার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন আমাদের জন্য। বাতলে গেছেন নানান উপায়।

বহুদিন আগে বিশিষ্ট গান্ধীবাদী সমাজকর্মী প্রয়াত অনুপম মিশ্র জীর একটা TED Talk এর অনুষ্ঠান দেখেছিলাম। কথায় কথায় দর্শক শ্রোতাদের তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন থর মরুভূমির দেশ রাজস্থানে। কয়েক শতক ধরে ওই মরুরাজ্যের সাধারণ মানুষেরা কীভাবে বৃষ্টির জলকে সঞ্চয় করে রাখার বিচিত্র সব উপায় উদ্ভাবন করেছিলেন নিবিড় অধ্যবসায় আর সংবেদনকে হাতিয়ার করে, তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যই ছিল অমন আয়োজন। ওই সব ব্যবস্থাপনা এতোটাই কার্যকর ও উপযোগী ছিল যে মরুভূমির শুষ্ক বৃষ্টিহীন পরিবেশেও চাষ বাস করে দিব্যি আনন্দে দিনযাপন করতে কোনো অসুবিধা হতো না তাদের। দুঃখের বিষয় হলো এই যে, ওইসব উত্তম ব্যবস্থাপনাকে কবেই আমরা আধুনিকতার দোহাই দিয়ে খারিজ করে দিয়েছি। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের পরম্পরাগত সাধনগুলোকে সেকেলে বলে বাতিল করে নতুনের নামে কতগুলো ঝাঁ চকচকে ব্যবস্থাকে কায়েম করেছি যেগুলো না পরিবেশানুগ না টেকস‌ই। অথচ জল নিয়ে আমাদের অনিশ্চয়তা বাড়ছে সময়ের সাথেসাথে। আজ এমন‌ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে একবার দেখে নেওয়া যাক সেইসব বিস্মৃতপ্রায় উপায়গুলোকে, জেনে নেওয়া তাদের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে।

ভারতীয় হিসেবে এটা আমাদের পরম গর্বের বিষয় যে আবহমানকাল ধরে আমরা এক আশ্চর্য জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম যা ছিল একাধারে সুস্থিত এবং পরিবেশানুগ। সে জীবনে বাহুল্য ছিলোনা,  ছিলো পরিমিতিবোধ, ছিলো একান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হবার গভীর আকুতি।  এদেশে একে একে বহু বৈদেশিক শক্তির আগমন ঘটেছে, তাদের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক জীবন, কর্মধারা ও কৃষ্টি কিন্তু গ্রামীণ ভারতের অন্তর্লীন জীবনের ক্রিয়া পদ্ধতির ধারা বরাবরই অক্ষুন্ন ছিল। প্রকৃতির মুক্ত সম্পদের জোগান‌ও যে অসীম নয় ,অতি ব্যবহারে তা ফুরিয়ে যায় - বহুকাল আগে এই পরম সত্যটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন আমাদের পূর্বজরা। তাই তাঁরা একদা উচ্চারণ করেছিলেন পৃথিবীর প্রাণময় সত্তাকে অমলিন রাখার, পার্থিব সম্পদকে আগলে রাখার সাবধান বাণী। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের অভিঘাতে তার ভিত্তিতে ভাঙন শুরু হলো। নতুনের ঝলকানিতে বিভ্রান্ত হয়ে আমরা আমাদের সুস্থিত সুন্দর জীবনের অপরিমেয় ঐশ্বর্যকে হারিয়ে ফেললাম।

জল সংরক্ষণের যে উপায়গুলো আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলাম তাকে রাতারাতি বাতিল করে দিলাম নিতান্তই অবহেলা আর অবজ্ঞায়। শুধুমাত্র ক্ষরাপ্রবণ রাজস্থানে নয়, উত্তরের কাশ্মীর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী, পশ্চিমের কচ্ছ থেকে পূর্বের কাকচিং – সর্বত্রই স্থানীয় ভৌগোলিক ও 

সাংস্কৃতিক পরিবেশের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছিল জল বাঁচানোর নানান ধরনের উপায় যেগুলো ছিল মানুষের প্রয়োজনানুগ। স্মৃতি সরণি বেয়ে আজ আমরা সেই হারিয়ে যাওয়া ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর করবো। 

এই মুহূর্তে পৃথিবীর দুই - তৃতীয়াংশ মানুষ তীব্র জল সংকটের ভ্রুকুটির সম্মুখীন অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগ জুড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ জলরাশি যা অপেয় - লবণাক্ত। ভারতের দিকে নজর ঘোরালে আমরা দেখতে পাই দেশের ৬০০ মিলিয়ন মানুষ জল সংকটের শিকার। যথার্থ গুণমানের জল না পাওয়ায় অপরিশ্রুত জল ব্যবহার করতে বাধ্য হয় অনেক মানুষ। ইতিহাসের আয়নায় মুখ ফেরালে আমরা দেখি অতীতের অনেক সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে জলের নিদারুণ অভাবের কারণে। আজ তাই সর্বত্রই উচ্চারিত হচ্ছে জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা। জলবায়ু পরিবর্তনের হাত ধরে এই সমস্যা আরও গভীরতর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আজ তাই সর্বত্রই দাবি উঠেছে জল বাঁচানোর অনন্য ভারতীয় সাধন গুলোকে পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিত করার।


আহর পাইনস 

আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের দক্ষিণভাগে বৃষ্টির জলকে ধরে রাখার এক প্রচলিত পদ্ধতি হলো আহর পাইনস খনন। প্রথাগতভাবে নালা জাতীয় এই জলাধারগুলো খনন করা হয় বন্যার সময় নদীর উপচে পড়া জল ধরে রাখার জন্য। এগুলোর তিন দিকে মাটি দিয়ে উঁচু করে বাঁধ দেওয়া হয় যাতে করে নদীর অতিরিক্ত জল এই কৃত্রিম খাতে এসে জমা হয় । শুখা পরিস্থিতিতে জলের ঘাটতি যথাযথ ভাবে মেটানো সম্ভব হয় এই পাইনস বা নালায় ধরে রাখা জলে। আমাদের রাজ্যের নয়ানজুলির মতো এই খাতগুলোও জল ধরে রেখে জল সংরক্ষণের কাজে সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ বিহারের মানুষ এই পদ্ধতিতে জল বাঁচিয়ে রাখছে।

আপাতানি 

বিহার থেকে এবার এলাম ভারতের উদীয়মান সূর্যের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে। এই রাজ্যের জিরো প্রদেশের আদিবাসী আতাপানি সম্প্রদায়ের মানুষেরা কৃষি উৎপাদন,মাছ চাষের পাশাপাশি নিজেদের দৈনন্দিন জলের চাহিদা মেটাতে এই বিশেষ উপায়ে বৃষ্টির জলের সাথে ভৌম জলের সঞ্চয় করে রাখে। অরুণাচলের পাহাড়ি উপত্যকায় ধাপের আকারে কৃষি জমিকে কেটে তৈরি করা হয়। দুটি ধাপের সীমানা বরাবর প্রায় আধ মিটার উঁচু মাটির বাঁধ তৈরি করা হয়। এগুলো যাতে টেকস‌ই হয় সে জন্য বাঁশের তৈরি বিশেষ ধরনের খাঁচা ব্যবহার করেন আতাপানি সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

এই ধাপে জল ঢোকার এবং বেরিয়ে যাবার জন্য দুটি আলাদা পথ থাকে।জল যাতে কোনোভাবেই বেরিয়ে না যায় সেজন্য প্রবেশ পথের ঢাল বরাবর গভীর খাত কাটা হয়। জমির জলের চাহিদা অনুযায়ী ইনলেট অংশ দিয়ে খাতের মধ্যে জমা জল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। জমির মাটি ভিজে গেলে অতিরিক্ত জল আউটলেট অংশ দিয়ে পরবর্তী ধাপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

দুটি আলাদা পথ থাকায় কৃষকরা তাদের ইচ্ছেমত জলের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আজ‌ও অরুণাচলের আতাপানি মানুষেরা জল ধরে রেখে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে।

 চেও - ওজিহি এবং জাবো 

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড রাজ্যে বৃষ্টির জল ধরে রাখার দুটি প্রাচীন অথচ কার্যকর পদ্ধতি হলো চেও - ওজিহি এবং জাবো। 

পাহাড়ের ঢালের ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে গড়িয়ে যাওয়া জলকে ধরে রাখা সহজ নয়। আপাতানির মতো চেও - ওজিহিসও ঢালের ওপর গড়ানো জল ধরে রাখার এক অনন্য পদ্ধতি যা নাগাল্যান্ডের কিগ‌ওয়েমা গ্রামের আঙ্গামি সম্প্রদায়ের সাধারণ কৃষিজীবী মানুষেরা অনুসরণ করছে পুরুষানুক্রমে। এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেইয়েজী নদী। আঙ্গামি নাগা ভাষায় ওজিহি শব্দের অর্থ নদী আর চেও শব্দের অর্থ যিনি প্রথম বাঁশের তৈরি বিশেষ ধরনের পাইপ দিয়ে নদীর জলকে প্রায় ১০ কি. মি.পথ টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। মূল খালের সঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য উপ ও শাখা খাল যেগুলো নদীর জলকে পৌঁছে দেয় অনেকটা এলাকা জুড়ে। এগুলো যাতে পলি জমে ভরাট না হয় সেজন্য নিয়মিত ভাবে তাদের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। একান্তভাবে পরিবেশবান্ধব  দেশীয় পদ্ধতিতে জল বাঁচিয়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষ এক অনন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। জলের অপচয় নয়, তাকে সংরক্ষণ করা কতটা জরুরি তা নাগাল্যান্ডের কিগ‌ওয়েমা গ্রামে এলে টের পাওয়া যায়।

অন্যদিকে জাবো পদ্ধতিটি হলো সর্বাংশে একটি আদর্শ পরিবেশবান্ধব পরম্পরাগত পদ্ধতি যা একাধারে বৃষ্টির জল সংগ্রহ,অরণ্য সৃজন, পশুপালন, জল সেচের প্রসারণের সাথে ভূমিক্ষয় রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে জলসম্পদের সুষম ব্যবহার করতে সাহায্য করে। এইটি রিজা পদ্ধতি নামেও পরিচিত।

নাগাল্যান্ডের কিকরুমা অঞ্চলের মানুষেরা আজ‌ও এই পদ্ধতিতে জল বাঁচিয়ে সুসংহত পরিবেশ উন্নয়ন করে চলেছেন। ভারতের এই অংশে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি নেই তবে বছরের একটা সময় তীব্র জল সংকটের মধ্যে পড়তে হয় এই এলাকার মানুষজনকে। সমতল ভূমির অভাবের কারণে এই অঞ্চলের কৃষি জমিগুলো পাহাড়ের ঢালের ওপর ধাপের আকারে গড়ে তোলা হয়। জল থাকলে গাছ থাকবে, গাছ থাকলে আসবে গৃহপালিত ও বন্যপ্রাণীরা , গড়ে উঠবে মানুষের বসতি। সবাই মিলেমিশে থাকার এক পরিপূর্ণ আয়োজন। ধাপের ওপর গড়িয়ে পড়া জল ক্রমে বাহিত হয়ে শেষে জমা হয় পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে তোলা জলাশয়ে। সেই জল ব্যবহার করা হয় ধান চাষ করতে। জাবো পদ্ধতিটি এভাবে নদীর পরিবাহী অঞ্চলের সামগ্রিক বিকাশে জাবো পদ্ধতিটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।

এড়ি

দক্ষিণের তামিলনাড়ু রাজ্যের সবথেকে জনপ্রিয় জল সঞ্চয় করে রাখার পদ্ধতি হলো এড়ি বা পুকুর। প্রাকৃতিক কারণেই দক্ষিণ ভারতের তরঙ্গায়িত ভূপৃষ্ঠের নিচু অংশগুলোতে জল জমা হয়ে বড়ো বড়ো জলাধার গড়ে উঠেছে। তামিলনাড়ুর এক তৃতীয়াংশ কৃষি জমি এই এড়ি জলাধারের জল দিয়ে সেচের কাজ করে।

বৃষ্টির জল ধরে রাখার সবথেকে পুরনো উপায়‌ই হলো পুকুর খনন। বন্যার প্রকোপকে প্রশমিত করতে, মৃত্তিকা ক্ষয় রুখতে, বৃষ্টির জলের পৃষ্ঠ প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে,ভৌমজলের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পুকুর অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে। আজ‌ও এই পুকুরগুলো জল ধরে রাখার বিশ্বস্ততম উপায় হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে গোটা দেশে।

জল বাঁচানোর এমন সব বিচিত্র আয়োজন রয়েছে আমাদের দেশে। আবহমানকাল ধরে এই উপায়গুলোর ওপর মানুষেরা বিশ্বস্ত থেকেছে। পদ্ধতিকে আধুনিক করে তুলতে গিয়ে আমরা শিকড় থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছি। শিকড় ছেঁড়া গাছ বাঁচেনা। টেকেনা সভ্যতা। (বাকি অংশ পরের পর্বে)

Post a Comment

10 Comments

  1. বিষয় ভাবনা হিসেবে শুধু নতুন নয় অভিনব‌ও বটে। জল সঞ্চয়ের এমন উপায়গুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা হ‌ওয়া খুব প্রয়োজন। জল কমছে। বাড়ছে অপচয়। লেখককে ধন্যবাদ। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

    ReplyDelete
  2. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 31, 2026

    প্রথম মন্তব্য সবসময়ই স্বাগত। নোনা সমুদ্রের জলে আমাদের প্রয়োজন মেটেনা। সেই কারণেই জল বাঁচানোর কথা খুব গভীর ভাবে ভাবতে হবে সবাইকে।

    ReplyDelete
  3. নানা পদ্ধতির কথা জানতে পারলাম। লেখাটি রেখে দিলাম। রেফারেন্স হিসাবে কাজে লাগবে। লেখককে অনেক ধন্যবাদ। পদ্ধতিগুলি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া দরকার।

    ReplyDelete
  4. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 31, 2026

    আলোচনার সূত্রপাত আমাদেরই করতে হবে আন্তরিক ভাবে। আমাদের বাংলাদেশে জলের জোগান আপাতভাবে বেশি যেহেতু বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি।আর তাই জল সংরক্ষণের তাগিদ কম। সেদিন দেখছিলাম ইংলন্ডে চাল ধুতে কম জল ব্যবহার করতে
    অনুরোধ করা হয়েছে। এমন সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলা হচ্ছে রীতিমতো ঘোষণা করে। সংকটের গভীরতা বুঝতে এই উদাহরণ যথেষ্ট।

    ReplyDelete
  5. আমাদের অতীত ঘেঁটে উদ্ধার করা এই ঐতিহ্যবাহী উপায়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরে ভালো লাগছে। পরবর্তী অংশের জন্য অপেক্ষা করে থাকবো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়September 01, 2026

      আসলে পরম্পরাগত সাধনগুলোকে সেকেলে বলে বাতিল না করে সেগুলোকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে আমাদের। এদেশে এখনও এই পদ্ধতিতে জল বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

      Delete
  6. অঞ্জনা মুখার্জি।September 01, 2026

    জল বাঁচাতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জলের অহেতুক অপচয় বন্ধ করতে হবে।
    সাহেবদের দেশের খবর রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দিলো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়September 01, 2026

      নিজের নিজের ঘর থেকে এই অভিযান শুরু করতে হবে। অহেতুক অপচয় বন্ধ হোক।

      Delete
  7. সত্যিই এইরকম জল সঞ্চিত করার ভাবনা, এককথায় অসাধারণ। কিন্তু সমাজের সকলকেই এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই ।

    ReplyDelete
  8. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়September 01, 2026

    মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যৎ বেশ কঠিন।এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। আমাদের সচেতনতাই বিপর্যয়কে বিলম্বিত করতে পারে। ছড়িয়ে পড়ুক লেখাটা সচেতনতার জন্য।

    ReplyDelete