জ্বলদর্চি

বার্তাকু বেত্তান্ত ও আমাদের আশাপুর/সোমনাথ মুখোপাধ্যায়

বার্তাকু বেত্তান্ত ও আমাদের আশাপুর

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়


শীতকাল আসতে এখনও বেশ খানিকটা সময় বাকি আছে। তবে গরমে তেতে থাকা সময়ে একটু স্বস্তির জন্য এখন থেকেই বোধহয় কেউ কেউ শীতের কাউন্ট ডাউন শুরু করে দিয়েছেন। শীতের কথা উঠলেই আমাদের সকলের মনের ভেতর ভেসে ওঠে রকমারি তরতাজা সবজির ছবি – আলগা খোসার নতুন আলু থেকে শুরু করে মাচার ওপর দুলতে থাকা সিম পর্যন্ত। শীতকালীন সবজির পসরা নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে তাতে লাগাম টেনে থামানো রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়ে। এটুকু পড়েই হয়তো পাঠকদের মধ্যে কেউ কেউ আঙুলের কড় গুণে রকমারি সবজির নামের গুণতি শুরু করেছেন – ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, পালংশাক ……..। গুণতি চলছে চলুক। এই ফাঁকে চলুন পেছনে ফেলে আসা স্মৃতিপথে খানিক পথ হেঁটে আসি।

সে অবশ্য অনেককাল আগের কথা। তখন‌ও আমার বয়স মেরেকেটে দুই সংখ্যার ঘরে পৌঁছয়নি। ঠাকুমাকে তীর্থ ঘুরিয়ে আনতে বাবা গিয়েছিলেন কাশীতে – মা অন্নপূর্ণা আর বাবা বিশ্বনাথের দর্শনে। ঠাকুমা ওখানে কিছুদিন কাটিয়ে ফিরবেন। তাই বাবা দিনকয়েক কাশীবাসী হয়ে কাটিয়ে ফিরে এলেন বাড়িতে – কোলকাতায় । আমরা, তিন ভাইবোন বেজায় খুশি। অবশ্য এই খুশির আসল কারণ বোধহয় ছিল ফেরার সময় বাবার কাশী থেকে স‌ওদা করে নিয়ে আসা কিছু উপকরণ। ভাবছেন তো কী কী ছিল সেই তালিকায়? একটু অপেক্ষা করুন, অনেক কাল আগের কথা তো! বাবার আনা তোফার তালিকায় ছিল – কাশীর বিখ্যাত পেঁড়া – আহা কি সোয়াদ তার! বোনের জন্য কাঠের তৈরি খেলনা বাটি , বেতের তৈরি খুব মজবুত গড়নের একটা বাস্কেট আর এনেছিলেন এক জোড়া মনলোভা , চোখটানা ‘ভান্টা’ বা বাইঙ্গন।

সযত্নে কাপড়ে মোড়া সেই ভান্টা যুগলকে দেখেতো আমাদের সকলের চক্ষু চড়কগাছ! এতো বড়ো বাইঙ্গন ! সাদা রঙের অমন দুই নবাগত অতিথিকে দেখে আমরা তিন ভাইবোন তো বেজায় আহ্লাদিত, রোমাঞ্চিত এবং অবশ্যই বিস্মিত। আমাদের‌ উৎসাহ দেখে বাবা বেশ মজা করে বললেন –” ইয়ে হ্যায় রামনগরকা মশহুর ভান্টা উর্ফ বাইঙ্গন উর্ফ বার্তাকু উর্ফ বেগুন।” বাবার এই ধারাবিবরণী চলার ফাঁকে আমিতো তাকে কোলে নিয়ে বসেছি পড়েছি – ধবধবে সাদা রঙ মাঝে হালকা সবুজের আভা, পেলব মসৃণ মখমলি গাত্র,আর ওজন? এক একটার ওজন ২ থেকে ২ .৫ কিলোগ্রাম। বাপরে বাপ এমন পেল্লাই সাইজের বেগুন উর্ফ ভান্টা! বাবা আবারও মুচকি হেসে বলে ওঠেন –” ইয়ে হ্যায় রামনগরকা মশহুর ভান্টা উর্ফ বাইঙ্গন, সব দেখ বাবুয়া!”

সারাবছর আমাদের খাবার পাতে কোনো না কোনো চেহারায় বেগুনের দেখা মিললেও শীতকালের বেগুন হলো সোয়াদে সত্যিই লা জবাব। ভেজে খান, পুড়িয়ে ধনে পাতা , কাঁচা পেঁয়াজ আর ঝালঝাল লঙ্কা দিয়ে মেখে খান, কড়াইয়ে নেড়েচেড়ে ভর্তা বানিয়ে খান, সর্ষে পোস্ত বাটা দিয়ে গা মাখা , গা মাখা ঝোল করে খান – সবেতেই আমাদের বেগম বেগুন সুপার ডুপার হিট। তবে কথা হলো, আমাদের প্রতিদিনের হেঁসেলের এমন নির্ভরযোগ্য সঙ্গিটি কিন্তু মোটেও এদেশের সবজি নয়, বিদেশি। একথা শুনে আঁৎকে উঠলেন নাকি ? তাহলে একটু খোলাসা করেই না হয় বলি।

🍂

বেগুন এলো কোথা থেকে? – প্রশ্নটা শুনতে যতটা সহজ, 

এর উত্তর মোটেই ততটা সহজ নয়। প্রাথমিকভাবে বুনো প্রজাতির উদ্ভিদ থেকেই পরবর্তীকালের অনেক সবজি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বেগুন‌ও এই তালিকায় স্থান পাবে। মার্কিন মুলুকে বেগুনকে ডাকা হয় Eggplant নামে। আবার ইংরেজদের কাছে তাই হয়ে গেছে Aubergine । শুরুর দিকে, ডিমের মতো গোল গোল সাদা ফলে ভর্তি এই গাছকে নিছকই একটি অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট বা শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবেই দেখা হতো। বাহারি গাছের কৃষি মেলায় এজন্য বেগুন গাছের বেশ কদর ছিল। সেই কারণেই হয়তো গোলগাল ডিমের মতো সাদা ফলে ভরা গাছগুলোকে

 ডাকা হতো eggplant নামে। তখন‌ও অবশ্য গুনগুনিয়ে বেগুনের গুণ গাইতে গলা সাধা শুরু করেনি মানুষ। অথচ সেই গাছ‌ই এখন ঝুলি ভরে বিদেশি মুদ্রা আনার স্বপ্ন দেখছে। সময়ের সঙ্গে কি আশ্চর্য রূপান্তর!

একদল খাদ্য ইতিহাসবিদদের মতে ভারত অথবা চিন দেশই নাকি বেগুনের আদি নিবাস। এখান থেকেই ভূ পর্যটকদের হাতে হাতে তা পৌঁছে যায় পৃথিবীর আনাচে কানাচে। তবে 

একেবারে গোড়ার দিকে বেগুনের স্বাদ মোটেই আজকের মতো সুস্বাদু ছিলোনা। বোঁটার চারপাশে থাকা তীক্ষ্ণ কাঁটার জন্য হেঁসেলে তাকে সামলানো বেশ ঝকমারি ছিল, ছিল খানিকটা তিতকুটে স্বাদ। মুন্ডা উপজাতির মানুষদের মধ্যে  আদিম প্রজাতির বেগুনের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। প্রতিদিনের খাবারের পাতে সবজি হিসেবে ঠাঁই পেতে বেগুনকে অবশ্য  দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বদলাতে হয়েছে নিজের বন্যতা। আর এভাবেই ঠাঁই মিলেছে খানদানি হেঁসেলে, হয়ে উঠেছে আম রসনার বিশ্বস্ত দোসর। মুন্ডারি ভায়া সংস্কৃত শব্দ “বৃন্তক” এসেছে পরবর্তী প্রতিশব্দ হিসেবে। পেটে জমা গ্যাস দূর করার ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর রূপে গণ্য হ‌ওয়ায় সংস্কৃতে বেগুনের অন্য নাম “বাতিঙ্গন”। ভাষাবিদদের মতে এই বাতিঙ্গন থেকেই এসেছে একাধিক ভারতীয় ভাষায় এর পরিচিতির বিষয়টি, যেমন –

হিন্দিতে – বাইঙ্গন , বাংলায় – বেগুন , কন্নড় ভাষায় – বাদনে কাই , মারাঠিতে – ভাঙ্গি, সিন্ধ্রি ভাষায় – ভাঙ্গান কিংবা তেলেগু ভাষায় – ভানকায়া। এক‌ই অঙ্গে সেই অষ্টোত্তর শতনামের মহিমা নিয়ে দেশ দেশান্তরের পাতে স্বমহিমায় বিরাজমান মূলত বেগুনি গাত্রবর্ণ বিশিষ্ট আমাদের অতি প্রিয় বেগুন। শীতের বেগুনের শরীরের যে জুলুস তা দেখে বিমোহিত হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার।

বেগুন নিয়ে আমার এই বাগাড়ম্বরকে যাঁরা ইতোমধ্যেই অহেতুকী বলে মনে করছেন তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাই যে মাত্র কিছুদিন আগে আমাদের এই বাংলার এক বেগুন জি আই ট্যাগ পেয়েছে অর্থাৎ বিশ্বের দরবারে এবার তার ঠাঁই হলো।

এ যে বড়ো আনন্দের কথা তা বোধহয় আলাদা করে বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই আনন্দ সাগরে এখন অবগাহন করছে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার কৃষি গ্রাম আশাপুর। বেগুন চাষের জন্য আশাপুরের খ্যাতি আজকের নয় বহুবছরের। তবে খুব সম্প্রতি এই গ্রামের বেগুন আন্তর্জাতিক জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন ট্যাগ লাভ করায় জেলার কৃষি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলার সকল মানুষের খুশি বিপুল তরঙ্গ হয়ে আন্তর্জাতিক উপভোক্তাদের দরজায় দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে।

এতো বড়ো স্বীকৃতি লাভের পর স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে বাধ্য - যে কি এমন বিশেষত্ব রয়েছে এই বেগুনের যার জন্য এতো বড়ো একটা পালক জুড়ে দেওয়া হলো এই গ্রামের মাথায়? আশাপুরের কৃষিজীবী মানুষেরা সবিনয়ে জানিয়েছেন –”এই প্রশ্নের উত্তর আমরা দেবোনা। আশাপুরের ক্ষেত থেকে আপনার পছন্দ মতো যে কোনো একটি - দুটি বেগুন তুলে যেমনটি চাইছেন তেমন করেই রান্না করে খেয়ে দেখে যাচাই করে বলুন আমাদের এই বেগুন সত্যি সত্যিই আন্তর্জাতিক মানের কিনা? আমরা ন‌ই , আমাদের ক্ষেতের ফসল‌ই হলো আমাদের কৃতিত্বের সবথেকে বড়ো পরিচয়।” এই কথাগুলোর বাস্তবতা নিয়ে কারোরই মুখে কোনো কথা নেই, এমন‌ই জোরালো তাঁদের যুক্তি।

আশাপুরে বেগুনের চাষ হয় কেবল শীতের সময়। সেই মোগল আমল থেকেই এমন প্রথা। শীতের মৃদু উষ্ণতায়  গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, আর তাই ফলন হয় খুব ভালো। আকারে ছোটো হলেও গোলগাল এবং খোলতাই গড়নের। হালকা সবুজের ছোঁয়া লাগা বেগুনের ফলনে গাছগুলো যখন ভরে ওঠে তখন লক্ষ মরকতের সবুজাভ দ্যূতিতে ভরে ওঠে মালদহ জেলার চাঁচল - ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত গোটা  আশাপুর গ্রাম । সে বড়ো খুশির সময় আশাপুরের মানুষের কাছে।

আশাপুরের এই সাফল্য একদিনে আসেনি, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথে চলতে গেলে প্রয়োজন হয় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সংগঠক ও আগ্রহী কৃষিজীবীদের। আশাপুরে এই দুয়ের কাঙ্ক্ষিত সংযোগ ঘটেছে, আর তাই আমের পর বেগুনের ক্ষেত্রেও জুটে গেল এমন স্বীকৃতি। বেগুন নিয়ে আমাদের নস্টালজিয়া কম নয়। নেমতন্ন বাড়ির পাতে গরম গরম লুচির সাথে একদা পরিবেশন করা হতো লম্বা লম্বা করে কাটা বেগুন ভাজা। শীতের নরম তুলতুলে বেগুনের সঙ্গে ঘীয়ে ভাজা লুচি – আহা! এ স্বাদের ভাই ভাগ হবেনা! এবার থেকে হয়তো নিমন্ত্রণ বাড়ির মেনুকার্ডে লুচির পরেই লেখা হবে আশাপুরের বেগুন ভাজা। সে যে এক পরম রোমান্টিক বিষয় হবে তাতে আর সন্দেহ কি!

Post a Comment

32 Comments

  1. অঞ্জনা মুখার্জিAugust 19, 2026

    বেগুন নিয়ে এতো কাণ্ড ! খুব‌ই উপভোগ্য আলোচনা। লুচির অকৃত্রিম সহচর এই সবজিটিকে ছাড়া আম বাঙালির শীতকালীন খাওয়াদাওয়া সত্যিই অচল। আশাপুরের মানুষজনকে অনেক শুভেচ্ছা। এমন লেখা আরও চাই।

    ReplyDelete
    Replies
    1. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 19, 2026

      ধন্যবাদ জানাই প্রথম মন খুলে মতামত দেবার জন্য।
      প্রতিবেদক হিসেবে সবটুকু ভালোবাসা আশাপুরের কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছে দিলাম।

      Delete
  2. Oshadharon lekha! Ami jantam na, jey beguner origin Bharoter bairey. Shomriddho holam eto kichu ashwadon korey ! Erokom lekha aro pathatey thakun.

    ReplyDelete
    Replies
    1. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়।August 19, 2026

      আশাপুরের নাম শুনে সেখানে হাজির হয়েছিলাম। গিয়ে দেখি অবাক কান্ড ! এই লেখাটি সেই অভিজ্ঞতার ফসল। বেগুন বার্তা পড়তে গিয়ে আমিওতো সমৃদ্ধ হ‌ই প্রতিবার। ভালো থাকুন।

      Delete
    2. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়।August 19, 2026

      আশাপুরের নাম শুনে সেখানে হাজির হয়েছিলাম। গিয়ে দেখি অবাক কান্ড ! এই লেখাটি সেই অভিজ্ঞতার ফসল। বেগুন বার্তা পড়তে গিয়ে আমিওতো সমৃদ্ধ হ‌ই প্রতিবার। ভালো থাকুন।

      Delete
  3. মণিকা দাশগুপ্তAugust 19, 2026

    বেগুনে এলার্জি হয়না এমন লোক খুব কমই আছে। তবে তোমার লেখা পড়ে সাবু দানার মতো বেগুনের বড়ো বড়ো বিচির কথা ভুলতে বসেছি। এবার শীতে আশাপুরের বেগুনের খোঁজ করবো। খুব ভালো পড়লাম।

    ReplyDelete
    Replies
    1. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 19, 2026

      কৃষক বন্ধুদের অনুরোধ করবো তোমার জন্য সিড্ লেস বেগুন চাষ করতে। দেখা যাক কতদূর কি হয়!

      Delete
  4. অনেক কিছু জানলাম। তবে এর সাথে সবাইকে বলব রায়গঞ্জ এর নরম সাদা বিশাল বেগুনগুলো একবার চেখে দেখতে। আমাদের ছানাটা ছোটবেলায় বলত সাদা তরমুজ। এটারও gi tag পাওয়া উচিত

    ReplyDelete
  5. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 19, 2026

    এখান থেকেই দিনাজপুরের বিঘোরের বেগুনকে স্বীকৃতি জানানোর দাবিতে সোচ্চার হ‌ই সবাই।

    ReplyDelete
  6. আশাপুর জামু, বেগুন খামু !

    ReplyDelete
  7. আপনারে বারণ করছে কেডা?

    ReplyDelete
  8. আশাপুরের মানুষ জনের হাত ধরে যে আশার সঞ্চার হলো তা যেন আরো প্রসারিত হয়ে সেই শৈশবের পরম উপাদেয় লম্বা বেগুনের স্মৃতি টাকে আবার ও উস্কে দিল। ধন্যবাদ সেই সকল সফল চাষি ভাইদের।,🍆

    ReplyDelete
    Replies
    1. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 19, 2026

      আশাপুরের বেগুন কিন্তু গোলগাল নাদুসনুদুস চেহারার।

      Delete
  9. Bapre bap begun niye joto kando. Ta besh begun khete khub valobasi. Winter seasoner begun er swad ro bere jai. Chootobelata mone kore debar jonno onek onek dhannyowad. Khub valo laglo lekhata.

    ReplyDelete
  10. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 19, 2026

    শুধু ছোটোবেলায় কেন মেজো বেলা, বুড়ো বেলা -- সব বেলাতেই বার্তাকু অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সঙ্গে লুচি হলে তো আর কথাই নেই। কাল সকালে জলখাবারের জন্য একবার চেষ্টা করে দেখুন।

    ReplyDelete
  11. দারুন লেখা.....এত রকমের বেগুনের পদ নিয়ে আলোচনা হল, তবে বাদ পড়ে গেল ভাত, ঘন মুগের ডালের সঙ্গে গরম বেগুনি। কিংবা সন্ধেবেলা চা এর সাথে মুড়ি বেগুনি😊

    ReplyDelete
  12. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 20, 2026

    বেগুন সরবরাহ করেছি । এবার কে কীভাবে তাকে হজম করবে তার দায়িত্ব আমার নয়। তবে ঐসব উপাদেয় খাবারের ভাগ পেতে অবশ্য কোনো আপত্তি নেই।

    ReplyDelete
  13. বেগুন নিয়ে লেখাটা পড়ে বেশ আনন্দ হলো। যাঁদের এলার্জি হয় তাদের ছাড়া বাকি সকলের কাছেই বেগুন অত্যন্ত জনপ্রিয় সবজি। আশাপুরের কথাও জানা হলো এই সূত্রে ।

    ReplyDelete
  14. পাঠকদের আনন্দের জন্য‌ই লেখা। আরও মানুষকে এই ভালোলাগার শরিক হবার সুযোগ করে দিন।

    ReplyDelete
  15. Avijit ChakrqbbortyAugust 21, 2026

    বড় আশ তৈরী হোলো আশাপুরের বেগুন খাবার। বেগুনের যে এমন বাহারি ইতিহাস জানা ছিলোনা। ছোটো বেলায় জিভ চুলকাতো। কিন্তু মেজোবেলায় নিজে থেকেই সেটা চলে গেলো কেমন করে তা ঈশ্বরই জানেন। ইদানিং শীতের প্রায় প্রতিটা দিনেই খাবারের মেনুতে বেগুনের উপস্থিতি থাকেই থাকে। স্বাস্থ্য সচেতনতার অজুহাতে ভাজা খাওয় যেতে হলেও, বন্ধ যে করা যায়নি সেটা অস্বীকার করার উপায় কি। তবে লুচি বেগুনের combination শেষ কবে খেয়েছি মনেপড়ে না। সিদ্ধ করে কম তেলে বেগুন ভর্তা রুটি সহযোগে, শীতকালে প্রায় রোজকারের রাতের মেনু। এইবছরে সেপ্টেম্বরের পরেই যদি ডিসেম্বর হোতো, তাহলে আশাপুরের বেগুন খাওয়ার আশ একটু জলদিই মিটতো।

    ReplyDelete
  16. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 21, 2026

    আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে সেপ্টেম্বর মাসের পর শীতের কাঁপন গায়ে জড়িয়ে ডিসেম্বর এসে হাজির ।আশাপুরের চাষীরা হৈ হৈ করে মাঠে নেমে পড়েছে।নরম তুলতুলে মখমলি মাটির ধূসর জামিন ভরে উঠেছে সবুজ বেগুনের চালাতে। আর তারপর গোলগাল চেহারা নিয়ে হাজির বেগুনের বাহার! মেজাজটাই যে আসল। বাকিটা নিছকই মায়া।
    ভালো থেকো সকলেই।





    ReplyDelete
  17. দারুণ লাগলো বেগুনের বিষয়ে এতকিছু জেনে। আরও আনন্দ পেলাম আশাপুরের কৃতিত্বে। বর্তমানে আমরা যে সকল শাকসবজি খেয়ে থাকি তারা যে বহু বছরের সাধারণ কৃষকের অভিজ্ঞতালব্ধ গবেষণার ফসল তা কিছুকাল আগেও আমার জানা ছিলো না। সামান্য সর্ষে গাছ থেকে যে আজকের ফুলকপি, বাঁধাকপি আর ব্রকোলির উৎপত্তি অবাক হয়ে গেছিলাম শুনে! মাঝে মাঝে ইউটিউবের এই চ্যানেলটা দেখি কৃষির ইতিহাস জানতে: https://youtube.com/@shawngrows?si=yrBnuVk8qkikfl8Y

    ReplyDelete
  18. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 24, 2026

    সুদূর প্রবাস থেকে মতামত জানানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আশাপুরের স্বীকৃতির ভাগীদার হতেই এই প্রতিবেদন লেখার প্রচেষ্টা। আমাদের প্রতিদিনের হেঁসেলে ব্যবহৃত শাকসবজির বিশ্বায়ন ঘটেছে আধুনিক সময়ের তথাকথিত বিশ্বায়নের অনেক অনেক আগে। দিবে আর নিবে মেলাবে মিলিবের
    আদর্শ মেনে মানুষ বহুকাল আগে থেকেই এই সম্মিলনের কাজ করে চলেছে আমাদের কৃষক বন্ধুরা। এই ইতিহাস কম আকর্ষণীয় নয়।






    ReplyDelete
  19. বেগুন নিয়ে রীতিমতো রিসার্চ ওয়ার্ক! খুব ভালো লাগলো বেগুনের বৃত্তান্ত জেনে।

    ReplyDelete
  20. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 25, 2026

    বেগুনের বেত্তান্ত ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। আশাপুর আমাকে নিরাশ করেনি।

    ReplyDelete
  21. এমন ঝিরঝিরে বৃষ্টির দিনে কয়েকটা গরম বেগুনি পেলে মন্দ হোতনা! কিন্তু সমস্যা হলো কোন্ বেগুনটা দিয়ে বেগুনিটা ভাজবো? লেখক কি জানাবেন?

    ReplyDelete
  22. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়August 26, 2026

    আবদার বা অনুরোধটি মজার। তবে কোন বেগুনের বেগুনি ভাজা হবে তার সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। ক্যাটালগ থেকে বেছে নিন।

    ReplyDelete
  23. পৌলমীSeptember 03, 2026

    বেগুন এখন আগুন দরে
    বিকোচ্ছে যে বাজারে,
    হেথায় পেনু হরেক বেগুন
    লে লুটে নে দাদারে!

    ReplyDelete
  24. বাহ্! খাসা হয়েছে।

    বেগুন আগুন বলে
    ভয় পাও কি?
    হেথায় মুফতে পাবে--
    তাই দাওগো উঁকি।

    ReplyDelete
  25. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়September 03, 2026

    এতো বেশ মজার ব্যাপার। আমার বেগুন ক্ষেতে ঢুকে দুজন ছড়ার খেলায় মেতে উঠেছেন। বেশ বেশ। চালিয়ে যান।

    ReplyDelete
  26. বেগুন বড়ই গুণবান 🤡

    ReplyDelete
  27. Binit ChakrabortySeptember 20, 2026

    দারুণ

    ReplyDelete