জ্বলদর্চি

চিন দেশের গল্প: ১৩ (জিয়াও হুং ও হিংস্র ড্রাগন )/বাংলা ভাষান্তর : নিখিলেশ ঘোষ

চিন দেশের গল্প: ১৩ (জিয়াও হুং ও হিংস্র ড্রাগন )/বাংলা ভাষান্তর :  নিখিলেশ ঘোষ

(একটি কোরীয়  লোককথা। মূল চিনা ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন : জন মিনফোর্ড)


অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক সুবিশাল সবুজ পাহাড়ের কোলে ছোট্ট একটি কুটিরে বাস করত এক মা আর তার একমাত্র সন্তান। মা তাকে পরম আদরে আগলে রাখত। মেয়েটির যেমন রূপ তেমনি মিষ্টি স্বভাব। তার একটা ভারি চমৎকার অভ্যাস ছিল—সে সবসময় লাল রঙের পোশাক পরতে বড্ড ভালোবাসত। এই কারণে গাঁয়ের সবাই তাকে আদর করে ডাকত "লালি" (জিয়াও হুং)। মা আর মেয়ে মিলে সুখে-দুখে, হেসে-খেলে দিন কাটিয়ে দিত।

তখন ছিল ফসল বোনার দিন। একদিন সকালবেলা মা আর লালি মাঠের দিকে রওনা হলো। নীল আকাশের নিচে সবুজ খেতে নেমে তারা দুজনে মিলে মনের আনন্দে মাটিতে একটি একটি করে বীজ বুনতে শুরু করল। বাতাসে তখন পাখির গান আর ফসলের সুবাস। কিন্তু হায়!

দুপুর গড়াতেই হঠাৎ চারদিকের আলো নিভে এলো। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক প্রচণ্ড, কালো ঝড় ধেয়ে এলো চারিদিক থেকে। ধুলো আর ঝোড়ো বাতাসে চোখ মেলাই দায়! ঠিক তখনই মেঘের বুক চিরে, আকাশ কাঁপিয়ে আবির্ভূত হলো এক বিশাল ও ভয়ংকর দুষ্ট ড্রাগন। তার চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছিল। ড্রাগনটি হিংস্রভাবে আকাশ থেকে নেমে এসে তার ধারালো, শক্ত নখ বাড়িয়ে দিল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে এক ছোঁ মেরে  শক্ত করে লালিকে জাপটে ধরল এবং হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।

মা চিৎকার করে উঠলেন, কিন্তু ড্রাগনের ডানার ঝাপটায় তার গলার আওয়াজ মিলিয়ে গেল। চোখের পলকে সেই দানব মেয়েটিকে নিয়ে কালো মেঘের আড়ালে উড়ে চলে গেল। দূর থেকে, বাতাসের ডানা বেয়ে মেয়ের শেষ আকুতিটুকু মায়ের কানে এসে পৌঁছাল—“ওগো মা, ওগো মা মোর প্রাণের চেয়ে প্রিয় আমার ভাই, আমার ভাই এসে আমায় উদ্ধার করবে, দেখে নিও!”
🍂

ঝড় থেমে গেল।  দুই চোখে শ্রাবণের ধারার মতো জল মুছতে মুছতে শূন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে ব্যাকুল হৃদয়ে বলতে লাগলেন, “এ কী অলৌকিক কথা! আমার তো মোটে একটিই সন্তান, সে তো আমার এই আদরের মেয়ে লালি! তবে এই ভাইটি আবার কে? সে কোত্থেকে আসবে আমার মেয়ে কে ফিরিয়ে আনতে?” 

বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে, টলতে টলতে তিনি বাড়ির দিকে রওনা হলেন।  হাঁটতে হাঁটতে পথের অর্ধেকটা এসেছেন, এমন সময় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রাচীন বেরি গাছের ডালপালার মধ্যে মায়ের পাকা সাদা চুলগুলো আটকে গেল। চুল ছাড়ানোর জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। ঠিক তখনই, সেই গাছের পাতার আড়ালে হঠাৎ করেই মায়ের চোখ পড়ল চমৎকার একটি লাল টকটকে বেরি ফলের  ওপর।

 সরু ডাল থেকে ঝুলতে থাকা লাল টুকটুকে সেই বেরি ফলটি মা তুলে নিলেন এবং কোনো কিছু না ভেবেই টপ করে মুখে পুরে গিলে ফেললেন। বাড়ি ফেরার পর, অলৌকিক উপায়ে সেই মায়ের কোল আলো করে জন্ম নিল এক ফুটফুটে ছেলে। তার মাথাটি ছিল গোলগাল আর গাল দুটো ছিল লাল আপেলের মতো। মা আদর করে তার নাম রাখলেন দিয়াও ইয়াং যেই বা ছোট্ট বেবেরি।

ছোট্ট বেবেরি দেখতে দেখতে খুব দ্রুত বড় হয়ে উঠতে লাগল। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই সে চোদ্দ-পনেরো বছরের এক হৃষ্টপুষ্ট, তেজী তরুণে পরিণত হলো। 

মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল বেবেরিকে তার বড় বোনকে উদ্ধার করার কথা বলেন। কিন্তু এত বড় একটা বিপজ্জনক কাজে ছেলেকে পাঠাতে মায়ের মন চাইল না; তিনি কিছুতেই ছেলের ওপর এই বোঝা চাপাতে পারলেন না। তাই ঘরের কোণে লুকিয়ে লুকিয়ে একা একা চোখের জল ফেলা ছাড়া মায়ের আর কিছুই করার ছিল না।

একদিন একটি কাক এসে তাদের বাড়ির চালের কোণে বসল এবং ডাক ছেড়ে বলল:
“তোমার বোন যে সুদূরে কাঁদছে, 
ভুগছে নিদারুণ দুখে!
দুষ্ট ড্রাগনের বন্দিশালায় 
চোখের জল তার না শুকায়  চোখে!
পিঠ বেয়ে তার ঝরছে রক্ত, 
চাবুকের দাগে ভরা,
খালি হাতে সে  পাথর খুঁড়ছে, 
ক্লান্ত অবশ করা!”

এই কথা শুনে বেবেরি অবাক হয়ে তার মাকে জিজ্ঞেস করল, “মা, আমার কি কোনো বোন আছে?”চোখের জল মুছতে মুছতে মা উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ বাবা, তোমার একটি বোন আছে। সে লাল পোশাক পরতে বড্ড ভালোবাসত বলে সবাই তাকে লালি বলে ডাকত। একটা দুষ্ট ড্রাগন, যে কত মানুষের ক্ষতি করেছে, সে-ই এসে আমার কোল খালি করে ওকে কেড়ে নিয়ে গেছে।”

সব শুনে বেবেরি একটি মস্ত বড় লাঠি তুলে নিল এবং বীরদর্পে বলল, “আমি এখনই যাচ্ছি লালিকে উদ্ধার করতে! আর ওই দুষ্ট ড্রাগনটাকে খতম করে আসব, যাতে সে আর কোনোদিন কারও ক্ষতি করতে না পারে!”তার মা দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে অশ্রুসজল চোখে চেয়ে রইলেন, আর দেখতে লাগলেন তার সাহসী ছেলে বুক ফুলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

বেবেরি মাইলের পর মাইল হেঁটে চলল। পাহাড়ি এক আঁকাবাঁকা পথে সে দেখল—তার ঠিক সামনে একটা মস্ত বড় পাথর রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুগের পর যুগ ধরে পথিকদের যাতায়াতের কারণে পাথরটা ক্ষয়ে একদম মসৃণ আর সূচালো হয়ে গেছে। সেখানে একটুখানি পা হড়কালেই নির্ঘাত অতল খাদে পড়ে মৃত্যু!

পাথরটা দেখে বেবেরি মনে মনে বলল, "এই তবে আমার পথের প্রথম বাধা! এটাকে যদি এখনই এখান থেকে না সরাই, তবে আরও কত মানুষের যে কপাল পুড়বে তার ঠিক নেই।" এই ভেবে সে তার হাতের লাঠিটা পাথরের নিচে জোরসে গুঁজে দিল এবং গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে মোচড় দিল। অমনি মটমট শব্দে লাঠিটা দু-টুকরো হয়ে ভেঙে গেল! তাতেও বেবেরি দমল না।

 এবার সে নিজের দু-হাত পাথরের নিচে ঢুকিয়ে দিল এবং শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ধাক্কা মারল। তখনই মস্ত বড় পাথরটি গড়াতে গড়াতে নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ল। ঠিক সেই মুহূর্তে, যেখানে পাথরটি বসা ছিল, সেই গর্তের ভেতর থেকে এক জাদুকরী সোনাঝরা বাঁশি ভেসে উঠল। বেবেরি আলতো করে বাঁশিটি তুলে নিয়ে তাতে ফুঁ দিল।

 অমনি চারদিক কাঁপিয়ে এক অপূর্ব সুরের লহরী বয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে পথের ধারে থাকা যত কেঁচো, ব্যাঙ আর টিকটিকি ছিল—সবাই সেই সুরে কোমর দুলিয়ে নাচতে শুরু করল! বাঁশির সুর যত বাজছিল, বনের জীবজন্তুগুলোও তত তালে তালে নাচছিল। আর যেই না সুর থামল, অমনি তাদের নাচও বন্ধ হয়ে গেল।

 তা দেখে বেবেরির মাথায় এক বুদ্ধি খেলে গেল: "আহা! এবার বুঝি দুষ্ট ড্রাগনটাকে বাগে পাওয়ার একটা মোক্ষম অস্ত্র মিলল!"হাতে সেই সোনার বাঁশিটি নিয়ে সে আবার বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে চলল। চলতে চলতে সে এক বিশাল পাথুরে পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে পৌঁছাল। 

সেখানে পৌঁছাতেই সে দেখল—গুহার মুখে এক ভয়ঙ্কর, রাক্ষুসে ড্রাগন কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে! তার চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মানুষের হাড়গোড়ের পাহাড়। আর ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল লাল পোশাক পরা এক মেয়ের দিকে, যে গুহার মুখে পাথর কেটে চলেছে। মেয়েটির দু-চোখ বেয়ে তখন অশ্রুধারা ঝরছিল।

দুষ্ট ড্রাগনটা তার বিশাল লেজ দিয়ে মেয়েটির পিঠে সপাং করে এক চাবুক মারল এবং ভীষণ কর্কশ গলায় গর্জে উঠে বলল:
"রে অকৃতজ্ঞ, কুচ্ছিত লাল-সুন্দরী!
আমার সাথে যখন বাঁধবি না ঘর, 
তখন দিন কে দিন,পাথর কেটে কেটে,
বানিয়ে দে মোরে এক রাজকীয় ঘর,
নইলে পাঠাব তোরে যমের দোর!"

তা দেখে ব্যাবেরি এক পলকেই চিনে ফেলল—এই লাল পোশাক পরা মেয়েটি আর কেউ নয়, তারই নিজের হারিয়ে যাওয়া বোন! সে আর রাগ ধরে রাখতে পারল না। চিৎকার করে বলে উঠল:"রে পাপিষ্ঠ দানব! রে পিশাচ রাক্ষস!আমার বোনের ওপর করিস এত অত্যাচার!আজ তোর এই পাপিষ্ঠ জীবনের শেষ না হওয়া তক,আমি এই জাদুর বাঁশিতে ফুঁ দিয়েই যাব, দিয়েই যাব!"

এই বলেই ব্যাবেরি তার সেই সোনাঝরা বাঁশিতে জোরসে ফুঁ দিল। বাঁশির জাদুকরী সুর বাতাসে ভাসতেই, নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুষ্ট ড্রাগনটা কোমর দুলিয়ে নাচতে বাধ্য হলো। ওদিকে ছোট্ট লালি(তার বোন) হাতের ছেনি-হাতুড়ি নামিয়ে রেখে গুহা থেকে বেরিয়ে এল কী হচ্ছে তা দেখার জন্য।বেবেরি দম না নিয়ে বাঁশি বাজিয়েই চলল। আর সেই রাক্ষুসে ড্রাগনটাও যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আর মোচড়াতে মোচড়াতে নাচতে থাকল। 

বাঁশির সুর যত দ্রুত বাজছিল, ড্রাগনটাও তত জোরে জোরে নাচছিল।ছোট্ট লালি তার ভাইয়ের কাছে এসে কথা বলতে চাইল। কিন্তু বেবেরি হাতের ইশারায় তাকে বুঝিয়ে দিল যে সে কোনোভাবেই বাঁশি বাজানো থামাতে পারবে না। কারণ এক মুহূর্তের জন্য সুর থামলেই দুষ্ট ড্রাগনটা তাদের দুজনকে জ্যান্ত গিলে খাবে!

বেবেরি তার বুকের সমস্ত শক্তি এক করে অনবরত বাঁশি বাজাতে লাগল। আর সেই দুষ্ট ড্রাগনটাও সুরের তালে তালে তার লম্বা কোমর বেঁকিয়ে আর মোচড় দিয়ে নাচতে নাচতে কাহিল হয়ে পড়ল। নাচতে নাচতে রাগে-যন্ত্রণায় ড্রাগনটার চোখ দিয়ে আগুনের ফুলকি আর নাক দিয়ে গরম ভাপ বের হতে লাগল।

এবং তার মুখ দিয়ে তখন হাঁসফাঁস করে গরম নিঃশ্বাস বের হচ্ছিল। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে সেই দুষ্ট ড্রাগনটা এবার মিনতি করে বলতে লাগল:"হো-হো-হো! হে ভাই, তুমিই যে আমার চেয়ে বলবান!আর বাঁশি বাজিয়ো না গো! আমায় আর কষ্ট দিয়ো না!আমি তোমার বোনকে অক্ষত অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দেব,যদি তুমি দয়া করে আমায় এবার একা ছেড়ে দাও!"

কিন্তু বেবেরির বাঁশি থামানোর কোনো ইচ্ছাই ছিল না। সে অনবরত বাঁশি বাজাতে বাজাতেই একটা বড় পুকুরের দিকে হেঁটে যেতে লাগল। দুষ্ট ড্রাগনটাও যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আর নাচতে নাচতে তার পিছু পিছু পুকুরের পাড় পর্যন্ত চলে গেল। তারপর এক মস্ত বড় "ঝপাং" শব্দ করে দুষ্ট ড্রাগনটা পুকুরের জলে আছড়ে পড়ল এবং তার ভারে পুকুরের জল কয়েক ফুট ওপরে ছিটকে উঠল। দুষ্ট ড্রাগনটা এবার একদম কাহিল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ল। তার চোখ দিয়ে তখনও আগুনের ফুলকি আর নাক দিয়ে গরম ভাপ বের হচ্ছিল

এবং তার মুখ দিয়ে তখন হাঁসফাঁস করে গরম নিঃশ্বাস বের হচ্ছিল। সে আবারও ভাঙা খসখসে গলায় কাকুতি-মিনতি করে বলল:"হো-হো-হো! হে ভাই, তুমিই যে আমার চেয়ে বলবান!আমায় এবার ছেড়ে দাও, আমি এই পুকুরেই পড়ে থাকব,আর কখনো কোনো মানুষের ক্ষতি করব না!"

তা শুনে বেবেরি জবাব দিল:"রে পাপিষ্ঠ পিশাচ!তবে এই রইল আমার শর্ত:পড়ে থাক তুই এই পুকুরের একেবারে তলায়,আর কক্ষনও করিসনে কারো কোনো ক্ষতি।"দুষ্ট ড্রাগনটা অনবরত মাথা নেড়ে তার শর্তে রাজি হলো। আর যেই না সোনার বাঁশিটি বাজা বন্ধ হলো, অমনি সে পুকুরের একদম তলদেশে তলিয়ে গেল।

তখন বেবেরি তার বোনের হাতটি ধরল এবং দুজনে মিলে আনন্দের সাথে বাড়ির পথ ধরল।কিন্তু তারা রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই, পুকুরের জল তোলপাড় হওয়ার এক বিকট শব্দ শুনতে পেল। তারা ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই দেখল—সেই দুষ্ট ড্রাগনটা জল ফুঁড়ে ওপরে উঠে আসছে! সে তার ধারালো বিষদাঁত বের করে আর নখ উঁচিয়ে বাতাসে থাবা মারতে মারতে তাদের দিকেই উড়ে আসছে।

তা দেখে ছোট্ট লালি চিৎকার করে বলে উঠল:
"কুয়ো যদি খুঁড়তেই হয়, 
তবে খুঁড়ো একদম গভীর করে;
ক্ষেতের আগাছা যদি নিড়াতেই হয়, 
তবে উপড়াও একদম মূল ধরে।
যতদিন ওই দুষ্ট ড্রাগন বেঁচে রবে,
শত বুঝালেও সে কোনোদিন
 ভালো না হবে !"

বোনের কথা শুনে বেবেরি তড়িঘড়ি করে আবার পুকুরের পাড়ে ছুটে গেল এবং তার জাদুর বাঁশিতে আবার জোরসে ফুঁ দিতে শুরু করল। অমনি সেই দুষ্ট ড্রাগনটা আবার আছড়ে পড়ল। আবার পুকুরের জলের ভেতর আছড়ে পড়ল এবং জলের মধ্যেই ছটফট করতে করতে আর মোচড়াতে মোচড়াতে নাচতে বাধ্য হলো।বেবেরি টানা সাত দিন আর সাত রাত পুকুরের পাড়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল এবং তার বাঁশিতে এক নাগাড়ে দ্রুত লয়ের সুর বাজিয়ে চলল। 

অবশেষে, সেই দুষ্ট ড্রাগনটা আর নড়াচড়া করার ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলল এবং নিস্তেজ হয়ে জলের ওপর ভেসে উঠল। অবশেষে তার পাপের দিন শেষ হলো, তার ভবলীলা সাঙ্গ হলো।এরপর ভাই আর বোন মিলে সেই মরা ড্রাগনটার বিশাল শরীরটা টেনেহিঁচড়ে আনন্দের সাথে নিজেদের বাড়ির পথ ধরল। অনেক দিন পর যখন তাদের মা তার দুই সন্তানকে একসাথে  বাড়ি ফিরতে দেখলেন, তখন খুশিতে তাঁর মুখখানি উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

তারা ড্রাগনের গায়ের চামড়া ছাড়িয়ে তা দিয়ে একটি মজবুত ঘর বানাল, তার শক্ত হাড়গুলো দিয়ে ঘরের খুঁটি আর খিলান তৈরি করল এবং তার ধারালো শিং কেটে লাঙলের ফাল বানিয়ে নিল। সেই জাদুকরী শিং দিয়ে তারা চোখের পলকে মাঠের পর মাঠ চাষ করে ফেলত, তার জন্য কোনো বলদেরও প্রয়োজন হতো না। এভাবে তারা অনেক জমিতে ফসল ফলালো, প্রচুর শস্যদানা বুনে দিল এবং সারাজীবনের জন্য অভাব দূর করে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাতে লাগল।

Post a Comment

0 Comments