জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /মিতা ভৌমিক মান্না

গুচ্ছ কবিতা 

মিতা ভৌমিক মান্না 

নির্মাণ 


বাইরে যখন কাঠফাটা রোদ,
তখনই সময়-
   অক্ষরের শরীরে সোঁদা গন্ধ খোঁজার। 
ওরই ভেতর লিখছে কেউ-
    বেঁচে থাকার গান। 
কান পেতে শুনে নিই তাও,
সময়ের পাড় ঘেঁষে কোন একদিন-
   শিশির ধোয়া চোখে আঁকি
     প্রতিশ্রুতির ঢেউ। 
ভেসে যাই অক্ষর সমুদ্রে, 
   ভেসে চলে আমাদের যাপনের ভান। 
   সবশেষে তৈরি হয় একটা মায়াবী আঁচল, 
যার নাম-কবিতা।


 আসলে আমরা 

হাতে হাত নয়, 
     চোখে চোখ নয়,
এমনিই আজীবন হেঁটে চলা পাশাপাশি....
নিখুঁত ভালো থাকার সুনিপুণ অভিনয়। 
অথচ এতোটুকু ছিদ্র পেলে, 
     লাভার মত বেরিয়ে আসে-
হাজারো অভিযোগ, সন্দেহের তীর 
    অথবা ঘৃণার চোরা স্রোত।
জারি হয়-ছোবলের পরোয়ানা, 
বেরিয়ে আসে নখ-দাঁত-হূল। 
তবুও পৃথিবী, 
     যাপনেই মশগুল।
কারো চোখে নোনা জল, 
কারো বুকে হলাহল,
তবুও রাতের জঠরে ফোটে-
     নিষ্পাপ সাদা ফুল। 
আসলে আমরা-
    যাপনেই মশগুল।
🍂


 এমনি করে কাটুক সময় 

রোদ থৈ থৈ দিন 
  স্বপ্নগুলো তেমনি থাকুক 
   ঝলমলে রঙ্গিন। 

মেঘ ছম্ ছম্ রাত 
   বন্ধু তোমায় ভাবতে পারি 
   থাকলে হাতে হাত। 

মন কেমনের আজ 
   ঠিক সেভাবে সাজতে পারো 
   পলাশ রাঙা সাজ।

দিন ফুরোনোর গান 
   মনের কোনে আজও জমে 
   একটু অভিমান। 

ভোরের প্রথম আলো 
   এমনি করে কাটুক সময় 
   লাগছে বড় ভালো।

Post a Comment

0 Comments