অর্ণব সামন্ত
উড়াল , সংস্কারভাঙা মুক্তিতে
সংস্কারবিহীন শব্দের মতো এসো নৈঃশব্দ্যের বাগানে আমূল তছনছ করা , সমস্ত প্লাবিত করা আলোয় ভালোবাসা গো বিনীত একান্ত লাজে রাঙা স্পর্ধায়
স্নায়ু ছুঁয়ে তুলে আনা গভীরের সুর , কোষের খঞ্জনি মেদে লেগেছে স্বর্গসুখ , রক্তে প্রলয় সৃজন অভিলাষ দখিন দুয়ার খুলে রাখো সহজ গানের ঢেউ এসে লাগে
ভীষণ শূন্যতায় বসবাসকারী রোদ্দুর কিংবা জোৎস্নাও ভ্যাবাচ্যাকা
আস্ত এক স্বরবিতান শরণাগত আমার বাগানে
গেরস্থালি আদরে আদরে তাকে রাখি , ঘরোয়া ছন্দে ছন্দ ভাঙার কবিতায়ও সমাসীন , ভাঙা গানের সঞ্চারীতে তার পদক্ষেপ
মাঝেমধ্যে বেজে ওঠে সমস্ত শরীর অর্কেস্ট্রার মতন সহজ গানে চুবিয়ে সে দেয় চিরকালীন ভাসান ভাটিয়ালি , ভাওয়াইয়ার বুকে সে যখন আস্ত স্বরবিতান
এভাবেই এক নির্ভেজাল কবিতা বা গান যখন
পেয়ে যায় আলু বিচ্ছুরিত এক অমল অবয়ব
সমস্ত গান থামে , সমস্ত কবিতা থমকায়
সমস্ত নৃত্য ফিরে যায় চিরকালীন ভঙ্গিতে ভাবে মুদ্রায় সমস্ত জলছবি জীবনের ধূসর লাগে তার জলের সম্পর্কের কাছে
জল চলে যায় জলের পেটে জলে জলে বিচ্ছিন্নতাবাদ
তবু ছলাৎছল ছন্দে লিখে রাখে অবিচ্ছিন্ন দ্রাঘিমার কথা
লিখে রাখো আদর আদর আশ্লেষ আবেশ চুম্বকীয় সমর্পণ ও উত্থান
সহজ গান কিংবা কবিতা করে যাওয়া জীবনের মন্ত্রণা , সুর
ইনহিবিশনমুক্ত তাকে রাখা পরাও দু' চারটি অলংকার
রঙ তুলি দিয়ে সাজাও তাকে যতদিন না অন্তর মহল সুসজ্জিত হয়
ছুঁয়ে যাওয়া ভাবের অলিন্দ , রসের ব্যালকনি , রূপের অরূপভাষ
কারুকামনা , চারুবাসনা ঘেরে তাকে সম্মোহিত মগ্নমুগ্ধ হতে
অথই ডুবে ডুবে তুলে আনা অমলের গান ও ভাসান শব্দগুলি বিনীত জিজ্ঞাসায় অপলক চেয়ে থাকে নৈঃশব্দ্য অভিলাষী
অন্ধকারগুলি গ্যালন গ্যালন আলো ধরে রাখে রহস্য মোচনে
সুরগুলি ক্ষতবিক্ষতরক্তাক্ত করে যখন সে নিজেই আস্ত এক স্বরবিতান
নতুন , নতুনতর পৃথিবী রচিত হতে থাকে নিগূঢ় , নিগূঢ়তর ছোঁয়ায়
এককের গান হয়ে হংসমিথুন সামিল আকাশভাঙা সময়ভাঙা নিয়মভাঙা ওড়ায় !
🍂
অনন্ত , ঝংকারে বিদ্যুচ্চমকে
ব্ল্যাকহোল থেকে বেরোয় কুসুম , কুসুমের ফল
কুসুম কুসুম আলোয় অপত্যের কান্না হাসি
স্বরবর্ণে রাখো ঠোঁট , ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত যাপনপঞ্জি
খননে খননে দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা শোনা আর জীবন যাপন
মৃদু ধমকে সমান্তরালে নামো , পৃথিবীতে সাজাও কুঞ্জ তৎক্ষণাৎ
ভয়ের গহব্বর থেকে অভয়ের জন্ম , আঁধার থেকে আলোর
আর কতদিন ডাকোনি কিউলিনিম্বাসে , বিদ্যুচ্চমকে
ঝংকারে ঝংকারে শিহরণ তোলেনি তিলক কামোদে
গানের স্বরবিতানে সহজ জীবন মারেনি
নৃত্যে প্রলয় আনেনি , সেকি নেহাত ভালোবেসে না ঘৃণায়
কলঙ্ক সারা জীবন তবু চাঁদ ঢলে পড়ে চাঁদের বুকে
শব্দের সীৎকার শুনে ঝাউবনের দীর্ঘশ্বাস সমুদ্র সৈকত জুড়ে
আলুর দৃষ্টি দেখে শরণাগত সারা জীবন প্রেমিক পিয়াসা
কথায় কথায় কবিতা জন্মায় চলনে বলনে নৃত্য ভঙ্গিমা
জলছবি একে রাখো জীবন গ্যালন গ্যালন যাপনসমেত
সহজ , সহজতর গানেই আরো উন্মোচনে আসো আবিষ্কারে
এককের গান গাওয়া বনহরিণ ও বনহরিণীর জ্যোৎস্নায় ডুবসাঁতার
হংসমিথুন উড়ে যায় আকাশ ভেঙে অন্য আকাশে
জলজ রূপালি , সোনালী মৎস্যযুগল লাফাতে লাফাতে ঢেউ হয়ে যায়
পদ্মের সরোবর বদলায় পদ্ম তবু ফোটে একই তীব্রতায় , উজ্জ্বলতায়
কখন সহস্র পাপড়ি ছিন্ন করে এসে গ্যাছে জগৎ আলোকযজ্ঞে
সংযমে সন্তোষে ব্যবধানে নয় কবিতাকে রেখেছে ধানের গেরস্থালিতে
ভাত বেড়ে দিয়েছে দ্বিপদে আদুরে ডেকেছে ' আয় ভাত খাবি আয় !'
ইনহিবিশন খুলে রেখে আসে সমুদ্রে সঙ্গমরত জ্যোৎস্নায়
টুকটুক করে ঝরে অরূপের রূপ প্রাণের শিশির মুথাঘাসে
হে অরণ্যে তখন উন্মাদনা , হে পর্বতে টালমাটাল দোদুল্যমানতা
হে উপত্যকায় শরণাগত পান্ডুলিপি , হে গহ্বরে অজন্তা ইলোরার আলো
কারুবাসনা , কারুকামনা তখন রক্তমেদমজ্জা স্নায়ুতে বাজায় ভৈরবী মূর্চ্ছনা
কবিতার ঢেউগুলি উচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বাসে আলিঙ্গনে আলিঙ্গনে তোলো ঝংকার
যুগলের একক কাব্যে , সমবেত গানে , কোলাজে মন্তাজের ছবিতে দ্রিমি দ্রিমি নৃত্যে
মুক্তিবেগে উড়ান দিয়ে শব্দেরা হারায় নৈঃশব্দ্যে
প্রথম শব্দ , প্রথম আলোয় নির্ভেজাল হয়ে তারা হয় যদি আদি মানুষ ও মানুষী
গভীরগহীন তুলে আনো সহাস্য চাঁদবদনে চাঁদের গায়ে ঢলাঢলি খেয়ে
অপত্য চাঁদ কখন উঁকি দেয় সদ্যেজাত কবিতা গানের আখড়ায়
জীবনের এগোয় জীবনের চেয়েও বেশি উজ্জীবনে কবিতা প্রকাশ পায় কবিতার চেয়েও বেশি কবিতায় গান প্রবহমান সহজতম গানের অভিপ্রায়ে
নৃত্য খোঁজে চিরকালীন স্থিরতার ভাবভঙ্গি ঠাট ঠোঁটের আগ্রাসে ঠোঁট লিখে রাখে অনন্তের ঝংকার , বিদ্যুচ্চমক!
দন্ডায়মান বিদ্যেধরী , হাজারদুয়ারী খুলে
বিদ্যেধরী দাঁড়ায় দরজা খুলে
ইনহিবিশন খুলে রাখে ঘরের অন্ধকারে
অরণ্যে তখন ঝড় , হু হু করে লোনা হওয়া
লাবণ্য ঢুকে পড়ে কোষে রক্তে মেদে মজ্জায়
অরূপের অথইতে ডুব দেওয়া রূপ অপলক
গুহার ভেতরে চকমকি সংঘর্ষ , আগুন
সভ্যতার অসভ্য পাঠ শুরু , অসভ্যতার সভ্য প্রগতি
আদরে আদরে রাখা হোক তুলসীমঞ্চে
ডুরে শাড়ির খুশির দীপকের দীপ প্রজ্বলনে
মল্লারে কেটেছে অনেক দ্রাঘিমা আর নয় , আর নয়
তিলক কামোদ ডাকে কামিনী গন্ধভরা দিনরাত্রির মেসমেরিজমে
তানপুরা ঝংকার তুলে তিশান উড়ে যায় হাওয়া বেগে
সুব্রতা শব্দের অনুকম্পায় জাগে মিল্কি ওয়ে , গ্যালাক্সি
থরে থরে আলো হীরেমানিক জমানো ব্ল্যাকহোল
খননে খননে ধাববান নতুন নতুনতর জন্মের দিকে
দিকশূন্যপুরে তখন ঠোঁটের পুষ্টি চুরি , হৃদয়ের লেনদেন কথার গভীরে
এভাবেই দরোজা খুলতে খুলতে খুলতে
বিদ্যেধরী নিজেই জানে না কখন সে দরোজা হয়ে যায়
তার মধ্যে ঝাঁপায় স্রোতস্বিনী , জল যেতে চায় জলের গর্ভাশয়ে
সমুদ্রসঙ্গম শিখে অক্ষরগুলি ঝাঁপায় নৈঃশব্দ্যে ,
আলোয়
বিদ্যেধরীর আজও মনে আছে প্রথম শব্দ , প্রথম প্রথম আলোর কথা
মনে আছে সূর্য চাঁদ ও পৃথিবীর অনিবার্য মাধ্যাকর্ষণের কথা
চাঁদের গায়ে চাঁদ ঢলে পড়ে হাত ধরে নিয়ে আসছে অপত্য চাঁদ
কপালে সূর্যের টিপ , পৃথিবীর সহনশীলতা সারা শরীরে
ঝংকারে ঝংকারে বিদ্যুচ্চমকে বিদ্যুচ্চমকে বিদ্যেধরী জেনে গ্যাছে
মুহূর্তে মুহূর্তে কবিতা , গান , নৃত্য , জলছবি যুগলকে অনন্ত দ্রাঘিমায় এককের সহজ গান করে !
দ্রাঘিমা , ধারাবাহিক এক অগ্নি
দ্রাঘিমা ছুঁয়ে আছি ফ্ল্যাশব্যাকে মন্তাজ
এইতো সেদিন তবু কত রূপান্তর সময়ান্তরে
দিনগুলি রাতগুলি ছেড়ে দিকে দিকে স্বেচ্ছাচারিতায় অবাধ অবাধ্য হয়ে যেদিকে দুচোখ যায় যাক পিছুটানে মায়া মেদুরতা তবু অগ্নি এখনও জ্বল জ্বল প্রজ্জ্বল
বেড়ে যায় বহুপদ তরকারি তার কি বহুব্রীহি অর্থ আছে?
নাকি পূজার ছলে দেবী নিজেই নৈবেদ্য সাজায় উত্তঙ্গকে কে বলে , বীজ বোনো সফল অবসরে ! একদিন ষাঁড়াষাঁড়ি বাণে কামিনী সুগন্ধে মাতাল মুহূর্ত তিলক কামোদের হাত ধরে অনন্ত দ্রাঘিমায় ধাবমান ছুঁয়ে থাকা শরীরের ব্রত , ছুঁয়ে থাকা মনের পাঁচালি
ছোঁয়া যেতে চায় ছোঁয়ার গভীরে টর্নেডো উন্মাদনায় কবিতাও ঝরে যায় শ্রাবণধারায় রূপলাবণ্যসমেত গান হয়ে যায় চানঘর , প্রান্তর , দখিনের ব্যালকনি পান্ডুলিপি ছিঁড়ে খুঁড়ে রচিত হয় এক অনন্তপ্রসারী দীর্ঘ কবিতা
সমস্ত সুরঝঙ্কার , গান নিয়ে এক সহজ স্বরবিতান প্রচন্ড মাতন নিয়ে স্থিত এক চিরভঙ্গির মুদ্রায়
ছবির অন্তরে অপরূপ ছবি সহজাত আঁকা
সমস্তসমেত গেরস্থালি করা শব্দের নৈঃশব্দ্য যাত্রা অন্ধকারের বুক চিরে ফালা ফালা ইনহিবিশনের প্রথম আলো
0 Comments