জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /জয়া ঘোষ

গুচ্ছ কবিতা 
জয়া ঘোষ

বিচ্ছেদের দীর্ঘ গৃহস্থালি


যতবার ভেবেছি, এবার বুঝি সব শেষ,
ততবার নীরবে আনমনে, তোমার কাছেই ফিরেছি।
বিচ্ছেদেরও তো থাকে,  এক দীর্ঘ সংসার ...
সেখানে স্মৃতি প্রতিদিন ধুলো ঝাড়ে।

অপেক্ষারা জল দিতেই থাকে, ক্রমাগত শুকিয়ে যাওয়া স্মৃতিতে...
তখনই জানালায় ডেকে ওঠে, আমার দোয়েল পাখি।
আঁচলে বয়ে চলি বলতে না- পারা শত অভিমান,
কিছু প্রিয় সম্বোধন, আর কিছু স্পর্শকাতর অনুভব। 

তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই আর আজ...।
শুধু হৃদয়ের গভীরে,  চিরস্থায়ী বাস।
কখনও বকুলের গন্ধ, কখনও নবাদর্শের ভোরের উষ্ণতা।
কখনও রাত্রিজাগা জ্যোৎস্না , কখনও অকারণ চোখ ভিজে ওঠা।

বকখালির গভীরে জেগে থাকা ঢেউয়ের  মতো, ফেলে আসা নৈরঞ্জনার প্রার্থনার সুরের মত,
একটি মানুষের সমগ্র জীবনজুড়ে রয়ে যায় বিচ্ছেদের দীর্ঘ গৃহস্হালী.....  আজীবন।

🍂
জীবনের জলছবি 

ভোরের আলো এসে ডাক দেয় পাখির ডানায়। 
পড়ে থাকে বালিশ, ভেজা জল, খড়কুটো স্বপ্নসকল।
মাছের আঁশটে গন্ধ এসে নাকে লাগলেই উঠে পড়ি। রোজের মহোৎসব।

পাখিময় আলো এসে লুটিয়ে পড়ে। খবর দেয় ভালো থাকার পথের কথা। অজান্তেই ডেকে উঠি। কখনও কখনও  ভুল করে প্রয়োজনে আপন করে কেউ । আলস্য জড়াই।রোমন্থনে ছুঁয়ে আসি ব্যর্থ মানসভ্রমণ।

মহাপ্রলয়ের পর ফিরে আসি। শূন্য কবজকুন্ডল। 
কেবলই ফাঁকি, জাদুকরের কারসাজি। 
ও দিন ও মায়া, ও ঘর.. তুমি আজ বহুদূর
জেনেছি আলোর পেছনে অন্ধকারই শোভা পায়। 


মহাজাগতিক অপেক্ষা 

আমি দুয়ার খুলে রাখি...
তুমি আসবে বলেছিলে,  এক নক্ষত্রভেজা রাতে। তারপর কত ঋতু পেরিয়ে গেল, শুধু তোমার আসার প্রতিধ্বনিটুকু অপেক্ষায় রইল,  আমার ঘরের নিঃশব্দ দেওয়ালে।

আকাশের সমস্ত নীল কুড়িয়ে এনেছিলাম তোমার জন্য, শিউলির মতো সাদা কিছু সকাল, বৃষ্টিভেজা বিকেল, আর এক মুঠো কাশফুল  আলো।

তুমি এলে না—
মনে হয়, সর্বত্রই  বুঝি তোমার ছায়া; দূরের কোনো পাখি ডেকে উঠলেই হৃদয় ভুল করে, অজান্তেই তোমার নাম জপে ফেলি। 

সময়েরও বোধহয় কিছু গোপন মায়া আছে
সে মানুষকে দূরে সরিয়ে নেয়,
কিন্তু স্মৃতি সে তো অবিচল রয়েই যায় অবিরত

আজও সন্ধে নামলে আমি আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকি
আমার ভেতরে বেঁচে থাকা সেই মানুষটির জন্য যে তোমাকে ভালোবেসে আজও।

Post a Comment

0 Comments