স্বর্ণালী সরদার দাস
ছন্দ মেলে
হাতে গরম ছন্দ আছে?
হুজুর,খোদাবন্দ,আছে
নমুনা চাই,জলদি আনো
যো হুজুরে হাজির জান ও
দেখাও বাপু কিসের দেরি?
করছি হুজুর ছন্দ ফেরি
পরাতে নাল ঘোড়ার পায়ে
মেলাতে দুধ মশলা চা এ
আজান দিতে ভোরের বেলা
ডাংগুলিতে লাগিয়ে ঢেলা
গোরুর পিঠে লাঙল জুতে
আকাশজোড়া রামধনুতে
রাখালিয়া বাঁশির সুরে
মেঠো পথে চলতে দূরে
খামখেয়ালি পাগল মনে
কতই নতুন ছন্দ বোনে
ছন্দ বোনা কেমনতরো
উল্টো-সোজা ছোট্ট-বড়
ছন্দগুলো ছেঁকে তুলে
জুড়লে কাঠি হিসেব ভুলে
ক'ঘর সোজা,উল্টো ক'ঘর
ভুলতে হবে সেসব খবর
ছন্দ শুরু এপার থেকে
তারপরেতে খানিক বেঁকে
ডাইনে বায়ে না তাকিয়ে
চললে ভীষণ হনহনিয়ে
পৌঁছে ওপার যদি গেলে
তবেই না কি ছন্দ মেলে
ভেন্ন গ্রহের প্রাণী
লোক হেথাকার নইগো মোরা
লোক হেথাকার নই
ভেন্ন গ্রহে জন্মেছিলাম
এখন হেথায় রই
সত্যি যদি এই ধরণীর
হতেম আদি প্রাণী
চারটি ঠ্যাঙে চলে ফিরে
কাটত জেবনখানি
গোরুর মত কচি ঘাসেই
উদরখানা ভরে
সিংহপানা ঢেকুর তুলে
নিদ্রা যেতুম ঘরে
রংখানা বেশ গাঢ় হলে
সূয্যিমামার তাপে
ফর্সা হবার মলম কি আর
দিতুম মাপে মাপে
বিষ্টি হলে ছাতা মাথায়
ঘরের পানে ছুটি
এই পৃথিবীর সব জিনিসেই
ভীষণ রকম ত্রুটি
চল্লিশেতে চালশে চোখে
চশমা এঁটে নাকে
কোন প্রাণী আর কুঁচকে ভুরু
ব্যাজার মুখে থাকে
বিগড়োলে এই তুশ্চু শরীর
নেইকো এমন মোটে
গ্যাঁটের কড়ি গচ্চা দিয়ে
হাসপাতালে ছোটে
ভেন্ন আচার ভেন্ন বিচার
কহেন সাধুজন
তাই পিতৃ গ্রহের চাই সন্ধান
দিলুম বিজ্ঞাপন।
🍂
ডানা মেলা বাকি
যে ছেলেটা আঁকছে ছবি একলা বসে খাতায়
কঠিন যত অঙ্কগুলো ঢুকছে না তার মাথায়
বইয়ের থেকে দাও না তাকে বরাবরের ছুটি
ছবির রঙে নিক ডুবিয়ে গোল্লাছুটের ঘুটি
যে মেয়েটা দিনদুপুরে লুকিয়ে ঘরের কোণে
শক্ত অঙ্ক কষছে বসে একলাটি এক মনে
দাও না তাকে ছুটি তোমার ঘরকন্নার থেকে
একটু হাসুক সেই মেয়েটা খুশির আলো মেখে
সেই ছেলেটা রঙের রাজ্যে খুশির সূত্রধর
সেই মেয়েটা বইয়ের মধ্যে পেয়েছে ওর ঘর
ওদের মধ্যে মিল আছে খুব দেখতে পেলে না কি?
শুধু গুটি কেটে প্রজাপতির ডানা মেলাই বাকি
2 Comments
স্বর্ণালী সাহা শিকদার-র ছড়ায় মন ভরে গেল। ঘুমাতে গেলাম। ওঁর ছড়ার ছন্দে দোলা নিয়ে।
ReplyDeleteআশিস রইল 🌿
ছড়াগুলো ভালো হয়েছে।
ReplyDelete