আভা সরকার মণ্ডল
বৃষ্টির আগেই
মেঘের ডাক শুনে আকাশের দিকে চাই
হতবাক আমি এই প্রথম
রামধনু দেখি—বৃষ্টির আগেই।
ডাকপিয়ন আসে না তবু
চিঠির বাক্স হাতাই
মুঠিতে জমা-পড়া মেঘ ছটফট করে
কেন চিঠি আসে না?
—ক্ষোভ-জ্বলন্ত শরীর
বৃষ্টিও ভেজাতে পারে না আর।
গোত্রহীন
আমাকে জাগিয়ে রাখার ছুঁতোয়
যে গন্ধটা হঠাৎ হঠাৎ নাকে এসে সুড়সুড়ি দেয়—
আমি তার নাম জানি না
গোত্র জানি না
শুধু ঋতু বদলের ইঙ্গিতপূর্ণ আহ্বানে
বিপর্যস্ত হই বারবার।
পরিকাঠামোহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতাই
উন্মোচন করে
ভেতরে কোন ঋতুর কী অবস্থান।
দুঃখ-সুখের দোলনাটির ঝুলনকাল
আগে-পিছে সমান দূরত্ব মাপে।
আমিও সোৎসাহে যতটা এগিয়ে যাই
ততটাই পিছিয়ে এসে
জোয়ার-ভাটার কোলাজ বানাই ।
স্মৃতির সরণি ধরে হেঁটে গেলে
নাছোড় ধুলোর মতো অযাচিত সঙ্গী হয়
ছোট বড় ক্ষয়,
ভাঙনের গান।
শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনিতে মিশে যায়
বাতাসের বিলাপ
মাটির গায়ে লেগে থাকে
শিউলি-বকুল স্পর্শ।
এরই মধ্যে—
আমাকে জাগিয়ে রাখার ছুঁতোয়
যে গন্ধটা হঠাৎ হঠাৎ নাকে এসে সুড়সুড়ি দেয়—
আমি তার নাম জানি না
গোত্র জানি না
শুধু ঋতু বদলের ইঙ্গিতপূর্ণ আহ্বানে
বিপর্যস্ত হই বারবার।
বিষাদ প্রলেপ
বঞ্চনার বিষাদ প্রলেপ, সবুজের কাছে এলে
তরল হয়, ফুলের কাছে এলে মিলিয়ে যায় একেবারে
হিজিবিজি এবং আঠালো রেখাগুলো
সরে যেতে যেতে গোপনে মুখে রেখে যায়
কমনীয় কিছু অপার্থিব মায়া !
সে মুখ দেখে ফুলের মনে হিংসা জন্মায়
সবুজের মনে আলিঙ্গন
দুটোই সম মর্যাদায় বুকে তুলে নিয়ে
দুঃখেরা দেউলিয়া হয়
সেই আনন্দে বিষাদের শেষ চিহ্নটিও
হারিয়ে যায় দূরে।
এমন মুহূর্তও চিরস্থায়ী হয়—
0 Comments