খুকু ভূঞ্যা
দামিনীর শিখা
কিছু পাশ ফিরে শোবার কারণ আমি বুঝি
কিছু দীর্ঘশ্বাস গালে পড়লে রাত কেমন কেঁপে কেঁপে ওঠে
অশ্রুর অপব্যবহার করে চোখকে নিঃস্ব করতে চাইনি বলেই
জীবনকে মেপে দিই পুড়ে যাবার অধিকার
ভেতরের খেদ ক্ষত লালন পালন করতে করতে
ভুলে গেছি আমারও একটা শৈশব ছিল
রঙিন প্রজাপতির মতো তিরতির কাঁপা স্বপ্ন
আসলে একটা সময়ে মানুষ লতার মতো জড়িয়ে যায় দহননামক বৃক্ষে
যার পাতা চির নীল অথবা ছাইবর্ণের
তাকে সবুজ করতে কত না যুদ্ধ, ঘুম ভাঙচুর করে
রোদের সম্ভাবনা খোঁজা
দেখছি একটা পানকৌড়ি সারা দুপুর সাঁতরে চলেছে কাদাজল
শ্যাওলা সংসারের ভেতর খিদের কান্না অথবা মেঘের ভীড়ে দামিনীর শিখা ---
অতল নৈঃশব্দ্য
একদিন কোথাও তো মিলিয়ে যাব
উঠোন ছাড়িয়ে যেখানে যেখানে পায়ের ছাপ পড়েছে
মুছে দেবে বৃষ্টি অথবা অন্য পায়ে'রা
এরজন্য আক্ষেপ করি না
একদিন সবকিছুরই শেষ হবেই, হতে হয়
তোমার সঙ্গে কাটানো পংক্তি পংক্তি কবিতার মতো
মুহূর্তও ফেলে যাব
ফেলে যাব ব্যর্থতার ভাঙাচোরা অক্ষর
সঙ্গে কি'বা যাবে
কি'বা নিয়ে যাওয়া যায়
তবু যতক্ষণ পাতা নড়ে বাতাস বয়
অভিমান ছোড়াছুড়ি
চিন্তা দিয়ে গাঁথা সংসার জালে
দুঃখেরা চাপ বাঁধে
মেলার মতো পসরা সাজায়
জীবনে শুধু জল লিখলাম
চোখের পরিধি জুড়ে যত মেঘ ওড়ে
তোমার উঠোনে কিছু বৃষ্টি নামাক
ভালোবেসে খরা দিয়ে গেলে কে বইবে মরুভার
পুষ্পময় অন্তর কি নিতে পারে রুক্ষতার দহন
তুমি ধ্যানী হও
কোলাহল পেরিয়ে অশ্রুপাড় ধরে আমি হেঁটে যাই
অতল নৈঃশব্দ্যের দিকে --
কুয়াশার পরাগ
যতটা সম্ভব বিছানাকে উপেক্ষা করে চলি
কেননা বিছানার সঙ্গে যমের খুব সখ্যতা দেখি
ভুল করে যদি তার প্রলোভনে পড়ে যাই
আমার উঠোনে তুমুল সর্বনাশ
যতটা সম্ভব মাথা থেকে খুলে দিই ভুল ভ্রান্তির নিবিড়তা
ভাতের ভাপের মতো সহজিয়া খিদে নিয়ে
নিরীহ চোখে তাকাই
যেখানে চুম্বনের দাগ ফেলে গেছে কেউ
ফেলে গেছে একটি সংসার অশ্রু গেরস্থালি
যতটা সম্ভব নিজেকে ব্যস্ত রেখে অতীত কুয়াশা পটে লেখা কিছু অবৈধ বিকেল
বা রাতের কাছে রাখা জীবনের সেরা সঞ্চয়
অশ্রু গঙ্গায় ছুড়ে দিয়ে ভাবি
এখনও কিছু ভালোবাসা সদ্যোজাতের মতো ছুঁয়ে আছে
এখনও কিছু অভিমান নীরবতা নির্জনতা হয়তো বা মস্ত একটা জীবনের ভেতর শুধু কুয়াশার পরাগ লেগে আছে
0 Comments