জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা/ স্বপনকুমার নাগ


গুচ্ছ কবিতা
স্ব প ন  কু মা র  না গ

  অতৃপ্তি

  

 এখানে মাটির বুকে হিংস্রতার আঁশটে গন্ধ
 চিড়ধরা সম্পর্কের ফাঁকে 
 দলাপাকানো যন্ত্রণায় প্রমাদ গোনে,অদৃষ্ট;
 সময় লিখে যায়,
 ভবিতব্যের আগাম ঠিকানা.....

 যে মানুষ বেড়ে ওঠার আগে‌ই
 ঝুঁকে পড়ে প্রতিকূল বোঝার ভারে...
 তার বিপন্নসত্তার ভেতর ফেনিয়ে ওঠে,
 অপরিণত জীবনের হিমেলবার্তা.....

 পায়ের তলার ভিত নড়ে গেলে
 ফুরিয়ে আসে প্রজন্মের অস্তিত্ব....
 নৈঃশব্দের আড়ালে প্রকট হয়,দুর্বিনীত ইচ্ছেরা;
 রক্তের টান ফিকে হয়ে,
 অন্ধকারে আশ্রয় খোঁজে,অনৈতিক বাস্তব।

 নরম মাটির জংধরা উঠোনে
 বিদ্রুপ মেখে অতৃপ্ত ঢেকুর তোলে,আহত বিবেক।


 জলছবি

 একটি কল্পিত রেখা.....
 দোটানায় ছুঁয়ে যায় মনের গভীর
 জল থৈথৈ বর্ষার মাঠে
 প্রতিচ্ছবির নকসীকাঁথায়,ভেসে বেড়ায়
  উচ্ছ্বাসের ভরা-সুর;
 শরীরছোঁয়া উচ্চতায় মাথা ঝাঁকিয়ে
 উঁকি দেয়,রাত্রির ঘুম.....

 জলের আয়নায় 
 রঙিনবসন্ত গড়ে,শাপলারঙা সুখ,চুপিচুপি....

 তোমার উঠোনজুড়ে সলজ্জপ্রেম,
 রোদ মেখে গাঢ় হয়,যুবতী দুপুর-ছাওয়ায়
 আকাশের সীমারেখা পেরিয়ে
 নিমেষে উধাও হয় জীবনের বেগতিক হাওয়া,
 আঁচলে আড়াল করে মুখ.....

 হৃদয়ে,গোপনে জাগে,
 জোনাকির মধুময় শোভা,একঘর উষ্ণতার ফাঁকে

 গাঁয়ের সীমানাজুড়ে,
 যে অতীত হেঁটে যায়,সম্মোহনী দৃষ্টি মেলে....
 দীঘির জলের পরে  দ্যাখো তার,মিতবাক হাসি।

 সময়,শিকল কেটে এঁকে যায় ভেজাবুকে
 স্বপ্নের অদৃশ্য জলছবি......

🍂

  ঈশ্বর

 একটা শীতল স্রোত,স্নায়ুজুড়ে.....
 আকস্মিক ঝড়ের সংকেত;
 অন্তরাত্মায় বিশ্বাসের মাস্তুল বেশ,নড়বড়ে।
 জীবনের কঠিন মুহূর্ত;ভরসা কেবল,তিনিই....

  ধর্মপ্রাণ মানুষ,
  যুক্তির ঊর্ধে ঝুঁকে পড়ে,দেবত্বে;
  ঈশ্বরের বন্দনায় ব্যস্ত,দেবালয়।

  বিপদের ঘনীভূত মেঘে--
  পাপী ও পুণ্যাত্মার গন্তব্য, এক‌ই....
  সব আকুতি মিলায়...,,অনন্তের প্রার্থনায় ।
 
   কখনো ধর্ম,কখনো অধর্ম....
  অস্তিত্ব রক্ষায় শেষ সম্বল পরমারাধ্য সেই,ঈশ্বর।

Post a Comment

0 Comments