জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /স্মৃতিরেখা পাত্র

গুচ্ছ কবিতা 
স্মৃতিরেখা পাত্র

অভিযোগ 

শুধু প্রাণ দিলে মোর কায়াটায়,
 প্রাণে দিলেনা কো কোনো শক্তি।
 সে চলিয়াছে বয়ে ব্যথা ভার,
 সে বুঝলো না কিসে মুক্তি।

আজ চোখ দেখে কতো অন্যায়,
 তবু সেথা নেই কোন অগ্নি।
 তাই দগ্ধ হয়না পাপ তাপ 
চোখ হলো না তো তাই ধন্যি ।

শুধু হাত দুটো দিলে শরীরে,
 তুমি বাহু দিলে ক্ষীণ দূর্বল।
তাই অনাচার মাথাচাড়া দেয়,
 তা সরাতে বাহুরা নিষ্ফল।

আজ আমাদের পা  দুটি হায়
 ভয়ে ভয়ে শুধু হাঁটে ক্ষীণ।
 নেই তার কোনো জোর, অন্যায়
 মেনে নিয়ে তার চলে দিন।

ভেবে দেখো তবে এমন মানুষ 
 ধরাতে সৃজন কিসের তরে?
যারা এ ধরার রস টেনে শুধু
 জীবাণু কীটানুর মতোই মরে।


শিশুর মাকে

 হে জননী, শুধুই কেন
 সন্তানটি পুষ্ট করো?
 বাইরেটা যে আঁধার হলো 
 সে চিন্তাটাও মগজে ভরো।

কালোয় কালোয় দেশ ছেয়েছে
 মানুষরূপী দৈত্য দানব।
 তোমার সাধের সন্তান আজ
 বাঁচাবে কোন্ মহামানব ?

বুদ্ধিতে শান দিয়ে দেখো
 মিলছে যদি রাস্তা কোনো 
আঁধার ঠেলে আলো এনে
 তব স্বপ্নের জালটি বুনো।


গুণীর বিচার 

করবে যদি গুণীর বিচার,
করবে যদি মূল্যায়ন ,
ওঠো আগে তার লেভেলে
 নইলে বিফল নির্ণায়ন।

 দেখবে যদি গুণীর দোষ,
সবার আগে গুণী হও।
 স্বল্পবুদ্ধি নিয়ে তুমি 
তার বিচারের যোগ্য নও।

গুণীর হাঁটাচলায় যেটি 
দোষ আজকে তোমার চোখে,
 সেই লেভেলে উঠে দেখো
 দোষগুণ একসাথেই আছে।

তোমার দেওয়া দোষ দুর্নাম 
গুণীর মাঝে যদি রয়,
হয়তো তবেই সফলভাবে
 গুণীর গুণের প্রকাশ হয় ।

তাইতো বলি, গুণীর বিচার
 করতে তুমি পারবেনা।
গুণীর সকল বিশিষ্টতা 
মোটা মাথায় ঢুকবে না।

🍂

Post a Comment

0 Comments