জগদীশ মণ্ডল
জলতরঙ্গ
বৃষ্টি মেখে শান্ত এখন
কলু পুকুরের জল,
সূর্যের আলো নেচে নেচে
করছে যে টলমল।
মাছরাঙাটি ওৎ পেতেছে
খেজুর গাছের ঝাড়ে,
সুযোগ বুঝে লাফটি মারে
পুঁটি মাছের ঘাড়ে।
অমনি জলে আলতো ঢেউয়ে
জল তরঙ্গ তোলে,
শান্ত পুকুর খেলা করে
দোদুল দোলায় দোলে।
দুলতে দুলতে ছড়িয়ে পড়ে
সবটা জলাশয়,
চোখের মাঝে রূপকথাপুর
আবেশ মহোময়।
পাহাড়ি রূপ
চাঁদের আলো নেচে বেড়ায়
ঝাউ পাইনের গাছে,
পাহাড়রানীর রূপ মহিমা
দেখবে এলে কাছে।
ভোরের বেলা রূপোর ঝালর
দুধের ফেনা গায়,
কখন আবার আবীর গুলে
রূপটিকে পাল্টায়।
সেই রূপেরই আকর্ষণে
ভ্রমণার্থী জোটে,
হিমালয়ের শৃঙ্গ দেখে
খুশির কুঁড়ি ফোটে।
কী অপরূপ আঁকা তোমার
সফেদ দেহখানি,
তার ছায়াতে মন যে হারায়
নীল দীঘিটির পানি।
এত দিনের স্বপ্ন আঁকায়
ছিলো নীরবতা,
চোখের সামনে পাহাড় হাসে
এ যেনো রূপকথা।
বৃষ্টি জলে
আকাশ ঘিরে মেঘের দাপট
বর্ষা দিদির সাথে,
জল পেয়েছে সোনা ব্যাঙ ঐ
আনন্দেতে মাতে।
তাল পেকেছে গাছে গাছে
আম কাঁঠালের সারি,
ভনভনিয়ে আসছে মাছি
গন্ধে ম ম বাড়ি।
নাকি সুরে পেঁচা পেঁচি
গাইছে সুখের গান,
বাদুড় রানী পেয়ারা পেয়ে
ভাঙলো অভিমান।
তিড়িং বিড়িং লাফায় ফড়িং
মাঠের সবুজ ঘাসে,
রাস্তা ঘাটে জড়ায় কাদা
পুকুর ডোবা হাসে।
পদ্ম পাড়ায় ঢেউ তুলেছে
কে করে আর মানা,
মৌরালা মাছ গুগলি শামুক
খাচ্ছে হাঁসের ছানা।
0 Comments