ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা :২২২
সম্পাদক : স্বাগতা পাণ্ডে
সম্পাদকীয়
ছোট্ট বন্ধুরা,
সবাই নিশ্চয়ই খুব ভালো আছো। গত সপ্তাহে কিন্তু আমি তোমাদের আঁকা খুব বেশি ছবি পাইনি। তাই এই সপ্তাহে অনেক গুলো ছবি পাঠিয়ে দাও তো সবাই মিলে। আর বাড়ির বড়দের বলে দিও, ওরা ও ওদের মোবাইলে তোলা সুন্দর সুন্দর ছবি আমাকে পাঠাতে পারেন। আনন্দে থাকো সবাই। বাড়ি র সবাই কে নিয়ে ভালো থাকো।
ইতি তোমাদের স্বাগতা দি।
তোড়া
বিনোদ মন্ডল
তোড়া তার মায়ের কোলে
ঘুমের ঘোরে হাসে
মায়ের চোখ নিদ্রাবিহীন
স্বপ্ন কুসুম ভাসে।
তোড়া যখন বাপির বুকে
আহ্লাদে আটখানা
কলম দিয়ে আঁকিবুকি
আল্পনা শার্ট খানা।
দোদুল দোলে দোলনাতে
আনন্দে মশগুল
বিনুনিতে বাঁধা ফিতে
সোনামনির চুল।
তোড়া, মামার বাড়ি যায়
গ্রামের আঙিনায়
বনফুলের সুবাস মাখা
সবুজ সীমানায়।
কবে বড়ো হবি, তোড়া
হবে খ্যাতি ভুবনজোড়া !
মনের পাঠশালা 8
দীপালি সাহু
M.A Psychology ( clinical), MSW
working as a counsellor at a govt. hospital
Midnapur.
গত সংখ্যায় তোমাদের মৌলির গল্প বলেছিলাম। যার হঠাৎ হঠাৎ করে রাগ হয়, বিরক্তি লাগে, মন খারাপ লাগে। পড়তে পড়তে অবাক হয়েছো নিশ্চয়ই। মনে হয়েছে যে " ওমা এ তো আমার নিজের কথা। এই দিদি জানলো কি করে?!!!"
সমস্যা নিয়ে তো অনেক কথা হলো। তার কারণ ও ব্যাখ্যা করলাম। কিন্তু কারণ জানলেই তো সমস্যা সমাধান হয় না। এবার সমাধান নিয়ে কথা বলবো।
আলোর পথ: রোলারকোস্টার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার 5টি বৈজ্ঞানিক ট্রিক
যেহেতু তোমাদের ব্রেনের ব্রেকটা এখনো একটু কাঁচা, তাই তোমাদেরকে নিজে থেকে কিছু জাদুকরী ট্রিক ব্যবহার করে এই রোলারকোস্টারটাকে শান্ত করতে হবে:
1. ৫ সেকেন্ডের ম্যাজিক রুল (The 5-Second Rule): যখনই দেখবে মায়ের কোনো কথায় বা ছোট ভাইয়ের কোনো আচরণে তোমার প্রচণ্ড রাগ আসছে এবং মুখ দিয়ে খারাপ কথা বেরিয়ে আসতে চাইছে—ঠিক তখন মনে মনে উল্টো করে গোণো: ৫, ৪, ৩, ২, ১।
2. কিছুক্ষন deep breath বা নাক দিয়ে খুব গভীর ভাবে শ্বাস নাও এবং মুখ দিয়ে লম্বা করে ছাড়ো।
3. রাগের শুরুতে সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নাও ।
4 যখন মন খুব খারাপ থাকবে, তখন জোর করে পড়তে বসো না। তখন ১০ মিনিটের জন্য হেডফোন গুঁজে নিজের প্রিয় কোনো গান শোনো, একটু হেঁটে এসো, বা মনে যা আসছে তা ডায়েরিতে লেখো। .
5. এছাড়া যেসব বিষয় খেয়াল রাখা দরকার তা হলো
. নিয়মিত ঘুম
* নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার
* ব্যায়াম বা খেলাধুলা
* বিভিন্ন মানুষের সাথে মেলামেশা
যখন তোমার মন খুব ভালো থাকবে, তখন একদিন শান্ত হয়ে মা-বাবার কাছে বসো। তাদের বুঝিয়ে বলো যে তুমি ইচ্ছে করে করো না। তুমি রাগ হলে সামলাতে পারো না । আসলে তোমরা ভেবে নাও বাবা মা অনেক বড়ো তাই না বললে ও তারা সব বুঝে নেবে। হয়তো কিছু বুঝবেন কিন্তু পুরো নয় , তোমার মতো করে নয় ।তোমার খারাপ লাগা ওনাদের বলতে হবে।
অভিভাবকদের জন্য :
যদি mood changes খুব তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী, বারবার হয় এবং কাজ/সম্পর্ক/পড়াশোনা , খাওয়া এবং ঘুমে প্রভাব ফেলে—তাহলে psychologist/psychiatrist-এর পরামর্শ নেওয়া ভালো। রাগ বা মন খারাপের তীব্রতা যদি কয়েকঘন্টা,বড়জোর এক-দুদিন তাহলে ঠিকই আছে । কিন্তু তীব্র মন খারাপ বা খিটখিটে মেজাজ টানা কিছু দিন চলতে থাকে তাহলে বিষয় তা পরে ঠিকই হয়ে যাবে বা ইচ্ছে করে করছে এসব ভেবে নেওয়া ঠিক হবে না ।
🍂
আপনার সন্তান যখন হুট করে রেগে যাচ্ছে বা দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন পাল্টা চিৎকার করে বা মারধর করে তার 'উদ্ধত আচরণ' ঠিক করার চেষ্টা করবেন না। তার ব্রেন এই মুহূর্তে তীব্র আবেগের সাথে লড়াই করছে, যেখানে তার ব্রেকটা এখনও কাঁচা। সে আপনার শত্রু নয়; সে কেবল বড় হওয়ার এক জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময় তাকে বকার বদলে শান্ত হওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিন এবং পরে ভালোবেসে কথা বলুন। পরের সংখ্যায় ও তোমাদের জীবনের গল্প অন্য কোনো নামে লিখবো। তোমরা খেয়াল রেখো।
ক্যুইজ ২১
১. নাগাল্যান্ডের রাজধানীর নাম কি?
2. বাংলার "গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন" কোন জায়গা টিকে বলা হয়?
৩. সুকুমার রায় এর আবোল তাবোল এ গঙ্গারাম ক'বার ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিল ?
৪. "কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য" ছদ্মনাম কে ব্যবহার করতেন ?
৫. "বিহু" কোথাকার নৃত্য?
গত সপ্তাহের ক্যুইজ এর উত্তর:
১. সিকিম
২. মালদা
৩. চৈত্র সংক্রান্তি
৪. দেবানন্দপুর, হুগলি
0 Comments