জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /দিলীপ সামন্ত

গুচ্ছ কবিতা 
দিলীপ সামন্ত 

শিয়াল ও কাঁকড়া 


শিয়াল গেল কাঁকড়া খেতে 
পদ্ম পুকুর ধারে 
ঝোপের পারে ওতটি পেতে 
দেখছে আড়ে আড়ে।

গর্ত অনেক পুকুর পাশে 
কাঁকড়া সেথায় থাকে 
এদিক সেদিক ঘুরে আসে
দেখার ফাঁকে ফাঁকে।

কাঁকড়া কোথায় গ‌র্তেতো নেই 
গেল কোথায় ওরা
চোখের পলক ফেলেছে যেই
দেখে একটা মরা।

মরা ভেবে শিয়াল ভায়া
যেই না পরশ করে 
কাঁকড়া মেলে দাঁতাল কায়া
কামড়ে চেপে ধরে।

যন্ত্রণাতে কাবু শিয়াল 
সেই যে  লাগায় হাঁটা 
ধূর্ত ভায়ার হলো কি হাল?
ভাঙলো শেষে পা টা।


প্রগতি

ভাঙাভাঙি অনেক হল
কারন সহজ ভাঙা
লড়াই করে ভাইয়ে ভাইয়ে
মাটি হলো রাঙা

অনেক হলো পিছু হাঁটা
সমুখ পানে হাঁটো
আকাশ কুসুম ভাবনা ছেড়ে
এখন থেকে খাটো।

দেশকে এবার গড়তে হবে
সৃষ্টিমুখী কাজে
অলসভাবে পড়ে থাকা 
ভালো লাগে না যে

বিশ্বকর্মা হতে হবে 
হাতিয়ারটা নিয়ে।                  
দেশের মাকে ধন্য করো
শিল্প কৃষি দিয়ে।

অস্ত্র ছেড়ে শান্তভাবে 
শান্তি বজায় রাখো
ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে 
পাশাপাশি থাকো

আপদে বিপদে সবে
থাকো মিলেমিশে 
তখন‌ই পাবে খুঁজে
সৃষ্টি সুখের দিশে।

🍂

সাবধান 

কুমীরের চোখে যেন জল 
ভুল দেখলাম নাকি
ওটা কি শিকার ধরার ছল 
না নেহাৎ এক ফাঁকি!

কিছু মানুষ এমন আছে 
মায়াকান্না কাঁদে 
কাজ গোছাতে বন্ধু সাজে
পরে ফেলে ফাঁদে।

মানুষবেশী কুমিরেরা
থাকে আশেপাশে 
ছদ্মবেশে ওরা সেরা
মিটমিটিয়ে হাসে।

মগজাস্ত্র রাখো খোলা
ভুল কোরোনা চালে
হয়োনাকো  আত্মভোলা 
আটকে যাবে জালে।

Post a Comment

0 Comments