মা
অর্পিতা সাহা
সকাল থেকেই বৃষ্টি পড়ছে মুষলধারে। বৃদ্ধা সুরবালা কয়েকদিন ধরেই বাতের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন খুব। তার যোগ্য দুই ছেলে ডাক্তার-বদ্যি ওষুধ পালা কিছু কম করেনি তবু মায়ের শরীর সারাতে ব্যর্থ। আসলে বয়স টা তো কম হলো না...
আজ নাতি-নাতনীগুলোর স্কুলে নাকি পুজোর ছুটি পড়বে তাই ফাংশন আছে, ছেলে বউমারা সব ওদের স্কুলে গেছে... এই ভরদুপুরে বুড়িটা ঘরে একা। অবশ্য কাজের মেয়ে মালতী সঙ্গে আছে তবু সুরবালা আজ স্বস্তি পাচ্ছেন না ব্যথাটা যেন ক্রমশ বাড়ছে কত স্মৃতি ভেসে উঠছে স্মৃতিপটে।
শরীরটা ঘেমে উঠছে বুকের বাম দিকটা চিনচিন করছে যেন তবে কি সুরবালা মরে যাচ্ছেন কেমন যেন হাল্কা লাগছে শরীরটা চোখ দিয়ে জল বের হচ্ছে কিন্তু গলা থেকে আওয়াজ বেরোচ্ছে না কিছুতেই... মালতী সংসারে অনেক খাটে এখন মাদুর পেতে মেঝেতে শুয়ে ঘুমোচ্ছে অঘোরে। সুরবালা চেষ্টা করছেন মেয়েটাকে ডাকতে কিন্তু গলার স্বর কেমন ফ্যাঁসফ্যাঁসে হয়ে গেছে মেয়েটার কানে তা পৌঁছাচ্ছে না... গলা শুকিয়ে কাঠ...
হঠাৎ কেউ যেন ধাক্কা দিল সুরবালাকে চোখ মেলে দেখেন খাটের দুপাশে ছেলে -বউমা-নাতি-নাতনীরা
দাঁড়িয়ে বড় ছেলে মাথার পাশে বসে...
সে বলে উঠলো, "কেমন লাগছে মা এখন শরীরটা ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে, গোঁ গোঁ শব্দ করছিলে মালতী আমাদের ডেকে আনল...
ডাক্তারকে কল দিয়েছি এখুনি এসে পড়বেন।"
তোরা তো সবাই বাচ্চাদের স্কুলে গেছিলি...
সবাই হেসে উঠলো... ছোটো নাতি রূপ এগিয়ে এসে বললো, "ও ঠাম্মি এখন তো রাত প্রায় বারোটা বাজে এখন আবার স্কুলে কেনো যাবে বাবা মা..."
🍂
সুরবালা আজকাল সর্বদা মৃত্যু ভয়ে থাকেন তাই প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখেন, আসলে সত্তর বছর বয়স স্বামীকে হারিয়েছেন এখন এই পঁচাত্তরে পৌঁছে মনে হয় এখুনি বুঝি মরে যাবো...
ছোটো ছেলে এগিয়ে এসে বললো," মা আমি আর দাদা তোমার জন্যে একজন নার্স ঠিক করেছি তোমায় ওষুধ খাওয়াবে তোমার সাথে গল্প করবে তোমার পছন্দের খাবার দেবে আর আমরা আর তোমার বউমারা অফিস থেকে ফিরে তোমার সাথে খুব গল্প করব..."
নাতি-নাতনীগুলোও ঠাম্মি বলতে অজ্ঞান...
সুরবালা মৃদু হাসেন.. এমন একটা পরিবার তাঁর নিজের হাতে তিল তিল করে গড়া... গর্বিত মা তিনি আনন্দে চোখে জল আসে তার...
0 Comments